ক্রিস্টোফার নোলান। সমকালীন সিনেমার সাথে একটা নাম মিশে গেছে আমাদের মনে। মাত্র কয়েকটা হাতে গোনা সিনেমা, কিন্তু তাই দিয়েই তিনি দাগ কেটেছেন আমাদের মনে। প্রতিটা সিনেমার গল্পই আগে বহুবার বলা হয়েছে , কিন্তু নোলানের সিনেমা দেখার পর আমরা শুধু তাঁরটাই মনে রেখেছি। বলুন তো নোলানের ইনসমনিয়া আসল সিনেমা দ্বারা অনুপ্রাণিত তার কথা কে মনে রেখেছে, কেই বা মনে রেখেছে টিম বার্টনের ব্যাটম্যান আর জোকার! যেখানে সায়েন্স ফিকশান এখন হলিউডে ডাল ভাত হয়ে গেছে, কথায় কথায় ভিনগ্রহীরা চলে আসে এখন, সেখানে নোলান আমাদের দিলেন ইন্টারস্টেলার। নোলানের সম্বন্ধে এগুলো একারণেই বলা, কারণ এবার সিনেমাটার গল্পের অনন্যতায় আসব আমরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি প্রেক্ষাপটে বানানো গল্প এটি। সাধারণত যুদ্ধের গল্পে থাকে বিজয়ের কাহিনী, বিজয়ীর যুদ্ধে জয়লাভের কাহিনী। কিন্তু এ যুদ্ধ সে যুদ্ধ নয়। জল স্থল আকাশ পথে বন্দী হয়ে যাওয়া মিত্র পক্ষের সৈন্যদের উদ্ধারকার্য নিয়ে গল্প। বন্ধীদের মুক্তির গল্প। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যখন কয়েক লাখ মিত্রশক্তির সেনা জার্মান বাহিনী দ্বারা আটকা পড়েছিল একটি দ্বীপে, এই সিনেমা সেই কাহিনী।তাদের মুক্ত করানোর মধ্যেই যে জয়, এই সিনেমা সেই কাহিনী বলে। যুদ্ধের ভয়াবহতা, সৈন্যদের মধ্যেও যে লুকিয়ে আছে প্রাণের ভয়, এই সিনেমা সেই গল্প বলে। আর এখানেই নোলান অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে পড়ে। আইম্যাক্স এ শুট করা এই সিনেমার শুরুর দৃশ্যেই যখন একজন সৈন্য শত্রুর গুলি থেকে নিজের প্রাণ বাঁচাতে ছুটে আসে, তখন আমরা মিশে যাই তার সাথে। আর যদি এটা দেখা যায় আইম্যাক্স স্ক্রিনে, তাহলে তো আর কোনো কথাই নেই। এই দুঘন্টার মধ্যে মন আপনাকে অন্য একটা জগতে নিয়ে যেতে বাধ্য করবেই। আপনাকে চিন্তাতে ফেলবেই। তবে এই জন্য শুধু নোলান একা দায়ী নয় । যার মিউজিক ছাড়া এটা সম্ভব হত না, তিনি হলেন হ্যান্স জিমার। নোলানের প্রায় সব সিনেমাতেই আমরা শুনেছি তাঁরই মিউজিক। সিনেমাটা তাই এদের দুজনের। সিনেমাটার সাথে একাত্ম হওয়ার জন্য আর যেটা সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে, সেটা হল এডিটিং এর সময় সিনেমার রং। সেই পুরোনো দিনের সিনেমার মত। তাই পুরোনো যুদ্ধের কথা মনে পড়তে এটা বাধ্য করবেই।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান