সববাংলায়

১৯ আগস্ট।। বিশ্ব মানবিক দিবস

প্রতিবছর প্রতিমাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে কিছু দিবস পালিত হয়। নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরী করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়। বিশ্বে পালনীয় সেই সমস্ত দিবসগুলি মধ্যে একটি হলো ‘বিশ্ব মানবিক দিবস’ (World Humanitarian Day)।

প্রতিবছর ১৯ আগস্ট ‘বিশ্ব মানবিক দিবস’ সারা বিশ্বের সেই সমস্ত ত্রাণ কর্মীদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও তাঁদের প্রতি সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে পালিত হয়ে থাকে যাঁরা কর্মরত অবস্থায় নিহত বা আহত হয়েছেন।

২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে ২০০৯ সালের ১৯ আগস্টকে ‘বিশ্ব মানবিক দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০০৩ সালের ১৯ আগস্ট ইরাকের রাজধানী বাগদাদের ক্যানাল হোটেলে একটি বিস্ফোরণে ২২ জন প্রাণ হারান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রাষ্ট্রসঙ্ঘ ইরাকের বিশেষ দূত এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রাক্তন মানবাধিকার হাই কমিশনার সের্জিও ভিয়েরা ডি মেলো (Sérgio Vieira de Mello)। পরবর্তী সময়ে সের্জিও ভিয়েরা ডি মেলোর স্মৃতিতে তৈরি হওয়া সের্জিও ভিয়েরা ডি মেলো ফাউন্ডেশন এবং তাঁর পরিবার ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, জাপান এবং ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতদের সাথে মিলিত ভাবে ১৯ আগস্ট দিনটিকে যাতে ‘বিশ্ব মানবতা দিবস’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় সেই বিষয়ে একটি খসড়া রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভায় পেশ করে। সের্জিও ভিয়েরা ডি মেলো ৩০ বছর ধরে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাথে কাজ করেছিলেন এবং অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মানবাধিকার স্থাপনের প্রচেষ্টা করেছিলেন। তাঁর মানবাধিকার স্থাপন করার অসম্পূর্ণ লড়াইকে সম্পূর্ণ করাই এই ফাউন্ডেশন -এর লক্ষ্য। বিভিন্ন মানুষ ও জাতির মধ্যে দ্বন্দ্ব দূর করে শান্তি পূর্ণভাবে সহবাসের প্রচেষ্টাকে তুলে ধরার জন্য প্রতিবছর সের্জিও ভিয়েরা ডি মেলো পুরস্কার, সের্জিও ভিয়েরা ডি মেলো মেমোরিয়াল লেকচার এবং সের্জিও ভিয়েরা ডি মেলো ফেলোশিপ দেওয়া হয়। এই ফাউন্ডেশনটি বিভিন্ন দেশের সরকার, রাষ্ট্রসংঘ, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং এন.জি.ও-র সাথে যুক্ত হয়ে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস যথার্থভাবে পালন করে।

২০০৮ সালে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মোট ১২২ জন কর্মী বিভিন্ন এলাকায় কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন৷ যত দিন যাচ্ছে ক্রমশ আরো বেশী করে রাষ্ট্রসঙ্ঘের ত্রাণকর্মীরা সশস্ত্র হানা এবং অপহরণের শিকার হচ্ছেন৷ বিগত কয়েক বছরে যত আক্রমণ ঘটেছে, তার তিন-চতুর্থাংশ সংঘটিত হয়েছে বিশ্বের ছ’টি দেশে, যে তালিকায় প্রথমেই আসে সুদান এবং দারফুরের নাম৷ এ ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে সোমালিয়া, আফগানিস্তান, চাদ, ইরাক এবং পাকিস্তান৷ ত্রাণ কর্মীদের উপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণের নানাবিধ কারণ আছে৷ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন নিজেদের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য পরিকল্পিত ভাবে ত্রাণকর্মীদের ওপর হামলা করছে। আক্রমণকারী জঙ্গিরা কখনো নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে, কখনো রাজনৈতিক দাবী আদায়ের জন্য এবং অনেক সময় নিছক টাকা সংগ্রহের তাগিদে ত্রাণ কর্মীদের ওপর অত্যাচার চালায় বা হত্যা করে৷

২০০৯ সালের ১৯ আগস্ট ‘বিশ্ব মানবিক দিবস’ প্রথম পালিত হয়। এই দিনটি পালনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মানবিক সংস্থার প্রধান ও প্রতিনিধিরা একটি নির্দিষ্ট স্থানে সমবেত হন। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এই দিবস পালনের মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয় একটি মূল বার্তা, ত্রাণ কর্মীরা যাতে কোন হামলার লক্ষ্যবস্তু না হয় এবং তাঁদের সংকটে যেন বিশ্বের মানুষ এগিয়ে আসেন। ২০০৯ সালের পর থেকে প্রত্যেক বছর এই দিনটি পালনের জন্য একটা থিম বা প্রতিপাদ্য থাকে। ২০১৯ সালের প্রতিপাদ্য ছিল – নারী মানবতাবাদী (Women Humanitarians)। ২০২০ সালের প্রতিপাদ্য ছিল – বাস্তবের নায়ক (Real Life Heroes)।  ২০২১ সালের প্রতিপাদ্য ছিল – মানবজাতি (The Human Race)।  ২০২২  ও ২০২৩ সালের প্রতিপাদ্য – একটি গ্রামের প্রয়োজন (It takes a village)। ২০২৪ সালের প্রতিপাদ্য – মানবতার জন্য কাজ করুন ( Act for Humanity )।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading