ভূগোল

জাপান

japan flag জাপান (Japan) বিশ্বের দরবারে সমাদৃত সুশৃঙ্খল জাতি হিসেবে। কর্মব্যস্ত মানুষ ছুটে চলেছে প্রতিদিন, একে অপরের সঙ্গে আন্তরিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে। প্রাকৃতিক সম্পদের অপ্রতুলতা সত্ত্বেও জনগণের সৃজনশীলতা ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় একটা সুন্দর প্রযুক্তি সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলা যায় তার একটি অনন্য উদাহারণ হল জাপান। ১৮টি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজসহ সাগর আর পাহাড়ের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য জাপান ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য স্বর্গপুরী। জাপানকে "উদীয়মান সূর্যের দেশ" বলা হয়।

এশিয়া মহাদেশের একটি অন্যতম দেশ হল জাপান জাপান আসলে একটি যৌগিক আগ্নেয়গিরীয় দ্বীপমালা। এল এই দ্বীপমালাটি ৬,৮৫২টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত। জাপানের বৃহত্তম চারটি দ্বীপ হল হোনশু, হোক্কাইদো, ক্যুশু ও শিকোকু। এই চারটি দ্বীপ জাপানের মোট ভূখণ্ডের ৯৭% এলাকা নিয়ে গঠিত। এই দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে জাপান সাগর, পূর্ব চীন সাগর, চীন, উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও রাশিয়ার পূর্ব দিকে উত্তরে ওখোৎস্ক সাগর থেকে দক্ষিণ পূর্ব চীন সাগর ও তাইওয়ান পর্যন্ত প্রসারিত।  জাপান ভূখণ্ডের ৭৩ শতাংশই বনভূমি, পার্বত্য অঞ্চল এবং কৃষি, শিল্প বা গৃহনির্মাণের অনুপযোগী, এই কারণে উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলি অত্যন্ত ঘন বসতিপূর্ণ।

জাপানের রাজধানী হল টোকিও । ২০১০ সালের পরিসংখ্যান অনুসারে টোকিও মহানগর এলাকাতে প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ লোকের বাস। এই শহরটিকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার দ্বিতীয় বৃহত্তম মূল শহর হিসেবে গন্য করা হয়। এটি জাপানের প্রধানতম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। টোকিও শহরে অত্যাধুনিক জীবনধারার সাথে ঐতিহ্যের সংমিশ্রণ ঘটেছে। এখানে গগনস্পর্শী অট্টালিকা যেমন আছে, তেমনই আছে ঐতিহাসিক সব মন্দির।

২০০৮ জনসংখ্যার পরিসংখ্যানের হিসেবে জাপান বিশ্বের দশম  বৃহত্তম দেশ।

জাপানি ইয়েন বা জাপানি এন হল জাপানের মুদ্রার নাম। জাপানের প্রধান দুইটি ধর্ম হলো শিন্তো ধর্ম ও বৌদ্ধ ধর্ম। প্রাকৃতিক শক্তিসমূহের প্রাচীন উপাসনার বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনী শিন্তো ধর্মের ভিত্তি। জাপানে প্রথম বৌদ্ধ ধর্মের প্রচলন হয় ৬ষ্ঠ শতকে এবং এর পরের প্রায় ১০ শতক ধরে এটি জাপানের সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের উপর গভীর প্রভাব বিস্তার করেছে। বহু জাপানি পূর্বপুরুষদের স্মরণে বৌদ্ধ মন্দিরে যায়।

জাপান একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র। এখানে সম্রাটের ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সংবিধান তাঁকে "রাষ্ট্র ও জনগণের ঐক্যের প্রতীক" হিসেবে চিহ্নিত করেছে। জাপানের আইনবিভাগ হল ন্যাশনাল ডায়েট। এটি টোকিওর চিয়োদায় অবস্থিত। ডায়েট একটি দ্বিকক্ষীয় আইনসভা।

জাপানের উল্লেখযোগ্য ভ্রমনস্থানের কথা না বললে সমস্তটা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। সূর্যোদয়ের দেশ জাপানের বেশ কিছু নান্দনিক স্থান হল, শিবুয়া ক্রসিং (Shibuya Crossing), আরশ্যইয়ামা ব্যাম্বু গ্রোভ (Arashiyama Bamboo Grove), ইৎসুকুশিমা শ্রাইন (Itsukushima Shrine), ডোটনবরি (Dotonbori), শিরাকাওয়া-গো (Shirakawa-go), জিগোকুন্দানি মাঙ্কি পার্ক (Jigokudani Monkey Park), ইত্যাদি নানা স্থানের পাশাপাশি যেটি না দর্শন করলে জাপান ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থেকে যায় তা হল টোকিও টাওয়ার (Tokyo Tower), টোকিওর কেন্দ্রস্থলে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকা এই দালানটি বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা স্বয়ংসম্পূর্ণ স্টিল বিল্ডিং।

ঐতিহ্যগত জাপানি খাবারের কথা বলতে হলে শুরু করতে হবে স্যুপের সাথে তারপর টাটকা কাঁচা মাছ খাওয়ার প্রচলন আছে যার নাম ‘সুসি’ বা ‘সাসিমি’। জাপানীরা মূলত সিদ্ধ জাতীয় খাবার তাদের রন্ধন প্রণালীতে জায়গা দিয়ে থাকেন। আরেকটা মজার বিষয় হল কোনো খাবারকে স্বাদে সুন্দর করার পাশাপাশি তারা দেখতে সুন্দর করার চেষ্টাও করেন, না হলে জাপানিরা খেয়ে তৃপ্তি পায় না।

1 Comment

1 Comment

  1. Anonymous

    July 28, 2018 at 1:43 pm

    খুব সুন্দর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top
error: Content is protected !!