পিঙ্কি প্রমিস

পিঙ্কি প্রমিস

আমরা অনেকেই শিশুদের মধ্যে বিশেষ করে স্কুল পড়ুয়া বালিকা শিশুদের মধ্যে এই বিশেষ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করতে শুনেছি। কিন্তু অনেকেই হয়ত বুঝতে পারিনি এর আসল অর্থটি কি ? প্রমিস নাহয় বোঝা গেল শপথ নেওয়া কিংবা কথা দেওয়া বোঝায় কিন্তু পিঙ্কি বলতে কি বোঝাচ্ছে ? আসুন তাহলে পিঙ্কি প্রমিসের এই রহস্যভেদ করা যাক।  

ইংরেজি শব্দ পিঙ্কি (pinkie) বলতে আমাদের হাতের কড়ে আঙুলটিকে বোঝানো হয়।  পিঙ্কি প্রমিস হল একটি ঐতিহ্যগত রেওয়াজ যেখানে শিশুরা একে অপরের কড়ে আঙুল জড়িয়ে কোন প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ হয়।  অনেক সময় কোন কারণ বশত এই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গও করতে হয়। মনে করা হয়ে থাকে এই পিঙ্কি প্রমিসের উৎপত্তি হয়েছিল জাপানে এডো যুগে। জাপানে  এই প্রথাটি ‘ইউবিকিরি গেনমান’ নামে প্রসিদ্ধ। ইউবিকিরির অর্থ ‘আঙুল কেটে ফেলা’। জাপানে এক সময় একটি প্রথা প্রচলিত ছিল যদি কোনও ব্যক্তি পিঙ্কি প্রমিস ভেঙে ফেলে তাহলে সেই ব্যক্তি নিজের কড়ে আঙুল অর্থাৎ কনিষ্ঠ আঙুলটি কেটে ফেলে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মূল্য দেবে। অনেকে আবার এ-ও মনে করেন, ইয়াকুজা অর্থাৎ জাপানি মাফিয়া এই রীতি চালু করেছিল। এই আঙুল কেটে ফেলা নিয়ে একটি গল্প প্রচলিত আছে জাপানে। গল্পটির উৎপত্তি জাপানের ইয়োশিয়ারাতে। ইয়োশিয়ারা ছিল  প্রাচীন জাপানের প্রসিদ্ধ নিষিদ্ধপল্লী।  এই নিষিদ্ধপল্লীর এক গণিকা তাঁর কাছে আগত বাবুদের যত্ন আত্তিরের ব্যাপারে তাঁদের কাছে এতটাই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন যে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শাস্তি স্বরূপ নিজের কড়ে আঙুল কেটে ফেলার কথা দিয়েছিলেন।  এই ঘটনার কথা পরবর্তীকালে জনসমাজে ছড়িয়ে পড়লেও এই প্রমিসের তাৎপর্য পাল্টে যায়।   জাপানে একটি নার্সারি কবিতাও প্রচলিত আছে যেখানে বলা হয় – “ইউবিকিরি গেনমান, তুমি যদি কোন মিথ্যে কথা বলে থাকো তাহলে ১০০০ সূঁচ গিলে ফেলতে এবং হাতের একটি আঙুল কেটে ফেলতে হবে।”

উত্তর আমেরিকায় এই প্রথাটি সম্ভবত ১৮৬০ সাল থেকে প্রচলিত।  এ প্রসঙ্গে যে ছড়াটি প্রচলিত আমেরিকায় সেটি হল – “ পিঙ্কি পিঙ্কি, যদি কেউ মিথ্যে বলে তাহলে সে এমন একটি খারাপ স্থানে ডুবে যাবে যেখান থেকে সে কোনদিন উঠতে পারবে না।“ বলা বাহুল্য কেবল জাপান এবং আমেরিকাতেই নয় বর্তমানে সারা পৃথিবীতেই এই রীতি লক্ষ্য করা যায়।   উত্তর আয়ারল্যান্ডে এই প্রথাটি ‘পিগ্গি প্রমিস’, ইটালিতে ‘গিউরিন গিউরেটো’ এবং ভারতের মহারাষ্ট্রে ‘গাট্টি ফু’ নামে পরিচিত।  

পৃথিবীর প্রায় অধিকাংশ দেশেই পিঙ্কি প্রমিস সর্বদা অলঙ্ঘনীয় প্রতিশ্রুতি বোঝাতে ব্যবহার হয়ে এসেছে।  উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় চীন এবং জাপানে একটি ঐতিহ্যগত রীতি রয়েছে যেখানে বিবাহিত দম্পতিরা পরস্পর তাদের কড়ে আঙুলে একটি লাল সুতো বেঁধে রাখে। দুজনে যাতে অনন্তকাল ধরে পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকতে পারে সেই আশাতেই এই সুতো বাঁধা হয়ে থাকে।  থাইল্যান্ডেও এই পিঙ্কি প্রমিসের রীতি বহুদিনের।  সম্প্রতি ২০১৭ সালে পুনর্মিলন কে উদযাপিত করতে “নং কিয়াও কোয়”( Nong Kiaw Koy) বা ‘ছোট বোন পিঙ্কি প্রমিস’ নামে একটি ম্যাসকট চালু করেছে থাইল্যান্ড সরকার। 

আপনার মতামত জানান