আজকের দিনে

১৩ অক্টোবর ।। আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস

প্রতি বছর প্রতি মাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিভিন্ন দেশে কিছু দিবস পালিত হয়। ওই নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়। পালনীয় সেই সমস্ত দিবস গুলির মধ্যে একটি হল আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস (International Day for Natural Disaster Reduction)।

গোটা বিশ্বজুড়ে ১৩ অক্টোবর দিনটিতে যে-কোনো মুহূর্তে, পূর্বাভাসহীন, আকস্মিক কোনো বিপর্যয়ের সম্মুখীন হলে মানুষ সেই শিক্ষা কাজে লাগিয়ে প্রাণ বাঁচাতে পারে। বিশ্বব্যাপী মানুষকে দুর্যোগ মোকাবিলার পাঠ দিতে, এবং এইসব প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের থেকে সম্পত্তি এবং জীবন বাঁচানো যে সম্ভব সে বিষয়ে মানুষকে আরও অধিক সচেতন করে তুলতে এই আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসটি অতি গুরুত্ব সহকারে বিশ্বজুড়ে পালিত হয়ে থাকে।

১৯৮৯ সালের ২২ ডিসেম্বর তারিখে প্রস্তাবিত একটি সঙ্কল্পের ওপর ভিত্তি করে ১৯৯০-১৯৯৯ পর্যন্ত সময়কালকে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদ আন্তর্জাতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রশমনের দশক হিসেবে নির্বাচন করেছিল যেখানে বলা হয়েছিল প্রতি অক্টোবর মাসের বুধবার বিপর্যয় প্রশমন দিবস হিসেবে পালন করা হবে। এই দশকটির মূল লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে বিশেষত উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রাকৃতিক বিপর্যয় জনিত সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং প্রাণহানি হ্রাস করা। এই কাজকে সমর্থন করবার জন্য সুইজারল্যান্ডের জেনেভাতে রাষ্ট্রপুঞ্জের সদর দপ্তরে ইউনাইটেড নেশনস ডিজাস্টার রিলিফ কো-অর্ডিনেটর (United Nations Disaster Relief Co-ordinator বা, UNDRO) সংস্থার সঙ্গে একত্রে একটি সচিবালয় গঠন করা হয়েছিল। ২০০২ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদ বিশ্বব্যাপী বিপর্যয় হ্রাসকরণের একটি সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য, দুর্যোগ প্রশমনের প্রস্তুতির প্রচারের লক্ষ্যে বিশ্বজুড়ে একটি বার্ষিক উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে তা কেবল একটি দশকেই আর সীমাবদ্ধ থাকল না। অবশেষে ২০০৯ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদ ১৩ অক্টোবর দিনটিকে বেছে নেয় আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্যোগ প্রশমনকেন্দ্রিক একটি বিশেষ দিবস পালনের জন্য।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ একটি অনিবার্য ঘটনা। ভূমিকম্প, জলোচ্ছ্বাস, ঝড়-ঝঞ্ঝা ইত্যাদি প্রকৃতির স্বাভাবিক ব্যাপার। এইসব বিপর্যয়ের কারণে, প্রকৃতির প্রচন্ড তান্ডবলীলায় সারাবিশ্ব বিপুল ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। শুধু সম্পত্তির ক্ষতিই নয়, মানুষের মৃত্যুর কারণও হয়ে দাঁড়ায় এইসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এই দুর্যোগের হাত এড়িয়ে যাওয়া মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়, কিন্তু আবহাওয়া দপ্তর মারফত দুর্যোগের পূর্বাভাস পেয়ে আগে থেকেই এমন কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে মানুষ যার ফলে সম্পত্তির প্রভূত বিনষ্টি এবং বিপর্যয়জনিত মৃত্যু রোধ করা সম্ভব। এছাড়াও দুর্যোগের সঙ্গে মোকাবিলার জন্য কিছু প্রাথমিক শিক্ষারও প্রয়োজন মানুষের। এর মাধ্যমে প্রত্যেকটি মানুষ এবং সমস্ত দেশের সরকারকে আরও বেশি করে দুর্যোগ মোকাবিলা গোষ্ঠী গড়ে তোলবার কথা বলা হয়ে থাকে৷ কী কী উপায়ে প্রকৃতির রোষানলের ফলে সংঘটিত ব্যাক্তিগত, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি ও মৃত্যুর হার কমানো যেতে পারে এই বিশেষ দিনটিতে সেই বিষয়গুলির ওপর জোর দিয়েই জনসচেতনতা তৈরি করবার চেষ্টা করা হয়।

জাপানের সেন্ডাইতে (Sendai) অনুষ্ঠিত বিপর্যয়ের ঝুঁকি হ্রাসকরণ কেন্দ্রিক বিশ্ব সম্মেলনে রাষ্ট্রপুঞ্জের সদস্য রাষ্ট্রগুলি কর্তৃক একটি ১৫ বছর ব্যাপী কর্মসূচি গৃহীত হয়েছিল ২০১৫ সালের ১৪ থেকে ১৮ই মার্চের মধ্যে। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদ সেই বছর ১৫ জুন তারিখে এই বিষয়টিকে সমর্থন জানিয়েছিল এবং অনুমোদন দিয়েছিল। এই কর্মসূচী দ্য সেন্ডাই ফ্রেমওয়ার্ক ফর ডিজাসটার রিস্ক রিডাকশন (The Sendai Framework for Disaster Risk Reduction) নামে পরিচিত। যেহেতু বিপর্যয় মোকাবিলা কেন্দ্রিক মোট সাতটি লক্ষ্য এই কর্মসূচীর অন্তর্ভুক্ত তাই এটি ‘সেন্ডাই সেভেন ক্যাম্পেন’ নামেও পরিচিত।

এই বিশেষ দিনটি পালনের জন্য বিভিন্ন দেশে সভা সমিতির আয়োজন করা হয়, পোস্টার, লিফলেটের মাধ্যমে দুর্যোগের ঝুঁকি কমাবার নানা পন্থা প্রচার করা হয়, টেলিভিশনে বিশেষজ্ঞরা টক শো-এর মাধ্যমে মানুষকে বিবিধপ্রকার বিপর্যয়ের ধরণ এবং তা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় বিশ্লেষণ করে বলেন, এছাড়াও কোথাও বা ভূমিকম্প এবং অগ্নিকাণ্ডের মহড়ার ব্যবস্থা করা হয় সহজে জনসচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে। এসব ছাড়াও আরও বিভিন্ন উপায়ে মানুষকে বিপর্যয় মোকাবিলার পাঠ দেবার চেষ্টা করা হয়ে থাকে।

প্রতিবছর এই বিশেষ দিনটির জন্য একটি করে বিষয় নির্বাচন করা হয়ে থাকে। উল্লেখ্য যে ২০১৬ সাল থেকে প্রতিবছরের থিম হিসেবে যে বিষয় নির্বাচন করা হয়, সেটি ওই সেন্ডাই সেভেন কর্মসূচিরই অন্তর্ভুক্ত। ২০১৮ সালের থিম বা বিষয় হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছিল-  ‘বিপর্যয়জনিত অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির হ্রাসকরণ’ (Reduce direct disaster economic loss)। ২০১৯ সালের বিষয় ছিল- ‘বিপর্যয়ের কারণে গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগত ক্ষতি এবং প্রাথমিক পরিষেবার ধ্বংস রোধ করা’ (Reduce disaster damage to critical infrastructure and disruption of basic services)।  ২০২০ সালের বিষয় হল-  ‘বিপর্যয়ের ঝুঁকির জন্য সুব্যবস্থাপনা’ (Good disaster risk governance)।

সববাংলায় পড়ে ভালো লাগছে? এখানে ক্লিক করে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ভিডিও চ্যানেলটিওবাঙালি পাঠকের কাছে আপনার বিজ্ঞাপন পৌঁছে দিতে যোগাযোগ করুন – contact@sobbanglay.com এ।


Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।