সববাংলায়

১৮ মে | আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস

বিভাগঃ , ,

প্রতি বছর প্রতি মাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিভিন্ন দেশেই কিছু দিবস পালিত হয়। ঐ নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়। সমগ্র বিশ্বে পালনীয় সেই দিবসগুলির মধ্যে একটি হল আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস (International Museum Day)।

প্রতি বছর ১৮ মে সমগ্র বিশ্ব জুড়ে আন্তর্জাতিক জাদুঘর সংস্থার (International Council of Museums) উদ্যোগে পালিত হয় আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস । মূলত সমাজের উন্নয়নের আড়ালে একটি জাদুঘরের গুরুত্বকেই তুলে ধরতে এই বিশেষ দিনটি পালিত হয়। আমেরিকা থেকে ওশিয়ানিয়া সহ আফ্রিকা এমনকি ইউরোপ ও এশিয়াতেও এই দিনটি বিশেষভাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

জাদুঘর সাধারণত মানবতার ঐতিহ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্ব জুড়ে ব্যক্তিদের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়, সংস্কৃতির সমৃদ্ধি ও পারস্পরিক বোঝাপড়া, সহযোগিতা ও শান্তির বিকাশের জন্য এই জাদুঘরগুলি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কোনও দেশের প্রাগৈতিহাসিক সময় থেকে শুরু করে আধুনিক কালের জীবনের গতিপথের সুচারু ও সুনিপুণ পদাঙ্ক অনুসরণ করতে সাহায্য করে এই জাদুঘরগুলি। আসলে জাদুঘর এমন একটি জায়গা যেখানে আসলে কোনও কিছুই হারিয়ে যায়নি, বরং তা পুনরাবিষ্কৃত হয়েছে। ১৯৭৭ সালে আন্তর্জাতিক জাদুঘর সংস্থা এই আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস পালন শুরু করে। বিখ্যাত তাত্ত্বিক রবার্ট ফোর্ট বলছেন যে জাদুঘরগুলির নিজস্ব কোনও রাজনৈতিক ক্ষমতা না থাকলেও তারা কোনও রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে। পরিবর্তনশীল বিশ্বের সংরক্ষণাগার হল এই জাদুঘর। তাই এটি শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিকভাবে প্রয়োজনীয় নয়, বরং সাংস্কৃতিক ভাবেও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক হেরিটেজকে সংরক্ষণ করার উদ্দেশ্য নিয়েই বিশ্ব জুড়ে সমস্ত জাদুঘর বিশারদদের একত্রিত করে তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক জাদুঘর সংস্থা। সংস্কৃতি ও জ্ঞানের প্রচার ও প্রসারের জন্য এই সংস্থার ৩১ নং আন্তর্জাতিক কমিটি দায়বদ্ধ। প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানের অবৈধ পাচার রুখতেও এই সংস্থা কাজ করে থাকে। ১৯৭৭ সাল থেকে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এই বিশেষ দিনটি পালন করা হয়। ২০০৯ সালে ৯০টিরও বেশি দেশে প্রায় ২০ হাজার জাদুঘর স্থাপনের অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিল এই সংস্থাটি। ২০১০ সালে ৯৮টি দেশ অংশগ্রহণ করেছিল এই অনুষ্ঠানে, ২০১১ সালে অংশ নিয়েছিল প্রায় ১০০টি দেশ। ২০১২ সালে ১২৯টি দেশের প্রায় ৩০ হাজার জাদুঘর এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিল। ২০১৬ সালে ১৪৫টি দেশ থেকে প্রায় ৩৫ হাজার জাদুঘর এই বিশেষ উদ্‌যাপনে অংশ নিয়েছিল।

আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবসকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি সংস্থা জাদুঘর পরিদর্শনের জন্য বিনামূল্যে অনুমতির ব্যবস্থা করে। এই সমস্ত জাদুঘরগুলি কৃষিকাজ, ফ্যাশন, মহাকাশ, জ্যোতির্বিদ্যা, প্রত্নতত্ত্ব, শিল্প ও সংস্কৃতি ও ইতিহাস নানা বিষয়েরই জাদুঘর হতে পারে। এই বিশেষ দিনে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব মিলে অনেকে জাদুঘর পরিদর্শনে যান। জাদুঘর সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেই ১৮ মে তারিখে এই দিনটি পালিত হয়। ২০০৭ সাল থেকে আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস একটি বিশেষ প্রতিপাদ্যকে (Theme) সামনে রেখে উদ্‌যাপন করা হয়ে আসছে।

আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবসের থিম বা প্রতিপাদ্য

  • ২০২৫ – দ্রুত পরিবর্তনশীল সম্প্রদায়গুলিতে জাদুঘরের ভবিষ্যৎ (The Future of Museums in Rapidly Changing Communities)
  • ২০২৪ – শিক্ষা ও গবেষণার জন্য জাদুঘর (Museums for Education and Research)
  • ২০২৩ – জাদুঘর, স্থায়িত্ব এবং সুস্থতা (Museums, Sustainability and Well-being)
  • ২০২২ – জাদুঘরের ক্ষমতা (The Power of Museums)
  • ২০২১ – জাদুঘরের ভবিষ্যৎ : পুনরুদ্ধার এবং পুনর্কল্পনা (The Future of Museums: Recover and Re imagine)
  • ২০২০ – সমতার জন্য জাদুঘর : বৈচিত্র্য এবং অন্তর্ভুক্তি (Museums for Equality: Diversity and Inclusion)
  • ২০১৯ – সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে জাদুঘর : ঐতিহ্যের ভবিষ্যৎ (Museums as Cultural Hubs: The future of tradition)
  • ২০১৮ – সুসংযোজিত জাদুঘর : নতুন পদ্ধতি, নতুন জনগণ (Hyper connected Museums: New approaches, new publics)
  • ২০১৭ – জাদুঘর এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ইতিহাস : জাদুঘরে অবর্ণনীয়ের বর্ণনা (Museums and Contested Histories: Saying the Unspeakable in Museums)

সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading