ধর্ম

সান্টা ক্লজ

সান্টা ক্লজ পাশ্চাত্য রূপকথার একটি চরিত্র। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, সান্টা ক্লজ খ্রিষ্টমাস ইভের মাঝরাতে বাড়ি বাড়ি ঘুরে ছেলেমেয়েদের বিভিন্ন উপহার দিয়ে যান। বলা হয় সেন্ট নিকোলাসের থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই কাল্পনিক এই সান্টা ক্লজ চরিত্রটি বানানো হয়েছে।

সান্টা ক্লজ দেখতে হাস্যমুখর, সাদা-দাড়িওয়ালা একজন বৃদ্ধ মানুষ। তাঁর পরনে সাদা কলার ও সাদা আস্তিনের লাল কোট, সাদা আস্তিনের লাল ট্রাউজার্স, কালো চামড়ার বেল্ট ও বুটজুতো। পিঠে বড় ঝোলাতে বোঝাই করা বিভিন্ন উপহার। একটি রূপকথার গল্প অনুযায়ী, সান্টা ক্লজ থাকেন সুদূর উত্তরের বরফে ঢাকা একটি দেশে। আবার আমেরিকান রূপকথার গল্প অনুযায়ী তাঁর বাসস্থান উত্তর মেরুতে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, সান্টা ক্লজ সারা বিশ্বের ভালো এবং দুষ্টু বাচ্চাদের একটি তালিকা তৈরি করেন। তারপর ক্রিসমাস ইভের রাতে স্লেজগাড়িতে উপহার বোঝাই করে বিশ্বজুড়ে বাচ্চাদের সেই উপহার বিতরণ করতে বেরিয়ে পড়েন। স্লেজগাড়ি টানে বল্গাহরিণেরা। এই নিয়ে তো বিখ্যাত একটি গানও আছে, "জিঙ্গল বেল"। তারপর  তিনি ভালো ছেলেমেয়েদের খেলনা, লজেন্স এবং আরও অন্যান্য উপহার দিয়ে যান। আবার দুষ্টু ছেলেমেয়েদের নাকি কয়লা দিয়ে যান।

এবার আসি সেন্ট নিকোলাসের কথায়। যার অনুপ্রেরণায় নাকি সান্টা ক্লজের সৃষ্টি।  তৃতীয় শতাব্দীর শেষের দিকে (আনুমানিক ২৮০ খ্রিস্টাব্দে) গ্রীকে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তিনি মায়রা নামের একটি শহরে বিশপ নির্বাচিত হন। এই মায়রা হল আধুনিক তুরস্কের অংশ। তাঁর জীবদ্দশায় তিনি খ্রিস্টধর্ম প্রচারের জন্য অনেক অত্যাচার সহ্য করেন, এমনকি বহুদিন কারাগারেও বন্দী ছিলেন। সেন্ট নিকোলাস উদারতার জন্য বিখ্যাত হয়ে ওঠেন। তাঁকে নিয়ে দুটি প্রচলিত গল্প আছে। একটি গল্প অনুযায়ী তিনি তিনটে গরীব মেয়ের বাবাকে গোপনে তিনব্যাগ সোনা দিয়েছিলেন, যাতে সেইগুলো মেয়েগুলোর বিয়ের যৌতুক হিসাবে ব্যবহার করা যায়। এইভাবে গরীব মেয়েগুলোকে তিনি পতিতাবৃত্তির হাত থেকে উদ্ধার করেছিলেন। অন্য গল্প অনুযায়ী তিনি একটি সরাইখানায় গেছিলেন, যার মালিক সদ্য তিনটি ছেলেকে হত্যা করে তাদের দেহের টুকরোগুলো পিপেতে ভরছিল। তিনি তারপর সেই ছেলেদের নাকি জীবনদান করেছিলেন।

তাঁর মৃত্যুদিন ৬ ডিসেম্বর বহুশত বছর অবধি বাচ্চাদের উপহার দেওয়ার রীতির মাধ্যমে পালন করা হত। এখনও ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় সেই রীতির প্রচলন আছে।  কিন্তু ১৫০০ শতকে ইউরোপে প্রোটেস্ট্যান্ট মতের প্রচারের সাথে সাথে সেন্ট নিকোলাসের গল্পকথাগুলো আস্তে আস্তে লোপ পেতে থাকে। কিন্তু হল্যান্ড থেকে এই গল্প লোপ না পেয়ে হল্যান্ডবাসী অর্থাৎ ওলন্দাজেরা সেন্ট নিকোলাসের নাম পরিবর্তিত করে নেয় সিন্টারক্লজ (Sinterklaas)। পরবর্তীকালে সতেরশো শতকে ওলন্দাজেরা যখন আমেরিকায় উপনিবেশ স্থাপন করে, তখন এই ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে আসে তখনকার নিউ অ্যামস্টারডাম বা এখনকার নিউ ইয়র্ক শহরে। সেখানেই সিন্টারক্লজ হয়ে ওঠেন সান্টা ক্লজ।

 

2 Comments

2 Comments

  1. Pingback: বড়দিন | সববাংলায়

  2. Pingback: বড়দিনে কেক খাওয়ার রীতি এল কিভাবে | সববাংলায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন।  

error: Content is protected !!