বাংলার ইতিহাসে যুদ্ধবিগ্রহ, ষড়যন্ত্র ইত্যাদি ঘটনার অভাব নেই। তবে যে যুদ্ধটি বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তিটিকে দৃঢ় করে এক অন্ধকার সময়কে ডেকে এনেছিল, সেটি হল ইতিহাসখ্যাত পলাশীর যুদ্ধ (Battle of Plassey)। নবাব সিরাজউদৌল্লা এবং ব্রিটিশদের মধ্যে সংঘটিত এই যুদ্ধ কিন্তু একদিনের বেশি স্থায়ী হয়নি। কেবলমাত্র নবাবের বিরুদ্ধে গূঢ় ষড়যন্ত্রই সিরাজউদৌল্লার পরাজয় ডেকে এনেছিল। পলাশীর যুদ্ধে নবাবের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার জন্য তাঁর প্রধান সেনাপতি মীরজাফর আজও মানুষের কাছে ঘৃণার পাত্র হয়ে রয়ে গেছেন। তবে মীরজাফরের সঙ্গে নবাব-বিরোধী সেই ষড়যন্ত্রে নবাবেরই নিকটস্থ আরও অনেকেই ছিল। তবে এই যুদ্ধের নেপথ্য কারণের যে ইতিহাস রয়েছে তাও কমদিনের নয় এবং তা বহুমাত্রিক। ব্রিটিশদের নানারকম কার্যকলাপ এবং বাংলার নবাবদের সঙ্গে তাদের তিক্ত রসায়নই যুদ্ধ ডেকে এনেছিল। পলাশীর প্রান্তরে সংঘটিত এই যুদ্ধ বাংলার ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়।
১৭৫৭ সালের ২৩ জুন নবাব সিরাজউদৌল্লা ও তাঁর ফরাসি মিত্রদের সঙ্গে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির যে যুদ্ধ হয়েছিল কলকাতা থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার (৯৩ মাইল) উত্তরে এবং মুর্শিদাবাদের দক্ষিণে, তৎকালীন বাংলার রাজধানী (বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলায়) হুগলী নদীর তীরে পলাশিতে, সেই যুদ্ধই পলাশীর যুদ্ধ নামে ইতিহাসে পরিচিত। মাত্র আট-নয় ঘন্টা স্থায়ী হয়েছিল এই যুদ্ধ। এই অল্প সময়ের যুদ্ধেই নবাব সিরাজউদৌল্লা তাঁর প্রধান সেনাপতি মীরজাফর-সহ আরও অনেকের সম্মিলিত ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়ে রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বাধীন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। কেবলমাত্র বিশ্বস্ত মানুষদের ষড়যন্ত্রের কারণেই সিরাজউদৌল্লা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির তুলনায় ঢের বেশি সৈন্যসামন্ত নিয়েও ক্লাইভের মাত্র হাজার তিনেক গোরা সৈন্যের কাছে পরাজিত হয়ে গিয়েছিলেন।
এই যুদ্ধের পরেই সিরাজউদৌল্লার পতন হলে প্রতিশ্রুতিমতো ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মীরজাফরকে সিংহাসনে বসতে সহায়তা করেছিল।
এখন দেখে নেওয়া যাক পলাশীর যুদ্ধের পটভূমিটিকে। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যখন ১৬৫০ সালে হুগলিতে কুঠি নির্মাণ করে এই বাংলাদেশে বাণিজ্যের কাজ করতে শুরু করে তখন থেকেই ধারাবাহিকভাবে ইতিহাসের ঘটনাগুলিকে দেখে নিতে হবে। সেইসময় বাংলার গভর্নর ছিলেন শাজাহানের মেজো ছেলে সুজা। তিনি ইংরেজদের মাসিক তিন হাজার টাকার বিনিময়ে শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের অধিকার দিলেন বাংলায়। ফলত, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্য বিস্তৃত হতে থাকে। তারা ঢাকা, পাটনা, মালদা ইত্যাদি স্থানে কুঠি নির্মাণ করতে শুরু করে দেয়। তবে ঔরঙ্গজেবের রাজত্বকাল থেকে সরকারী মহলে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে নিয়ে অস্বস্তি দেখা দিতে শুরু করেছিল। ঔরঙ্গজেবের মামা শায়েস্তা খাঁ যখন বাংলার সুবাদার হলেন তখন প্রথমদিকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে বাণিজ্য-সংক্রান্ত কোন ঝামেলা না হলেও ক্রমে তা দেখা দিতে শুরু করে। ইংরেজ বণিকদের মাল আটক করা হতে থাকে, স্বচ্ছন্দে তাদের ব্যবসা করতে দেওয়া হয় না। ইংরেজরা সুজার করে যাওয়া বন্দোবস্তের কথা জানালে শায়েস্তা খাঁ জানিয়ে দেন, সুজার আমল শেষ, তিনি সুজার নির্দেশ মানতে রাজি নন। এইভাবে তাদের মধ্যে সংঘাত ঘনিয়ে ওঠে। তবে ১৬৯১ সালে পুনরায় বাংলার শাসনকর্তা ইব্রাহিম খান বার্ষিক তিন হাজার টাকার বিনিময়ে বিনাশুল্কে বাণিজ্যের অধিকারের বাদশাহী ফরমান দেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে। ঔরঙ্গজেব বাদশার উজীর আসাদ খাঁ বাদশাহী ফরমান সিলমোহর করে পাঠিয়ে দেন। ফলে ইংরেজদের বাণিজ্য আবার বিস্তারলাভ করতে শুরু করে। এরপরে ইংরেজরা কলকাতায় বসবাস করবার অধিকার পেয়েছিল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কলকাতা, সুতানুটি ও গোবিন্দপুর গ্রাম কিনে জমিদারি পত্তন করে। ১৭০০ সালে কলকাতায় নির্মাণ করে ফোর্ট উইলিয়াম।
বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধাগুলির অপব্যবহার করতে থাকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। দেশীয় আভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। যখন মুর্শিদকুলি খাঁ বাংলার নবাব হন, তিনি বিনাশুল্কে বাংলাদেশে ইংরেজদের এই বাণিজ্য করাকে মেনে নিতে পারেননি। ১৭১৩ সালে তিনি বাংলার নায়েব-সুবাদার থাকাকালে ইংরেজদের এই বিনাশুল্কে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করলে ইংরেজরা জন সারম্যান-এর নেতৃত্বে মোগল সম্রাট ফারুকশিয়ারের কাছে দৌত্য প্রেরণ করে। ফারুকশিয়ার ১৭১৭ সালে কোম্পানির অনুকূলে এক ফরমান জারি করে তাঁদের বার্ষিক তিন হাজার টাকার বিনিময়ে বিনাশুল্কে বাণিজ্যের অধিকার দেয়, কলকাতা, সুতানুটি ও গোবিন্দপুর-সহ আরও ৩৮টি গ্রাম কেনার অনুমতি দেয় এবং বাণিজ্যের ব্যাপারে কোম্পানি তাঁর ছাড়পত্র বা দস্তক ব্যবহারের অনুমতি পায়। এই ফরমান ফারুকশিয়ারের ফরমান নামে পরিচিত, যা বাংলাদেশে ইংরেজ শাসনের ভিত্তি স্থাপনে খুব গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল।
মুর্শিদকুলি যখন দেখলেন এই ফরমানের ফলে তিনি নিজে ক্ষতিগ্রস্ত তো হচ্ছেনই, সেই সঙ্গে দেশীয় বণিকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তখন সেই ফরমানকে একপ্রকার আমলই দিলেন না তিনি, বরং ফরমানের বিরুদ্ধে ঘোরতর আপত্তি তুললেন। ৩৮টি গ্রামের জমিদারকেও নিজেদের গ্রাম বিক্রিতে নিষেধ করলেন মুর্শিদকুলি খাঁ, ফলে ইংরেজদের সঙ্গে সম্পর্ক তাঁর তিক্ত হয়। ফরমান প্রয়োগে প্রভূত বাধা সৃষ্টি করেন তিনি। মুর্শিদকুলির পর সুজাউদ্দিম এবং আলিবর্দি খাঁ-ও কিন্তু দস্তকের অপব্যবহার বন্ধ করার জন্য ব্যবস্থা নেন। ইংরেজরা যাতে বাংলার রাজনীতিতে কোনরকম হস্তক্ষেপ না করতে পারে আলিবর্দি সে-সম্পর্কেও সজাগ ছিলেন। ইংরেজদের তিনি বাংলায় দূর্গ নির্মাণ করতে দেননি। আলিবর্দির পর ১৭৫৬ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সী সিরাজউদৌল্লা যখন বাংলার মসনদে বসেন তখন তিনিও ফারুকশিয়ারের ফরমান ব্যবহারের বিরোধিতা করেন। কেবল কোম্পানিই নয়, কোম্পানির ব্যক্তিগত কর্মচারীরাও সেই দস্তক ব্যবহার করে বাণিজ্য করত, ফলে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হত, এই ঘটনা সিরাজের চোখ এড়ায়নি।
তবে ইংরেজদের সঙ্গে সিরাজের সম্পর্কের অবনতির আরও কিছু কারণ আছে :-
প্রথমত, সিরাজ যখন সিংহাসনে বসেন, তখন প্রথামতো ইংরেজরা সিরাজকে কোন উপঢৌকন পাঠায়নি, ফলে নবাব এতে অপমানিত বোধ করেন।
দ্বিতীয়ত, সিরাজের সিংহাসন প্রাপ্তির ফলে আলিবর্দির জ্যেষ্ঠা কন্যা ঘসেটি বেগম এবং আলিবর্দির নাতি সৌকত জঙ্গ অসন্তুষ্ট হন। সিরাজের কানে খবর যায় ঘসেটি বেগম এবং সৌকত জঙ্গকে সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে ইংরেজরা সাহায্য করবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তৃতীয়ত, দেওয়ান রাজবল্লভ, যাঁর বিরুদ্ধে তহবিল তছরুপের অভিযোগ ওঠে, নিজের পুত্র কৃষ্ণদাসকে নির্দেশ দেয় ধনসম্পত্তি নিয়ে কলকাতায় পালিয়ে যেতে। কৃষ্ণদাস তাই করে এবং ইংরেজ গভর্নর ড্রেক তাঁকে আশ্রয় দেন। কৃষ্ণদাসকে নবাব তাঁর হাতে সমর্পণ করে দিতে বললে ইংরেজরা অস্বীকার করে।
চতুর্থত, দাক্ষিণাত্যে যুদ্ধের অজুহাতে ইংরেজ ও ফরাসী উভয়েই কলকাতায় দুর্গ নির্মাণ করতে চায়। নবাব এই কাজ করতে নিষেধ করায় ফরাসীরা তা মান্য করে কিন্তু ইংরেজরা সেই আদেশ মানতে নারাজ হয়। এমনকি নবাবের দূত নারায়ন দাসকেও অপমান করে ইংরেজরা। নবাব এতে ক্ষুব্ধ হন।
ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য নবাব কলকাতা আক্রমণ ও দখল করেন। সেসময় নাকি অনেক ইংরেজ অফিসার ও সেনাকে ফোর্ট উইলিয়ামের ছোট ঘরে বন্দী রাখেন নবাব, ফলে ৪৩জন শ্বাসকষ্টে মারা যায়। এই ঘটনা কলকাতার ব্ল্যাক হোল নামে পরিচিতি পায়। নবাব কলকাতার নাম রাখেন আলিনগর। এরপর ইংরেজ ও নবাবের মধ্যে আলিনগরের সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়। ইংরেজরা সন্ধির শর্তানুযায়ী আবার বাংলায় বিনাশুল্কে বাণিজ্যের অধিকার লাভ করে।
অন্যদিকে ক্লাইভ চন্দননগর আক্রমণ করে ফরাসী ঘাঁটি দখল করলে পরাজিত ফরাসীরা মুর্শিদাবাদে নবাবের কাছে আশ্রয় গ্রহণ করে, তাদের মধ্যে একপ্রকার মৈত্রীর সম্ভাবনা তৈরি হয়। তাছাড়া সিরাজের আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে জগৎশেঠ মহাতপ চাঁদ, উমিচাঁদ, রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ, মীরজাফর প্রমুখেরা নবাবের বিরুদ্ধে চক্রান্ত শুরু করে। ক্লাইভও যোগ দেন সেই ষড়যন্ত্রকারীদের দলে। আলিনগরের সন্ধির শর্ত অমান্য করার অভিযোগ তুলে ক্লাইভ নবাবকে পত্র পাঠিয়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। পত্রের উত্তর আসার পূর্বেই ক্লাইভ সৈন্য নিয়ে মুর্শিদাবাদ অভিমুখে যাত্রা করেন এবং অবশেষে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজউদৌল্লা ও ইংরেজদের মধ্যে সংঘটিত হয় পলাশীর যুদ্ধ।
নবাব সিরাজউদৌল্লার বাহিনীতে ১৮ হাজার অশ্বারোহী এবং এবং ৫০ হাজার পদাতিক সৈন্য ছিল। এছাড়াও ছিল ফরাসী আর্টিলারি সৈন্যের দল। অন্যদিকে ইংরেজের ছিল মাত্র তিন হাজার সৈন্য, তারমধ্যে ৮০০জন ইউরোপীয় এবং ২২০০জন দেশীয় সৈন্য ছিল।
সকাল আটটায় নবাবের বিশ্বস্ত সেনাপতি মীরমদন ইংরেজ সৈন্যকে আক্রমণ করলে, ছত্রভঙ্গ ক্লাইভের সৈন্যদল পলাশীর আমবাগানে আশ্রয় নেয়। ফরাসী বাহিনীও সেই আক্রমণে সক্রিয় অংশ নিয়েছিল। মীরমদন অগ্রসর হলে সেনাপতি মীরজাফর, ইয়ার লতিফ, রায়দুর্লভরা তাঁদের সেনা নিয়ে দাঁড়িয়েছিল পুতুলের মতো। দুপুরের দিকে বৃষ্টি নামায় সিরাজের গোলা-বারুদ সমস্ত ভিজে যায় কিন্তু মীরমদন যুদ্ধ থামাননি। যুদ্ধক্ষেত্রেই বীরের মতো মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মীরমদন যদি মীরজাফরদের সহায়তা পেতেন তাহলে হয়তো ইংরেজ সৈন্যকে পরাজিত করে ফেলতে পারতেন। মীরমদন ছাড়াও মোহনলালও যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ দিয়েছিলেন। মীরমদনের মৃত্যুর খবরে নবাব অস্থির হয়ে মীরজাফরের শরণাপন্ন হন। মীরজাফর নবাবের পক্ষে প্রাণপণ যুদ্ধের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা ছিল নিতান্তই অভিনয়। মীরমদনের মৃত্যুর খবর মীরজাফর ক্লাইভের কাছে পৌঁছে দেন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রসর হতে বলেন। এরপর আবার রায়দুর্লভ নবাবকে বলেন তাঁর সেনাপতিদের হাতে যুদ্ধের ভার দিয়ে তিনি স্বচ্ছন্দে মুর্শিদাবাদ ফিরে যেতে পারেন। নবাব মুর্শিদাবাদ ফিরে গেলে নবাবের বাহিনী কামান বর্ষন বন্ধ করে দেয়। ক্লাইভ নিজে সেনাসহ অগ্রসর হয়ে আসেন যুদ্ধক্ষেত্রে। মুহুর্মুহু নবাবের সৈন্যের ওপর আক্রমণ চালাতে থাকে তারা। বিকেল পাঁচটা নাগাদ নবাবের বাহিনী কোনরকম নেতৃত্ব ও নির্দেশনার অভাবে ইংরেজদের প্রবল আক্রমণের সম্মুখে আত্মসমর্পণ করে এবং পরাজয় স্বীকার করে নেয়।
এই পলাশীর যুদ্ধের ফল হয়েছিল সুদূরপ্রসারী। পলাশীর যুদ্ধে জয়লাভের ফলেই এদেশে ইংরেজ শাসনের ভিত্তিভূমি শক্ত হয়েছিল। যুদ্ধে সিরাজউদৌল্লার পতনের পর বাংলার মসনদে বসেছিলেন মীরজাফর। ইংরেজদের হাতের পুতুল হয়ে ছিলেন তিনি। পরোক্ষে মীরজাফরের আড়ালে ইংরেজই হয়ে দাঁড়ায় বাংলার প্রকৃত শাসক। যুদ্ধে জয়লাভের ফলে বাংলায় ইংরেজরা বিনাশুল্কে বাণিজ্য করতে থাকে। বাংলার ব্যবসা-বাণিজ্যে একচেটিয়া আধিপত্য কায়েমে সক্ষম হয় কোম্পানি।
মসনদে বসে মীরজাফর নানারকম মূল্যবান উপঢৌকন অনেক বেশি পরিমাণে ইংরেজদের দান করতে থাকেন, ফলে বাংলার রাজকোষ একেবারে শূন্য হয়ে পড়ে। এছাড়াও কোম্পানি বাংলার আর্থিক সম্পদ শোষণ করা শুরু করে। এই ঘটনা পলাশী লুন্ঠন নামে পরিচিত।
বাংলা থেকে লুঠ করা এই যাবতীয় সম্পদ ব্যবহার করে দক্ষিণ ভারতে ইংরেজরা ফরাসীদের পরাস্ত করে।
স্যার যদুনাথ সরকারের মতে, পলাশীর যুদ্ধের ফলে ভারতে মধ্যযুগের অবসান হয় এবং আধুনিক যুগের সূত্রপাত ঘটে।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।
তথ্যসূত্র
- ‘স্বদেশ, সভ্যতা ও বিশ্ব’ (পুনর্মুদ্রণ), জীবন মুখোপাধ্যায়, শ্রীধর পাবলিশার্স, জানুয়ারি ২০২১
- ‘পলাশীর যুদ্ধ’ (দ্বিতীয় সংস্করণ), তপনমোহন চট্টোপাধ্যায়, নাভানা, এপ্রিল, ১৯৫৬
- https://en.m.wikipedia.org/
- https://www.worldhistory.org/
- https://www.thehindu.com/
- https://www.nam.ac.uk/
- https://www.kronoskaf.com/


আপনার মতামত জানান