শিল্প-সাহিত্য

অকাল কুষ্মাণ্ড

বাংলা ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি প্রবাদ হল অকাল কুষ্মাণ্ড। এই শব্দটির বুৎপত্তি গত অর্থ হল, অসময়ে জন্মানো (অকাল ) কুমড়া (কুষ্মাণ্ড )। আবার শিবের একপ্রকার অনুচরদেরও কুষ্মাণ্ড বলা হয়৷ বাংলা প্রবাদের ধারায় এর অর্থ হল অকেজো, অকর্ম্মণ্য বা হিতাহিতজ্ঞানরহিত ব্যক্তি৷ এই প্রবাদটির উৎস খুঁজতে হলে আমাদের চলে যেতে হবে মহাভারতের সময়কালে৷

ধৃতরাষ্ট্রের বিয়ে  হয়েছিল গান্ধার দেশের রাজা সুবলের কন্যা গান্ধারীর সঙ্গে। কথিত আছে, তিনি কুমারী থাকাকালীনই শিবের কাছ থেকে শতপুত্রের জননী হওয়ার বর পান। আবার বিবাহের পর বেদব্যাস মুনির কাছে একই আশীর্বাদ লাভ করেন৷ একই সময়ে গর্ভবতী হয়েও ধৃতরাষ্ট্রের ভ্রাতা পান্ডুর স্ত্রী কুন্তী আগে পুত্র সন্তান প্রসব করায় গান্ধারী বিচলিত হয়ে পড়েন৷ প্রায় দুই বৎসর গর্ভধারন করার পরও সন্তান প্রসব না হওয়ায় গান্ধারী ক্রুদ্ধ হন এবং গর্ভে বারে বারে আঘাত করে গর্ভপাত ঘটান৷ তখন গর্ভ থেকে একটি মাংসপিণ্ড নির্গত হয়। বিরক্তিসহকারে সেই মাংসপিণ্ড গান্ধারী ফেলে দিতে উদ্যত হন৷ সেই সময় উপস্থিত হন ব্যাসদেব৷ ক্রুদ্ধ এবং ব্যথিত গান্ধারী প্রশ্ন করেন, ব্যাসদেবের আশীর্বাদের ফলস্বরূপ কেন শতপুত্র জন্ম নিল না। এই মাংসপিণ্ডই কি শতপুত্র! ব্যাসদেব গান্ধারীর দুঃখ বুঝতে পারেন এবং নিজের বচন সত্য করার উদ্যোগে উপায় বের করেন৷ তাঁর কথা মতই একশটি ঘিয়ে পূর্ণ কলসীতে সেই মাংসপিণ্ড পরিস্কার করে একশ ভাগে বিভক্ত করে প্রতিস্থাপন করা হয়৷ এ সেই কলসীগুলির মুখ ঢেকে রাখা হয় এক বছর। একবছর পর জন্ম হয় দুর্যোধন, তারপর দুঃশাসন সমেত নিরানব্বই পুত্র ও এক কন্যা দুঃশলার।

অন্যায় ষড়যন্ত্র, কুরুক্ষেত্রের ১৮ দিন ব্যপী মহাযুদ্ধ এবং কুরুবংশ ধ্বংসের জন্য দায়ী করা হয় গান্ধারীর পুত্র কৌরবদের৷ তাদের ভোগস্পৃহা, বিলাসিতা অন্যায় আচার আচরণ বংশ শেষ করার জন্য দায়ী ছিল। তারা অকাল কুষ্মাণ্ড ছিলেন তাই কুরুবংশের এই পরিনতি হয়েছিল৷ সেই হেতু আমাদের সমাজে অপদার্থ, নিষ্কর্মা, অপটু লোকদের তিরষ্কারের ক্ষেত্রে এই প্রবাদ ব্যবহার করা হয়ে থাকে৷

উদাহরণ - আজকালকার ছেলেরা সারাদিন কোন কাজ নেই শুধু ফেসবুক করে বসে বসে, সব এক একটি অকাল কুষ্মান্ড তৈরি হচ্ছে। 

তথ্যসূত্র


  1. প্রবাদের উৎস সন্ধান - সমর পাল, শোভা প্রকাশ / ঢাকা ; ১৫ পৃঃ
  2. https://bn.m.wiktionary.org/wiki/অকালকুষ্মাণ্ড

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন।  

error: Content is protected !!