ভূগোল

বুদবুদ

কখনও শুনেছেন জনপদের নাম ‘বুদবুদ’ (Bud Bud)? পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমানের একেবারে প্রান্তসীমায় অবস্থিত এই জনপদ। অভিধানে শব্দগত অর্থ ভুরভুরি বা জলবিম্ব, ইংরেজি প্রতিশব্দ Bubble। অনেকের উচ্চারণে বুদ্বুদ ধ্বনিত হয়, সেটি বেঠিক। অধুনা পশ্চিমবঙ্গে জেলা বিভাগের পর বুদবুদ পূর্ব বর্ধমানে হলেও  এর মহকুমা দুর্গাপুর, সেটি পশ্চিম বর্ধমানে। থানা, ব্লক অফিস পূর্ব বর্ধমানের অধীন। আধুনিক বিচারে বুদবুদকে জনগণনা নগর বা সেন্সাস টাউন বলা হয়, যদিও গ্রামের অনেক চিহ্ন বর্তমান।

budbud

ভূমন্ডলের পরিচয়ে ২৩o২৪’৩০” উত্তর এবং ৮৭o৩২’৩৪” পূর্ব আক্ষিকে বুদবুদ এর অবস্থান। অজয় নদের দক্ষিণ এবং দামোদর নদের উত্তর – এই দুই নদের মধ্যবর্তী সমতল খন্ডে এর অবস্থান। গ্রামটির ঠিক উত্তর দিকে পূর্ব পশ্চিম বরাবর খড়ি নদী প্রবাহিত হচ্ছে,  পোষাকি নাম খড়্গেশ্বরী নদী। একদা নদীটি দামোদরের উপনদী ছিল বলে ধারণা করা হয়। অবশ্য বর্তমানে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে খড়ি নদী বাঁকা নদীর সাথে মিলিত হয়ে ভাগীরথী নদীতে মিশেছে।

অতি প্রাচীন এই জনপদ কিন্তু পার্শ্ববর্তী গ্রাম মানকরের মত অসাধারণ প্রতিভা সম্পন্ন কেউ গ্রামটির পরিচিতিকে সেরকম ভাবে তুলে ধরেননি। তাই আত্মদীনা। শের শাহ তাঁর সমগ্র রাজ্যে রাস্তা ঘাট পান্থশালা ইত্যাদি নির্মাণ করেন। এই সময়েই বর্তমান গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোডের (GT Road) প্রাথমিক রূপ রেখার সূত্রপাত হয়।  পথপার্শ্বে একটি পান্থশালা, সংলগ্ন আস্তাবলও নির্মিত হয়। শেরশাহের আমলে সৈন্য চলাচলের সুবিধার্থে এই রাস্তারই উন্নতি হয় এবং এটি বাদশাহী রাজপথ পরিচয়ে পরিচিত হয়। পূর্বের পান্থশালাটি সরাইখানা নামাঙ্কিত হয়। এই প্রকার সরাইখানা যুক্ত জনপদকে চটি বলা হয়। বুদবুদের নবনাম হয় বুদবুদ চটি। এই হল বুদবুদের প্রাচীনত্বের পরিচয়।

কিন্তু বুদবুদ নামকরণ হয় কীভাবে? সম্রাট অশোক এবং শেরশাহী শাসনের মধ্যবর্তী কালে পাল বংশের শাসন ছিল এই বঙ্গভূমে। এই বংশের সর্বশেষ কৃতী রাজা ছিলেন রামপাল। পরবর্তী কালে প্রতিবেশী রাজ্যের আক্রমণ এবং অভ্যন্তরীন কলহের কারণে রাজ্যটি শতধায় বিভক্ত হয়। এই সময় এঁদের কোন বংশধর এতদ অঞ্চলে ছোটখাটো রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।  এঁরা ছিলেন বৌদ্ধ মতাবলম্বী। ব্রাহ্মণ্যবাদের সঙ্গে ঘোর বিবাদ শুরু হয়। কিন্তু কালের প্রভাবে প্রজাগণ ব্রাহ্মণ্য ও বৌদ্ধের মধ্যে এক সংমিশ্রিত আচার আচরনে অভ্যস্থ হয়। বৌদ্ধগণ নিরাকার। কিন্তু মহাযানগণ ব্রাহ্মণ্যবাদী মূর্তি পূজায় অভ্যস্থ হয়। গ্রামটির ইষ্ট দেবতা শিব, অর্থাৎ মহাদেব। মহাদেব বুদ্ধেশ্বর নামে পূজিত হতে থাকে। তার নাম অনুসারে সম্ভবত গ্রামটির নাম বুদবুদ। সৃষ্টিকালে গ্রামটির কি নাম ছিল ভবিষ্যতে গবেষকগণ খোঁজ করবেন। তবে এই মতটি সমধিক প্রচলিত।

ব্রিটিশ শাসনকালে লর্ড কর্নওয়ালিসের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তনের পর যখন চাকলা, জেলা (District)  নামে পরিচিতি পায় তখন এর অধীনে মহকুমা (Sub Division) গঠিত হয়, ফলশ্রুতিতে ১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দে বুদবুদ সাব ডিভিশন হিসাবে উন্নীত হয়। এর পরবর্তীকালে কাটোয়া, রানিগঞ্জ, আরামবাগ প্রভৃতি মোট ছয়টি মহকুমা নিয়ে বর্ধমান চাকলা বা জেলা বিভক্ত হয়।  এই সময় পরগনা পরিচয়েরও বিলুপ্তি ঘটে। থানার উদ্ভব হয়। বুদবুদ মহকুমার অধীনে থানাগুলি ছিল বুদবুদ, আউশগ্রাম এবং সোনামুখী। সোনামুখী এখন বাঁকুড়া জেলার অন্তর্ভুক্ত।

পরবর্তীকালে বুদবুদ মহকুমা পরিচয় হারায়, থানার পরিচয়ও ছিল না। সামান্য পুলিশফাঁড়ি পরিচয়ে পরিচিতি পায়। মহকুমার দপ্তরগুলি সম্ভবত সাহেবপুকুর থেকে সিন্ডিকেট ময়দান এবং তার সংলগ্ন অঞ্চলে ছড়িয়েছিল। মহকুমা শাসক ম্যাজিস্ট্রেট প্রমুখ আধিকারীকগনের এই অঞ্চলে অফিস ছিল। জেলখানা ছিল। শ্রুতি আছে এখানে আসামীদের ফাঁসি দেবারও ব্যবস্থা ছিল। চটি অর্থাৎ সরাইখানা ছাড়া পিডব্লিওডি বাংলো( P.W.D Inspection Bungalow) প্রভৃতি ঐ সময়কার সমৃদ্ধির সাক্ষ্য বহন করে।

বুদবুদে একটি প্রাইমারী স্কুল ছিল। বুদবুদ পুরানো ফ্রি প্রাইমারী স্কুল। পরে এখানে একটি মিডল ইংলিশ স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। মানকরেও একই সময় অনুরূপ একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু উভয়ের ছাত্রাভাব ঘটায় বুদবুদেরটি মানকরের সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়। এইভাবে মানকর উচ্চ বিদ্যালয়(হা: সে:) এর গোড়াপত্তন। মহকুমা থাকাকালীন ওরিয়েন্টাল ব্যাঙ্ক অফ কমার্স (Oriental Bank Of Commerce) ১৫০ শয্যার একটি হাসপাতালের পরিচালনার ভার গ্রহন করে।

বুদ্ধেশ্বর গ্রামের গ্রাম্য দেবতা। গ্রাম্য দেবীছিলেন সিদ্ধেশ্বরী। সিদ্ধেশ্বরী বস্তুত দেবীদুর্গা। এখন দূর্গা পূজা হয়। তিলি সম্প্রদায়ের, সৎগোপ সম্প্রদায়ের। আমরা কজন সার্বজনীন দুর্গোত্সবের আয়োজন করে। এটি এই অঞ্চলের মানুষের আকর্ষনীয় একটি উত্সব। এছাড়া গ্রামের লক্ষ্মীজনার্দন মন্দিরটি টেরাকোটার এক অপূর্ব নিদর্শন। তিলি সম্প্রদায়ের পাল উপাধিধারী কোন সম্পন্ন পরিবার এটি নির্মাণ করেন। গ্রামের প্রাচীন ঐতিহ্যের এটি একটি উৎকৃষ্ট স্থাপত্য নিদর্শন।  কবিরাজদের একই পীঠে কয়েকটি শিবমন্দির গ্রামের কসবাত্বর পরিচয় দেয়। এগুলি এখন প্রায় ধ্বংসমুখে। গ্রামের ইষ্টদেবতা বুড়ো শিব। শ্রাবণ মাসে গ্রামবাসীরা এই শিবের মাথায় জল ঢালেন।

বাস্তুতন্ত্রের সামঞ্জস্য সংরক্ষক জলাশয়গুলি বস্তুত সায়র মর্যাদার।একদিকের নিত্য দিনের নিত্য কর্মের জলের যোগান দিত অন্যদিকে কৃষির সেচের প্রয়োজন মেটাত। অপরদিকে অধিক বর্ষণে প্লাবন নিয়ন্ত্রণ করত। গ্রামবাসীদের পানীয় জলের জন্য গ্রামের বাইরে তিনটি কোনে তিনটি বিশালাকার পদ্মবনাচ্ছাদিত জলাশয় খোদিত ছিল। এগুলি প্রমাণ করে সেদিনের গ্রামবাসীগণ কত বিচক্ষণ ছিলেন। এগুলির জল নির্মল এবং পেয় জলের উৎস ছিল।

কৃষি নির্ভর আর পাঁচটি গ্রামের মতই মানুষ মূলত কৃষিজীবী ছিল। কৃষিকর্মের সহায়ক শ্রমজীবিদেরও বসবাস ছিল। উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ছিল মেলবন্ধন। বোঝাযায় তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের কতকগুলি শব্দের ব্যবহারে যেমন গঙ্গাজল বেলপাতা সাঙ্গাত প্রভৃতি। এগুলি বংশ পরম্পরায় মান্য হত।  মূলত এটি তিলি সৎগোপ সম্প্রদায় প্রধান গ্রাম।  এছাড়া কয়েকঘর ব্রাহ্মণ, কবিরাজ, কুলু, কামার, নাপিতেরও বাস ছিল। পুকুর গুলির নাম থেকে পরিবারগুলির পরিচয় পাওয়া যায় যেমন শুঁড়ি পুকুর, কুলু পুকুর, মিশ্রী পুকুর, পাল পুকুর, রসিক কর, ঘোষ পুকুর, ধাড়া পুকুর প্রভৃতি। কুলু পুকুর, কমলা ও মোড়ল পুকুর গ্রামটির তিন প্রান্তে অবস্থিত পদ্মসায়র।  এগুলি কয়েকটি মিলিটারী অধিকৃত। কৃষি শ্রমিকদের অর্থাৎ শ্রমজীবি মানুষদের বসত ছিল গ্রামের উপান্তে। এরা মূলত বাগ্দী, বাউরি, ডোম, মুচি সম্প্রদায়ভুক্ত।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্বের সময় ব্রিটিশ পল্টন জি টি রোড দিয়ে চলাচলের সময় বুদবুদে অস্থায়ী শিবিরে অবস্থান করত। স্থানটি পল্টন ডাঙ্গা নামে পরিচিতি পায়। জাপান ভারতের দিকে অগ্রসর হলে ব্রিটিশ এখানে একটি স্থায়ী মিলিটারী বেস পত্তন করে। এটি পানাগড় মিলিটারী বেস নামে খ্যাত। ১৯৪২ খ্রীস্টাব্দে পূর্বে সন্ধিপুর থেকে পশ্চিমে পানাগড় পর্যন্ত ১৭টি গ্রামকে রাতারাতি উচ্ছেদ করে এই বেস তৈরি হয়। বুদবুদও এই তালিকা ভুক্ত হয়। কিন্তু গ্রামবাসীদের উপর সম্ভবত বিজাতীয় ক্রোধ হেতু তাদের হাতে না মেরে ভাতে মারে।  ভদ্রাসন ফিরিয়ে দেয়। অন্যদিকে যেন শিকল দিয়ে আস্টে পিষ্ঠে বেঁধে দেয়। মাত্র একটি পথ দিয়ে আজ গ্রাম থেকে বাইরের জগতের সম্পর্ক। আজও স্বাধীন সরকার অপ্রয়োজনে গ্রামটির তিনটি কিনারা বরাবর অধিকার করে রেখেছে।

মিলিটারী বেসের পত্তন কালে বুদবুদ বাজারের দোকানপাট নির্মান শুরু হয়। ভিন্ন প্রদেশের মানুষেরা কর্ম সূত্রে আসতে থাকে।  বুদবুদ কসমোপলিটান (Cosmopolitan)  চরিত্র পায়। গ্রামবাসীরা গ্রামে বাস করে কিন্তু গ্রামবাসীর অভ্যস্ত জীবনযাপন করে না। তারা সকলকে আপন করে নেয়, অন্যেরাও গ্রামবাসীকে আপন করে নেয়। কবির কথায় ‘দিবে আর নিবে মিলাবে মিলিবে যাবেনা ফিরে, এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরে’। সবরকম পেশায় তারাও অভ্যস্ত হয়ে পরে। স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি পায়। শিক্ষার আগ্রহ বাড়ে। একাধিক প্রাইমারি স্কুল, একটি বাংলা মাধ্যমের H.S, একটি হিন্দি মাধ্যমের H.S, একটি বালিকাদের জন্য H.S বিদ্যালয় ছাড়াও একাধিক বেসরকারী বিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং, বি.এড কলেজ, শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা পালন করে চলেছে।

বুদবুদ এখন আর পুরাতন বুদবুদে নাই। বহু উপজনপদ সংযোজিত হয়েছে।  এগুলি হল সাধুনগর, নেপালি পাড়া, হরিনারায়ন পল্লী, রবিতীর্থ, বাঘিনা পাড়া, বিপিনপুর, উদয়নপল্লী, সিন্ডিকেট, আজাদ নগর, সুকান্তপল্লী, রাজারাম পট্টি, ডিফেন্স কলোনি, মসজিদতলা পাড়া, সুভাষপল্লী, স্বরুপানন্দপল্লী এবং বুদবুদ বাজার প্রভৃতি। মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান জীবন ধারনের ব্যয়ের স্বল্পতা, যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য প্রভৃতির সহজলভ্যতা, দুর্গাপুর, পানাগড় শিল্পতালুকের সান্নিধ্য, পানাগড় মিলিটারী ডিপো, ডি.আর.ডি.ও, জুটরিসার্চ ফার্ম, কে.ভি.কে প্রভৃতির অবস্থান, তিনটি জাতীয়কৃত ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, বি.ডি.ও, থানা প্রভৃতির অবস্থান মানুষকে এই অঞ্চলে বসবাসের আনুকুল্য প্রদান করেছে। সর্বোপরি এন.এইচ.২ এবং মানকর স্টেশন এর সন্নিহিত অবস্থান স্থানটির আকর্ষণ বাড়িয়েছে। বুদবুদের ভগিনী জনপদগুলি এখন মিলেমিশে একাকার। এগুলি হল শুকডাল, ভীড়সীন, তিলডাঙ্গা।

এখানে সর্বধর্মাবলম্বী মানুষদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সব প্রদেশের মানুষদের সহাবস্থান চমত্কৃত করবে। সাংস্কৃতিক জীবন অতন্ত্য সমৃদ্ধ। বিভিন্ন ক্লাব বা সংস্থাসারা বছর ধরে নানা মেলা যেমন শীতকালীন বাৎসরিক কৃষি ও স্বাস্থ্য মেলা,  ফুটবল টুর্নামেন্ট ইত্যাদি আয়োজন করে মানুষদের উৎসব মুখর করে রাখে। বুদবুদ তার নিত্য দিনের জীবন চর্চা ও চর্যায় ভারতের সাধনার বানী ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-কে মর্যাদা দিয়ে চলেছে। গ্রামের যে অবশিষ্ট কৃষি জমি ছিল সেখানে প্রাসাদোপম আবাস নির্মিত হচ্ছে।

অনেক সমস্যাও রয়েছে। অপরিকল্পিত গৃহ নির্মাণ, উপনিবেশ আকারে পল্লী গড়ে ওঠা জনস্বাস্থ্যের পক্ষে বিপজ্জনক। স্বপ্রয়াসে মানুষ নিজের টুকু দেখভাল করে। একটি হাসপাতাল আজ পরম গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার দাবি করে।  একই ভাবে বুদবুদের তিনটি উচ্চ মাধ্যমিক, পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলির উচ্চ মাধ্যমিকের সফল ছাত্র ছাত্রীদের জন্য একটি কলেজ অবশ্যই হওয়া দরকার।

এই হল বুদবুদের ভ্রুণ থেকে আজকে যা তার ইতিবৃত্ত। লিখিত ইতিহাসের অভাবে কিছু তথ্যের ত্রুটি থাকতে পারে, ভবিষ্যতে গবেষকেরা সঠিক তথ্য তুলে আনবেন আশা করা যায়।

তথ্যসূত্র


  1. বুদবুদ অঞ্চলে প্রচলিত জনশ্রুতি
  2. বর্ধমান জেলার ইতিহাস ও লৌকিক সংস্কৃতি, এককড়ি চট্টোপাধ্যায়
  3. https://en.wikipedia.org/wiki/Bud_Bud

8 Comments

8 Comments

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

শুধুমাত্র খাঁটি মধুই উপকারী, তাই বাংলার খাঁটি মধু খান


ফুড হাউস মধু

হোয়াটস্যাপের অর্ডার করতে এখানে ক্লিক করুন