“জীবন আমার নাম/মানকরে মোর ধাম/ জিলা বর্ধমানে”। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্পর্শমণি কবিতায় উল্লিখিত মানকর এক প্রাচীন ও ঐতিহ্যমন্ডিত গ্রাম। এই গ্রামে যেমন রয়েছে অসংখ্য প্রাচীন মন্দির, স্থাপত্য, জমিদারবাড়ি তেমনই রয়েছে মনোমুগ্ধকর সবুজ প্রকৃতির ছোঁয়া। তাই প্রকৃতি ও ইতিহাস প্রিয় মানুষকে অবশ্যই আকর্ষিত করবে মানকর গ্রাম।
সাম্প্রতিক পোস্ট

পূর্ব বর্ধমান জেলার গলসি-১ নম্বর ব্লকের অন্যতম প্রধান গ্রাম মানকর। বর্ধমান – আসানসোল ডিভিশনের ট্রেন লাইনে মানকর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। আশেপাশের বিভিন্ন গ্রাম যেমন অমরারগড়, মাড়ো, খাণ্ডারি, বুদবুদ এই সবের রেলপথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম মানকর স্টেশন। দুর্গাপুর-কাটোয়া বাসরুটের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টপেজ মানকর।
মানকর একটি প্রাচীন জনবসতি। মানকরকে নিয়ে প্রচলিত রয়েছে নানা জনশ্রুতি, উপকথা। মানকরের এক প্রান্তে একটি স্হানের নাম পৌষমুনির ডাঙা। লোককথা অনুযায়ী দ্বাপর যুগে পরশু বা পৌষ নামে এক মুনির আশ্রম ছিল এখানে! আরেক জনশ্রুতি অনুযায়ী, পান্ডবরা অজ্ঞাতবাসের সময় কিছুকাল এখানে ছিলেন! এ বিষয়ে বিতর্ক থাকলেও একটি বিশাল প্রাচীন বটবৃক্ষের নীচে পাথরে খোদিত পঞ্চমূর্তি এবং গ্রাম্য দেবতা পঞ্চাননের অবস্হান এখানে পান্ডবদের অবস্হানের তত্ত্বটিকে দৃঢ় করে! আর একটি জনশ্রুতি থেকে জানা যায় যে, নবাব আলিবর্দী খাঁ ১৭৪৪ খ্রীঃ বর্গীনেতা ভাষ্কর পন্ডিতের সঙ্গে সন্ধির জন্য মানকর গ্রামের পূর্বপ্রান্তে ‘সভাবরন’ বা ‘সভা হরন’ নামক স্হানে মিলিত হন এবং সুকৌশলে ভাষ্কর পন্ডিত ও তাঁর ঘনিষ্ট সহচরকে হত্যা করে মানকরের ভোলার বেড়া নামক স্হানে সমাধিস্হ করেন! আজও দুটি সধাধি মন্দির আলিবর্দী খাঁর বিশ্বসঘাতকতার সাক্ষ্য বহন করছে। অবশ্য এই মানকরেই ভাষ্কর পন্ডিতকে হত্যা করা হয়েছিল কিনা এই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক আছে। কেউ কেউ মনে করেন মু্র্শিদাবাদ স্টেশন থেকে ১৮ কিমি দূরে ‘মানকরা’ নামে একটি বৃহৎ জলাশয় আছে, সেখানে এই ঘটনা ঘটেছিল।

তবে যাই হোক, ‘পৌষমুনির ডাঙ্গা’ বা ‘পাণ্ডবক্ষেত্র তলা’ ইত্যাদি কিংবদন্তী দিয়ে ঐতিহাসিক প্রাচীনত্ব নির্ণয় করা না গেলেও মানকর গোপভূম পরগণার অংশ ছিল সে নিয়ে সন্দেহ নেই। এই মানকর গ্রামের নামকরণের পিছনে একাধিক মত আছে তবে সবই কথিত মত, কোন লিখিত ইতিহাস নেই। যেমন একটি জনশ্রুতি অনুযায়ী, মানিক খাঁ নামে একজন রোজই লক্ষ করছিল যে তার গরুর দুধ কমে যাচ্ছে। সেই দুধ কে চুরি করছে সেটা জানার জন্য সে একদিন গরুটির পিছু নেয়। পিছু পিছু গিয়ে দেখে গরুটি একটি গাছের নিচে গিয়ে দাঁড়ানোর পরই তার স্তন থেকে দুধ ঝরে পড়ছে। মানিক খাঁ কাছে গিয়ে দেখে যে সেখানে একটি শিবলিঙ্গ আছে। সেই শিবলিঙ্গটি মানিকেশ্বর বা মানকেশ্বর নামে লোকমুখে পরিচিতি পায় আর তার থেকে গ্রামটির নাম হয় মানকর। অন্য একটি মতে, বর্ধমানের মহারাজা কীর্তিচন্দ্র তাঁর দীক্ষাগুরু ভক্তলাল গোস্বামীকে প্রণামী স্বরূপ সম্মানী দিতেন; ‘মানই যার রাজকর/ সেই গ্রাম মানকর’ – এই উপকথা থেকেও মানকর নামের উৎপত্তি। আরও একটি উপকথা ‘পাল ভটচাজ খাঁ/ তিন নিয়ে মানকর গাঁ’ এক সময় প্রচলিত থাকলেও আঠারো পাড়া নিয়ে গঠিত মানকরে ব্রাহ্মণ, কায়স্থ, বৈদ্য, সদগোপ, তাঁতী, বেনে, তিলী, তাম্বুলি, কলু, কামার, কুমোর, লোহার, বাউরী, বাগদি, মেটে, ডোম ইত্যাদি প্রায় সকল জাতির বাস। খ্রিষ্টান ও মুসলমান ধর্মাবলম্বী মানুষেরাও কয়েক শতাব্দী ধরে এই গ্রামের বাসিন্দা।
মানকরের সব থেকে প্রাচীন এবং বিখ্যাত জমিদার বাড়ি রাইপুর অঞ্চলের রঙমহল। রঙমহলের ‘রাধাবল্লভ মন্দির’ একসময়ে মানকরের বুকে এক উজ্জ্বল স্থাপত্য কীর্তি হিসেবে পরিগণিত হত। এই রাধাবল্লভ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা ভক্তলাল গোস্বামীর পূর্বপুরুষ কনৌজের ব্রাহ্মণ ছিলেন, তাঁর পূর্ব পুরুষরা রাধাবল্লভী সম্প্রদায়ের কাছে দীক্ষা নিয়ে এক সময় মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণায় আসেন। ভক্তলাল গোস্বামী ১১২৯ বঙ্গাব্দে (আনুমানিক ১৭২২ খ্রিষ্টাব্দ) মানকরের একটি প্রধান অংশ রাইপুর বর্ধমানের মহারাজার কাছ থেকে ব্রহ্মোত্তর পান। এঁরাই পরবর্তীকালে মানকরের প্রধান জমিদার হন ও জমিদারবাড়ি ‘রঙমহল’ প্রতিষ্ঠা করেন। রাধাবল্লভ মন্দির প্রতিষ্ঠা নিয়ে এই জমিদার বংশের হস্তলিখিত ইতিহাস থেকে জানা যায় ১১৩৫ বঙ্গাব্দের উত্তরায়ণ সংক্রান্তির দিন নবরত্ন মন্দিরে ভগবানমূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ভক্তলালের প্রপৌত্র অজিতলাল গোস্বামী এবং অজিতলালের দৌহিত্র হিতলাল মিশ্র। হিতলাল মিশ্র শুধু জমিদার ও নীলকুঠির মালিক ছিলেন তা নয় তিনি ‘ভাগবতালয়’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সেখানে বহু মূল্যবান হাতে লেখা পুঁথি সংগ্রহ করেছিলেন। তিনি নিজে গীতার একটি ভাষ্যও রচনা করেছিলেন। তাঁর একটি টোলও ছিল। আরও বিস্ময়কর তথ্য হল ভাগবতালয়ের প্রতিষ্ঠাতা হিতলাল মিশ্র মুসলমানদের জন্য একটি মসজিদ বানিয়ে দিয়েছিলেন, নিষ্কর জমি এবং অজু করার জন্য একটি পুকুরও দান করেছিলেন। এটিই মানকরের একমাত্র মসজিদ। হিতলাল মিশ্রের দৌহিত্র রাজকৃষ্ণ দীক্ষিত। ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দের স্বদেশী আন্দোলনের সময় রাজকৃষ্ণ দীক্ষিত প্রথম জমিদার যিনি কারাবরণ করেন। হিতবাদী সংস্থা তাঁকে হাতির দাঁতের ছড়ি, রূপোর মেডেল ও শাল দিয়ে সম্মানিত করে। তাঁর পুত্র রাধাকান্ত দীক্ষিত স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন ও গোপনে বিপ্লবীদের সাহায্য করতেন। মাত্র ৩২ বছর বয়সে রাধাকান্ত দীক্ষিতের মৃত্যু হলে তাঁর স্ত্রী শক্তিবালা দেবী কাঞ্চনকান্তি দীক্ষিতকে দত্তক নেন। তিনিই ছিলেন মানকরের শেষ জমিদার। সেই প্রাচীন ঐতিহ্যময় জমিদারবাড়ি ‘রঙমহল’ বর্তমানে উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে।
মানকরের পূর্বপ্রান্তে কবিরাজদের গৃহদেবতা আনন্দময়ী কালী ও তার মন্দির আরেকটি দর্শনীয় স্থান। কালো কষ্টি পাথরের চতুর্ভুজা কালী মূর্তিটি দুশো বছরের প্রাচীন। কবিরাজবাড়ির রাজবল্লভ গুপ্ত ১২২২ বঙ্গাব্দের ২ ফাল্গুন (অর্থাৎ ১৮১৬ খ্রিষ্টাব্দে) এই মূর্তিটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আনন্দময়ী মন্দিরে সারা বছরই এই দেবীর নিত্যপূজা চলে আর কালী পুজোর দিন আয়োজিত হয় বিশেষ পূজার। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মানকরের কবিরাজ বাড়ির চিকিৎসার একসময় বেশ নামডাক ছিল। ভোলানাথ কবিরাজ, চন্দ্রশেখর কবিরাজ, বৈদ্যনাথ কবিরাজ বা পাঁচুগোপাল কবিরাজ ইত্যাদিরা এতটাই বিখ্যাত ছিলেন যে বিভিন্ন বিখ্যাত মানুষ যেমন রাজা রামমোহন রায়, লর্ড ক্লাইভ প্রমুখ সেই চিকিৎসা পেতে এখানে এসেছেন। এক সময় বিদ্যাসাগর তাঁর স্বাস্থ্য উদ্ধারের জন্য কবিরাজ বাড়ির ‘অতিথি ভবনে’ ছিলেন। মৃণাল সেন তাঁর ২২ শে শ্রাবণের শুটিং এর কিছু অংশ এই কবিরাজ বাড়িতেই করেছিলেন। সেই কবিরাজ বাড়ি পুরোনো ইতিহাস নিয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে।
আনন্দময়ী কালীমন্দিরের কথা যখন উঠল, তখন মানকর অঞ্চলের অন্যান্য কিছু কালীমন্দিরের কথাও বলা যাক। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে এখানে শাক্ত ধর্মের বেশ প্রভাব ছিল। এখানে অসংখ্য কালী মন্দির আছে এবং কালীপুজোর সময় পারিবারিক ও সর্বজনীন মিলিয়ে শতাধিক কালীপুজো করা হয়ে থাকে। এই কালীপুজোগুলির মধ্যে প্রথমেই ভট্টাচার্য পরিবারের বড় মা কালীর কথা উল্লেখ করতে হয়। জনশ্রুতি অনুযায়ী সাধক রামানন্দ গোস্বামী বড় মা কালীর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন এবং পঞ্চমুন্ডির আসনে সিদ্ধি লাভ করেন। সাধক রামানন্দ গোস্বামীর ১৭৬২ সালে লেখা ‘রামতত্ত্ব’ বইটি বহু আলোচিত ও সমাদৃত। পরবর্তীকালে রামানন্দ গোস্বামীর হাত থেকে বড় মা কালীর পুজোর দায়িত্ব পান সদাশিব ভট্টাচার্যের বংশধর বাণীকন্ঠ ভট্টাচার্য। কালীপুজোর রাতে দূরদূরান্ত থেকে বড় মাকালীর পুজো দিতে ভক্তবৃন্দ ছুটে আসেন।
আরও একটি বিখ্যাত কালী মন্দির হল পঞ্চকালী মাতা মন্দির। কথিত আছে, কোন এক সাধু এখানে পঞ্চমুন্ডির আসন স্থাপন করে তন্ত্র-সাধনা দ্বারা সিদ্ধিলাভ করেন। মন্দিরের ডান দিকে ভৈরব তলায় এই সিদ্ধাসন আছে বলে অনেকের ধারণা। পরে ওই সাধক তাঁর এক শিষ্যা ‘পঞ্চার মা’-কে মন্দিরের দায়িত্ব দিয়ে অন্যত্র চলে যান। এই পঞ্চার নামানুসারেই মূর্তির নাম হয় পঞ্চার কালী বা পঞ্চ কালী।
এছাড়াও অন্যান্য কিছু বিখ্যাত কালী হল এলোকেশী, মুক্তকেশী, শ্যামাকালী, সরাণে কালী, পাঁড়ে কালী ইত্যাদি।
মানকরে পারিবারিক ও বারোয়ারি মিলিয়ে অনেকগুলি দুর্গাপুজাও হয়। পারিবারিক পুজোগুলি বেশ প্রাচীন। পারিবারিক দুর্গাপুজোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বিশ্বাসবাড়ির দুর্গাপূজা, ভট্টাচার্য বাড়ির দুর্গাপূজা, পালপাড়ার দুর্গাপূজা, খাঁ বাড়ির সিংহবাহিনী, সরকারবাড়ির শিব-দুর্গা, কবিরাজ বাড়ির দুর্গাপূজা, মুখার্জী বাড়ির দুর্গাপূজা, লাহা বাড়ির দুর্গাপূজা ইত্যাদি।
কথিত মত অনুযায়ী বিশ্বাস বাড়ির দুর্গাপূজা দুশো বছরেরও বেশি পুরোনো। বিশ্বাসদের পূর্বপুরুষ নবাব আলীবর্দীর খাজাঞ্চি ছিলেন। নবাবের বিশ্বস্ততার কাজ করেছিলেন বলে সেই খাজাঞ্চি বিশ্বাস উপাধিসহ বিপুল ধনসম্পত্তি উপহার পান। পরে সেই পরিবার দিগনগরে চলে যায় ও বিশ্বাস পদবী ব্যবহার শুরু করে। তসরের ব্যবসা করে সেই পরিবারের রামমোহন বিশ্বাস বিপুল সমৃদ্ধি অর্জন করেন। কিন্তু তিনি নিঃসন্তান ছিলেন। গুরুর পরামর্শে দিগনগরে সমস্ত সম্পত্তি ছেড়ে নিঃস্ব অবস্থায় মানকরে চলে আসেন। তিনি সেখানে পর্ণকুটিরে থাকতে শুরু করেন ও দুর্গাপূজা শুরু করেন। দেবীর কৃপায় সন্তানলাভ হলে তার নাম রাখেন দুর্গাদাস। পর্ণকুটিরে শুরু হওয়া বিশ্বাস পরিবারের পুজো এখন বিশাল দুর্গা-দালানে হয়। পারিবারিক প্রথা মেনে দেবী পূজিত হন। অষ্টমী, নবমীতে ছাগ বলি হয়। আগে এখানে সন্ধিপূজার সময় কামান দাগা হতো, এখন শূন্যে গুলি চালিয়ে সন্ধিপূজার সূচনা করা হয়। এই পরিবারেরই এক কৃতীপুরুষ মহেশ বিশ্বাস কাশ্মীর রাজ-স্টেটের দেওয়ান হিসেবে কাজ করতেন। তিনি এবং বামা ক্ষ্যাপা দীক্ষাগুরু কৈলাসপতির শিষ্য ছিলেন।
পারিবারিক দুর্গাপুজোর মধ্যে খাঁ বাড়ির সিংহবাহিনী বা কাটামুন্ড দুর্গার কথা বিশেষভাবে বলতে হয় কারণ এই ধরণের দুর্গা মূর্তি খুব কম দেখতে পাওয়া যায়। এখানে দুর্গার শুধু মুখমন্ডল পূজিত হয়। মুখমন্ডলটি স্থানীয় শিল্পী তৈরি করেন এবং কলা গাছের পেটোর উপর মুখমন্ডলটি স্থাপন করে সুন্দরভাবে সাজানো হয়। এখানেও ছাগল বলি দেওয়ার প্রথা আছে।
সরকারবাড়ির দুর্গামূর্তির বিশেষত্ত্ব হল এখানে শিবের মূর্তিও দেবী দুর্গার সঙ্গে পূজিত হন। এরকমই বিভিন্ন পারিবারিক পুজোগুলির নিজস্ব নিয়মরীতি রয়েছে যা বংশপরম্পরায় চলে আসছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি সর্বজনীন দুর্গাপূজা হয় যেগুলির মধ্যে রয়েছে নতুনত্বের ছোঁয়া। এর মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য হল রাইপুর অন্নপূর্ণা তলা, রাইপুর চৌমাথা, লালবাজারের সিংহবাহিনী, বুড়োশিবতলা, স্টেশন বাজার, ক্যাম্পের মোড় ইত্যাদি অঞ্চলের সর্বজনীন দুর্গাপূজা।
মানকরের কর বাড়ির রথের কথা বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। দক্ষিণ রাইপুরের গোস্বামী পাড়ার কর পরিবারের লক্ষ্মী-জনার্দন মন্দিরে থাকে এই পিতলের রথটি। প্রতিবছর রথযাত্রার সময় এই রথকে কেন্দ্র করে মানকর হাটে মেলা হয়। এই রথযাত্রার ইতিহাস প্রসঙ্গে জানা যায় যে, কর পরিবারের কন্দর্প কর তীর্থ করতে গেছিলেন, মথুরায় তিনি পান লক্ষী–জনার্দনের মূর্তি। বাড়িতে নিয়ে আসার পর তিনি স্বপ্নাদেশ পান মন্দির তৈরি করে তার পুজো শুরু করার। মন্দির তৈরি করে পুজো প্রচলন করা হয়। ১৩১৮ বঙ্গাব্দের ১৩ আষাঢ় কর পরিবারের মাধবচন্দ্র কর রথযাত্রা উৎসব ও মেলার প্রচলন করেন। পিতলের এই রথ সাড়ে নয় ফুট উচ্চতার। এই রথ তৈরি করেন স্থানীয় শিল্পী কেদারনাথ দে। রথের দিনে কুড়ি কেজি পিতলের ঘোড়া, সারথী এবং গড়ুর পক্ষী দিয়ে রথ সাজানো হয়। পরিবারের রীতি অনুসারে কর পরিবারের গৃহদেবতা লক্ষী–জনার্দনের পুজো হয় এবং রথে বসানো হয়। এছাড়াও রথে থাকে জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রার পটচিত্র। রথ কর পরিবারের বাড়ির মন্দির থেকে বার করা হয়। মানকর হাটতলার কাছে মাটির একটি বেদিতে রাখা হয়। এই বেদিকে মাসির ঘর বলে মেনে নেওয়া হয় পরিবারের রীতি অনুসারে। কিন্তু কর পরিবারের রথ বাড়ির বাইরে থাকে না একদিনের জন্যও। সেই রীতি মেনে রাত ১১ টার পর রথ ফিরে আসে মন্দিরে। উলটো রথের দিনেও একই নিয়ম মানা হয়।
এর পাশাপাশি, এই গ্রামে ছোট-বড় অসংখ্য শিবমন্দিরের দেখা মেলে। এত শিব মন্দির প্রতিষ্ঠার কারণ হিসেবে ঐতিহাসিকেরা মনে করেন যে মানকর বর্গী উপদ্রুত অঞ্চল ছিল। সেই কারণে বর্গী আক্রমণ হয়ত লেগেই থাকত। এই বর্গীদের হাত থেকে রক্ষা পেতেই ছোট বড় অনেক শিব মন্দির তৈরি করা হয় কারণ মারাঠা বর্গীরা শৈব ছিল এবং যে গ্রামে বা বাড়িতে শিব মন্দির থাকত সেখানে তারা আক্রমণ করত না। অসংখ্য শিবমন্দিরের মধ্যে বিখ্যাত কিছু শিবমন্দির হল মানিকেশ্বর শিবমন্দির, বুড়ো শিব বা বানেশ্বর মন্দির, দেউলেশ্বর মন্দির, মল্লিকেশ্বর মন্দির, দত্তবাড়ির শিবমন্দির, জোড়া শিব মন্দির ইত্যাদি। এছাড়া পুরোনো হাটতলার রথের আকারের রথমন্দির মানকরের প্রসিদ্ধ ও প্রাচীন মন্দিরগুলির অন্যতম। এছাড়াও মানকরে এক সময়ে একাধিক সতী মন্দির দেখা যেত যার কয়েকটি আজও টিকে আছ। মানকরের অধিকাংশ মন্দিরে অনেক সূক্ষ্ম কাজ, টেরাকোটার কাজ দেখতে পাওয়া যায়।
এছাড়াও অন্নপূর্ণা, বাসন্তী, জগদ্ধাত্রী, লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ, কার্তিক ইত্যাদি পূজাও বছরের বিভিন্ন সময়ে হয়ে থাকে। মানকরের পূর্বপ্রান্তে দত্ত বাড়ির বাসন্তী পুজো মাঝে বেশ কিছু বছর বন্ধ থাকার পরে আবার শুরু হয়েছে। এখানে একই চৌহদ্দীর মধ্যে লক্ষ্মী-নারায়ণ ও শিবমন্দির আছে। এই মন্দিরও প্রায় দুশো বছরের পুরোনো। এই দত্ত পরিবার ও রাইপুরের কুন্ডু পরিবার মিলে কলকাতায় ‘কুন্ডু দত্ত কোম্পানি’ প্রতিষ্ঠা করে শাড়ির ব্যবসা করতেন যা একসময় খুবই বিখ্যাত ছিল।
আর্য বা বৈদিক দেবদেবীর পাশাপাশি মানকরে অনার্য ও লৌকিক দেবদেবীর পুজোও হয়। মনসা, কেলেদানা, চাঁদরায়, বাঁকুড়ারায়, পীর ইত্যাদির পুজোও এখানে বেশ উৎসাহের সঙ্গে হয়ে থাকে।
অসংখ্য মন্দিরের পাশাপাশি এখানে আছে একটি মসজিদ যার নাম জামে মসজিদ ও একটি চার্চ যার নাম সেন্ট লিউক চার্চ (St. Luke’s Church)। ১৯১০ সালে লর্ড হার্ডিঞ্জ ভারতের গভর্ণর জেনারেল হন। তাঁর বোন মিস হার্ডিঞ্জ হিতলাল মিশ্রের কাছে ‘বড়বাগান’ বলে পরিচিত বাগানটি কিনে খ্রিষ্ট ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে একটি বালিকা অনাথ আশ্রম খুলেছিলেন। পাশাপাশি এখানে চিকিৎসা পরিষেবাও দিতেন। সেইসময়ই সেন্ট লুক’স চার্চটি গঠিত হয় যা মানকর গ্রামীণ হাসপাতালের পাশে অবস্থিত। শতাব্দী প্রাচীন মন্দির-মসজিদ-চার্চের সহাবস্থান ও বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের পাশাপাশি বসবাস মানকরের বাসিন্দাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথাই তুলে ধরে।
পন্ডিত সমাজের মধ্যেও মানকরের বেশ প্রসিদ্ধি ছিল। কনৌজ ব্রাহ্মণেরা একসময় গুরুগিরি ও বিদ্যাচর্চার জন্যই এখানে আসেন। মানকরের পন্ডিতদের মধ্যে মদনমোহন সিদ্ধান্ত (মানকরের ভট্টাচার্যরা এঁকে বর্ধমান রাজসভা থেকে নিয়ে আসেন), গদাধর চূড়ামণি, নারায়ণ চূড়ামণি, যাদবেন্দ্র সার্বভৌম (হিতলাল মিশ্রের সভাপন্ডিত), কৈলাসনাথ ও অযোধ্যানাথ ভট্টাচার্য প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। নবদ্বীপের পন্ডিত রঘুনাথ শিরোমণির জন্মস্থান কোটা মানকর বলে পরিচিত, সারদাদেবীর কাছে দীক্ষাপ্রাপ্ত ও রামকৃষ্ণের বাণী প্রচারের অগ্রণী স্বামী তপানন্দের জন্ম মানকরে। নির্ভুল জ্যোতিষ গণনায় পারদর্শী বিভূতিভূষণ শুক্ল, সাধকপ্রবর ভবদেব অধিকারীর খ্যাতি মানকর থেকে বহুদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। তাঁদের দুজনের নামে প্রতি বছর যথাক্রমে বিভূতি মেলা ও ভবের মেলা হয়ে থাকে। এ ছাড়াও বামদেবের শিষ্য পূর্ণক্ষ্যাপা, শ্রী চৈতন্যদেবের শিষ্য হরিদাস বৈরাগী, চারণ কবি মুকুন্দ দাস প্রমুখের পদধূলি ধন্য এই গ্রাম।
মানকরের পন্ডিত সমাজের ঐতিহ্য আধুনিক যুগেও বজায় রয়েছে। নোবেল পুরস্কারজয়ী বিজ্ঞানী হরগোবিন্দ খোরানার সহযোগী ছিলেন মানকরের ডঃ নবকুমার গুপ্ত। তিনি আমেরিকার নেব্রাস্কা লিঙ্কন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যানসার নিয়ে গবেষণায় নিযুক্ত ছিলেন। জন্মভূমির কথা মনে রেখে মানকরের দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য ‘বিজয়কুমার অপরাজিতা স্মারকবৃত্তি’ অনুদান দেওয়ার স্থায়ী ব্যবস্থা করে গেছেন। মানকরের পার্থ সারথী মুখার্জী রসায়ন বিজ্ঞানে গবেষণার জন্য.২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে বিজ্ঞান বিষয়ক ভারতের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘শান্তি স্বরূপ ভাটনগর’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
মানকরে অনেকগুলি স্কুল-কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে শতাব্দী প্রাচীন মানকর উচ্চ বিদ্যালয় বিদ্যাসাগরের উদ্যোগেই প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৫৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ‘নরম্যাল স্কুল’ হিসেবে চালু হয় এবং ১৮৮০ সালে বিদ্যালয় পরিদর্শক ভূদেব মুখোপাধ্যায়ের প্রচেষ্টায় উচ্চ ইংরেজি স্কুলে উন্নীত হয়। এখানে মাধ্যমিক অবধি শুধুমাত্র ছেলেরা পড়ে বলে বয়েজ স্কুল বলে পরিচিত হলেও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে ছাত্র-ছাত্রী সকলেই পড়ার সুযোগ পায়। শুধুমাত্র ছাত্রীদের পড়ার জন্য রয়েছে মানকর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় যা ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত। এখানে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। এছাড়া, অনেকগুলি সরকারি অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি রয়েছে বেসরকারি উদ্যোগে তৈরি কিছু বিদ্যালয়ও। উচ্চশিক্ষার জন্য রয়েছে মানকর কলেজ যা ১৯৮৭ সালে ৬৩ জন ছাত্র-ছাত্রী, ৬ জন শিক্ষক ও কলাবিভাগের ৬ টি বিষয় নিয়ে শুরু হয়েছিল। আজ সেই কলেজে স্থানীয় ছাড়াও আশেপাশের এলাকা থেকে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী উচ্চশিক্ষা নিতে আসে। ছাত্রছাত্রীরা কলাবিভাগ ছাড়াও, বাণিজ্য ও বিজ্ঞান বিভাগের বিভিন্ন বিষয়ে অনার্স নিয়ে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে এই কলেজে। এছাড়াও মানকরে রয়েছে একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ‘কণাদ ইন্সটিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট’ যা ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
বিদ্যাচর্চার সহযোগী হিসেবে রয়েছে একটি শহর গ্রন্থাগার, নাম ‘পল্লীমঙ্গল লাইব্রেরি’। রাধারমণ দত্ত, অনিলবরণ পাল, সুধীর কুমার দাস ও অন্যান্য স্থানীয় মানুষের প্রচেষ্টায় ১৯৪৭ সালে পল্লীমঙ্গল লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫৯ সালে সরকার এটিকে ‘গ্রামীণ গ্রন্থাগার’ হিসেবে অধিগ্রহণ করে ও ১৯৮৭ সালে এটিকে শহর গ্রন্থাগারে উন্নীত করা হয়।
বিদ্যাচর্চার পাশাপাশি মানকরের শিল্পী, বণিকদের কথাও উল্লেখযোগ্য। একটা সময় হাজারের উপর তাঁত চলত। ‘বেনারসী চেলী’ মানকরে তৈরি হত। মানকরের তসর বিখ্যাত ছিল। বিশ্বাসদের পূর্বপুরুষ মহেশ বিশ্বাস পলুপোকার চাষ সম্বন্ধে ‘কীট-কৌতুক’ বলে একটা বইও লিখেছিলেন। তাঁর মুখের বুলি, ‘পরে তসর, খায় ঘি/তার আবার খরচ কি’ একটা সময় প্রবাদের মত হয়ে গিয়েছিল। একদিকে রেশমের নকসা এবং অন্যদিকে সুতোয় নকশা করা কাপড় ‘কুতুনি’ খুব বিখ্যাত ছিল। বয়ন শিল্পীদের একচেটিয়া ব্যবসা ছিল ‘মুগো সুতো’ – মাছ ধরবার এই সুতো গোটা বাংলাদেশের মধ্যে প্রধানত মানকরেই হত। মানকরের কর্মকাররা গহনার ডাইস করতেন, তাও বাংলাদেশে আর কোথাও হত না। বিখ্যাত ‘গোপীনাথ দত্তের তামাক’ মানকরের। মানকরের কদমা ও তিলখাজার এক সময় বিশেষ সুনাম ছিল। ঠাকুরের নৈবেদ্যের জন্য মূলত কদমা তৈরি হলেও বিয়ে, অন্নপ্রাশন ইত্যাদি অনুষ্ঠানেও কদমার রমরমা ছিল এবং সেই ঐতিহ্য এখনও কিছুটা টিকে আছে। এক একটি কদমার ওজন ৫ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত হয়। এক সময় কদমার ভিতরে মানকরের তাঁতিদের তৈরি শাড়ি ঢুকিয়ে বিবাহের তত্ত্ব পাঠানো হত।
শিল্পী বণিক ছাড়াও যেকোনও গ্রামের মেরুদন্ড অর্থাৎ কৃষকদের কথা উল্লেখ অবশ্য প্রয়োজনীয়। মানকর গ্রামের চতুঃসীমায় বিস্তৃত ধানক্ষেত আজও দেখা যায়। ধান চাষ ছাড়াও মানকরে এক সময় পান, তামাক, নীল, আখ ইত্যাদির চাষ হত।
আচ্ছা, যদি বলা হয়, মানকরে সমুদ্র আছে, অবাক হবেন? অবাক করার মতোই বিষয়, মানকরে একটি সমুদ্র আছে নাম ‘ঢোল সমুদ্র’ – আসলে এটি বিশাল বড় একটি জলাশয়। জলাশয়ের কথা যখন উঠল, উত্তম সায়র নামক বিশাল পুষ্করিণীর কথাও বলা দরকার। দেওয়ান গঙ্গা গোবিন্দ সিংহের গুরু মানকরের বাসিন্দা সাধক উত্তম ভট্টাচার্যের নামানুসারে এর নাম। মানকর রঙমহলের জমিদারদের তৈরি ‘কৃষ্ণগঙ্গা’ বা কেষ্টগঙ্গায় বারোটি শান বাঁধানো ঘাট ছিল। এছাড়াও দানী পুকুর, নতুন পুকুর, বড় পুকুর, মোড়ল পুকুর, বিশ্বাস পুকুর, রাসমন্ডল ইত্যাদি অগুনতি ছোটবড় পুকুর রয়েছে। এর অনেকগুলি একসময় পানীয় জলের জন্যও ব্যবহৃত হত। তবে বর্তমানে এগুলি মূলত মাছচাষের জন্যই ব্যবহৃত হয়।
কৃষক, কারিগর, কুটিরশিল্পী, বণিক, সাধক, ব্রাহ্মণ, পন্ডিত ইত্যাদি নিয়ে আত্মনির্ভর গ্রাম ছিল মানকর। শোনা যায় ১৮ পাড়া নিয়ে এই গ্রাম ছিল। ষোড়শ, সপ্তদশ শতাব্দী থেকে উনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত মানকর বেশ সমৃদ্ধ গ্রাম ছিল। ১৮৬২ খ্রিষ্টাব্দের ভয়াবহ মহামারী, ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দের দুর্ভিক্ষ, ম্যালেরিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা ইত্যাদির ফলে গ্রামটি প্রায় জনশূন্য হয়ে যায়। ১৯৫০ এর দশকে বিনয় ঘোষ (কালপেঁচা) পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি বিষয়ে বই লেখার জন্যে যখন এই গ্রামে আসেন তখন এখানের অবস্থা দেখে লেখেন “চোদ্দ মণ ময়দা লাগত যে মানকরের ব্রাহ্মণদের খাওয়াতে, সেই মানকর পরে মড়কে মহাশ্মশানে পরিণত হয়েছিল। …ভিটের পর ভিটে, পরিত্যক্ত, জঙ্গলাকীর্ণ, জনশূন্য। একদা সুপ্রসন্ন মানকর গ্রাম আজ বিষণ্ণতায় ম্লান।”
তবে ইংরেজ অপশাসনের বিষময় ফলভোগের পর স্বাধীনতা পরবর্তীকালে আবার মানকর পুরনো দিন ফিরে পাচ্ছে। স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, বিদ্যুতের সাব স্টেশন, ট্রেন স্টেশন, বাসরুট, দোকান-বাজার, ব্যাঙ্ক, এটিএম, পোস্ট অফিস, রাইস মিল, খেলার মাঠ ইত্যাদি নিয়ে মানকরেও লেগেছে উন্নতির ছোঁয়া। অনেক বাধাবিপত্তি কাটিয়ে মানকর আবার স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে উঠছে, তবে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগে মানকর আর ‘গ্রাম’ নয় শহরে উন্নীত হওয়ার পথে।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।
তথ্যসূত্র
- পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি (লেখক – বিনয় ঘোষ, মানকর, পৃষ্ঠা ২১০-২১৬)
- ঐতিহাসিক ঐতিহ্যে মানকর, মাড়ো, অমরারগড় (লেখক – ধীরেন্দ্রনাথ মেটে, ISBN 81-88064-00-9)
- মানকর অঞ্চলে প্রচলিত জনশ্রুতি
- https://bartamanpatrika.com/
- https://www.anandabazar.com/
- ছবি – সববাংলায়


আপনার মতামত জানান