সববাংলায়

এই বাল্ব একশো বছর আগে সেই যে জ্বলল আজও নিভলো না

বিভাগঃ ,

ইলেকট্রিক বাল্ব এর সাথে আমরা সবাই পরিচিত। টমাস এডিসনের আবিষ্কৃত হলুদ স্তিমিত আলো যুক্ত বাল্বের যুগ শেষ হয়ে এখন এসেছে অনেক কম বিদ্যুৎ খরচ করেও আরও অনেক অনেকগুণ উজ্জ্বল আলো প্রদায়ী এল.ই.ডি(LED) বাল্ব। এই বাল্বগুলির আবার দু – এক বছর ওয়্যারেন্টিও থাকে। কিন্তু এল.ই.ডি বাল্ব বাদ দিয়ে এখনকার যে সব বাল্ব আমরা ৪০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা পর্যন্ত দাম দিয়ে বাজার থেকে কিনে আনি,নিয়ে আসার পরপরই দেখা যায় ‘ ঠকাস’ অথবা ২-৩ দিনেই দেহ রেখেছে।

কিন্তু এমন বাল্বও আছে যা ১৯০১ থেকে আজও জ্বলে যাচ্ছে বিরতিহীনভাবে। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালির্ফোনিয়ায় এখনও আলো ছড়াচ্ছে শতাধিক বছর বয়সী একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অনুযায়ী এটিই এ যাবতকালের সবচেয়ে পুরাতন জ্বলন্ত বাল্ব। ১৯০১ সালের জুন মাসের ১৮ তারিখ থেকে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার লিভারমোরের একটি ফায়ার স্টেশনে ৬০ ওয়াট ক্ষমতার এই বাল্বটি এখনো আলো দিচ্ছে যদিও বর্তমানে এটির উজ্জ্বলতা মাত্র ৪ ওয়াট আলো প্রদানকারী বাল্বের উজ্জ্বলতার সমান এসে দাঁড়িয়েছে।

উৎপাদনের পর থেকে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া বিরতিহীন ভাবে এই বাল্ব আলো দিয়ে আসছে। ১৯০৩ সালে কিছু সময়ের জন্য, ১৯৩৭ সালে এক সপ্তাহের জন্য এবং ১৯৩৭ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে কিছুদিন এই বাল্বটি বন্ধ ছিল।

বাল্বটির নির্মাতা হলেন ফরাসি ইঞ্জিনিয়ার অ্যাডলফ চাইলেট। টমাস এডিসনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উনি দেখিয়ে দেন উনি এডিসনের থেকেও আরও ভালো মানের বাল্ব তৈরি করতে পারেন। ১৮৯০ সালে শেলবি ইলেকট্রিক কোম্পানি এই বাল্ব তৈরী করে। এই বাল্বটি এখনো পর্যন্ত চারটি জায়গায় লাগানো হয়েছে। ১৯৭৬ সালে, ফায়ার ডিপার্টমেন্ট এর অফিসটি বাল্ব সহ অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হলে বাল্ব থেকে সকেটের তার খুলে নেওয়া হয়। সকেটের তারটি এই ভয়ে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল যে বাল্বটি খুলতে গেলে বাল্বের কোন ক্ষতি হওয়ার আশংকায় বাল্বটি না খুলে তার সকেট থেকে তার খুলে নেওয়া হয়। এটি স্থানান্তরের সময় মাত্র ২২ মিনিটের জন্য এই বাল্বটি নেভানো ছিল। এই বাল্বটিকে বিশেষভাবে তৈরী করা বাক্সে রেখে এবং সম্পূর্ণ আগুন নিরোধক ট্রাকে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল হয়েছিল। সেই পদক্ষেপের পর থেকে, বাল্বটি একটি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ক্রমাগত চলেছে এখনো।

এত দীর্ঘ সময় ধরে কীভাবে এটি জ্বলছে বিজ্ঞানীরা এর কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।



সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading