সববাংলায়

আরাফাতের দিন

ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষজনের কাছে বছরের একটি শ্রেষ্ঠ দিন হল আরাফাতের দিন এবং বছরের শ্রেষ্ঠ একটি রাত হল লাইলাতুল কদর। ইসলামের বর্ণনা অনুযায়ী আরাফাতের দিন আল্লাহ ইসলামকে একমাত্র ও পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসাবে ঘোষণা করেন।

২০২৬ সালের আরাফাতের দিন কবে?

  • বাংলা তারিখ: ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
  • ইংরাজি তারিখ: ২৬ মে, ২০২৬

হিজরি বছরের দ্বাদশ এবং শেষ মাস জিলহজের নবম দিনটি আরাফাতের দিন হিসেবে পালিত হয়। এটি হজের দ্বিতীয় দিন।

আরাফাতের দিন | সববাংলায়
ভিডিওটি দেখতে ছবিতে ক্লিক করুন

আরাফাতের পাহাড় হল একটি পাহাড় যা সৌদি আরবের মক্কার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ২০ কিমি দূরত্বে অবস্থিত। পাহাড়টি ২৩০ ফুট লম্বা এই পাহাড়টিকে বলা হয় জাবালে রহমত বা ক্ষমার পাহাড়। পাহাড়ের আশপাশের সমতল ভূমিকে আরাফাতের ময়দান বলে। আবার কখনও আরাফাতের পাহাড় বলতে পুরো এলাকাটাকেই বোঝায়। গোটা ইসলাম সম্প্রদায়ের কাছে এই পাহাড়টির গুরুত্ব অনেক। বলা হয় এই আরাফাতের ময়দানে বা পাহাড়ে না এলে হজ পূর্ণ হয় না। বলা হয় আদি পিতা আদম ও আদি মাতা হাওয়া পৃথিবীতে এসে এই আরাফাতের ময়দানেই আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন। ইসলামের বর্ণনা অনুযায়ী এই পাহাড়টির নীচে দাঁড়িয়েই হজরত মুহাম্মদ (সা.) মুসলিমদের উদ্দেশ্যে বিদায়ী হজের খুতবা দিয়েছিলেন। খুতবা হল মুসলিমদের উদ্দেশ্যে দেওয়া উপদেশমূলক বক্তৃতা। তাঁর এই খুতবায় তিনি কাউকে আঘাত না করার আবেদন জানিয়েছিলেন। তিনি মহিলাদের অধিকারের কথা বলে যান, একইসঙ্গে তাঁদের যোগ্য সম্মান দেওয়ার কথাও বলেন। সৌভ্রাতৃত্ব বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ইঙ্গিতও তিনি এই খুতবায় দেন। প্রত্যেককে তিনি ন্যায়ের পথে চলার কথা বলেন। মানবজাতির জন্য এই সাধারণ বক্তব্যের পাশাপাশি এই খুতবায় তিনি মুসলিমদের পালনীয় কর্তব্য সম্পর্কেও উপদেশ দেন।

ইসলামের বর্ণনা অনুযায়ী আরাফাতের দিনে আল্লাহ প্রচুর পাপীকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন যা তিনি আর কোনো দিন দেন না। মুসলিমরা বিশ্বাস করেন, তিনি আরাফাতের দিন আকাশে নেমে আসেন এবং আরাফাতে উপস্থিত হাজিদের নিয়ে ফেরেশতাদের কাছে গর্ব করেন, তাদের পাপ ক্ষমা করেন। শুধু তাদেরই কেন, তারা সেইদিন যাদের জন্য সুপারিশ করে থাকে, তাদেরকেও ক্ষমা করে দেন মহান আল্লাহ।

আরাফাতের ময়দানে হাজিরা (হজে আসা মুসলিমদের হাজি বলা হয়) আল্লাহর কাছে মিনতি করেন, তাঁদের পূর্বকৃত পাপ বা অন্যায়ের জন্য অনুতপ্ত হন, প্রায়শ্চিত্ত করেন, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান এবং আরাফাত পাহাড়ের কাছ থেকে যে খুতবা দেওয়া হয় তা শুনতে থাকেন। আরাফাতের দিন যাঁরা মক্কায় যেতে পারেন না তাঁরা নিজেদের বাড়ির কাছের মসজিদে গিয়ে আরাফাতের প্রার্থনা করেন। বলা হয় আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত না থাকা ব্যক্তি যদি আরাফাতের দিনে উপবাস করেন অর্থাৎ রোজা রাখেন, তাহলে তার ওপর আল্লাহর কৃপাদৃষ্টি পড়ে। ইসলামের বর্ণনা অনুযায়ী সেক্ষেত্রে আল্লাহ সেই ব্যক্তির গত বছরের পাপ এবং আগামী বছরের পাপ মুকুব করে দেন। আর যারা আরাফাতের দিন সেখানে উপস্থিত থাকেন, অর্থাৎ যারা হজযাত্রী তাদের জন্য এই রোজার নিয়ম একেবারেই প্রযোজ্য নয়। স্বয়ং হজরত মুহাম্মদ (সা.) আরাফাতে আল্লাহের সামনে প্রার্থনা করার সময় রোজা রাখেননি। ফলে তাঁর অনুগামীদেরও তা করার নিয়ম নেই। অন্যদিকে, যাঁরা হজ করতে আসেনি, বা পারেননি তাঁরা আরাফাতের দিনে রোজা রেখে এই পবিত্র দিনের সুফল অর্জন করতে পারেন। এই বিশ্বাস থেকেই আরাফাতের দিনের সঙ্গে রোজা রাখার বিষয়টিকে একসূত্রে বাঁধা হয়েছে। এইভাবে বছরের পর বছর ধরে স্থির বিশ্বাস ও যত্নের সঙ্গে ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষেরা গোটা বিশ্ব জুড়ে এই পবিত্র দিনটিকে পালন করে থাকেন।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading