ধর্ম

ঝুলন পূর্ণিমা

শ্রাবনমাসের অমাবস্যার পর একাদশী থেকে শুরু করে রাখিপূর্ণিমা পর্যন্ত পাঁচদিন ব্যাপী ঝুলন পূর্ণিমা পালন করা হয়। হোলি বা জন্মাষ্টমীর পর বৈষ্ণবদের অন্যতম পবিত্র অনুষ্ঠান এই ঝুলন পূর্ণিমা।

ঝুলন পূর্ণিমাকে শ্রাবণী পূর্ণিমাও বলা হয়। বৃন্দাবনে রাধা-কৃষ্ণর প্রেমলীলাকে কেন্দ্র করে দ্বাপরযুগে এই ঝুলন উৎসবের সূচনা হয়েছিল,তারপর থেকে যুগ যুগ ধরে এই পর্ব চলে আসছে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কৃপা করে দ্বাপরযুগে এই পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং তার বয়ঃবৃদ্ধি সাথে সাথে বৃন্দাবন তথা নন্দালয়ে নানারকম লীলাসাধন করেছিলেন। বয়ঃসন্ধিতে কিশোর কৃষ্ণ ও রাধারানীর যে মাধুর্যপূর্ণ প্রেমের পরিপূর্ণ প্রকাশ বৃন্দাবনে স্থাপিত হয়েছিল তারই লীলা স্বরূপা এই ঝুলনযাত্রা। রাধাকৃষ্ণ বৃন্দাবনের কুঞ্জবনে বিশুদ্ধ প্রেমের আদানপ্রদানের মাধ্যমে এই জীবজগতে প্রথম প্রেমের প্রকাশ ঘটিয়েছিলেন। সেই লীলার নানারূপই এই ঝুলন যাত্রায় ভক্ত-কুলের সামনে পরিবেশিত হয়। রাধাকৃষ্ণের মূর্তি ঝুলনায় স্থাপন করে পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে ঝুলানো হয়। এখানে শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন প্রকৃতি আর রাধারানী হলেন তার পরম ভক্তস্বরূপিনী। সূর্য হলেন পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস,পূর্ব দিকে উদয় ও পশ্চিম দিকে অস্ত যায়। এই উদয়অস্ত-এর দিক স্বরূপ পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে রাধাকৃষ্ণকে ঝুলানো হয়ে থাকে।

শাস্ত্রমতে রাধা হলেন কৃষ্ণরই অংশ, কৃষ্ণের শরীরের বামভাগ থেকে তার জন্ম। তিনি কৃষ্ণের পরম ভক্ত স্বরূপিণী। কৃষ্ণ প্রেমে তিনি পাগল, কৃষ্ণের পরম আরাধ্যা দেবী তাই কৃষ্ণকে পেতে গেলে রাধার উপাসনা অবশ্য কর্তব্য। রাধার কৃপা থাকলে অতি সহজেই কৃষ্ণকে লাভ করা যায়। আবার রাধার শক্তিতে কৃষ্ণ বলবান, তাই এরা এক ও অভিন্ন। রাধাকৃষ্ণের প্রেমময় মূর্তিকে দোলনায় স্থাপন করে মূর্তিযুগলকে ঝুলানো, পাঁচদিন তাদের নানারকম সাজে সাজানো, প্রেমভক্তি , নামগান বৃন্দাবনে তাদের বিশুদ্ধ প্রেমপর্ব সমস্তকিছু ভক্তগনের সামনে ঝুলন যাত্রার মাধ্যমে পরিবেশন করা হয়। এককথায় রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলার পাঁচদিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠান ঝুলন উৎসব নামে পরিচিত।

ঝুলন যাত্রায় অংশগ্রহণ করতে পৃথিবীর নানাজায়গা থেকে মানুষ নবদ্বীপ তথা মায়াপুরে ছুটে আসেন। শ্রী চৈতন্যমহাপ্রভুর জন্মস্থান নবদ্বীপ তথা মায়াপুরে যেরকম ভাবে এই ঝুলন উৎসব পালিত হয় তা আর অন্য কোথাও হয় না। কৃষ্ণের বাল্যকাল থেকে কিশোর বয়স পর্যন্ত নানা কার্যকলাপ পুতুলদিয়ে সাজানো হয়ে থাকে, এটাই ঝুলনের বিশেষ আকর্ষণ। ভক্তেরা বিশ্বাস করে এই ঝুলন উৎসবে রাধাকৃষ্ণকে ঝুলনায় দোলালে কৃষ্ণ অধিক খুশি হয়ে থাকে। তাই নাড়ু গোপালের সাথে সাথে এই ঝুলন পূর্ণিমায় রাধাকৃষ্ণকে পাঁচদিনের একদিনও দোলনায় দুলানো অবশ্য কর্তব্য বলে তারা মনে করে।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন।  

error: Content is protected !!