খেলা

দোলা ব্যানার্জী

ভারতীয় মহিলা তীরন্দাজীতে সুনাম ও সফলতা অর্জন করা অন্যতম পরিচিত নাম হল দোলা ব্যানার্জী (Dola Baneerjee) ৷ ২০০৫ সালে তিরন্দাজীতে তিনি অর্জুন পুরস্কার লাভ করেছিলেন৷

১৯৮০ সালের ২ জুন পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণার বরানগরে দোলা ব্যানার্জীর জন্ম হয় ৷ তাঁর বাবার নাম অশোক ব্যানার্জী ও মায়ের নাম কল্পনা ব্যানার্জী৷ তাঁর ভাই রাহুল ব্যানার্জীও অর্জুন পুরস্কার প্রাপ্ত একজন তীরন্দাজ। বলিউড খ্যাত গায়ক সান তাঁর তুতো ভাই হন৷

দোলা ব্যানার্জীর প্রাথমিক পড়াশুনা শুরু হয় বরানগরে রাজকুমারী মেমোরিয়াল গার্লস হাই স্কুলে। ১৯৯০ সালে মাত্র আট বছর বয়সে তিনি বরানগর আর্চারি ক্লাবে যোগ দেন।

দোলা ব্যানার্জী ১৯৯৬ সালে মাত্র ষোলো বছর বয়েসে সানডিয়েগো তে (San diego)অনুষ্ঠিত যুব বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।তখন থেকেই তিনি ভারতীয় মহিলা তীরন্দাজ দলের নিয়মিত সদস্যা ছিলেন। তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ার অত্যন্ত বর্ণবহুল ৷ ১৯৯৭ সালে লংকউই এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে(Longkwie Asian Championship) অংশ নিয়ে তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলতে শুরু করেছিলেন।১৯৯৯ সালে শিলংয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের টুর্নামেন্টটিতে দোলা ব্যানার্জী প্রথমবার শিরোপা জেতেন ।  তিনি ১৯৯৯ সালে বেইজিং এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ,২০০১ সালে হংকং এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ , ২০০৩ সালে ইয়াঙ্গুন (মায়ানমার) এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ  এবং নয়াদিল্লি এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০৪ সালে অনুষ্ঠিত এথেন্স অলিম্পিকে পৃথক ইভেন্টে অলিম্পিকের জন্য যোগ্যতা অর্জনকারী প্রথম মহিলা ছিলেন দোলা ব্যানার্জী৷

২০০৪ সালে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে দোলা ব্যানার্জী ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। সেখানে ৭২ টি তীরে ৬৪২ স্কোর করে মহিলাদের মধ্যে তিনি ১৩ তম স্থান অধিকার করেন৷  প্রথম দফায়  তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার ৫২ তম স্থান অধিকারী ক্রিস্টিন জিন লুইসের মুখোমুখি হয়েছিলেন এবং ১৪১-১৩১  স্কোরে হেরে যান৷ দোলা ব্যানার্জীর কুড়ি বছরের আন্তর্জাতিক তীরন্দাজী জীবনে তিনি ২ বার অলিম্পিক গেমস, ৩ বার এশিয়ান গেমস, ৪বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ, ৪বারএশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, ১১বার বিশ্বকাপ, ৩বার ইউরোপীয় গ্র্যান্ড প্রিক্স,১০ বার এশিয়ান গ্র্যান্ড প্রিক্স, ২বার এসএফ সহ পঞ্চাশটিরও বেশি প্রতিযোগিতায় দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন৷ তিনি ভারতের হয়ে ১৬টিরও বেশি স্বর্ণ, ৩ টি রূপো এবং ৮ টি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন।

২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে দুবাইতে অনুষ্ঠিত তীরন্দাজীর বিশ্বকাপে মহিলাদের ইন্ডিভিজুয়াল রিকার্ভ কম্পিটিশনে (individual recurve competition)স্বর্ণপদক জিতে তীরন্দাজীতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হন দোলা ব্যানার্জী । ২০০৫ সালে দোলা ব্যানার্জীর জীবনে এক গুরুত্বপূর্ন অধ্যায় রচিত হয়৷ ওই বছর ইউরোপীয় গ্র্যান্ড প্রিক্স আর্চারি টুর্নামেন্ট, আন্টালিয়া এবং গোল্ডেন অ্যারো গ্র্যান্ড প্রিক্স আর্চারি টুর্নামেন্ট, তুরস্কে একই বছরে স্বর্ণপদক জিতে দোলা ব্যানার্জী ভারতের ক্রীড়াজগতে ইতিহাস তৈরি করেন । গোল্ডেন অ্যারো গ্র্যান্ড প্রিক্স টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত রাউন্ডে, তিনি ইউক্রেনের তাতায়ানা দোরোখোয়াকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন।

দোলা ব্যানার্জী হলেন দ্বিতীয় মহিলা তীরন্দাজ যিনি ২০০৫ সালে ভারত সরকারের দ্বারা অর্জুন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। জাতীয় পর্যায়ে তিনি ৫২ টিরও বেশি স্বর্ণ, প্রায় ২১ টি রূপো এবং আটটি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন। ২০০৬ সালে কলম্বো এসএএফ গেমসে তিনি স্বর্ণপদক জেতেন।  এই খেলাতেই তিনি ফাইনালের দ্বিতীয় রাউন্ডে আরও একজন ভারতীয় তীরন্দাজ রেণা কুমারীকে হারিয়েছিলেন।
২০১০ সালে কমনওয়েলথ গেমস-এ তিনি ভারতের হয়ে সোনা জিতেছিলেন এবং এশিয়ান গেমস-এ ব্রোঞ্জ এনে দিয়েছিলেন৷

২০১১ সালের জুলাই মাস থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্রীড়া উন্নয়ন সংস্থার সদস্যা হিসেবে যোগ দেন দোলা ব্যানার্জী৷  তীরন্দাজীতে তাঁর সাফল্য দেশের নাম উজ্জ্বল করেছে ৷ সব মিলিয়ে তাঁর সাফল্যের খতিয়ানটা নেহাত কম নয়৷ দোলার অর্জুন পুরস্কার অর্জনের সম্পর্কে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন  ‘‘যে বছর আমাকে অর্জুন দেওয়া হল, তার আগের ১৪ বছর তীরন্দাজীতে কেউ অর্জুন পাননি। রামের বনবাস কাটিয়ে তিরন্দাজীতে অর্জুন এসেছিল।’’

মেধাদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দোলা ব্যানার্জী সম্প্রতি বিবাহ সম্বন্ধে আবদ্ধ হয়েছেন৷ পেশাগত দিক থেকে বর্তমানে তিনি পূর্ব রেলওয়ের সঙ্গে যুক্ত আছেন।

স্বরচিত রচনা পাঠ প্রতিযোগিতা, আপনার রচনা পড়ুন আপনার মতো করে।

ভিডিও

বিশদে জানতে ছবিতে ক্লিক করুন। আমাদের সাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুন। ইমেল – contact@sobbanglay.com

 


Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।