সববাংলায়

মীনা কুমারী

মীনা কুমারী (Meena Kumari) ছিলেন হিন্দি সিনেমার একজন কিংবদন্তি অভিনেত্রী, প্লেব্যাক গায়িকা ও প্রতিভাবান উর্দু কবি । ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তাঁকে অন্যতম সেরা অভিনেত্রীদের মধ্যে একজন বলে মনে করা হয়। ‘দ্য ট্র্যাজেডি কুইন’ নামে পরিচিত এই অভিনেত্রী প্রায় ৩৩ বছরে ৯০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন । তিনি ‘বৈজু বাওরা, ‘দিল আপনা অউর প্রীত পারাই’, ‘আরতি’, ‘ম্যাঁয় চুপ রহুঙ্গি’, ‘দিল এক মন্দির’, ‘ফুল অউর পাত্থর’ এবং ‘মেরে আপনে’র মতো জনপ্রিয় সিনেমায় কাজ করেছিলেন। আর তিনি তাঁর অসাধারণ কাজের জন্য সেরা অভিনেত্রী হিসেবে চারটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও জিতেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি কবিতা লিখতে ভীষণ পছন্দ করতেন।

১৯৩৩ সালের ১ আগস্ট মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ের এক দরিদ্র পরিবারে মীনা কুমারীর জন্ম হয় । তাঁর আসল নাম ছিল মেহজাবীন বানু। তাঁর বাবা আলী বক্স পেশায় হারমোনিয়াম-বাদক এবং সঙ্গীতশিক্ষক ছিলেন । আলী বক্স তাঁর প্রথম স্ত্রী ও তিন সন্তানকে পাকিস্তানে রেখে ভারতে চলে আসেন। আর এখানে এসে তিনি বিয়ে করেছিলেন ইকবাল বেগমকে, যাঁর পূর্বনাম ছিল প্রভাবতী দেবী । তিনি পেশায় ছিলেন একজন মঞ্চ অভিনেত্রী । আলী বক্স ও ইকবাল বেগমের তিন মেয়ে —খুরশীদ জুনিয়র, মীনা কুমারী ও মাহলিকা। মীনা কুমারী ১৯৫২ সালে পরিচালক কামাল আমরোহীকে বিয়ে করেন এবং ১৯৬৪ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়।

বড় মেয়ে জন্মানোর পর আলী বক্স দ্বিতীয় সন্তান হিসেবে একটি পুত্র সন্তান কামনা করেছিলেন। কিন্তু আবার কন্যাসন্তান জন্মানোয় তিনি আশাহত হন এবং তিনি ওই কন্যাসন্তানটিকে বোম্বে শহরের মধ্যেই একটি অনাথ আশ্রমের বারান্দায় রেখে দিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তিনি নিজের মন পরিবর্তন করেন এবং শিশুটিকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যান। এরপর দরিদ্র আলী বক্স সিদ্ধান্ত নেন যে, এই মেয়েকেই দায়িত্ব নিয়ে সংসার সামলানোর জন্য বড় করে তুলবেন। তাই যে বয়সে খেলনা কোলে নিয়ে, বই হাতে নিয়ে আদরে প্রতিপালিত হওয়ার কথা ছিল, সেই বয়স থেকে মীনা কুমারী ফিল্মের অডিশন দিতে শুরু করেন ।

এক নজরে মীনা কুমারীর জীবনী:

  • জন্ম: ১ আগস্ট, ১৯৩৩
  • মৃত্যু: ৩১ মার্চ, ১৯৭২
  • কেন বিখ্যাত: তিনি ছিলেন হিন্দি চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী ও উর্দু কবি, যিনি পর্দায় আবেগঘন ও ট্র্যাজিক চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ‘ট্র্যাজেডি কুইন’ নামে পরিচিতি লাভ করেন।
  • পুরস্কার: সেরা অভিনেত্রী হিসেবে চারটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার লাভ এবং ‘বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (BFJA) কর্তৃক মরণোত্তর বিশেষ পুরস্কারে সম্মানিত।

ছোটবেলা থেকে মীনা কুমারী চলচ্চিত্রে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী ছিলেন না, বরং সেই সময় তিনি স্কুলে যেতে চাইতেন । কিন্তু একের পর এক ছবির শুটিংয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয় । তবে তিনি বাড়িতে শিক্ষক রেখে নিয়মিত উর্দু ও হিন্দি পড়তেন ।

মীনা কুমারী মাত্র চার বছর বয়সে শিশুশিল্পী হিসেবে তাঁর অভিনয় জীবন শুরু করেন। ১৯৩৯ সালে তিনি অভিনয় করেন বিজয় ভাট পরিচালিত ‘লেদারফেস’ ছবিতে। এই পরিচালকই তাঁকে ‘বেবি মীনা’ নাম দিয়েছিলেন। এছাড়া তিনি ‘এক হি ভুল’, ‘আধুরি কাহানি’, ‘পূজা’ ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করেন। ১৯৪১ সালে ‘বেহেন’ ছবিতে তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি প্রথমবার সিনেমায় গান করেন।

তারপর ১৯৪৬ সালে ‘বাচ্চো কা খেল’ সিনেমায় মীনা কুমারী নামেই তিনি প্রথম প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পান। এরপর তিনি মেহজাবীন বানু নাম ছেড়ে মীনা কুমারী নামটিই গ্রহণ করেন। তারপর ‘বীর ঘটোৎকচ’, ‘শ্রী গণেশ মহিমা’, ‘লক্ষ্মী নারায়ণ’, ‘হনুমান পাতাল বিজয়’ এবং ‘আলাদিন অউর জাদুই চিরাগ’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি প্রশংসা লাভ করেন।

তবে পরবর্তীকালে অভিনেত্রী হিসেবে মীনা কুমারীর খ্যাতি সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছান ১৯৫২ সালে। এই সময় তিনি বিজয় ভাটের ‘বৈজু বাওরা’ ছবিতে অভিনয় করেন, যা ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ। এরপর ১৯৫৪ সালে ফণী মজুমদার পরিচালিত ‘বাদবান’-এ তিনি দেব আনন্দ, অশোক কুমার এবং ঊষা কিরণের মতো তারকার সাথে অভিনয় করেন। ১৯৫৫ সালে ‘আজাদ’ নামক কমেডি-অ্যাকশন ছবিতে তিনি দিলীপ কুমারের সঙ্গে অভিনয় করার সুযোগ পান। এই হিন্দি সিনেমা সেই বছরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয় করেছিল। তাছাড়া এই সিনেমাতে লতা মঙ্গেশকর এবং ঊষা মঙ্গেশকরের গাওয়া বিখ্যাত ‘আপলাম চপলাম’ গানটি আজও অবিস্মরণীয়। তারপর তিনি ‘মেম সাহেব’ ছবিতে প্রথমবারের মতো শাম্মী কাপুর ও কিশোর কুমারের সঙ্গে অভিনয় করেন। এই সিনেমাতে মীনার আধুনিক রূপ দর্শকদের কাছে দারুণ আকর্ষণীয় ছিল। এরপর ‘এক হি রাস্তা’ ছবিতে নবাগত সুনীল দত্ত ও অশোক কুমারের সঙ্গে তিনি অভিনয় করেন। পারিবারিক নাট্যধর্মী এই সিনেমাটি বক্স অফিসে হিট হয়েছিল। এই সিনেমাটি ছিল সুনীল দত্তের কেরিয়ারের অন্যতম সফল সিনেমা।

এরপর প্রখ্যাত সাহিত্যিক অনুরূপা দেবীর জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস ‘মন্ত্রশক্তি’ অবলম্বনে হেমচন্দ্র চন্দর পরিচালিত ‘বন্ধন’ ছবিতে মীনা কুমারী এবং প্রদীপ কুমার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। এই সিনেমাটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ‘অল ইন্ডিয়া সার্টিফিকেট অফ মেরিট’ পেয়েছিল। তারপর ডিডি কাশ্যপ পরিচালিত ঐতিহাসিক ‘হালাকু’ ছবিতে মীনা, মিনু মমতাজ, রাজ মেহরা এবং হেলেন একসাথে অভিনয় করেন। এই ছবিটি বক্স অফিসে ব্লকবাস্টার হিট হয়েছিল এবং সিনেমা হলে প্রায় ৬ মাস সফলভাবে চলেছিল । আর ১৯৫৭ সালের ‘শারদা’ ছিল রাজ কাপুরের সাথে মীনা কুমারীর প্রথম ছবি। সিনেমাটি সেই বছরের অন্যতম হিট সিনেমা ছিল। তারপর তিনি ‘সাহারা’ ছবিতে কাজ করেন। এই ছবিতে তিনি অত্যন্ত সুন্দরভাবে একজন অন্ধ নারীর চরিত্র ফুটিয়ে তোলেন। পরবর্তীকালে তিনি ‘চিরাগ কাহাঁ রোশনি কাহাঁ’ ছবিতে রাজেন্দ্র কুমার ও হানি ইরানির বিপরীতে অভিনয় করেন। আর ১৯৬১ সালে ‘ভাবি কি চুড়িয়া’ সিনেমায় তিনি এবং বলরাজ সাহনি মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেন।

এরপর গুরু দত্ত প্রযোজিত এবং আবরার আলভি পরিচালিত ‘সাহিব বিবি অউর গোলাম’ ছবিতে মীনা কুমারী আইকনিক ছোট বহুর ভূমিকায় অভিনয় করেন। অনেকে মনে করেন যে, এই সিনেমায় তাঁর চরিত্রটি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সাথে সম্পর্কযুক্ত। এই ছবিটি অস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছিল, তবে এটি চূড়ান্ত মনোনয়ন বা পুরস্কার পায়নি। এছাড়া ১৩তম বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে গোল্ডেন বিয়ারের জন্যও মনোনীত হয়েছিল এই সিনেমাটি।

এরপর ১৯৬৬ সালে ‘ফুল অউর পাত্থর’ ছবিতে মীনা কুমারী এবং ধর্মেন্দ্র মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেন। এই ছবিটি সে বছর ব্লকবাস্টার হিট সিনেমা ছিল। এই ছবির মাধ্যমে ধর্মেন্দ্র জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এই সিনেমাটি প্রায় ৫০ সপ্তাহ সিনেমা হলে চলেছিল। এছাড়া এটি ছিল সেই বছরের সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমা। এরপর এই জুটি ১৯৬৭ সালে ‘মাঝলি দিদি’-তেও অভিনয় করে। সিনেমাটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘মেজদিদি’ গল্পের উপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়। তবে ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে খুব একটা সাফল্য পায়নি। এরপর গুলজার রচিত ও পরিচালিত প্রথম ছবি ‘মেরে আপনে’ ছবিতে মীনা কুমারী, বিনোদ খান্না এবং শত্রুঘ্ন সিনহা অভিনয় করেন।

১৯৭২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কালজয়ী বলিউড সিনেমা ‘পাকিজা’তে মীনা কুমারীই ছিলেন সিনেমার প্রধান আকর্ষণ। কামাল আমরোহী পরিচালিত এই ছবিতে তিনি ‘সাহিবজান’ চরিত্রে অভিনয় করেন, যা তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা চরিত্র । তবে স্বামীর সাথে বিচ্ছেদের কারণে এই সিনেমার কাজ দীর্ঘদিন স্থগিত ছিল। কিন্তু মীনা কুমারীর জেদ আর অধ্যাবসায়ের কারণে এই সিনেমার শুটিং শেষ হয়। প্রাথমিকভাবে এই সিনেমাটি সফল না হলেও মীনা কুমারীর মৃত্যুর পর এই ছবি নিয়ে দর্শকদের মনে তুমুল আগ্রহের সঞ্চার হয় এবং ছবি হিট করে। এই সিনেমাটি প্রায় ৫০ সপ্তাহ সিনেমা হলে চলেছিল। অসুস্থ মীনা কুমারী এই সিনেমার জন্য নিজের জীবন একেবারে উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন। তিনি অভিনয় ছাড়া এই সিনেমার পোশাক ডিজাইনও করেছিলেন। এমনকি তিনি তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহের অনেক দামি পোশাক ও গহনা এই সিনেমায় ব্যবহার করেছিলেন। শেষ জীবনে তিনি মদ্যপানে আসক্ত হয়ে পড়েন, যার প্রভাব তাঁর পরবর্তী চলচ্চিত্রে পড়েছিল।

অপরূপ সৌন্দর্য ও মোহনীয় অভিব্যক্তির কারণে মীনা কুমারী অমর নায়িকা হয়ে উঠেছিলেন। মনে করা হতো যে, তিনি এমন একজন অভিনেত্রী ছিলেন, যিনি নিজের নামের জোরে একটি চলচ্চিত্রকে হিট করাতে পারতেন। এছাড়া তিনি ছিলেন একজন দক্ষ উর্দু লেখক। তিনি সাধারণত তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের একাকিত্ব, দুঃখ, প্রেম ও স্বপ্ন নিয়ে ‘নাজ’ ছদ্মনামে কবিতা লিখতেন। মীনা কুমারীর মৃত্যুর পর গুলজার ‘তনহা চাঁদ’ নামে তাঁর কবিতার একটি সংকলন প্রকাশ করেন। এছাড়া ‘আই রাইট, আই রিসাইট’ নামে তাঁর একটি আবৃত্তির অডিও অ্যালবামও প্রকাশিত হয়েছিল।

‘বৈজু বাওরা’ ছবির জন্য ১৯৫৪ সালে মীনা কুমারী সেরা অভিনেত্রী হিসেবে প্রথম ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পান। তারপর ১৯৫৫ সালে ‘পরিণীতা’ সিনেমার জন্য আবার ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড পান। এরপর তিনি ‘শারদা’ সিনেমায় কাজের জন্য বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে নেন। তিনি ১৯৬৩ সালে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে তিনটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারে মনোনয়ন পেয়ে ইতিহাস তৈরি করেন। ‘সাহিব বিবি অউর গোলাম’, ‘ম্যাঁয় চুপ রহুঙ্গি’ ও ‘আরতি’ সিনেমার জন্য তিনি এই মনোনয়ন পান। সেই বছর তিনি ‘সাহিব বিবি অউর গোলাম’ সিনেমার জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পেয়েছিলেন। ‘কাজল’ সিনেমা তাঁকে আবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার এনে দেয়। এই পুরস্কারই তাঁর জীবনের শেষ পুরস্কার। তাছাড়া তিনি ‘পাকিজা’র জন্য মরণোত্তর ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। এখানে তিনি পুরস্কার জিততে না পারলেও, বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ডস ১৯৭৩ সালে ‘পাকিজা’র জন্য মীনা কুমারীকে মরণোত্তর বিশেষ পুরস্কার দিয়েছিল।

মীনা কুমারীর সমগ্র জীবন নিয়ে বিনোদ মেহতা লিখেছেন ‘মীনা কুমারী: দ্য ক্ল্যাসিক বায়োগ্রাফি’ নামক বইটি। এই বইতে তাঁর ট্র্যাজিক জীবনের নানা অজানা দিক, মদ্যপান, স্বামী কামাল আমরোহীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং তাঁর ভাবমূর্তি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই বইটি মীনার জীবনের সাফল্য ও বিষাদময় পরিণতির একটি সংমিশ্রণ, যা পাঠকদের পর্দার পেছনে থাকা মানুষটির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়।

১৯৭২ সালের ৩১ মার্চ লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে মুম্বাইতে মীনা কুমারীর মৃত্যু হয়।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading