নবজাতকের জন্য সবথেকে সুরক্ষিত ঘুমনোর জায়গা বললে এক বাক্যে যে জায়গার কথা আমাদের মনে আসে তা হল মায়ের কোল।মায়ের কোল সম্ভব না হলে দোলনা। তবে এই পৃথিবীতেই এমন একটি দেশ আছে যেখানে সব ছোট শিশু জন্ম থেকে এক ধরনের বাক্সের মধ্যে ঘুমায়। ভাবছেন এ আবার কোন দেশ? দেশটির নাম ফিনল্যান্ড।
উনিশশো তিরিশ এর দশক থেকে ফিনল্যান্ডের সরকার প্রত্যেক গর্ভবতী মা’কে একটি বাক্স উপহার দেওয়া শুরু করে। ওই বাক্সে রাখা থাকে একটি সদ্যজাত শিশু র জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পঞ্চাশটি সামগ্রী। মূল বাক্সটি ব্যবহার হয় নবজাতকের ঘুমোনোর বিছানা হিসেবে। সারা বিশ্বে ফিনল্যান্ডেই শিশু মৃত্যুর হার সবথেকে কম। এই সাফল্যের পেছনে অত্যাধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা ছাড়াও একটি বড় ভূমিকা রয়েছে সরকারের উপহার দেওয়া এই বাক্সের।
১৯৩০-এর দশকেও ফিনল্যান্ড ছিল ইউরোপের অন্যতম গরিব একটি দেশ। তখন সেখানে প্রতি হাজারে শিশু মৃত্যুর হার ছিল পঁয়ষট্টি। দরিদ্র পরিবারগুলিতে সদ্যজাত শিশুর জন্য উপযুক্ত পোশাক কেনার ক্ষমতা যেমন ছিলনা তেমনি সদ্যজাত শিশুদের সাথে এক বিছানায় বাবা মায়ের শোয়ার ফলে সাডেন ইনফ্যান্ট ডেথ সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর প্রবণতাও অনেকাংশে বেড়ে যেত। মূলত এই সমস্যা দূরীকরণে ফিনল্যান্ড সরকার ১৯৩৮ সাল থেকে দেশের দরিদ্র পরিবারগুলিকে নবজাতকের জন্য জরুরি জিনিসপত্রে ভরা একটি বাক্স উপহার দেওয়ার রীতি শুরু করে। ওই দশক থেকেই দেশের শিশু মৃত্যুর হার কমতে শুরু করে। ১৯৪৯ সাল থেকে ধনী-গরীব সব পরিবারের শিশুদের জন্যই এটি দেওয়া শুরু হয়। ১৯৫০-এর দশকে ওই বাক্স উপহারের সঙ্গে যুক্ত হয় প্রত্যেক সন্তানসম্ভবা মায়ের বাধ্যতামূলক চিকিৎসাসেবা গ্রহণ। সেই থেকে আজও হবু মায়েদের সরকারের পক্ষ থেকে বাক্স উপহার দেওয়ার ধারা অব্যাহত আছে। ফিনল্যান্ডের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা অনেক বদলে গেছে। সেই সঙ্গে বদলেছে বাক্সের মধ্যে থাকা জিনিসপত্র। যুক্ত হয়েছে আরও কিছু জিনিস। বাদ দেওয়া হয়েছে কিছু। বর্তমানে বাক্সে থাকে ছোট মাদুর, স্লিপিং ব্যাগ, কম্বল, বিভিন্ন ধরনের জামা, শীতের কাপড়, চান করানোর জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, কিছু খেলনা, ছবির বই ইত্যাদি। সব শিশুই যেন সমান সুযোগ পেয়ে জীবনের পথে যাত্রা শুরু করতে পারে, সেটাই এ উপহারের উদ্দেশ্য। কোনো পরিবার বাক্স নিতে না চাইলে সরকার তাঁদের ১৪০ ইউরো দেয়। তবে দেখা গেছে, ৯৫ শতাংশ পরিবারই বাক্স নিয়ে থাকে।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান