দেবী দুর্গার আগমন এবং গমনের বাহন নির্ধারণ পদ্ধতি

দেবী দুর্গার আগমন এবং গমনের বাহন নির্ধারণ পদ্ধতি

প্রত্যেক বছর মহালয়ার পর থেকেই একটা আমরা দেখি অনেকেই খোঁজ নিচ্ছেন সেই বছর দেবী দুর্গার আগমন এবং গমন এর বাহন কি কি। পঞ্জিকা দেখে জানা যায় আগমন হয়ত গজে কিন্তু গমন ঘোটকে। দেবীর আসা যাওয়ার এই বাহন দেখে কোনবছর যেমন খুশি হয়ে ওঠেন অনেকে আবার কোনবার অনেকের কপালেই ভাঁজ পড়ে। আমরা অনেকেই কিন্তু জানিনা দেবীর এই আগমন ও গমনের বাহন নির্ধারণ হয় কীভাবে এবং এর মাহাত্ম্যই বা কী ! আসুন এই সুযোগে বরং জেনে নেওয়া যাক।

হিন্দু শাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী দেবী দুর্গার আগমন কেবল মাত্র দুধরণের বাহনে হয় – গজ বা হাতি অথবা ঘোটক বা ঘোড়া এবং গমন হয় নৌকা অথবা দোলা। দুর্গার আগমন ও গমন যে বাহনে হবে, তার উপরেই নির্ভর করবে সারা বছরটা কেমন যাবে! ব্যাপারটা বোঝা গেল। কিন্তু এই বাহন নির্ধারণটা হয় কীভাবে ?

শাস্ত্রকারদের মতে এই আগমন এবং গমন নির্ভর করে, সপ্তাহের সাতটি দিন অনুসারে – “রবৌ চন্দ্রে গজারূঢ়া, ঘোটকে শনি ভৌময়োঃ, গুরৌ শুক্রে চ দোলায়াং নৌকায়াং বুধবাসরে।” অর্থাৎ

  • সপ্তমী ও দশমী যদি রবিবার বা সোমবার পড়ে তাহলে দেবীর গজে আগমন ও গজে গমন।
  • সপ্তমী ও দশমী যদি মঙ্গলবার বা শনিবার পড়ে তাহলে দেবীর ঘোটকে (ঘোড়া) আগমন ও ঘোটকে গমন।
  • সপ্তমী ও দশমী যদি বুধবার পড়ে তাহলে দেবীর নৌকায় আগমন ও নৌকায় গমন।
  • সপ্তমী ও দশমী যদি বৃহস্পতি বা শুক্রবার পড়ে তাহলে দেবীর দোলায় আগমন ও দোলায় গমন।

এবার জেনে নেওয়া যাক এই বাহনগুলি কি অর্থ বহন করে।

গজে আগমন প্রসঙ্গে শাস্ত্রে বলা হচ্ছে – “গজে চ জলদা দেবী শস্যপূর্ণা বসুন্ধরা”। হাতি সমৃদ্ধির প্রতীক। দেবীর গজে আগমন বা গমন হলে, পৃথিবী শস্যপূর্ণ হয়ে উঠবে, যা শুভ ফল নির্দেশ করে।

ঘোটক বা ঘোড়ায় আগমন প্রসঙ্গে শাস্ত্রে বলা হচ্ছে – “ছত্রভংস্তুরঙ্গমে।” ঘোড়া ধ্বংস বা অগোছালো অবস্থার প্রতীক। অর্থাৎ, দেবীর ঘোটকে আগমন বা গমন হলে, চারিদিক ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়বে, যা ধ্বংসাত্মক এবং অশুভ ফল নির্দেশ করে।

নৌকায় আগমন প্রসঙ্গে শাস্ত্রে বলা হচ্ছে – “নৌকায়াং শস্যবৃদ্ধি জলবৃদ্ধিশ্চ”। নৌকা সমৃদ্ধির প্রতীক। অর্থাৎ, দেবীর নৌকায় আগমন বা গমন হলে, পৃথিবীতে বৃষ্টিপাত বেশি হবে, ক্ষেত খামার জমি শস্যপূর্ণ হয়ে উঠবে, যা শুভ ফল নির্দেশ করে।

নৌকায় আগমন প্রসঙ্গে শাস্ত্রে বলা হচ্ছে – “দোলায়াং মড়কং ভবেৎ।” অর্থাৎ, দেবীর দোলায় আগমন বা গমন হলে, পৃথিবীতে মহামারী দেখা দেবে, মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাবে।

আপনার মতামত জানান