গণেশের ছবিতে দেখা যায় তাঁর একটি দাঁত ভাঙা। এইজন্য তাকে একদন্ত নামেও অভিহিত করা হয়। কিন্তু গণেশের একটি দাঁত ভাঙল কিভাবে, তা নিয়ে অনেক মত প্রচালিত আছে। জেনে নেওয়া যাক কি বলছে প্রচলিত ধারণা বা পুরাণ।
সবচেয়ে প্রচলিত যে গল্প, তা অনুযায়ী ঋষি বেদব্যাস মহাভারত রচনা করার সময় ব্রহ্মার শরণাপন্ন হয়েছিলেন। ব্রহ্মা বেদব্যাসকে গণেশের সাহায্য নেবার পরামর্শ দেন। বেদব্যাস সেইমত গণেশের ধ্যান করেন। তাঁর ধ্যানে তুষ্ট হয়ে গণেশ মহাভারত লেখায় সাহায্য করার জন্য রাজি হলেন, কিন্তু শর্ত দিলেন বেদব্যাস এক মুহূর্তের জন্যও যদি শ্লোক বলা বন্ধ করেন তবে তিনি আর লিখবেন না। গণেশের শর্তে রাজি বেদব্যাসও গণেশকে শর্ত দেন যে গণেশও বেদব্যাসের সমস্ত শ্লোক বুঝে তবেই লিখবেন। গণেশ রাজি হলে শুরু হয় বেদব্যাসের মহাভারত রচনা। যেখানে বেদব্যাস সংস্কৃত শ্লোক বলে চলেন আর গণেশ তার কলমে তা লিখে চলেন। এদিকে বেদব্যাস একটু সমস্যায় পড়েন। তিনি লক্ষ্য করেন তার সমস্ত শ্লোক বুদ্ধিমান গণেশ তৎক্ষণাৎ বুঝে অনুবাদ করছেন, একবারও থামছেন না। এদিকে বেদব্যাসের তো সময় লাগছিল পরবর্তী শ্লোক রচনা করতে। তখন বেদব্যাস ইচ্ছে করে জটিল শ্লোক ভেবে ভেবে বলতে লাগলেন। তাতে গণেশের বুঝতে একটু সময় লাগল। সেই সুযোগে বেদব্যাসও পরবর্তী শ্লোক রচনা করার সময় পেয়ে গেলেন। এইভাবেই চলছিল, কিন্তু হঠাৎ লিখতে লিখতে গণেশের লেখার কলমটি ভেঙে যায়। কিন্তু শর্ত অনুযায়ী গণেশ লেখা থামাতে পারবেন না। তাই উপায় না দেখে গণেশ নিজের একটি দাঁত ভেঙে সেটিকেই কলম হিসাবে ব্যবহার করেন। এই দাঁতের সাহায্যে তিনি পাতার পর পাতা বেদব্যাসের শক্ত সংস্কৃত শ্লোক লিখে বেদব্যাসকে মহাভারত রচনায় সাহায্য করেছিলেন। ভারতীয় পুরাণে এটি এক আত্মত্যগের প্রতীক।
অন্য গল্প অনুযায়ী পরশুরাম শিবের উপাসনা করে শিবের কাছ থেকে একটি কুঠার পেয়েছিলেন,এই কুঠারের সাহায্যে তিনি তার শত্রুদের পরাজিত করেন। একদিন শিবকে ধন্যবাদ জানাতে তিনি কৈলাসে আসেন। কৈলাসের দ্বারে তখন গণেশ পাহারায় ছিলেন। শিব সেই সময় নিদ্রায় ছিলেন বলে গণেশ পরশুরামকে কৈলাসে প্রবেশে বাধা দেয়। বাধা পেয়ে পরশুরাম গণেশের সাথে যুদ্ধ আরম্ভ করেন। যুদ্ধের শেষ দিকে পরশুরাম শিবের দেওয়া কুঠার গণেশের দিকে ছুঁড়ে মারেন। গণেশ পিতাকে সম্মান জানিয়ে কুঠারের আঘাত ব্যর্থ হতে না দিয়ে সেই আঘাত তার দাঁতের উপর নেন। ফলে গণেশের দাঁতটি ভেঙে যায়। এখানেও গল্পটি এক আত্মত্যগের প্রতীক হিসাবে ধরা হয়।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান