ভূগোল

ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত সতর্কবার্তা জানানো হয় কিভাবে

সুপার সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় হল ক্রান্তীয় অঞ্চলের সমুদ্রে সৃষ্টি হওয়া প্রচন্ড বৃষ্টি ও বজ্র বিদ্যুৎসহ ঘূর্ণাবর্ত যা নিরক্ষীয় অঞ্চলে নিম্নচাপের ফলে উৎপন্ন হয়। এই ঘূর্ণিঝড়ের ফলে নিরক্ষীয় অঞ্চলে উৎপন্ন তাপ মেরু অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। এই ধরনের ঝড়ে বাতাস প্রবল বেগে ঘুরতে ঘুরতে এগিয়ে যায়। সেই কারণে এই বায়ু প্রবাহকে ঘূর্ণিঝড় বলা হয়।

পৃথিবীতে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৮০ টি ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয়। কিন্তু এর অধিকাংশই সমুদ্রে মিলিয়ে যায়। খুব অল্প সংখ্যক ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আঘাত হানে। ঘূর্ণিঝড়ের উপকূলে আঘাতের ফলে স্থলভাগে প্রচন্ড প্রাকৃতিক দুর্যোগ তৈরি হয় যার ফলে স্থলভাগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে। এই ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর জন্য আবহাওয়া দপ্তর থেকে জনসাধারণের জন্য বিশেষ ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। কিন্তু কিভাবে দেওয়া হয় এই সতর্কবার্তা ? সেটাই জেনে নেব এখানে। সরকারের পক্ষ থেকে ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত সতর্কবার্তা চার ধাপে দেওয়া হয়ে থাকে।

প্রথম ধাপ- এই ধাপটিকে ‘প্রি সাইক্লোন ওয়াচ’ (Pre Cyclone Watch) বলা হয়। আবহাওয়া দপ্তরের ডিরেক্টর জেনারেল (Director General) ঝড়ের ৭২ ঘণ্টা আগে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মচারী এবং সেক্রেটারিদের উদ্দেশ্য করে এক সতর্কবার্তা জারি করেন যাতে ঝড়ের ক্ষমতা এবং ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা অনুমান করা হয়।

দ্বিতীয় ধাপ- এই ধাপটির নাম ‘সাইক্লোন অ্যালার্ট’ (Cyclone Alert)। আবহাওয়া দপ্তরের হেডকোয়ার্টার থেকে ঝড়ের ৪৮ ঘণ্টা আগে মৎস্যজীবী, জনসাধারণকে এবং বিপর্যয় মোকাবিলাকারী দল বা ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের দলকে উদ্দেশ্য করে এক সতর্কবাণী জারি করা হয় যাতে ঝড়ের গতি সম্পর্কিত তথ্য, ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা এবং কোন স্থান সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে অনুমান করে বলা হয়।

তৃতীয় ধাপ- এই ধাপটির নাম ‘সাইক্লোন ওয়ার্নিং’ (Cyclone Warning)।‌ আবহাওয়া দপ্তরের হেডকোয়ার্টার থেকে ঝড়ের ২৪ ঘন্টা আগে এই সতর্কবাণী জারি করা হয় এবং তিন ঘণ্টার ব্যবধানে সাম্প্রতিকতম তথ্য সংযোজন করা হতে থাকে। এই সতর্কবাণীতে ঝড়ের ক্ষমতা, আছড়ে পড়ার স্থান ও কাল, ঝড়ের গতিবেগ, বৃষ্টির আশঙ্কা প্রভৃতি অনুমান করা হয়।

চতুর্থ ধাপ- এই ধাপটির নাম ‘পোস্ট ল্যান্ডফল আউটলুক’ (Post Landfall Outlook)। ঝড় উপকূলবর্তী এলাকায় আছড়ে পড়ার ১২ ঘণ্টা আগে আবহাওয়া দপ্তরের হেডকোয়ার্টার থেকে ঝড়ের গতিবিধি সম্পর্কিত তথ্য এবং অন্যান্য এলাকায় তার প্রভাব অনুমান করে এই সতর্কবাণী জারি হয়।

তবে সব সময় একশো শতাংশ নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হয়না। কারণ প্রকৃতির অনেক বিষয় এখনও অজানা। তবে প্রতিনিয়ত আবহাওয়া নিয়ে নানান গবেষনা চলছে এবং ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস যাতে আরো সঠিকভাবে দেওয়া যায় তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

স্বরচিত রচনা পাঠ প্রতিযোগিতা, আপনার রচনা পড়ুন আপনার মতো করে।

vdo contest

বিশদে জানতে ছবিতে ক্লিক করুন। আমাদের সাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুন। ইমেল – contact@sobbanglay.com

 


তথ্যসূত্র


  1. http://www.rsmcnewdelhi.imd.gov.in/

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।