ধর্ম

নল ও দময়ন্তীর প্রেমকাহিনী

মহাভারতের বনপর্বে ৫২ থেকে ৭৯তম অধ্যায় জুড়ে আছে নিষধরাজ নল ও বিদর্ভনন্দিনী দময়ন্তীর অপূর্ব প্রেমকাহিনী। অর্জুন যখন অস্ত্রশিক্ষা করতে স্বর্গে যান, বাকি চার পাণ্ডব এবং দ্রৌপদী অত্যন্ত কষ্টেই দিন কাটাচ্ছিলেন। একদিন মহর্ষি বৃহদশ্ব পাণ্ডবদের সঙ্গে দেখা করতে এসে শোকাতুর পাণ্ডবদের সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য ঋষি বৃহদশ্ব বর্ণনা করেন নল ও দময়ন্তীর প্রেম কাহিনি। ঋষি বৃহদশ্বের মতে পাণ্ডবদের থেকেও মহারাজ নল অনেক বেশি দুঃখ পেয়েছিলেন। জেনে নেওয়া যাক মহাভারতের সেই অপূর্ব প্রেমগাথা।

প্রাচীনকালে নিষধ দেশে বীরসেনের পুত্র নল রাজত্ব করতেন। একাধারে রূপবান ও ধনুর্বিদ্যায় গুনবান রাজা নলের সমকক্ষ কেউ ছিল না এবং তাঁর তেজ ছিল সূর্যের সমান। মহারাজ নলের রাজত্বে প্রজারা সুখে-শান্তিতে বাস করত। সেই সময় বিদর্ভ দেশে রাজা ভীম রাজ্যশাসন করতেন। মহারাজ ভীমের ঘরে ঐশ্বর্য্য থাকলেও কোনো সন্তান না থাকায় মহারাজ ভীম আর রাজমহিষীর মনে শান্তি ছিল না। একদিন মহর্ষি দমন রাজপুরীতে রাজাকে দর্শন করতে এলেন। রাজা ও রাণী উভয়েই সন্তান কামনায় সযত্নে মুনির সেবা করলেন। রাজদম্পতির সেবায় সন্তুষ্ট মহর্ষি দমন তাঁদের অভিলাষ অনুযায়ী সন্তানলাভের বর প্রদান করে রাজপুরী থেকে বিদায় নেন। কিছুদিন পর মহর্ষির বরে মহারাজ ভীমের তিনটি পুত্র ও একটি কন্যা জন্মলাভ করে। মহর্ষি দমনের নাম স্মরণ করে তিনটি পুত্রের নাম যথাক্রমে ‘দম’, ‘দন্ত’, ‘দমন’ রাখা হয় এবং একমাত্র কন্যাটির নাম রাখা হয় ‘দময়ন্তী’।

ধীরে ধীরে বড় হল মহারাজ ভীমের তিন পুত্র ও এক কন্যা। দময়ন্তী হয়ে উঠলেন রূপে-গুণে সাক্ষাৎ লক্ষ্মীস্বরূপা। দেব, যক্ষ, ও মর্ত্যলোকেও তাঁর মত রূপসী কেউ কখনো দেখেনি। শত শত দাসী আর সখীরা সারাদিন দময়ন্তীর সেবা করত। এদিকে নিষধরাজ নলের তুলনাও পৃথিবীতে দুর্লভ! পুরবাসীরা কৌতূহলবশত সর্বদাই তাই নলের কাছে দময়ন্তীর কথা এবং দময়ন্তীর কাছে নলের কথা বর্ণনা করে যেতে থাকেন আর এই বর্ণনা শুনতে শুনতে নল ও দময়ন্তী একে অন্যের প্রতি প্রেমাসক্ত হয়ে পড়েন।


প্রাকৃতিক খাঁটি মধু ঘরে বসেই পেতে চান?

ফুড হাউস মধু

তাহলে যোগাযোগ করুন – +91-99030 06475


 


একদিন রাজা নল বিদর্ভনন্দিনী দময়ন্তীর অপূর্ব রূপের কথা ভাবতে ভাবতে নির্জনে ভ্রমণ করছিলেন। এমন সময় একদল সোনার হাঁস উড়তে উড়তে সেখানে এসে উপস্থিত হল। হাঁসগুলির রূপ দেখে মহারাজ নল তাদের ধরতে গেলে হাঁসদের দলপতি বলে উঠল, ‘মহারাজ কৃপা করে আমাদের ধরবেন না। আমরা আপনাকে রাজকন্যা দময়ন্তীর খবর এনে দেব।’ এই কথা শুনে নল তাদের ছেড়ে দিলেন। সেই হাঁসগুলি তারপর এসে পৌঁছায় বিদর্ভ দেশে। সেখানেও দময়ন্তী নির্জনে বসে নলের কথা ভাবছিলেন আর ঠিক সেই সময় হাঁসের দল এসে নলের কথা দময়ন্তীর কানে বলে যায়। প্রিয়তমের সংবাদ পেয়ে অনুরক্ত দময়ন্তী আহার-নিদ্রা ত্যাগ করলেন। চঞ্চল হয়ে উঠলেন রাজমহিষী। কন্যার এমন বৈরাগ্যের কথা পৌঁছালো মহারাজ ভীমের কানেও। শেষে মন্ত্রীবর্গের পরামর্শে দময়ন্তীর স্বয়ম্বরের আয়োজন করলেন মহারাজ। দেশে-বিদেশে স্বয়ম্বরের খবর ছড়িয়ে পড়ল। সব দেশ থেকে রাজা-রাজপুত্রেরা এসে উপস্থিত হলেন বিদর্ভ দেশে। সারা পৃথিবীতে সব যুদ্ধ-বিগ্রহ স্থগিত হয়ে গেল, যুদ্ধে প্রাণ বিসর্জন দিয়ে আর কেউ স্বর্গে গেল না।

দেবরাজ ইন্দ্র পড়লেন বিষম চিন্তায়। ‘তবে কি পৃথিবী পাপে পরিপূর্ণ হল?’ এই কথা ভাবতে লাগলেন তিনি। এই সময় দেবর্ষি নারদ এসে জানালেন দেবী দময়ন্তীর স্বয়ম্বরা হওয়ার কথা আর তার জন্যই নাকি পৃথিবীতে যুদ্ধ বন্ধ রয়েছে। এই কথা শুনে আনন্দিত দেবরাজ এবং আরও কয়েকজন দেবতাও দময়ন্তীর স্বয়ম্বরে যাওয়ার কথা স্থির করলেন।

পথের মধ্যে তাঁদের দেখা হল মহারাজ নলের সঙ্গে যিনি তাঁর প্রিয়তমাকে পাওয়ার জন্য বিদর্ভনগরীর দিকে যাচ্ছিলেন। নলের মত ধার্মিক ও সত্যবান রাজাকে দেখে দেবতারা তাঁকে দময়ন্তীর কাছে নিজেদের হয়ে দূতের ভূমিকা পালন করতে বললেন। দুঃখ পেলেও দেব-আজ্ঞা অবহেলা করতে পারলেন না মহারাজ নল। দেবতাদের আদেশে নল গুপ্তভাবে দময়ন্তীর কক্ষে প্রবেশ করে ইন্দ্র, বরুণ, যম ও অগ্নি দেবের মধ্যে একজনকে বরণ করার কথা বললেন। কিন্তু দময়ন্তী এই প্রস্তাবে সম্মত হলেন না কারণ তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন নলকেই পতিরূপে বরণ করবেন তিনি। কোনো দেবতার জন্য নিজের সংকল্প ত্যাগ করতে তিনি রাজি নন। নল পুনরায় গুপ্তভাবে দেবতাদের কাছে ফিরে গেলেন। দেবতারা দময়ন্তীর কথা জিজ্ঞাসা করলে মহারাজ নল তাঁদের রাজকন্যার প্রতিজ্ঞার কথা জানিয়ে সেই স্থান ত্যাগ করেন।

স্বয়ম্বরের দিন চলে এল। রাজকন্যা দময়ন্তী নিজের অতুল সৌন্দর্য্য বহুগুণ বিকশিত করে রাজসভায় উপস্থিত হলেন। সেখানে সারা বিশ্বের সমস্ত রাজা ও রাজপুত্রেরা এসে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু দময়ন্তীর চোখ খুঁজে চলেছে শুধুই মহারাজ নলকে। এমন সময় তিনি দেখতে পেলেন পাঁচজন ব্যক্তিকে যারা প্রত্যেকে যেন মহারাজ নলের প্রতিরূপ। কোনোমতেই নলকে চিনতে না পেরে দময়ন্তী বুঝতে পারলেন তাঁদের মধ্যে একজন নল এবং বাকিরা নলবেশী দেবতা। তখন দময়ন্তী কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “আমি নলকে ভালোবাসি আর জ্ঞানত তাঁকেই বরণ করেছি। এখন আমি অন্য পুরুষকে বরণ করলে আমার পাপ হবে। হে দেবগণ, দয়া করে মহারাজ নলকে দেখিয়ে দিন।” তাঁর কান্নায় দেবতাদের মন ভিজে গেল। তখন তাঁরা দময়ন্তীর সামনে নিজ নিজ রূপ প্রকাশ করলেন আর দময়ন্তীও প্রকৃত নলের গলায় বরমাল্য পরিয়ে দিলেন।

নল-দময়ন্তীর মিলনে সকলেই খুশি। দেবতারাও খুশি হয়ে মহারাজ নলকে অনেকগুলি বর দান করে স্বর্গপথে চলে গেলেন। তারপর মহাসমারোহে নল ও দময়ন্তীর বিবাহ সম্পন্ন হল। কিছুদিন পরে মহারাজ নল দময়ন্তীকে নিয়ে নিজের দেশে চলে যান। দেশে ফিরে কিছুদিন পরম সুখে রাজত্ব করার পর ইন্দ্রসেন ও ইন্দ্রসেনা নামে তাঁদের এক পুত্র ও এক কন্যা জন্মগ্রহণ করে। এদিকে দময়ন্তীর স্বয়ম্বর শেষ হওয়ার পর যখন দেবতারা স্বর্গে ফিরে যাচ্ছিলেন, তখন তাঁরা কলি ও দ্বাপর নামে দুই দেবতার দেখা পান। দময়ন্তীর প্রতি কলির আসক্তির কথা শুনে দেবরাজ তাঁকে নিরস্ত করেন এবং নল ও দময়ন্তীর মিলনের কথা বলেন। এই কথা শুনে কলি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হন এবং নলকে দময়ন্তীর থেকে আলাদা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই কাজে দ্বাপরও তাঁকে সাহায্য করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। শুরু হয় গোপন চক্রান্ত। কলি মহারাজ নলের শরীরে প্রবেশের জন্য সামান্যতম একটি ত্রুটি খোঁজার জন্য এগারো বছর ধরে তাঁকে অনুসরণ করেন। একদিন নল সন্ধ্যাহ্নিক করার আগে পা ধুতে ভুলে গিয়েছিলেন বলে তাঁর দেহ অশুচি ছিল আর এই সামান্য খুঁত পেয়েই কলি নলের দেহে প্রবেশ করে তাঁকে বশ করে নেয়। নলকে নিজের বশে এনে কলি নলের ভাই পুষ্করকে রাজা হওয়ার লোভ দেখিয়ে নলকে পাশা খেলার আহ্বান জানানোর মন্ত্রণা দেন। দুষ্ট পুষ্কর কলির ছলনায় মহারাজ নলকে পাশা খেলার কথা বললে মহারাজ খেলতে সম্মত হলেন। কলি জানতেন মহারাজ নল পাশা খেলায় খুবই আসক্ত ছিলেন। কলির প্রভাবে পাশা খেলায় নলের হার হল। নলের রাজ্য-সম্পদ সমস্তকিছু অধিকার করে পুষ্কর নল ও দময়ন্তীকে রাজপুরী থেকে তাড়িয়ে দেন। তাঁদের পুত্র-কন্যা ইন্দ্রসেন ও ইন্দ্রসেনাকে সারথি‌ বার্ষ্ণেয় বিদর্ভরাজ্যে নিয়ে যায় সুরক্ষার জন্য।

এদিকে মহারাজ নল ও মহারাণী দময়ন্তী অতিকষ্টে বনের ফল খেয়ে জীবনধারণ করতে লাগলেন। একদিন নল কতগুলি সোনার পাখি দেখতে পেয়ে লতাপাতায় নিজের শরীর ঢেকে পরনের কাপড় দিয়ে পাখিগুলিকে ধরতে গেলেন। কিন্তু পাখিগুলি পাশারূপে নিজেদের পরিচয় দিয়ে সেই কাপড় নিয়ে পালিয়ে যায়। অত্যন্ত ব্যথিত নলরাজ ও দময়ন্তী সেই রাতে গাছের নিচে শুয়ে রইলেন। এদিকে নলের মাথার ভিতর থেকে কলি ক্রমাগত দময়ন্তীকে পরিত্যাগ করে চলে যাওয়ার জন্য প্ররোচনা দিতে থাকেন। কলির মায়ায় বিভ্রান্ত নল দময়ন্তীর কাপড়ের অর্ধেক ছিন্ন করে সেই বন থেকে চলে গেলেন। জেগে উঠে দময়ন্তী নলকে না দেখতে পেয়ে দুঃখে পাগলপ্রায় হয়ে বনে বনে ঘুরতে থাকেন। কোথাও নলকে দেখতে না পেয়ে অবশেষে এক নদীর তীরে একদল সওদাগরকে দেখে তাঁদের সঙ্গে চেদী রাজ্যে যাওয়ার জন্য উদ্যত হন দময়ন্তী। সেখানে যাওয়ার পর দময়ন্তীর রূপে মুগ্ধ হয়ে চেদীর রাজমাতা তাঁকে কন্যা সুনন্দার সখীরূপে রাজবাড়িতে আশ্রয় দেন।

এদিকে রাজা নল দময়ন্তীকে ছেড়ে ক্রমে এক ঘন বনে প্রবেশ করে দেখলেন বনে আগুন জ্বলছে আর তার ভিতর থেকে করুণ স্বরে কেউ সাহায্য চাইছে। নল ছুটে গিয়ে দেখলেন একটি বিরাট সাপ সেখানে পড়ে আছে। তিনি সাপটিকে সেই দাবানল থেকে উদ্ধার করলে সেই সাপটি কর্কোটক নামে নিজের পরিচয় দেয় এবং নারদের শাপে তার চলৎশক্তিহীন হওয়ার কথা নলকে জানায়। কিন্তু তাঁকে উদ্ধার করা সত্ত্বেও কর্কোটক নলকে দংশন করে কারণ কর্কোটক-বিষে কেবল নলের শরীরে বসবাসকারী শত্রুর ক্ষতি হবে। এটাই ছিল নলের উপকারের প্রতি কর্কোটকের প্রতিদান। এরপর সে মহারাজ নলকে ‘বাহুক’ নাম নিয়ে অযোধ্যার রাজা ঋতুপর্ণের সারথি হওয়ার কথা বলে। মহারাজ ঋতুপর্ণ পাশা খেলায় অত্যন্ত পণ্ডিত, তাঁর কাছে এই বিদ্যা শিখলে নলের উপকার হবে বলে জানায় কর্কোটক এবং সেইসঙ্গে দুটি কাপড় দিয়ে নলকে সে বলে যে এই কাপড় পড়ে কর্কোটককে স্মরণ করলে নল আবার নিজের রূপ ফিরে পাবেন।

মহারাজ নল কর্কোটকের পরামর্শ মেনে কাজ করলেন। এদিকে বিদর্ভরাজ ভীম কন্যা ও জামাতাকে খোঁজার জন্য চতুর্দিকে লোক পাঠালে সুদেব নামে এক ব্রাহ্মণ চেদীরাজ্যে এসে দেবী দময়ন্তীর সন্ধান পেয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। বিদর্ভে ফিরে এসে দময়ন্তী নলের সন্ধান করার জন্য একটি বার্তা নিয়ে পুনরায় দেশে-বিদেশে দূত পাঠালেন। একমাত্র ঋতুপর্ণের সারথি ‘বাহুক’ সেই বার্তার উত্তর দিল। কিন্তু তার কদাকার রূপ দেখে কেউ বিশ্বাস করলো না যে এই ব্যক্তি মহারাজা নল কারণ কর্কোটকের বিষে তাঁর পূর্বের সৌন্দর্য লুপ্ত হয়েছিল। দূতের মুখে এই কথা শুনে দময়ন্তী কৌশলে সুদেবকে দিয়ে বিদর্ভনন্দিনীর পুনরায় স্বয়ম্বরা হওয়ার কথা রাজা ঋতুপর্ণকে জানালেন এবং আরো বললেন এক রাত্রির মধ্যে বিদর্ভে পৌঁছাতে পারলে তবেই স্বয়ম্বরে উপস্থিত হওয়া যাবে। বাস্তবিক এই কঠিন কাজ করার ক্ষমতা একমাত্র নলের ছিল। সেটা জেনেই দময়ন্তী এই কৌশল অবলম্বন করলেন।

সংবাদ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে রাজা ঋতুপর্ণ সারথি বাহুককে আদেশ করলেন এক রাত্রির মধ্যে তাঁকে বিদর্ভে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। পথে ঋতুপর্ণ বাহুকের কাছে নিজের ক্ষমতা দেখাবার জন্য ‘গণনাবিদ্যা’র কিছু নিদর্শন দেখালেন। তখন বাহুক তাঁর অধীত ‘অশ্ববিদ্যা’র পরিবর্তে গণনাবিদ্যাটি শিখতে চাইলে ঋতুপর্ণ তাঁকে গণনাবিদ্যা ছাড়াও ‘অক্ষবিদ্যা’ অর্থাৎ পাশা বশ করবার বিদ্যাটিও শিখিয়ে দিলেন। পবিত্র অক্ষবিদ্যা শেখার সঙ্গে সঙ্গে কলি বাহুক অর্থাৎ নলের দেহ থেকে বেরিয়ে এল। সঠিক সময়ে বাহুক রাজা ঋতুপর্ণকে নিয়ে পৌঁছেও গেল বিদর্ভনগরীতে। ঋতুপর্ণের সারথির কদাকার রূপ দেখে বিচলিত হলেও দময়ন্তী বিভিন্নভাবে তাঁকে পরীক্ষা করতে লাগলেন। সমস্ত পরীক্ষা শেষে সবাই বুঝতে পারল ইনিই মহারাজ নল। তখন কর্কোটকের দেওয়া কাপড় দু’খানি পড়ে মহারাজ নল কর্কোটককে স্মরণ করামাত্র নিজের পূর্বরূপ ফিরে পেলেন। তারপর নিষধরাজ্যে প্রবেশ করে পুনরায় পুষ্করকে পাশা খেলতে আহ্বান করলেন নল। অক্ষবিদ্যা জানা থাকার কারণে পাশায় নলেরই জয় হল। সমুদয় লুপ্ত সম্পত্তি আবার ফিরে পেলেন নল। তারপর থেকেই নল ও দময়ন্তী সুখে রাজত্ব করতে থাকলেন।

মহারাজ নলের এই দুঃখের কাহিনী শুনে পাণ্ডবদের মন কিছুটা শান্ত হয়। তাঁরা আবার অবিচলিত হৃদয়ে অর্জুনের ফিরে আসার অপেক্ষায় রত হন।

তথ্যসূত্র


  1. উপেন্দ্রকিশোর রচনাসমগ্র, বসাক বুক স্টোর প্রাইভেট লিমিটেড, তৃতীয় মুদ্রণ, মহাভারতের কথা, নল ও দময়ন্তীর কথা, পৃষ্ঠা ৫৪২-৫৬৫
  2. কালীপ্রসন্ন সিংহ বিরচিত ‘মহাভারত’, অধ্যায় ৫২-৭৯, পৃষ্ঠা ৭৫৫-৮০৬
  3. http://onushilon.org/
  4. https://www.amaderbharat.com/

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

-
এই পোস্টটি ভাল লেগে থাকলে আমাদের
ফেসবুক পেজ লাইক করে সঙ্গে থাকুন

অর্জুনের পুত্রকে কেন বিয়ে করেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ



ছবিতে ক্লিক করে দেখুন সেই ভিডিও

নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুকে নিয়ে জানা-অজানা তথ্য


নেতাজী

ছবিতে ক্লিক করে দেখুন এই তথ্য