সববাংলায়

মহারাজা জয় সিং ও রোলস রয়েস

বিভাগঃ ,

অপমানের প্রতিশোধ নেওয়ার কতই না গল্প আমাদের জানা। আশেপাশের বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজন অনেকের কাছে আমরা শুনেছি এইসব গল্প। ভালোও লাগে যখন দেখি অপমানকারী ব্যক্তি মুখের মত জবাব পাচ্ছে। আজ এরকমই একটি ঘটনার কথা বলব এখানে। ভারতীয় রাজারা তাদের সমৃদ্ধশালীতা দেখাতে বেশ এগিয়ে থাকতেন সেই সময়। রাজা বলতে রাজকীয় মেজাজ বোঝায়। মেজাজটাই যে আসল রাজা সেটা ইংরেজদের হাড়ে মজ্জায় টের পাইয়ে দিয়েছিলেন আলোয়ারের মহারাজা জয় সিং প্রভাকর। একবার আলওয়ারের মহারাজা জয় সিং প্রভাকর বিলাসবহুল ও দামি গাড়ি নির্মাণ কোম্পানি রোলস রয়েস কে তার অভিজাত্য ও অভিমানের একটি ঝলক দেখিয়েছিলেন। যার কাছে হার মেনেছিল বিদেশি দামি গাড়ি বানানো কোম্পানি রোলস রয়েস ।

১৯২০ সালের এক বিকেলে আলোয়ারের মহারাজা জয় সিং লন্ডনের মেফেয়ারের রোলস রয়েস গাড়ির শো রুমে ঘুরতে গেছেন। সাধারণ ভারতীয় পোশাকেই গেছিলেন সঙ্গে একজন সহকারীকে ছিলেন কেবল। রোলস রয়েস সেই শুরুর দিন থেকেই আভিজাত্যের শেষ কথা ছিল। যেকোন অভিজাত ব্যক্তির গ্যারাজে অন্তত একটি রোলস রয়েস না থাকার অর্থ তাঁর সামাজিক মর্যাদা আর আভিজাত্যে কালি পড়ে যাওয়া। মহারাজা কিনবেন বলে যাননি সান্ধ্য ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন রোলসের শো রুমের পাশ দিয়ে যেতে যেতে ভাবলেন একবার দাম আর স্পেসিফিকেশন জিজ্ঞাসা করে আসবেন। কিন্তু সাধারণ পোশাকে থাকা মহারাজাকে সেলসম্যান পাত্তাই দিলেননা। মহারাজ একটি গাড়ি টেস্ট ড্রাইভ করে দেখার ইচ্ছে প্রকাশ করায় সেই সেলসম্যান অত্যন্ত অশ্রদ্ধার সাথে রাজাকে বললেন – কেনার তো মুরোদ নেই। আবার টেস্ট ড্রাইভের শখ আছে ! বেরোন তো মশাই এখন থেকে।” মহারাজ অপমান বুকে নিয়ে একটাও কথা না বাড়িয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে গেলেন। এরপর সোজা হোটেলে গেলেন এবং হোটেলে গিয়ে তার এক কর্মচারিকে আদেশ দিলেন রোলস রয়েস শোরুমে সংবাদ পাঠাতে আলওয়ারের মহারাজা রোলস রয়েসের শোরুম ঘুরে দেখতে ইচ্ছুক। খবর শুনে শো-রুম কর্তৃপক্ষ রাজার সম্মানে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন করলো। মহারাজা যখন রাজকীয় পোষাক পরিধান করে শো-রুমে উপস্থিত হলেন তখন তার জন্য রীতিমত রেডকার্পেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মহারাজ শো-রুমে থাকা ৬টি গাড়িই কিনে নিয়ে সেই গাড়ি ভারতে পাঠানোর খরচ সুদ্ধু মিটিয়ে দিলেন একেবারে পাই পয়সা ধরে।

ভারতে গাড়িগুলো পৌঁছানোর পর মহারাজা গাড়িগুলো শহর কর্তৃপক্ষকে দিয়ে বললেন, “এই গাড়িগুলো শহরের ময়লা পরিষ্কারের কাজে আমি দান করলাম। আশা করি এর সঠিক এবং উপযুক্ত ব্যবহার হবে। এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে গেল সারাবিশ্বে ভারতে রোলস রয়েসের গাড়িতে ময়লা আবর্জনা পরিবহন করা হয়। যেখানে রোলস রয়েসের গাড়ি ছিল আভিজাত্যের প্রতীক, সেখানে রোলস রয়েসের গাড়ি ময়লা ফেলার জন্য ব্যবহার হওয়ার খবরে সারা পৃথিবী রোলসকে নিয়ে ঠাট্টা করা আরম্ভ করল। রোলস রয়েসের ডিরেক্টরের কানেও এখবর পোঁছতে দেরি হল না এবং যখন তিনি শুনলেন সবটা তিনি প্রায় জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন। সারা বিশ্বে রোলস রয়েস গাড়ির সুখ্যাতি ধুলিস্মাৎ হয়ে পড়তে শুরু করেছে তখন। রোলস রয়েসের নাম উঠলেই “ভারতের ময়লা ফেলার গাড়ি” হিসেবে লোকের মুখে পরিচিতি পেতে লাগল।

রোলস রয়েসের গাড়ি বিক্রি ক্রমশ কমতে শুরু করেছে। রোলস রয়েস অবশেষে তাদের ভুল বুঝতে পেরে রাজা জয় সিংকে টেলিগ্রাম করে ক্ষমা চাইল এবং লন্ডনে আসার আমন্ত্রণও জানালো। রাজা যথাসময়ে লন্ডনে গেলে রোলস রয়েসের সেই শো-রুম থেকে আরও ৬টি গাড়ি এবার বিনা মূল্যে মহারাজাকে দেওয়া হয়। মহারাজাও অবগত হলেন যে তারা অনুতপ্ত, তাই রাজাও রোলস রয়েসের গাড়িতে আবর্জনা পরিবহন বন্ধ করলেন। এটাই ছিল এক রাজার রাজকীয় প্রতিশোধ। অপমানের প্রতিশোধ নেওয়ার ভদ্র পদ্ধতি রাজা জয় সিং শেখালেন নাক উঁচু ইংরেজদের।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

তথ্যসূত্র


  1. তথ্যটি সামাজিক মাধ্যমে প্রাপ্ত। সববাংলায় এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে কোন বিশ্বস্ত প্রমাণ পায়নি বরং চিঠিটি সম্ভবত ভুল (তথ্যসূত্র ২ দ্রষ্টব্য), তবুও লেখাটি প্রকাশ করা হল, মূলত এর অন্তর্নিহিত বার্তার জন্য।
  2. https://www.cartoq.com/i

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading