ইতিহাস

আদর্শ নির্বাচন বিধি

আদর্শ নির্বাচন বিধি (Model Code of Conduct) হল ভারতীয় নির্বাচন কমিশন দ্বারা অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রকাশিত নির্দেশিকা যেখানে ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও তাদের প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলার কথা বলা হয়েছে। নির্বাচনী সভা এবং প্রচার সংক্রান্ত বিধিনিষেধ, বিভিন্ন দলের নির্বাচনী ইশতেহার, শাসক দলের আচরণ, প্রশাসনিক নীতিনিয়ম সমস্ত কিছুই এই আদর্শ নির্বাচন বিধির আওতাধীন।

১৯৬০ সালের কেরালা বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে প্রথম আদর্শ নির্বাচন বিধির প্রচলন শুরু হয়। নির্বাচন কমিশন ১৯৭৯ সালে ক্ষমতাসীন দল যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বাড়তি সুবিধে না পায় সেই সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধিনিষেধ আদর্শ নির্বাচন বিধিতে যোগ করে। ২০১৩ সালে, সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনী ইশতেহার সম্পর্কিত নির্দেশিকা অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেয় যা ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে আদর্শ নির্বাচন বিধি তে যুক্ত হয়।

নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন সংক্রান্ত নির্ঘন্ট প্রকাশের পর থেকেই আদর্শ নির্বাচন বিধি শুরু হয়ে যায় এবং বলবৎ থাকে সমগ্র নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত।  

আদর্শ নির্বাচন বিধিতে প্রধানত আটটি বিষয় সর্বাধিক গুরুত্ব পায়। যথা – প্রার্থীদের সাধারণ আচরণ, মিটিং, মিছিল, নির্বাচনের দিন, ভোটগ্রহণ কেন্দ্র, নির্বাচনী পর্যবেক্ষক, শাসক দলের আচরণ এবং বিভিন্ন দলের নির্বাচনী ইশতেহার। নিচে এগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।

সাধারণ আচরণ: নিম্নলিখিত কাজগুলি থেকে সব দল ও প্রার্থীকে বিরত থাকবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে-

১) বিভিন্ন বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা বা ঘৃণা অথবা ধর্ম বা ভাষাগত বৈষম্য সৃষ্টি বা বৃদ্ধি হয় এমন কাজ করা।

২) প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা দলের কারাে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অথবা অপ্রমাণিত অভিযােগ নিয়ে সমালােচনা করা ; অন্য রাজনৈতিক দলের বা প্রার্থীর সমালােচনা শুধু তাঁদের দলীয় নীতি ও কর্মপন্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

৩) ভােট প্রাপ্তির জন্য জাতিগত, সাম্প্রদায়িক বা ধর্মীয় অনুভূতির কাছে আবেদন করা।

৪) কোন উপাসনার স্থানকে নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্র হিসাবে ব্যবহার করা।

৫) দুর্নীতি মূলক অপকর্ম ও নির্বাচনবিধি অনুযায়ী অপরাধ হিসাবে পরিগণিত যেসব আচরণ, যেমন-ঘুষ দেওয়া, ভীতি প্রদর্শন, মিথ্যা পরিচয়দান, ভােটদাতাদের যাতায়াতের ব্যবস্থা, ভােটের দিন ভােটগ্রহণ কেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে প্রচার করা, ভােটগ্রহণ শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময়ের পূর্ববর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচনী সভার অনুষ্ঠান করা।

৬) কোন ব্যক্তি বিশেষের বাসস্থানের সামনে কোন রকম বিক্ষোভ প্রদর্শন করা বা পিকেটিং করা।

৭) প্রতিদ্বন্দ্বী দল বা প্রার্থী আয়ােজিত কোন সভা, মিছিল ইত্যাদি পণ্ড হতে পারে বা তাতে গোলযােগ ঘটতে পারে এমন সব কাজকর্মে লিপ্ত হওয়া।

৮) প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বা দলের পােষ্টার ছিঁড়ে দেওয়া।

প্রচারকালীন আচরণ:

১) প্রচারের জন্য কোন সরকারি সম্পত্তি ব্যবহার করা যাবে না।

২) কোন রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী তাঁর অনুগামীদের কোন ব্যক্তিবিশেষের জমি, ভবন, সীমানা প্রাচীর ইত্যাদিতে ঐ ব্যক্তিবিশেষের অনুমতি ছাড়া পতাকা দণ্ড স্থাপন, ব্যানার ঝােলানাে, বিজ্ঞপ্তি লাগানো, স্লোগান লেখা ইত্যাদির জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না।

৩) কোন সরকারি প্রাঙ্গনে বা সম্পত্তিতে দেওয়াল লিখন, পােস্টার সাঁটানাে, কাগজ সাঁটানাে বা অন্য কোন ভাবে সৌন্দর্যহানি করা অথবা কাট-আউট, হোর্ডিং বা ব্যানার টাঙানাে যাবে না।

৪) কোন রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী অতিরিক্ত বড় মাপের কাট-আউট, হোর্ডিং ,ব্যানার ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারবেনা বা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না এবং সাধারনভাবে অর্থ শক্তির জমকালাে প্রদর্শন থেকে বিরত থাকবে।

৫) বেআইনি, অপরাধমূলক বা আপত্তিকর বিষয়ে কোন লেখা প্রকাশনার ক্ষেত্রে, দায়িত্ব নির্ধারণ করার উদ্দেশ্যে কোন নির্বাচনী পুস্তিকা বা পােষ্টার, মুদ্রক ও প্রকাশকের পরিচয় ছাড়া মুদ্রিত বা প্রকাশিত হবে না।

৬) সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সময় বাদ দিয়ে অন্য কোন সময়ে কোন রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী লাউড স্পিকার ব্যবহার করতে পারবে না এবং এই ধরনের লাউড স্পিকার ব্যবহার করলেও আইন অনুযায়ী আগাম অনুমতি নিতে হবে। এর সাথে রুগ্ন, বৃদ্ধ ও অশক্ত ব্যক্তিদের কথা বিশেষভাবে বিবেচনা করতে হবে। কোন বড় পরীক্ষা (যেমন মাধ্যমিক পরীক্ষা, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা ইত্যাদি) শুরু হওয়ার তিনদিন আগে থেকে পরীক্ষা শেষ হওয়ার দিন পর্যন্ত কোন সময়েই লাউড স্পিকার ব্যবহার করা যাবে না।

সভা:

১) কোন দল বা প্রার্থীকে প্রস্তাবিত কোন সভার স্থান ও সময় সম্পর্কে স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষকে আগে থাকতে অবহিত করবে যাতে পুলিশ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

২) সভার জন্য প্রস্তাবিত স্থানে কোন নিয়ন্ত্রণমূলক আদেশ বা নিষেধাজ্ঞা বলবৎ আছে কিনা তা আগে থাকতে জেনে নিতে হবে। যদি এ ধরনের কোন আদেশ থাকে, তা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। এ ধরণের আদেশ থেকে কোন অব্যাহতি চাইলে তার জন্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করতে হবে এবং সময় থাকতেই তা পেতে হবে।

৩) লাউড স্পিকার ব্যবহারের জন্য বা প্রস্তাবিত সভার ক্ষেত্রে অন্য কোন সুবিধার জন্য কোন দল বা প্রার্থীকে অনেক আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে এবং অনুমতি বা লাইসেন্স নিতে হবে।

৪) কোন সভায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী বা অন্য কোনভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে উদ্যত ব্যক্তিদের মােকাবিলা করার জন্য ঐ সভার সংগঠকরা অবশ্যই কর্তব্যরত পুলিশের সহায়তা চাইবেন। সংগঠকরা নিজেরা এধরনের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন না।

মিছিল

১) মিছিল সংগঠনকারী সব দল বা প্রার্থী মিছিল শুরু করার সময় ও স্থান, মিছিলের গমন পথ এবং মিছিল শেষ হওয়ার সময় ও স্থান সম্পর্কে আগে থাকতেই সিদ্ধান্ত নেবেন। সাধারণভাবে এই কর্মসূচী থেকে কোন বিচ্যুতি ঘটানাে যাবে না।

২) পুলিশ-কর্তৃপক্ষ যাতে প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন, সেজন্য সংগঠকরা স্থানীয় পুলিশ-কর্তৃপক্ষকে কর্মসূচিটি আগাম জানিয়ে দেবেন।

৩) মিছিল যেসব অঞ্চলের মধ্যে দিয়ে যাবে সেই সব অঞ্চলে কোন বিধি-নিষেধ বলবৎ আছে কিনা, সংগঠকরা ভা জনে নেবেন এবং ঐসব বিধি-নিষেধ মান্য করে চলবেন।

৪) যানবাহন চলাচলে যাতে কোন বাধা বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয় সংগঠকেরা সে ভাবেই মিছিল পরিচালনা করার জন্য আগে থেকে ব্যবস্থা নেবেন। যদি মিছিল খুব দীর্ঘ হয় তাহলে সংগঠকেরা সেটিকে উপযুক্তভাবে কয়েকটি ভাগ করে দেবেন। বিশেষতঃ মিছিল যেখানে যেখানে বিভিন্ন রাস্তার সংযােগস্থলগুলি অতিক্রম করবে, সেইসব জায়গায় ব্যাপক যানজট এড়াতে ধাপে ধাপে যানবাহনগুলিকে পার হতে দেবেন।

৫) মিছিলকে যথাসম্ভব রাস্তার ডান পাশ দিয়ে নিয়ে যেতে হবে এবং কর্তব্যরত পুলিশ কর্মচারীদের আদেশ ও পরামর্শ কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

৬) যদি দুই বা তার বেশি রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীদের প্রভাবিত মিছিলের পথ পুরােপুরি বা আংশিকভাবে এক হয় এবং মিছিলের সময়সূচী একই থাকে, তাহলে সংগঠকেরা যথেষ্ট আগে থেকেই যােগাযােগ করে ব্যবস্থা নেবেন যাতে মিছিলগুলির মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ না হয় বা যানবাহন চলাচল বাধাপ্রাপ্ত না হয়। সন্তোষজনক সমাধানের জন্য যথা সম্ভব আগেই স্থানীয় পুলিশের সহায়তা নিতে হবে।

৭) মিছিলকারীদের হাতে থাকা দ্রব্যাদি যাতে অবাঞ্ছিত ব্যক্তিরা অপব্যবহার করতে না পারে, বিশেষত: উত্তেজনার মুহূর্তে, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীরা যথাসাধ্য নিয়ন্ত্রন রাখবার চেষ্টা করবেন।

৮) অন্য রাজনৈতিক দলের সদস্য বা তাঁদের নেতৃবৃন্দের আকৃতিযুক্ত কুশপুত্তলিকা বহন করা, জনসমক্ষে সেগুলি পোড়ানাে এবং এরকম অন্যান্য বিক্ষোভে কোন রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী সায় দেবেন না।

ভােটগ্রহণের দিন

সমস্ত রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীরা –

১) শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল ভােটদান সুনিশ্চিত করতে এবং ভােটদাতারা যাতে কোন রকম বিরক্তি বা বাধার সম্মুখীন না হয়ে স্বাধীনভাবে ভােট দিতে পারেন, তা সুনিশ্চিত করতে নির্বাচনকর্মীদের সঙ্গে সহযােগিতা করবেন।

২) তাঁদের প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মীদের পরিচয়পত্র বা ব্যাজ দেবেন। সেই পরিচয়পত্র বা ব্যাজে শুধুমাত্র কর্মীর নাম ও প্রার্থীর নাম থাকবে।

৩) ভােটদাতাদের তাঁরা যে পরিচয়জ্ঞাপক স্লিপ দেবেন তা সাদা কাগজে দেবেন: তাতে কোন প্রতীক, প্রার্থীর নাম বা দলের নাম থাকবে না।

৪) ভােট গ্রহণ শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময়ের পূর্ববর্তী ও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মদ পরিবেশন বা বিতরণ করবেন না।

৫) বিভিন্ন দল ও প্রার্থীদের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা যাতে এড়ানাে যায়, সে জন্য ভােটকেন্দ্রের নিকটবর্তী প্রার্থী বা দলের শিবিরের কাছাকাছি অযথা ভিড় জমতে দেবেন না।

চ) প্রার্থীদের ক্যাম্পগুলি যাতে সাদামাটা হয় এবং যাতে সংশ্লিষ্ট সমন্তরকম নির্বাচনী বিধি-নিষেধ মেনে চলা হয় তা সুনিশ্চিত করবেন;

৭) ভােটগ্রহণের দিন যান চলাচলের উপর যে সমস্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে সেগুলি মেনে চলার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযােগিতা করবেন এবং যানবাহনগুলি ব্যবহারের জন্য অনুমতিপত্র আগে থেকে সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট যানবাহনে সেগুলি স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করবেন।

ভােটগ্রহণ কেন্দ্র

১) ভােটগ্রহণ চলাকালীন ভােটদাতারা এবং প্রাধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই কেবল ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে প্রবেশ করার অধিকারী এবং নিয়মানুযায়ী অধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই শুধুমাত্র ভােটগণনাস্থলে প্রবেশ করতে পারেন।

২) যিনি নিরাপত্তা জনিত কারনে সরকারি নিরাপত্তা পান, এমন কোন ব্যক্তি ভােটগ্রহণের দিন ভােটকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে প্রবেশ করতে পারবেন না। এমনকি ঐ দিন তিনি নির্বাচন ক্ষেত্রের মধ্যেও ঘোরাঘুরি করতে পারবেন না। তিনি যদি ঐ ভােটপ্রহণ কেন্দ্রের ভােটার হন, তাহলেও নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তাঁর গতিবিধি ভােট দেওয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকে। সে কারনেই যাঁকে নিয়ে নিরাপত্তাজনিত আশংকা আছে অথবা যার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী আছে, সেরকম কাউকে নির্বাচনী এজেন্ট, পােলিং এজেন্ট বা কাউন্টিং এজেন্ট হিসাবে নিয়ােগ করা যাবে না।

পরিদর্শক

রাজা নির্বাচন কমিশন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য পরিদর্শক (অবজার্ভার) নিয়োগ করবে। নির্বাচন পরিচালনা সম্পর্কে কোন প্রার্থী বা দলের অভিযােগ থাকলে তাঁরা সেটা পরিদর্শকের নজরে আনতে পারেন।

ক্ষমতাসীন দল

কেন্দ্র বা রাজ্য বা সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতে যে দল ক্ষমতায় আসীন রয়েছে সেই দল তার সরকারি ক্ষমতা নির্বাচনী প্রচারের কাজে ব্যবহার করবেন না। বিশেষত

(১) কোন কেন্দ্ৰীয় বা রাজ্য সরকারি কর্তৃপক্ষ বা গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদের চেয়ার পার্সন বা অন্যান্য সদস্যরা নির্বাচনী কাজে সরকারি প্রশাসনযন্ত্র বা কর্মীবর্গকে কাজে লাগাবেন না;

(২) ক্ষমতামীন দলের স্বার্থের অনুকূলে কর্তব্যরত কোনাে সরকারি গাড়ি, প্রশাসন যন্ত্র এবং কর্মীবর্গকে কাজে লাগানাে যাবে না; এই বিধিনিষেধ কেন্দ্রীয় সরকার বা রাজ্য সরকারের মন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও প্রযােজ্য হবে;

(৩) ভােটের সময়ে কোনাে মন্ত্রী, মন্ত্রীর সমমর্যাদা কেউ অথবা অন্য কোনাে রাজনৈতিক পাইলট কার ব্যবহার, লাল বা অন্য রঙের বাতি (বিকন লাইট) লাগানাে গাড়ি ব্যবহার, বা যে কোনাে ধরণের সাইরেন লাগানাে গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন না।

৩) সরকারি রেষ্টহাউস, ডাকবাংলাে বা পঞ্চায়েতের নিয়ন্ত্রণাধীন অন্যান্য আবাসস্থানগুলিকে পক্ষপাতহীন পদ্ধতিতে অন্যান্য দল বা প্রার্থীকে ব্যবহার করতে দিতে হবে।

8) আদর্শ আচরণবিধি বলবৎ থাকাকালীন ক্ষমতাসীন দলের সাফল্যের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করবার উদ্দেশ্যে সংবাদপত্রে বা অন্য কোনাে প্রচার মাধ্যমে সরকারি টাকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে না।

৫) নির্বাচনের দিন ঘােষণা থেকে শুরু করে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকার অথবা জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি বা গ্রাম পঞ্চায়েত তাঁদের কোনাে প্রাধিকার বা বিবেচনামূলক তহবিল থেকে কোনাে অনুদান বা অর্থ ব্যয় করবেন না।

৬) নির্বাচনের দিন ঘােষণা হওয়ার পর থেকে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকার বা জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি বা গ্রাম পঞ্চায়েত সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত এলাকার সুবিধার জন্য

৭) কোনাে আর্থিক অনুদান ঘোষণা করবেন না বা তার কোন প্রতিশ্রুতি দেবেন না;

৮) কোনও অস্থায়ী পদে কর্মী নিয়োগ করবেন না।

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

রচনাপাঠ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চান?



এখানে ক্লিক করুন

বাংলাভাষায় তথ্যের চর্চা ও তার প্রসারের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন