পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য প্রাচীন মসজিদ। সেইসব প্রাচীন মসজিদগুলির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি মসজিদ হল মতিঝিল জামা মসজিদ (Motijheel Jama Masjid)। এটি কালা মসজিদ বা মতিঝিল মসজিদ নামেও পরিচিত। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক এই মসজিদের সাথে জড়িয়ে আছে বাংলার নবাবী ইতিহাসের স্মৃতি। একদিকে এটি যেমন মুর্শিদাবাদের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক নিদর্শন, অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের পর্যটন স্থানের মধ্যে অন্যতম আকর্ষণ।
নবাব আলীবর্দী খানের বড়ভাই হাজি আহমেদের বড় ছেলে নবাব মহম্মদ নওয়াজেশ আলি খান, আলীবর্দি খানের বড় মেয়ে মেহেরুন্নেসাকে বিয়ে করেন। মেহেরুন্নেসা ঘসেটি বেগম নামে অধিক পরিচিত। তাঁরা নিঃসন্তান ছিলেন এবং ঘসেটি বেগমের ছোট বোন আমিনা বেগমের ছেলে ও নবাব সিরাজউদ্দৌলার আপন ভাই একরামউদ্দৌলাকে তাঁরা দত্তক নিয়েছিলেন। সেই সময় বাংলায় বর্গী আক্রমণ হত এবং নবাব আলীবর্দী খান বর্গীদের সাথে যুদ্ধে ব্যস্ত থাকতেন। তাই তিনি তাঁর জামাই নওয়াজিশ মহম্মদ খানকে রাজ্য পরিচালনার ভার দেন। তখন তিনি বাংলার তৎকালীন রাজধানী ঢাকায় থাকতেন। মুর্শিদাবাদে এসে রাজকার্য পরিচালনার জন্য তাঁর প্রাসাদের প্রয়োজন হয়।
নবাব মহম্মদ নওয়াজেশ আলি খান ১৭৫০ সালে মতিঝিল প্রাসাদ এবং মাদ্রাসা নির্মাণ করেন। মাদ্রাসা ও তাঁর প্রাসাদের মাঝখানে তিনি মতিঝিল জামা মসজিদ নির্মাণ করেন।
পরে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ মসজিদ সংস্কার ও সংরক্ষণের জন্য ২০০৯ সালের ৬ জুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে। শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন জটিলতা কাটিয়ে ২০১২ সালের ৫ এপ্রিল অধিগ্রহণ করে মসজিদ সংস্কার ও সংরক্ষণের সিদ্ধান্তের নোটিস ঝুলিয়ে দেয় তারা। সেই সময়ে মতিঝিল মসজিদ-সহ ওই চত্বরে থাকা সমস্ত স্মারক অধিগ্রহণ করা হলেও অধিগ্রহণের আওতার বাইরে রাখা হয় মসজিদের পূর্ব দিক লাগোয়া জমি নিয়ে গড়ে ওঠা ঝিল।
জামে মসজিদে তিনটি গম্বুজ এবং তিনটি খিলানযুক্ত সম্মুখভাগ রয়েছে। মসজিদটি আয়তাকার এবং তিনটি গোলার্ধ গম্বুজ দ্বারা আবৃত। চার কোণে ঈষৎ কন্দাকার শীর্ষ বদ্ধ-ছত্রী দ্বারা আবদ্ধ অষ্টভুজাকার মিনারগুলি স্থাপন করা হয়েছে।
বর্তমানে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া মতিঝিল জামা মসজিদের দেখাশোনা করে।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান