সববাংলায়

মুর্শিদাবাদ শহরে কী দেখবেন | মুর্শিদাবাদের দর্শনীয় স্থান

বিভাগঃ ,

মুর্শিদাবাদ জেলায় ভাগীরথী নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত মুর্শিদাবাদ শহর ইতিহাসে ভরা। শুধু শহর নয়, সমগ্র মুর্শিদাবাদ জেলার প্রতিটি কোনায় রয়েছে ইতিহাস। বিখ্যাত হাজারদুয়ারি এবং তার চারপাশে গড়ে ওঠা নবাবী প্রাসাদ, মসজিদ, তৎকালীন বাঙলার উচ্চবিত্ত ও প্রভাবশালীদের বাসভবন, বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্মৃতিসৌধ ও স্তম্ভ —সব মিলিয়ে মুর্শিদাবাদের দর্শনীয় স্থান অনেক। মুর্শিদাবাদ শহরের যেসব স্থান না ঘুরলে মুর্শিদাবাদ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ হয় না, তার একটি তালিকা আপনাদের জন্য আমরা বানিয়েছি। মুর্শিদাবাদ শহরে কী দেখবেন, এখানে সেই নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে। যদি সমগ্র মুর্শিদাবাদ ভ্রমণ নিয়ে জানতে চান, তাহলে দেখুন এখানে

মুর্শিদাবাদের দর্শনীয় স্থানগুলো দেখতে আপনি টোটো ভাড়া করতে পারেন। নিজের গাড়ি নিয়েও ঘুরতে যেতে পারেন তবে বেশ কিছু জায়গায় রাস্তা সরু হওয়ার কারণে গাড়ি নিয়ে যেতে অসুবিধা হয়। একদিনে টোটো ভাড়া পড়বে আনুমানিক ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা।

কাঠগোলা বাগান

মুর্শিদাবাদের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে কাঠগোলা বাগান উল্লেখযোগ্য। বাগানের ভিতরে মূল ফটকের চারধারে বাগান প্রতিষ্ঠাতাদের বংশের চারটি বিশালাকার ঘোড়ায় চড়া মূর্তি রয়েছে। কাঠগোলার বাগানের প্রতিষ্ঠাতা লচ্ছমীপত সিং দুগড় ছিলেন গোলাপপ্রেমী মানুষ। বিভিন্ন দুষ্প্রাপ্য প্রজাতির গোলাপের কাটা ডাল, কলম করে এই বাগান সাজিয়েছিলেন। কাটা গোলাপের বাগান বা কাঠ গোলাপের বাগান থেকে কালক্রমে বাগানের নাম হয় কাঠগোলা বাগান।

কাঠগোলার বাগান
কাঠগোলা বাগান। ছবি সববাংলায়

এখানে দেখবার মধ্যে রয়েছে কাঠগোলা প্রাসাদ ও প্রাসাদের ভেতরে সাজানো দুগড়দের ব্যবহৃত পুরনো জিনিসপত্র, নহবতখানা গেট, জৈন মন্দির, বাদ্য মঞ্চ, মার্বেল মূর্তি, মাছেদের পুকুর, বাউরি ও গোপন সুড়ঙ্গ, মাছের সমাধি, চিড়িয়াখানা এবং অতীব সুন্দর বাগান। দুগড়দের ব্যবহৃত পুরনো জিনিসপত্রের মধ্যে রয়েছে পরিবারের ব্যবহৃত খাট, আয়না, ডাইনিং টেবিল, পরিবারের মানুষজনের তৈলচিত্র, বিলিয়ার্ড বোর্ড ইত্যাদি। জৈন মন্দিরটি সম্পূর্ণ মার্বেলের তৈরি। মন্দিরের ভিতরে প্রথম জৈন তীর্থঙ্কর শ্রীশ্রী আদিনাথজী দেবের মূর্তি রয়েছে। এছাড়া রয়েছে অন্যান্য জৈন দেবদেবীদের মূর্তি। পাথরে খোদাই করা বুদ্ধগয়া, পরেশনাথ পাহাড়, ফল্গু নদী, পাল্কী, যানবাহনের নকশা খুব সুন্দর। মন্দিরের ভেতর ঝোলানো কয়েকটি ঝাড়বাতি আছে। মন্দিরের সামনে একটি ঝিল রয়েছে যেখানে বোটিং করা যায়।

কাঠগোলা বাগান বছরের প্রতিদিন সকাল ছটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত খোলা থাকে। টিকিটমূল্য মাথাপিছু ৩০ টাকা। এই টিকিটে প্রাসাদের দোতলা ব্যতীত বাগানের সব জায়গা ঘোরা যায়। প্রাসাদের দোতলায় যেতে চাইলে অতিরিক্ত টিকিটমূল্য মাথাপিছু ২০ টাকা। প্রাসাদ ও মন্দিরের ভিতরে ছবি তোলা নিষেধ। যদি গাইড নিতে চান, তাহলে গাইডের খরচ ১০০ টাকা নির্দিষ্ট করা আছে।

জগৎশেঠের বাড়ি

মুর্শিদাবাদের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে জগৎশেঠের বাড়ি উল্লেখযোগ্য। জগৎ শেঠ কোনও একজন ব্যক্তির নাম নয়, এটা পারিবারিক উপাধি। তাদের পারিবারিক ব্যবসা ছিল মহাজনি। নবাব সিরাজের সঙ্গে তৎকালীন জগৎ শেঠের মালিকের ঝামেলা শুরু হলে তিনি পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজদের অর্থসাহায্য করেছিলেন।

জগৎশেঠের বাড়ি
জগৎশেঠের বাড়ি। ছবি সববাংলায়

এখানে ছিল শেঠদের কাছারি বাড়ি, বাসস্থান, বাগান ও মন্দির। গোলাপচাঁদ শেঠ বর্তমান মন্দিরটি তৈরি করান। ভাগীরথীর পশ্চিমপাড়ে ছিল টাকশাল। কালের স্রোতে সেসব ধ্বংস হয়েছে। বর্তমানে জগৎ শেঠের বাসস্থানটি সংগ্রহশালা হিসাবে সকলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এই সংগ্রহশালায় রয়েছে জগৎ শেঠ পরিবারের ব্যবহৃত আসবাবপত্র, খাট, আলমারি, ফুলদানি, চেয়ার, টেবিল, তৈলচিত্র, সোনা ও রূপার মুদ্রা, সৈনিকের পোষাক, সোনা ও রূপার জরি দিয়ে নির্মিত বেনারসী শাড়ী, তালপাতার পাণ্ডুলিপি ইত্যাদি। বাগানের মধ্যে রয়েছে এক রাজকীয় ফোয়ারা, যেখানে রাত্রে আলোর ব্যবস্থা রয়েছে।

সংগ্রহশালাটি বছরের প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত্রি ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে। টিকিটমূল্য মাথাপিছু ৩০ টাকা। সংগ্রহশালার বাইরে সমগ্র বাড়ির ছবি তোলা যায়, কিন্তু ভিতরে সংগ্রহের ছবি তোলা নিষেধ। যদি গাইড নিতে চান, গাইডের খরচ ৭০ টাকা নির্দিষ্ট করা আছে।

নশিপুর রাজবাড়ি

মুর্শিদাবাদের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে আরেকটি উল্লেখযোগ্য জায়গা হল নশিপুর রাজবাড়ি। হাজারদুয়ারির অনুকরণে তৈরি কুখ্যাত দেবীসিংহের উত্তর পুরুষ কীর্তিচাঁদের বসতবাড়িটি হল নশিপুর রাজবাড়ি।

নশিপুর রাজবাড়ি
নশিপুর রাজবাড়ি। ছবি সববাংলায়

দেবীসিংহ, নবাব মোবারকদৌল্লার সময়ে রাজস্ব বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি অত্যন্ত নৃশংস ছিলেন। কর আদায়ের জন্য স্ত্রী পুরুষ, প্রত্যেকের উপর অমানুষিক অত্যচার করতেন। ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সময়ও অত্যাচার করে প্রচুর কর আদায় করেন।বর্তমানে বসতবাড়িটি সংগ্রহশালা হিসাবে সকলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। রাজবাড়ির ভিতরে দশাবতার ও মহাবীর মূর্তি আছে। পুতুলের সাহয্যে দেখানো বিষ্ণুপুরাণ কাহিনী অবলম্বনে মূর্তি রয়েছে, রয়েছে উল্লেখযোগ্য জাফরির কাজ। এই রাজবাড়ির ঝুলনযাত্রা উৎসব, রথযাত্রা উৎসব আজও বিখ্যাত।

ভেতরে সংগ্রহশালা রয়েছে। রাজবাড়ি তথা সংগ্রহশালাটি বছরের প্রতিদিন খোলা থাকে। টিকিটমূল্য মাথাপিছু ২০ টাকা। এখানে প্রি ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সিনেমার শ্যুটিং হয়। যদি গাইড নিতে চান, তাহলে গাইডের খরচ ৫০ টাকা নির্দিষ্ট করা আছে।

নশিপুর আখড়া

মুর্শিদাবাদের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে একটি হল নশিপুর আখড়া। নশিপুর রাজবাড়ির খুব কাছে দক্ষিণ ভারতীয় রামানুজ সম্প্রদায়ের সাধুদের তৈরি এই আখড়াটি দেখতে পাওয়া যাবে। এখানে ঝুলন ও রথযাত্রার সময়ে মেলা বসে। এই আখড়ায় পিতলের রথ রয়েছে যা রথযাত্রার সময় বের হয়। এছাড়া এখানে সংগ্রহশালা রয়েছে, যার ভেতরে নবাবী আমলের জিনিসপত্র দেখতে পাবেন।

আখড়ায় প্রবেশের টিকিটমূল্য মাথাপিছু ২০ টাকা। সংগ্রহশালার ভিতরে ছবি তোলা নিষেধ। যদি গাইড নিতে চান, তাহলে গাইডের আনুমানিক খরচ ৫০ টাকা।

জাফরাগঞ্জ দেওড়ী

মুর্শিদাবাদের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে একটি হল জাফরাগঞ্জ দেওড়ী। নবাব আলিবর্দী খাঁ তার বৈমাত্রেয় বোন শাহখানমের জন্য এই প্রাসাদটি নির্মাণ করেছিলেন। শাহখানমের সঙ্গে মীরজাফরের বিয়ে হওয়ার পর মীরজাফর কিছুকাল এই প্রাসাদে থেকেছিলেন থাকতেন। এই প্রাসাদের কোন এক ঘরেই সিরাজকে হত্যা করা হয়। এই কারণে একে নিমকহারাম দেওড়ী বলেও অনেকে উল্লেখ করেন।

বর্তমানে ভগ্নদশায় থাকা এই প্রাসাদটি মীরজাফরের বংশধরদের অধীন। প্রাসাদটি বাইরে থেকেই দেখতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে জানা যায়, কয়েক বছর আগে এক ট্যুরিস্ট ভেতরে থাকা মীরজাফরের বংশধরদের গায়ে থুথু ছিটিয়েছিলেন, সেই থেকেই ভেতরে প্রবেশের অনুমতি নেই।

জাফরাগঞ্জ সমাধিক্ষেত্র

মুর্শিদাবাদের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে একটি হল জাফরাগঞ্জ সমাধিক্ষেত্র। এটি আগে ছিল শাহখানমের কিচেন গার্ডেন। বেগম শাহখানমের অত্যন্ত পছন্দের এই বাগানটি পরে সমাধিক্ষেত্রে পরিণত হয়। মীরজাফর এবং তাঁর বংশধরদের প্রায় এগারোশো সমাধি আছে এখানে।

সমাধিক্ষেত্রে প্রবেশের টিকিটমূল্য মাথাপিছু ১০ টাকা। ভিতরে ছবি তোলায় নিষেধ নেই। কোনও সমাধিতে নাম খোদিত করা নেই। তাই এখানে কোনটা কার সমাধি জানতে গাইডের প্রয়োজন হবে। গাইডের আনুমানিক খরচ ৫০ থেকে ১০০ টাকা।

আজিমুন্নেশার সমাধি

মুর্শিদাবাদের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে আজিমুন্নেশার সমাধি উল্লেখযোগ্য। নবাব মুর্শিদকুলি খাঁর কন্যা ছিলেন আজিমুন্নেশা। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর বেগম আজিমুন্নেশা কাটরা মসজিদের মতো একটি মসজিদ নির্মাণ করান। পরে ভূমিকম্পে মসজিদটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেলেও একটা গেট রয়ে যায়, যা এখনও এই সমাধিতে রয়েছে। আজিমুন্নেসা অত্যন্ত স্বাধীনচেতা প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। বাবা মুর্শিদকুলি খাঁর সমাধির মতোই এখানে সিঁড়ির নিচে তাঁর সমাধি রয়েছে।

আজিমুন্নেশার সমাধি
আজিমুন্নেশার সমাধি। ছবি সববাংলায়

জনশ্রুতি অনুসারে, কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর হাকিমের পরামর্শে মানবশিশুর কলিজা খেয়ে তিনি সুস্থ হয়েছিলেন। অসুখ সেরে গেলেও তিনি রোজ শিশুদের কলিজা খেতে চাইতেন। নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ এই ঘটনা জানতে পেরে তাঁকে জীবন্ত কবর দেওয়ার নির্দেশ দেন। অন্য জনশ্রুতি অনুসারে, স্বামীর অনুপস্থিতিতে আজিমুন্নিসা প্রতি রাতে পরপুরুষের সাথে সঙ্গম করতেন। তাঁর স্বামী নবাব সুজাউদ্দৌলা এই ঘটনা জানতে পেরে তাঁকে জীবন্ত কবর দেওয়ার নির্দেশ দেন। এএসআই এর অধীনে থাকা এই সমাধিক্ষেত্রে কোন প্রবেশমূল্য নেই।

নৌসেরী বানুর সমাধি

হাজারদুয়ারির পূর্বদিতে অবস্থিত নবাব মুর্শিদকুলি খাঁর স্ত্রী বেগম নৌসেরী বানুর অবহেলিত সমাধিটি বর্তমানে একটি ধ্বংসস্তুপ। সমাধিস্থলে রয়েছে বড় একটি মসজিদ। মসজিদে ওঠার সিঁড়ির নিচে সমাধিটি রয়েছে।

ত্রিপোলিয়া গেট

মুর্শিদাবাদের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে একটি হল ত্রিপোলিয়া গেট। নৌসেরী বানুর সমাধিক্ষেত্রের কাছেই এই ত্রিপোলিয়া গেটের অবস্থান। নবাব মুর্শিদকুলি খাঁর জামাই নবাব সুজাউদ্দিন সুন্দর চারটি গেট নির্মাণ করান। তিন রাস্তার উপর তিনটে গেট এবং একটি নহবতখানা গেট। এই সম্মিলিত গেটগুলিকে একত্রে ত্রিপোলিয়া গেট বলে। নহবত খানা গেটটি সম্প্রতি সংস্কার করা হলেও বাকি তিনটে গেট জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তাই পর্যটকরা ত্রিপোলিয়া গেট বলতে নহবত খানা গেটটিকেই বোঝেন।

চক মসজিদ

মুর্শিদাবাদের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে একটি হল চক মসজিদ, যা মুর্শিদাবাদের সাতগম্বুজ বিশিষ্ট একমাত্র মসজিদ। মাঝের গম্বুজটি সবচেয়ে বড়। দুইদিকে গম্বুজগুলি ক্রমশই ছোট হয়ে এসেছে। দুই প্রান্তের গম্বুজ দুটি চতুষ্কোণ তাজিয়ার মতন। সাতটি প্রবেশ দ্বারেই কারুকার্য করা খিলান রয়েছে। মসজিদের চূড়া ধাতু নির্মিত। মসজিদে চারটি মিনার রয়েছে। সামনের মিনার দুটি বড় ও পেছনের মিনার দুটি তুলনায় অনেক ছোট।

নবাব মীরজাফরের স্ত্রী, মুন্নিবেগমের নির্দেশে এটি তৈরি হয়েছিল। মসজিদে রয়েছে বিখ্যাত বীণা বাদক ওয়াজিদ আলি খানের সমাধি। ওয়াজিদ আলি খানের স্মৃতিতেই মসজিদটি উৎসর্গিত। তিনি ছিলেন মুন্নিবেগমের বীণার শিক্ষক। ঈদুল ফিতর এবং ইদুজ্জোহার সময় এখানে বিশেষ নামাজের ব্যবস্থা হয়।

হাজারদুয়ারি প্রাসাদ

মুর্শিদাবাদ শহরে কী দেখবেন এই প্রশ্ন করলে প্রথমেই যে উত্তরটি মাথায় আসে তা হল হাজারদুয়ারি প্রাসাদ। লোকে সাধারণত মুর্শিদাবাদ বলতে এই প্রাসাদকেই বোঝে। প্রাসাদের নামকরণের কারণ এর অসংখ্য জানালা দরজা। বেশ কিছু নকল জানলা-দরজাও আছে, যেগুলো ভালো করে পর্যবেক্ষণ না করলে আসলের সাথে পার্থক্য বোঝা যায় না। অনেকের ধারণা, এই প্রাসাদ নবাব সিরাজের তৈরি। এই তথ্য একেবারেই ভুল। সিরাজের সময়ের অনেক পরে নবাব নাজিম হুমায়ুন জা প্রাসাদটি তৈরি করেন। ১৮৩৭ সালে প্রাসাদটির নির্মাণকার্য শেষ হয়। প্রাসাদটির উচ্চতা ৮০ ফুট এবং তৈরি করতে খরচ পড়েছিল ১৬ লক্ষ টাকা।

হাজারদুয়ারি
হাজারদুয়ারি প্রাসাদ। ছবি সববাংলায়

হাজারদুয়ারি প্রাসাদ বর্তমানে একটি জাদুঘর, যেখানে রয়েছে বিভিন্ন ঐতিহাসিক সামগ্রী। রয়েছে অস্ত্রশস্ত্র যেমন, সিরাজ, আলিবর্দী বা অন্যান্য নবাবদের ব্যবহৃত তরবারি, বিভিন্ন ধরণের বন্দুক, ছোরা, বল্লম, পলাশি যুদ্ধে ব্যবহৃত অনেক অস্ত্র। রয়েছে নবাবদের ব্যবহৃত আসবাবপত্র, সিংহাসন, হাতির দাঁতের তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী, চিনাপাথরের বাসনপত্র, দেশ বিদেশের শিল্পীদের তৈরি চিত্র বা ভাস্কর্য, পুরনো পুঁথি এবং আরও নানা ঐতিহাসিক জিনিস। বলা হয় প্রাসাদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জিনিস দোতলায় দরবার কক্ষে ঝোলানো সম্রাজ্ঞী ভিক্টোরিয়ার উপহার দেওয়া ১০১ বাতির সুদৃশ্য ঝাড়লণ্ঠন। দরবার কক্ষটি এমনভাবে তৈরি যে একমাত্র অমাবস্যার রাত্রি ছাড়া সমস্ত সময় আলোকিত থাকে।

হাজারদুয়ারি প্রাসাদ প্রতি শুক্রবার বন্ধ থাকে। ১৫ বছর পর্যন্ত কোন টিকিট লাগে না। জাদুঘরে ঢুকতে ২৫ টাকা টিকিট কাটতে হয়। এএসআই এর সাইটে অনলাইনে টিকিট কাটলে মূল্য ২০ টাকা। প্রাসাদের ভিতর ফোনের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ।

নিজামত ইমামবাড়া

মুর্শিদাবাদের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা হল নিজামত ইমামবাড়া, যেটি হাজারদুয়ারি প্রাসাদের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত। এটি বাংলার বৃহত্তম ইমামবাড়া। সিরাজদৌল্লার আমলে নির্মিত কাঠের ইমামবাড়াটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর নবাব ফেরাদুন জা বর্তমান ইমামবাড়াটি তৈরি করান। ১৮৪৭ সালে এটি তৈরি করতে খরচ হয় ৬ লক্ষেরও কিছু বেশী টাকা।

জনসাধারণের জন্য সারা বছর ইমামবাড়া বন্ধ থাকলেও মহরম এর সময় ১০ দিন সকলের প্রবেশ অবাধ।

সিরাজের মদিনা

হাজারদুয়ারি প্রাসাদচত্বরে, প্রাসাদ ও বর্তমান ইমামবাড়ার ঠিক মাঝখানে অবস্থিত সিরাজের মদিনা, মুর্শিদাবাদের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে একটি। আগে এখানেই ছিল সিরাজদৌল্লা দ্বারা নির্মিত কাঠের ইমামবাড়া।

নিজামত ইমামবাড়া ও সিরাজের মদিনা
সিরাজের মদিনা (বাঁয়ে) ও নিজামত ইমামবাড়া (পিছনে)। ছবি সববাংলায়

প্রচলিত জনশ্রুতি অনুসারে, পবিত্র মক্কা-মদিনার মাটি এনে প্রথমে নৌসেরী বানু বেগমের সমাধিতে রাখা হয়। পরে সেই মাটি সিরাজ মদিনার ভিত্তি স্থাপনের সময় এখানেও দেন। ‘রিয়াজ-উস-সালাতিন’ বইয়ে এই মদিনার স্থাপত্য সম্পর্কে ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। মদিনার দরজাটি ছিল মূল্যবান রত্নখোচিত। মীরকাশিম যখন মুঙ্গেরে তাঁর রাজধানী পরিবর্তন করেন, তখন রত্নগুলি দরজা থেকে তুলে নিয়ে যান।

বাচ্চোওয়ালী তোপ

মুর্শিদাবাদ শহরে কী দেখবেন এই তালিকায় অবশ্যই জায়গা করে নেবে বাচ্চোওয়ালী তোপ। হাজারদুয়ারি প্রাসাদ ও ইমামবাড়ার মাঝখানে সিরাজের মদিনার পাশে অবস্থিত কামানটি ১৮ ফুট লম্বা, ওজন ১৬৮৮০ পাউন্ড। কামানটিতে তিনটে চেম্বার আছে। ঢাকা থেকে জলপথে মুর্শিদাবাদে কামানটি আনবার সময় নৌকাডুবি ঘটে। পরে নবাব হুমায়ুন জা-এর সময়ে গঙ্গাগর্ভ থেকে এটিকে উদ্ধার করা হয়। প্রচলিত জনশ্রুতি অনুসারে, কামানটি একবারই চলেছিল এবং তখন কামানের প্রচণ্ড আওয়াজে অনেক মহিলার গর্ভপাত ঘটে। এইজন্য এর নাম ‘বাচ্চোওয়ালী তোপ’। এই দুর্ঘটনার জন্য কামানটি দ্বিতীয়বার চালানো হয়নি।

২০২২ সালের অক্টোবর মাস অবধি হাজারদুয়ারি চত্বরে প্রবেশের কোনও টিকিট ছিল না। তাই সিরাজের মদিনা বা বাচ্চোওয়ালী তোপ বিনা টিকিটেই দেখা যেত। বর্তমানে হাজারদুয়ারির টিকিট কেটে চত্বরে ঢুকলে তবেই সিরাজের মদিনা বা বাচ্চোওয়ালী তোপ দেখতে পাবেন।

ওয়াশেফ মঞ্জিল

মুর্শিদাবাদের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে একটি হল ওয়াশেফ মঞ্জিল। ‘হাজারদুয়ারি’ ও ‘দক্ষিণ দরজা’র মাঝখানে অবস্থিত এই প্রাসাদটি, নবাব ওয়াসেফ আলি মীর্জা বিয়ের আগে নির্মাণ করান। প্রাসাদে রয়েছে কৃত্রিম ঝরণা, ফুলের বাগান, বৃহৎ মহলসরাই। এই মহলসরাই-এর একটি ঘরের নাম ছিল সোনামহল, যার ছাদ, দেওয়াল, দরজা সোনার জলে চিত্রিত ছিল। এখানে রয়েছে নবাবী আমলের আসবাবপত্র, আয়না, মার্বেল মূর্তি ইত্যাদি।

ফৌতি মসজিদ

মুর্শিদাবাদের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে একটি হল ফৌতি মসজিদ। এটি একটি অসম্পূর্ণ মসজিদ, যার নির্মাণ শুরু করেছিলেন নবাব সরফরাজ খাঁ। কিন্তু গিরিয়ায় আলিবর্দীর সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে নবাব মারা যাওয়ার এর নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হয়নি। পরবর্তীকালে কেউই আর মসজিদটি সম্পূর্ণ করতে উদ্যোগী হননি।

এই মজসিদটি মানুষ দ্বারা উপেক্ষিত এবং ধ্বংসস্তুপের রূপ নিচ্ছে। এখানে যেতে হলে টোটোওয়ালার সাথে আগে থেকে কথা বলে নিন।

কাটরা মসজিদ

মুর্শিদাবাদের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে কাটরা মসজিদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নবাব মুর্শিদকুলি খাঁর নির্দেশে তাঁর বিশ্বস্ত অনুচর মোরাদ ফরাস, কাটরা মসজিদ নির্মাণ করেন। মসজিদে ওঠার সিঁড়ির নিচে মুর্শিদকুলি খাঁর সমাধি রয়েছে। তাঁর ইচ্ছা ছিল যাতে মসজিদের প্রবেশ পথে সকলের পদধূলি তাঁর সমাধির উপরে পড়ে।

কাটরা মসজিদ
কাটরা মসজিদ। ছবি সববাংলায়

মসজিদটির উচ্চতা ৭০ ফুট। মসজিদের ভিতরের চত্বর প্রায় কয়েকশো লোক একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারতেন। চত্বরটির চারদিকে ছোট ছোট প্রকোষ্ঠ রয়েছে। এইগুলি দূর থেকে আসা তীর্থযাত্রীদের জন্য বরাদ্দ ছিল। মসজিদটির চারদিকে চারটি সুউচ্চ মিনার ছিল যেগুলি দুর্গের কাজ করত। ভূমিকম্পে দুটি মিনার সম্পূর্ণভাবে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। বর্তমান প্রবেশ পথটি আসলে মসজিদের পশ্চাদদিক।

এএসআই এর অধীনে থাকা এই মজসিদে কোন প্রবেশমূল্য নেই। ২৪ জুন, ঈদুল ফিতর এবং ইদুজ্জোহা এই তিনদিন মসজিদ বন্ধ থাকে। যদি গাইড নিতে চান, তাহলে গাইডের আনুমানিক খরচ ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা।

জাহানকোষা কামান

মুর্শিদাবাদ শহরে কী দেখবেন এই তালিকায় অবশ্যই জায়গা করে নেবে জাহানকোষা কামান। কাটরা মসজিদ থেকে দেড় কিলোমিটার দক্ষিণে ছিল মুর্শিদকুলি খাঁর গোলাবারুদ রাখার স্থান, যার নাম তোপখানা। তোপখানার কোন চিহ্ন না থাকলেও শুধু এই কামানটি রয়েছে।

জাহানকোষা কামান
জাহানকোষা কামান। ছবি সববাংলায়

জাহানকোষা মানে জগজ্জয়ী। কামানটি দৈর্ঘ্যে ১৮ ফুট এবং পরিধি ৪ ফুট। কামানটির গায়ে রয়েছে নয়টি পিতলের ফলকখণ্ড। এছাড়া ফারসি ভাষায় কামানের ইতিহাস খোদাই করা আছে।

সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে বাংলার সুবাদার ইসলাম খাঁর আমলে, দারোগা শের মহম্মদের অধীনে, হরবল্লভ দাসের তত্ত্বাবধানে, বাঙালি কারিগর জনার্জন কর্মকার কামানটি ঢাকায় নির্মাণ করেন। কামানটি এমন ভাবে তৈরি যে প্রচণ্ড তাপেও এটি ঠাণ্ডা থাকে।

কদমশরিফ

কাটরা মসজিদ থেকে দেড় কিলোমিটার দক্ষিণে রাস্তার পাশেই অবস্থিত কদমশরিফ মুর্শিদাবাদের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে একটি। ১৭৭১ সালে মীরজাফরের নাজির (খোজাদের সর্দার) এতোয়ার আলি খাঁ মসজিদ ও ইমামবাড়া সহ এই কদমশরিফ নির্মাণ করেন। কদমশরিফের প্রথম মোতওয়ালি নিযুক্ত হন এতোয়ার আলি খাঁয়ের ভাই খোজা বসন্ত আলি খাঁ। নহবত খানা গেটের নীচ দিয়ে প্রবেশের রাস্তা। প্রাচীর দিয়ে ঘেরা বিরাট প্রাঙ্গণ। এখানেই রয়েছে এতোয়ার আলি খাঁ, বসন্ত আলি খাঁ ও অন্যান্যদের সমাধি। মসজিদ, কদমরসুল এবং ইমামবাড়া প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। এখানেই রয়েছে হজরত মহম্মদের পায়ের ছাপ। বসন্ত আলি খাঁ সেই আমলে হুসেন শাহর এক আত্মীয়ের থেকে বহুমূল্যে কেনেন। পরে অবশ্য সেটি গৌড়ের কদমরসুলে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে যে পদচিহ্নটি রয়েছে সেটি আগেরটির প্রতিকৃতি। প্রচারের ও সংস্কারের অভাবে জায়গাটি অনেকের কাছেই অজানা।

সরফরাজ খাঁর সমাধি

মুর্শিদাবাদের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে একটি হল সরফরাজ খাঁর সমাধি। বাংলার নবাব সুজাউদ্দিনের পুত্র সরফরাজ খাঁ ১৭৩৯ সালে নবাব হন। ১৭৪০ সালে আলিবর্দি খাঁর সঙ্গে গিরিয়ার যুদ্ধে তাঁর মৃত্যু হয়। নেকটাখালিতে তাকে সমাধিস্থ করা হয়। সমাধিটি জীর্ণ অবস্থায় মুর্শিদাবাদ রেলস্টেশনের উত্তর দিকে রয়েছে।

রাধামাধব মন্দির

মুর্শিদাবাদের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে একটি হল রাধামাধব মন্দির। হাজারদুয়ারি থেকে প্রায় ৫ কিমি দক্ষিণে কুমোড়পাড়ায় এই রাধামাধবের মন্দির। ১৬০৯ সালে শ্রীজীব গোস্বামীর শিষ্য হরিপ্রিয়া ঠাকুরাণীর সেবাধিকারী বংশীবদন গোস্বামী বৃন্দাবন থেকে কষ্টিপাথরের নির্মিত রাধামাধবের মূর্তি এনে কুমোড়পাড়ার মাধবীকুঞ্জে প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে চুনাখালির জমিদার বর্তমান দালান মন্দিরটি নির্মাণ করে দেন। মন্দিরের উত্তরে রয়েছে দোতলাঘর। স্নানযাত্রার দিন রাধামাধবকে এই ঘরে এনে বিকালে স্নান করানো হয়। স্নানযাত্রা উপলক্ষে এখানে মেলা বসে।

রাধামাধব মন্দিরের পশ্চিমপ্রান্তে রয়েছে নবাব সিরাজদৌল্লার মাসি ঘসেটি বেগমের মোতিঝিল। প্রচলিত জনশ্রুতি অনুসারে, ঘসেটি বেগমের স্বামী নওয়াজেস মহম্মদ, সকাল সন্ধ্যে রাধামাধব মন্দিরের কীর্তনে বিরক্ত হয়ে মন্দিরে মাংসভর্তি থালা পাঠান। মন্দিরের পুরোহিত নবাবের পাঠানো পূজার অর্ঘ্য ঢাকা অবস্থায় পূজা করে নবাবকে প্রসাদ হিসাবে সেই থালা পাঠিয়ে দেন। নবারের লোকজন সেই থালা নবাবকে দিলে নবাব ঢাকা খুলে দেখেন থালা ভর্তি পদ্মফুল। তখন নবাব অনুতপ্ত হয়ে রাধামাধব মন্দিরকে নিষ্কর জমি দান করেন ।

মোতিঝিল

মুর্শিদাবাদের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে মোতিঝিল নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য একটি জায়গা। নবাব আলিবর্দী খাঁর বড় মেয়ে ঘসেটি বেগমের স্বামী নওয়াজেস মহম্মদ খান মোতিঝিল প্রাসাদ নির্মাণ করেন। ভাগীরথীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে অশ্বখুরাকৃতি হ্রদের সৃষ্টি হয়। এই হ্রদ বা ঝিলটিই প্রাসাদকে ঘিরে রেখেছিল। এই ঝিলে একসময়ে মুক্ত চাষ হত বলে এটি মোতিঝিল নামে পরিচিত।

মোতিঝিল
মোতিঝিল মসজিদ। ছবি সববাংলায়

নবাব আলিবর্দী খাঁ যুদ্ধে ব্যস্ত থাকার সময় রাজধানী মুর্শিদাবাদের দায়িত্ব নওয়াজিসকে দিয়েছিলেন। নওয়াজেস প্রাসাদ রক্ষার জন্য পশ্চিম দিকে একটি তোরণদ্বার নির্মাণ করান। তাছাড়া ঝিলের সামনে রয়েছে এক মসজিদ মসজিদ তৈরি করান।এর নাম মোতিঝিল মসজিদ বা কালা মসজিদ। এখানেই রয়েছে নওয়াজিস মহম্মদের দত্তক পুত্র একরামউদৌল্লার সমাধি। এক বছরের মধ্যে তিনিও মারা যান। মসজিদের সামনে সমাধি রয়েছে দুজনের। বর্তমানে প্রাসাদ ধ্বংস হয়ে গেছে। রয়ে গেছে শুধু প্রাচীন মসজিদ।

বর্তমানে মোতিঝিলকে কেন্দ্র করে ইকো পার্ক গড়ে উঠেছে। শীতকালে এই ঝিলে পরিযায়ী পাখিদের ভিড় দেখবার মত। পার্কে প্রবেশ মূল্য মাথাপিছু ৩০ টাকা। বিভিন্ন রাইডের জন্য আলাদা টিকিট। মসজিদের ইতিহাস জানতে যদি গাইড নিতে চান, তাহলে গাইডের খরচ আনুমানিক ২০ থেকে ৩০ টাকা।


সর্বশেষ সম্পাদনার সময়কাল – ২০২৫


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

তথ্যসূত্র


  1. নিজস্ব প্রতিনিধি
  2. “নবাবী অন্দরমহল”, লেখিকা – কল্পনা ভৌমিক
  3. “মুর্শিদাবাদ ভ্রমণগাইড”, লেখিকা – কাকলি মজুমদার
  4. https://murshidabad.gov.in
  5. https://en.wikipedia.org/

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading