প্রাচীন ভারতীয় দর্শনের গভীরতা, ব্যাপ্তি এবং প্রভাব ভারত ছাড়িয়ে বিদেশের পন্ডিতদেরও ভাবিত করে তুলেছে। সেই কোন পুরাতন সময়ের স্থিতপ্রজ্ঞ ঋষিরা জ্ঞানভান্ডারকে তাঁদের অমূল্য দর্শন দ্বারা সমৃদ্ধ করে গিয়েছেন। প্রাচীন যুগের তেমনই এক দার্শনিক ব্যক্তি ছিলেন পতঞ্জলি (Patanjali)। তবে ঐতিহাসিকেরা একাধিক পতঞ্জলি এবং তাঁদের ভিন্ন ভিন্ন কাজের অস্তিত্বের কথা বলে থাকেন। কেউ আবার সেই সমস্ত কাজের কৃতিত্ব একজনমাত্র পতঞ্জলির ওপরেই আরোপ করেন। প্রাচীন ভারতীয় যোগদর্শনের কথা বললেই প্রসঙ্গত চলে আসে পতঞ্জলির নাম। আবার পাণিনির সংস্কৃত গ্রন্থের ভাষ্যকার বা আয়ুর্বেদ চিকিৎসা সংক্রান্ত গ্রন্থের লেখক হিসেবেও পতঞ্জলির নাম উঠে আসে। পতঞ্জলি কিংবদন্তিও প্রচলিত আছে, এমনকি তাঁকে আদিশেশনাগের অবতারও মনে করা হয়।
একজন মাত্র পতঞ্জলির অস্তিত্ব নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে নানারকম সংশয় ও মতভেদ রয়েছে। এই দ্বন্দ্বের প্রধান কারণ বিভিন্ন সময়ে প্রাপ্ত পতঞ্জলির নামে প্রচলিত বিভিন্ন গ্রন্থ। পতঞ্জলিকৃত কাজের ওপর ভিত্তি করে মনে করা হয় যে, খ্রীস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দী থেকে খ্রীস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীর মধ্যে পতঞ্জলির অস্তিত্ব থাকতে পারে। পতঞ্জলি নামক ব্যক্তি বা ব্যাক্তিদের নিয়ে যে বিতর্ক, তাতে যাওয়ার আগে পতঞ্জলি নামের উৎপত্তি নিয়ে যে কিংবদন্তি রয়েছে সেদিকে তাকানো যাক। স্যার মনিয়ের মনিয়ের-উইলিয়ামসের মতে, পতঞ্জলি নামটি একটি যৌগিক শব্দ অর্থাৎ দুটি আলাদা শব্দের সংমিশ্রণে এটির উদ্ভব হয়েছে। সেই দুটি শব্দ হল পট্ট বা সংস্কৃতে পত, যার অর্থ পতন এবং অঞ্জ বা অঞ্জলি। কিংবদন্তি অনুসারে, পতঞ্জলি আসলে একজন মহিলার হাতে (অঞ্জলি) পড়েছিলেন (পত বা পতন), সেই কারণে তাঁর নাম হয়েছিল পতঞ্জলি। কিংবদন্তি অনুসারে পতঞ্জলিকে অঙ্গিরাসের পুত্র বলা হয়ে থাকে। এই অঙ্গিরাস হলেন সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার দশজন পুত্রের একজন। ডেভিড গর্ডন হোয়াইট তাঁর পতঞ্জলির জীবনীতে লিখেছেন, ‘মহাভাষ্য’তে পতঞ্জলি গণিকা নামক এক মহিলার সন্তান হিসেবে নিজেকে উল্লেখ করেছেন।
পতঞ্জলির জন্মবৃত্তান্ত নিয়ে যে কিংবদন্তি প্রচলিত আছে তার সঙ্গে আদি শেশনাগের যোগাযোগ রয়েছে। কথিত আছে, যে, শেশনাগের ওপর বসে ভগবান বিষ্ণু ভগবান শিবের নৃত্য দেখছিলেন। সেসময় হঠাৎ বিষ্ণুর ওজন এতই বৃদ্ধি পায় যে শেশনাগের পক্ষে বিষ্ণুকে বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। আদি শেশনাগ বিষ্ণুকে তার কারণ জিজ্ঞেস করলে বিষ্ণু উত্তর দেন যে, যোগ অনুশীলনের কারণে শিবের শক্তির সঙ্গে তাঁর সমন্বয়ের কারণেই এমনটা ঘটেছে। তখন যোগের মূল্য এবং উপকারিতা অনুভব করতে পেরে শেশনাগ বিষ্ণুর কাছে বলেন যে তিনিও শিবের মতো এই অমূল্য নৃত্য শিখতে চান। বিষ্ণু তাঁকে বলেন যে একদিন শিব শেশনাগের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে আশীর্বাদ করবেন যাতে এই অমূল্য যোগজ্ঞান একদিন আদিশেশ সমগ্র মানবের মধ্যে বিতরণ করতে পারবেন। মর্ত্যে কার গর্ভে জন্মাবেন তা নিয়ে শেশনাগ চিন্তিত হয়েছিলেন। সেইসময় গণিকা নামের একজন যোগের প্রতি আত্মনিমগ্ন নারীর সন্তান আকাঙ্ক্ষা দেখে বুঝতে পারেন যে তিনি সঠিক মানুষ পেয়ে গেছেন। এক সকালে গণিকা যখন হাতের অঞ্জলিতে জল নিয়ে সূর্যদেবকে অর্ঘ্য নিবেদন করতে উদ্যত হয়েছিলেন তখন হাতের দিকে তাকিয়ে গণিকা একটি ছোট সাপকে নড়াচড়া করতে দেখেন। ক্রমে সেই সাপটি মানুষের রূপ ধারণ করে। সেই কারণেই কখনও কখনও পতঞ্জলিকে অর্ধেক সাপ এবং অর্ধেক মানুষ হিসেবে চিত্রিত করা হয়।
কিংবদন্তি অনুসারে, জন্মের পর থেকেই পতঞ্জলি অলৌকিকভাবে এক ঋষিসুলভ বুদ্ধির অধিকারী হয়েছিলেন। কথিত আছে, একবার কয়েকজন মানুষ পতঞ্জলির ধর্মীয় তপস্যার মাঝে তাঁকে বিরক্ত করেছিল। তিনি তখন তাঁর মুখ ও কথার আগুনে তাদের ভস্ম করে দিয়েছিলেন। একদিন তিনি সুমেরু পর্বতের উত্তর ঢালে একটি গাছে লোলুপা নামক একটি মেয়েকে আবিষ্কার করেছিলেন। সেই মেয়েটিকেই পতঞ্জলি বিবাহ করেছিলেন বলে মনে করা হয়।
এবারে যে একাধিক পতঞ্জলির কথা আগে বলা হল, সে-সম্পর্কে আলোচনায় আসা যাক।
প্রথমত, পন্ডিত পাণিনির বিখ্যাত সংস্কৃত ব্যাকরণ এবং ভাষাবিজ্ঞানের যে কাজ ‘অষ্টাধ্যয়ী’, সেই গ্রন্থের ওপর ভাষ্য রচনা করেছিলেন পতঞ্জলি, যা মূলত মহাভাষ্য নামে পরিচিত। পাণিনির এই সংস্কৃত ব্যাকরণের সূত্রানুযায়ী দেখলে খ্রীস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে পতঞ্জলির অস্তিত্ব ছিল বলে মনে করা যেতে পারে। গণেশ শ্রীপাদ হুপারিকারের মতে, প্রাচীন ব্যাকরণের ভাষ্যকারদের অগ্রদূত হলেন পতঞ্জলি।
পতঞ্জলির নামে আরেকটি যে বিখ্যাত গ্রন্থের প্রচলন আছে সেটি হল যোগ সম্পর্কিত ১৯৬টি ভারতীয় সূত্রের সংকলন যেটি ‘যোগসূত্র’ নামে পরিচিত। এই দুই গ্রন্থের রচয়িতা আলাদা ব্যক্তি কিনা তা নিয়ে পন্ডিতদের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়ে গেছে।
এরপর যে তৃতীয় কাজটির সঙ্গে পতঞ্জলি নামটি জড়িত হয়ে আছে সেটি মূলত একটি চিকিৎসা সংক্রান্ত গ্রন্থ, যার নাম ‘পতঞ্জলতন্ত্র’। মধ্যযুগীয় স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞান সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি সংস্কৃত গ্রন্থে এই বইটির উল্লেখ করা হয়েছে এবং ‘যোগরত্নাকর’-এর মতো কয়েকটি গ্রন্থে পতঞ্জলিকে চিকিৎসাবিদ্যার একজন প্রধানতম ও দক্ষ ব্যক্তি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অষ্টম শতাব্দীতে পতঞ্জলি নামের আরেকজনের অস্তিত্বের কথা জানা যায়, যিনি ‘কারকবর্তিকা’ নামে চরক-সংহিতার একটি ভাষ্য রচনা করেছিলেন। তবে আধুনিক যুগের কিছু ভারতীয় পন্ডিত, যেমন, পি ভি শর্মার মতে, চিকিৎসাবিদ্যার সঙ্গে জড়িত দুজন পতঞ্জলি আসলে একজন ব্যক্তিই হতে পারেন কিন্তু তিনি অবশ্যই মহাভাষ্যের রচয়িতা পতঞ্জলির থেকে আলাদা ব্যক্তি।
আবার একজন মহান নৃত্যশিল্পী হিসেবে পতঞ্জলির নাম পাওয়া যায়। ভারতীয় নর্তকীরা তাঁকে তাঁদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পূজা করতেন।
পতঞ্জলি নিয়ে প্রধান দ্বন্দ্ব এখানেই। এই চারজন পতঞ্জলি আসলে এক ব্যক্তি কিনা তা নিয়ে বিতর্ক তো রয়েছেই, তবে এই চারজন পতঞ্জলি এবং তাঁদের কাজকর্মকে একত্রিত করে হিসেবে করলে প্রায় দুহাজার বছরের একটি কালপর্ব পাওয়া যায়।
অনেকে মহাভাষ্যের রচয়িতা এবং যোগসূত্রের সংকলক পতঞ্জলিকে একই ব্যক্তি বলে মনে করে থাকেন। প্রথমেই বলতে হয় ভোজরাজার কথা। তিনি একাদশ শতাব্দীতে রচনা করেছিলেন ‘রাজমার্তন্ড’ নামক গ্রন্থ, যেটি আসলে পতঞ্জলির যোগসূত্রের ভাষ্য৷ সেই গ্রন্থের ভূমিকায় তিনি ঋষিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ পতঞ্জলিকে প্রণাম জানিয়ে লিখেছেন যে, পতঞ্জলি যোগের মাধ্যমে মনের অশুচিতা, ব্যাকরণের মাধ্যমে বক্তৃতার অশুদ্ধতা এবং ঔষধের মাধ্যমে শরীরের অপবিত্রতা দূর করেছেন। ভোজরাজার এই উক্তি থেকে স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে যে, তিনি মহাভাষ্যকার, যোগসূত্রের সংকলক এবং চিকিৎসাবিদ্যার সঙ্গে যুক্ত পতঞ্জলিকে আদতে একজন ব্যক্তি বলেই উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও আরও কেউ কেউ, যোগসূত্র এবং মহাভাষ্যের সময়কাল যে প্রায় কাছাকাছি, তা উল্লেখ করে ওই দুই গ্রন্থের পতঞ্জলিকে একই ব্যক্তি বলে প্রমাণ করবার চেষ্টা করেছেন। আবার অষ্টাদশ শতাব্দীর দুই ভাষ্যকার রামবদ্র দীক্ষিত (পতঞ্জলিচরিতের লেখক) এবং শিবরাম মহাভাষ্য এবং যোগসূত্রের পতঞ্জলিকে একজন ব্যক্তি হিসেবেই উল্লেখ করেছেন। ১৯২২ সালে সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্তও উক্ত দুই গ্রন্থের সঙ্গে সম্পৃক্ত পতঞ্জলিকে অভিন্ন বলে দাবি করেছিলেন। পাশ্চাত্যের পন্ডিত ফিলিপ মাসও এমনই কথা বলেছিলেন।
অন্যদিকে লুই রেনো, ডেভিড গর্ডন হোয়াইটের মতো কিছু পন্ডিত ব্যক্তি মহাভাষ্যকার পতঞ্জলি এবং যোগসূত্রের সংকলক পতঞ্জলিকে আলাদা ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ডেভিড গর্ডন তাঁর লেখা পতঞ্জলির জীবনীতে ভোজরাজের লেখা ভূমিকার মন্তব্যটির ত্রুটিগুলিকে তুলে ধরে পতঞ্জলির ভিন্নতা প্রমাণ করতে চেয়েছেন।
এছাড়াও মহাভাষ্য এবং যোগসূত্রের মধ্যে দার্শনিক দ্বন্দ্বগুলিও লক্ষ করবার মতো। তাছাড়া যোগশাস্ত্রের বই থেকে ব্যাকরণ গ্রন্থ, বিষয়ানুযায়ী এমনই আলাদা, যে এই দুটি বই একই ব্যক্তির লেখা বলে মেনে নিতে সমস্যা হয়। এডউইন ব্রায়ান্ট আবার মন্তব্য করেছেন যে, অধিকাংশ পন্ডিত এবং গবেষক যোগসূত্রকে খ্রিস্টীয় চতুর্থ বা পঞ্চম শতাব্দীর শেষদিককার গ্রন্থ বলে উল্লেখ করেছেন। অবশ্য এই মতামত নিয়েও অনেকে আপত্তি জানিয়েছেন। কেউ আবার যোগসূত্রের কয়েকটি সূত্রকে খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতাব্দীতে সংকলিত বলে মনে করেন। আবার চরক সংহিতার যে ভাষ্য ‘কারকবর্তিকা’, তার রচনাকাল অষ্টম শতাব্দী বা তার নিকটবর্তী কোনো এক সময়, অতএব সময়কালের নিরিখে দেখতে গেলে যোগসূত্র, মহাভাষ্য এবং কারকবর্তিকার রচয়িতা পতঞ্জলি অবশ্যই ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি। তবে খুব জোরালোভাবে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া মুশকিল, কারণ পর্যাপ্ত ও যথাযথ প্রমাণের যথেষ্ট অভাব রয়েছে।
দশম শতাব্দীর তামিল শৈব কিংবদন্তি অনুসারে, পতঞ্জলি অন্যান্য সাতজন শিষ্যের সঙ্গে মহান যোগগুরু নন্দী দেবের কাছে যোগ শিখেছিলেন। তিরুমুলারের তিরুমন্দিরামে এমন কথাই বলা হয়েছে। মনে করা হয় রামেশ্বরম শিব মন্দিরে তাঁর সমাধি রয়েছে এবং মন্দিরে তাঁর জন্য এখনও একটি উপাসনালয় বর্তমান।
পতঞ্জলির নামে প্রচলিত কাজগুলির দিকে তাকানো যাক এবার।
প্রথমেই বলতে হবে পাণিনির ব্যাকরণের ভাষ্যটির কথা যা ‘মহাভাষ্য’ নামে পরিচিত। পতঞ্জলির লেখা ছিল অত্যন্ত বিশদ, বিশেষত প্রক্রিয়া বা উৎপন্ন রূপবিদ্যা এবং পাণিনির নিয়মের সুনির্দিষ্ট ক্রম, কার্য এবং ব্যাখ্যা সম্পর্কে খুবই বিস্তারিত আলোচনা করেছিলেন তিনি। মহাভাষ্য সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়মগুলিকে পুনঃসংজ্ঞায়িত করেছে এবং এর শব্দভাণ্ডারকে প্রসারিত করেছে। সংস্কৃত ভাষাকে আরও সুনির্দিষ্ট, সূক্ষ্ম, কার্যকর এবং শৈল্পিক করে তুলেছে মহাভাষ্য। এমনকি কাত্যায়নের বর্তিকাগুলি নিয়েও পতঞ্জলি আলোচনা করেছিলেন।
পরবর্তী যে-বইটির সঙ্গে পতঞ্জলির নাম জড়িত তা হল যোগসূত্র। এটি মূলত ১৯৬টি ভারতীয় যোগ সম্পর্কিত সূত্রের সংকলন। এই যোগসূত্রের কারণেই পতঞ্জলিকে যোগের জনক বলা হয়ে থাকে। এটি মধ্যযুগে সবচেয়ে বেশি অনূদিত হওয়া প্রাচীন ভারতীয় পাঠ্য ছিল। প্রায় চল্লিশটি ভারতীয় ভাষায় এবং প্রাচীন জাভানিজ ও আরবি—এই দুটি অ-ভারতীয় ভাষায় গ্রন্থটির অনুবাদ হয়েছিল। দ্বাদশ থেকে উনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত এই পাঠ্যটি একপ্রকার অস্পষ্টতার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। উনিশ শতকের শেষদিকে স্বামী বিবেকানন্দ এবং অন্য কয়েকজনের প্রচেষ্টার কারণে এই গ্রন্থটির প্রত্যাবর্তন ঘটে বলা চলে। যোগসূত্র নিয়ে আবার বিতর্কও রয়েছে। এই সূত্রটি আসলে পতঞ্জলির লেখা নাকি সংকলন করা, বিতর্ক তা নিয়ে। আবার যদি সংকলন হয় তবে তিনি কি একাই এই সমস্ত সংকলন করেছিলেন তা নিয়েও প্রশ্নচিহ্ন থেকে যায়। এই যোগসূত্রকে পন্ডিতরা হিন্দুধর্মের শাস্ত্রীয় যোগদর্শনের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন। পতঞ্জলি কিন্তু সাংখ্য এবং যোগের প্রাক্-বিদ্যমান প্রবণতাগুলি থেকে প্রচুর পরিমাণে উপাদান গ্রহণ করেছিলেন। তবে এমন অনেক ধারণাও তিনি তুলে ধরেছিলেন যা সাংখ্য এবং যোগের মূলধারার অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তিনি উদাহরণস্বরূপ অহংকে স্বীকৃতি দেন কিন্তু তাকে পৃথক নীতি হিসেবে গ্রহণ করেন না। তিনি সূক্ষ্ম দেহকে চিনতে পারলেও তাকে চিরস্থায়ী মনে করেন না। যোগসূত্রগুলি প্রাথমিকভাবে একটি শুষ্ক এবং তাত্ত্বিক পাঠ্য বলে মনে হয়, এটি মানুষের প্রকৃতি এবং মনোবিজ্ঞান ব্যাখ্যা করে এবং আধ্যাত্মিক উন্নতিতেও সহায়তা করে থাকে।
পতঞ্জলি একটি চিকিৎসাবিদ্যার গ্রন্থ ‘পতঞ্জলতন্ত্র’ রচনা করেছিলেন বলেও জানা যায়। এই লেখাটি অনেক যোগ এবং স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত ভারতীয় গ্রন্থে উদ্ধৃত করা হয়েছে। যোগরত্নাকর , যোগরত্নসমুচ্চয় , চক্রদত্ত ভাষ্যের মতো বেশ কয়েকটি সংস্কৃত গ্রন্থে পতঞ্জলিকে একজন দক্ষ চিকিৎসাবিদ বলা হয়েছে। পতঞ্জলতন্ত্রের কিছু উদ্ধৃতি অনন্য এবং মূল্যবান হলেও বাকি অনেকগুলি উদ্ধৃতি চরক সংহিতা এবং সুশ্রুত সংহিতার মতো প্রধান হিন্দু চিকিৎসা গ্রন্থগুলিতেও পাওয়া যায়।
অষ্টম শতাব্দীর আরেকজন পতঞ্জলির কথা জানা যায় যিনি চরক সংহিতার একটি ভাষ্য লিখেছিলেন, যার নাম কারকবর্তিকা। তবে পতঞ্জলতন্ত্র এবং কারকবর্তিকার রচয়িতা একই ব্যক্তি হতেও পারে।
ঋষি পতঞ্জলি ভারতের তামিলনাড়ুর তিরুপত্তুরে অবস্থিত ব্রহ্মপুরেশ্বর মন্দিরে যোগিক ধ্যানের মাধ্যমে সমাধি লাভ করেছিলেন বলে জানা যায়।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান