সববাংলায়

রামোজি রাও

বিভাগঃ , ,

রামোজি রাও (Ramoji Rao) একজন প্রখ্যাত ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং মিডিয়া উদ্যোক্তা। তিনি রামোজি গ্রুপের প্রধান। এই কোম্পানিটি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ চলচ্চিত্র প্রযোজনা স্টুডিও রামোজি ফিল্ম সিটি (Ramoji Film City) তৈরি করেছে। এছাড়াও এর অধীনে ঊষাকিরণ মুভিস (Ushakiran Movies) এবং ইটিভি নেটওয়ার্ক (ETV Network) নামক দুটি প্রযোজনা সংস্থা রয়েছে। তেলেগু চলচ্চিত্র জগতে তাঁকে একজন কিংবদন্তি হিসেবে গণ্য করা হয়।

১৯৩৬ সালে ১৬ নভেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের কৃষ্ণা জেলার পেডাপারুপুডি গ্রামে একটি চাষী পরিবারে রামোজি রাওয়ের জন্ম হয়। তাঁর সম্পূর্ণ নাম হল  চেরুকুরী রামোজি রাও। তাঁর বাবার নাম হল শ্রী চেরুকুরি ভেঙ্কটা সুবাম্মা এবং তাঁর মায়ের নাম হল চেরুকুরি ভেঙ্কটা সুভাইয়া।  তাঁর দুই বোনের নাম রঙ্গনায়কাম্মা  এবং  রাজ্যলক্ষ্মী।

তিনি ছোটবেলা থেকেই নতুন কিছু সৃষ্টিশীল কাজ করাতে উৎসাহী ছিলেন। চাষীদের সুষ্ঠু জীবন কিভাবে দেওয়া যায় সেই দিকেও তাঁর নজর ছিল। তিনি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেছেন।

রামোজি রাও তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন ভাইজ্যাগ শহর থেকে। তিনি পরবর্তীকালে রামোজি গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। এই গ্রুপের অধীনে অনেকগুলি সংস্থা রয়েছে যার মধ্যে অন্যতম মারগাদার্সি চিটফান্ড (Margadarsi Chit Fund), এনাডু সংবাদপত্র,  ইটিভি, রমাদেবী পাবলিক স্কুল (Ramadevi Public School), প্রিয়া ফুডস (Priya Foods), ঊষাকিরণ মুভিজ এবং হায়দ্রাবাদে রামোজি ফিল্ম সিটি। তিনি অন্ধ্রপ্রদেশের ডলফিন গ্রুপ অফ হোটেলের চেয়ারম্যান। তাঁর সংস্থার কর্মচারীরা তাঁকে চেয়ারম্যান গারু নামে ডাকে এবং তেলেগু ভাষী মানুষেরা তাঁকে তেলেগু বিড্ডা নামে সম্বোধন করে থাকে।

জীবনে এত সাফল্য পাওয়ার পরও তিনি সাধারণ জীবনযাপন এ অভ্যস্ত। তাঁর সব থেকে বড় অবদান হল রামোজি ফিল্ম সিটি তৈরি করা। এটি পৃথিবীর বৃহত্তম চলচ্চিত্র স্টুডিও। ১৯৯৬ সালে তিনি এই ফিল্ম সিটি তৈরি করেন। এটি প্রায় ২০০০ একর জমির উপর তৈরি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এবং দেশের বাইরে থেকেও প্রচুর মানুষ এই ফিল্ম সিটিটি দেখতে আসে। এই ফিল্ম সিটি পৃথিবীর  বৃহত্তম সমন্বিত স্টুডিও যার নাম গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডেও আছে। রামোজি রাও হলিউডের মতন এখানেও বড় ফিল্ম স্টুডিও   তৈরি করতে চেয়েছেন। তিনি প্রখ্যাত শিল্প নির্দেশক নীতিশ রায়কে নিয়োগ করেছিলেন এই স্টুডিওটি পরিকল্পনা করার জন্য। তাঁরই মস্তিষ্কপ্রসূত এই স্টুডিও। এছাড়াও তিনি ‘অন্নদাতা’ নামক একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন।

রামোজি রাও ১৯৯৫ সালে ইটিভি প্রতিষ্ঠা করেন। ইটিভি চ্যানেলের অধীনেই আরো ১২টি টিভি চ্যানেল আছে। বিভিন্ন ভাষায় এই চ্যানেলগুলি দর্শককে এখনো  মনোরঞ্জন করে চলেছে। বিভিন্ন ধরনের ধারাবাহিক, খবর ও নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এই চ্যানেলগুলিতে সম্প্রচারিত হয়।

রামোজি রাও সারা জীবনের কৃতিত্বের জন্য বহু সম্মানে সম্মানিত হয়েছে। ২০১৬ সালে তিনি ভারত সরকার দ্বারা প্রদত্ত পদ্মবিভূষণ সম্মানে সম্মানিত হয়েছেন। রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের হাত থেকে তিনি এই সম্মানটি গ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি প্রযোজক হিসেবে নভে কাভালী (Nuvve Kavali) সিনেমার জন্য ২০০০ সালে জাতীয় পুরস্কার পান। ১৯৮৫ সালে তিনি তেলেগু ছবি প্রতিঘাতানার (Pratighatana) জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পান। এছাড়াও তিনি ১৯৮৫  সালে তাঁর তেলেগু ছবির প্রতি অবদানের জন্য ফিল্মফেয়ারের বিশেষ সম্মানে সম্মানিত হন। ২০০৪ সালে ফিল্মফেয়ার জীবনকৃতি সম্মানে সম্মানিত হন। তাঁর বিবাহ হয় রমাদেবীর সঙ্গে। তাঁদের দুই ছেলে, নাম সুমন প্রভাকর এবং কিরণ প্রভাকর।

২০২৪ সালের ৮ জুন রামোজি রাও-এর মৃত্যু হয়। জীবনে বিভিন্ন ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে গিয়ে রামোজি রাও একজন কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছেন। তেলেগু ছবিতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁকে আগামী প্রজন্ম একজন স্বনামধন্য প্রযোজক হিসেবে মনে রাখবে।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading