সববাংলায়

সঙ্কট মঙ্গলবার ব্রত

বলা হয় সঙ্কট মঙ্গলবার ব্রত পালন করলে মা মঙ্গলচন্ডী সবসময় ব্রতী কে রক্ষা করে থাকে। আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের মঙ্গলবার কিংবা অগ্রহায়ণ মাসের শুক্লপক্ষের মঙ্গলবার এই ব্রত পালন করা হয়। এই ব্রত শুধু মাত্র সধবা মহিলারা পালন করে থাকে। জেনে নেওয়া যাক এই ব্রতের পেছনে প্রচলিত কাহিনী।

২০২৫ সালের সঙ্কট মঙ্গলবার ব্রত কবে?

  • বাংলা তারিখ: ১৪৩২ সালের ১৬ আষাঢ়, ২৩ আষাঢ়, ৮ অগ্রহায়ণ , ১৫ অগ্রহায়ণ ,এবং ২৯ অগ্রহায়ণ
  • ইংরাজি তারিখ: ২০২৫ সালের ১ জুলাই, ৮ জুলাই, ২৫ নভেম্বর , ২ ডিসেম্বর এবং ১৬ ডিসেম্বর

পুরাকালে এক ধনী সদাগর ছিলেন,তার বাড়িতে মা,তার বিবাহিতা বউ আর অনেক দাস দাসী ছিলো। বাণিজ্য করার জন্য সে সাত ডিঙি সাজিয়ে শুভ দিন দেখে রওনা হল। কিন্তু সাত বছর কেটে গেল, সদাগর আর ফেরে না। এই দিকে তার মা, বউ সবাই কেঁদে কেটে অস্থির। বাড়ির লোক কত মানত করে, মন্দিরে পুজো দেয় কিন্তু সদাগর আর ফেরে না। এই ভাবে দেখতে দেখতে বারো বছর কেটে যায়। এক দিন দুপুরে এক বুড়ি ভিক্ষা নিতে এসে সদাগরের মায়ের কাছে সব শুনে তাকে সঙ্কট মঙ্গলবার ব্রত করার কথা বলে। বুড়ি বলে এই ব্রত শুধু সধবারা করতে পারে আর দুইজন সধবা মিলে এই ব্রত করতে হয়। তাই শুনে সদাগরের মা তার মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি থেকে ডেকে পাঠায়, তারপর ননদ ভাজ দুইজনে মিলে আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের মঙ্গলবারে মা মঙ্গলচন্ডীর পুজো করল। বুড়ি আগে থেকেই বলে দিয়েছিল পুজোর নিয়মমতো খাবার সময় কথা বলতে নেই, আর খাবার শেষে দুইজন দুইজনকে বলবে এবার সঙ্কট থেকে উঠি, দুজনই হ্যাঁ বলবে তারপর নিজ নিজ এঁটো কুড়িয়ে পুকুরে ভাসিয়ে দেবে।

ভিডিওতে সঙ্কট মঙ্গলবার ব্রত

ব্রত করে বউ তার সঙ্কটের কথা ভাবতে ভাবতে খাচ্ছিল এমন সময় এক দাসী এসে খবর দিল ঘাটে ডিঙি এসে ভিড়েছে আর দাদাবাবু নেমে আসছে। এই শুনেই বউ খাবার ফেলে দৌড় দিল। তখন দাসী বউ এর এঁটো পাতের খাবার শেষ করে এঁটো কুড়িয়ে পুকুরে ভাসিয়ে দিয়ে হাত মুখ ধুয়ে এল। ওই দিকে ঘাটে সবাই মিলে শাঁখ বাজিয়ে সদাগরকে ঘরে নিয়ে এল। কিন্তু সদাগর বাড়িতে এসে তার বউকে চিনতে  না পেরে যে দাসী বউএর পাতের এঁটো খেয়ে ছিল তাকেই সোনা, মুক্তা, নানা গহনা যা যা এনেছিল তা পরিয়ে ঘরে নিয়ে গেল। তা দেখে বউ, মা, মেয়ে সবাই অবাক হয়ে গেল। বউ তো মনের দুঃখে খাওয়া ছেড়ে সারা দিন ধরে কাঁদতে থাকে আর মা মঙ্গলচন্ডীকে স্মরণ করে।

একদিন সে স্বপ্ন দেখে মা মঙ্গলচন্ডী তাকে বলল, “ব্রতের নিয়ম পালন না করে তুমি উঠে গেলে কেন? দাসী তো তোমার শেষ পাতের এঁটো খেল, তাই তার বরাত খুলল। তুমি এক কাজ কর, কাল তো অগ্রহায়ণ মাসের শুক্লপক্ষের মঙ্গলবার। আবার নতুন করে সব নিয়ম মতো সঙ্কট মঙ্গলবার ব্রত পালন করো।”
আবার ননদ ভাজ দুজনে মিলে এই ব্রত  করে, এইবার আর ভুল হয় না। কিছুদিন পরে সদাগরের সব মনে পড়ে যায়। সে তার ভুল বুঝতে পারে,আর বউএর চোখের জল মুছিয়ে তাকে স্বীকার করে নেয়। মা মঙ্গলচন্ডীকে স্বরণ করে সদাগর তার মা, বোন, বউ এর কাছে ক্ষমা চেয়ে নেয়। দেখতে দেখতে মাস কেটে যায়, ননদ ভাজ দুজনেই গর্ভবতী হয়। তারা তাদের হারানো সমস্ত কিছু ফিরে পায়।  এইভাবে চারিদিকে সঙ্কট মঙ্গলবার ব্রতের কথা প্রচার পেতে থাকে।

আজকের দিনে

নাটাই চন্ডী ব্রত ভাদ্র মাসের লক্ষ্মীপূজা ব্রত | পেঁচা পেঁচী ব্রত

সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

তথ্যসূত্র


  1. মেয়েদের ব্রতকথা- লেখকঃ আশুতোষ মজুমদার, প্রকাশকঃ অরুণ মজুমদার, দেব সাহিত্য কুটির, পৃষ্ঠা ৬৭
  2. মেয়েদের ব্রতকথা- লেখকঃ গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য সম্পাদিত ও রমা দেবী কর্তৃক সংশোধিত, প্রকাশকঃ নির্মল কুমার সাহা, দেব সাহিত্য কুটির, পৃষ্ঠা ৭৯

 
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading