খেলা

সেরেনা উইলিয়ামস

সেরেনা উইলিয়ামস

সেরেনা উইলিয়ামস (Serena Williams) একজন বিখ্যাত আমেরিকান পেশাদার মহিলা টেনিস খেলোয়াড়। মোট ২৩টি গ্র্যাণ্ড স্ল্যাম একক শিরোপা জিতেছেন তিনি। ২০০২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে তাঁর খেলা একক ম্যাচগুলি ওমেন্স টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের বিচারে ১ নং স্থান অধিকার করে আছে। প্রায় ১৮৬ সপ্তাহ ধরে তাঁর এই রেকর্ডটি অক্ষত ছিল যা স্টেফি গ্রাফের রেকর্ডের সমতুল ছিল। পরে স্টেফি গ্রাফ এবং মার্টিনা নাভ্রাতিলোভাকে পিছনে ফেলে ১ নং স্থানটি প্রায় ৩১৯ সপ্তাহ ধরে ধরে রেখেছিলেন সেরেনা উইলিয়ামস। সিঙ্গেলস, ডাবলস এবং মিক্সড ডাবলসে তাঁর রেকর্ড এখনও অপ্রতিরোধ্য। ২০০৯-১০ সালে একইসঙ্গে চারটি গ্র্যাণ্ড স্ল্যাম শিরোপা জেতেন সেরেনা। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে সর্বোচ্চ একক জেতার শিরোপা পেয়েছেন সেরেনা। তাছাড়া ক্রিস এভার্টের সঙ্গে তিনিও ইউএস ওপেনে একক জেতার শিরোপা পেয়েছেন। ওমেন্স টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের চ্যাম্পিয়নশিপে মোট পাঁচবারের বিজয়ী টেনিস খেলোয়াড় ছিলেন সেরেনা উইলিয়ামস। বোন ভেনাসের সঙ্গে তিনি ডাবলসে ১৪টি গ্র্যাণ্ড স্ল্যাম শিরোপা জিতেছেন। অলিম্পিকে চারটি স্বর্ণপদকজয়ী টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে মহিলাদের মধ্যে বিখ্যাত হয়েছেন তিনি। সিঙ্গেলস ও ডাবলস দুই ক্ষেত্রেই স্বর্ণপদক জয় করেছেন তিনি। একজন পেশাদার টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে মোট ২৯ কোটি ডলার পুরস্কারমূল্য অর্জন করেছেন সেরেনা। ২০১৬ সালে তিনিই ছিলেন সর্বোচ্চ বেতনভুক টেনিস খেলোয়াড়। মোট চারবার তিনি ‘লরিয়াস স্পোর্টস-ওম্যান অফ দ্য ইয়ার’ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি এবং ২০১৫ সালে ‘স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড’ পত্রিকার বিচারে তিনিই বছরের সেরা ক্রীড়াবিদের সম্মান পান। ২০২১ সালে ‘ফোর্বস’-এর বিচারে সেরেনা উইলিয়ামস বিশ্বের সর্বাধিক অর্থ প্রাপক খেলোয়াড়ের তালিকায় ২৮তম স্থানে আছেন।

১৯৮১ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মিশিগানের সাগিনাওতে সেরেনা উইলিয়ামসের জন্ম হয়। তাঁর বাবার নাম রিচার্ড উইলিয়ামস এবং মায়ের নাম ওরাসিন প্রাইস। তাঁদের কন্যাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন সেরেনা। তাঁর দিদি-বোনের নাম যথাক্রমে ইয়েতুণ্ডে, লিণ্ড্রিয়া, ইশা প্রাইস এবং ভেনাস। ছোটোবেলাতেই ক্যালিফোর্ণিয়ার কম্পটনে স্থানান্তরিত হয় তাঁদের পরিবার। সেখানে মাত্র চার বছর বয়সেই টেনিস খেলতে শুরু করেন তিনি। বাড়িতেই তাঁর বাবার কাছে পড়াশোনা শিখেছেন সেরেনা এবং তাঁর বোন ভেনাস। তাছাড়া কম্পটনে আরো অনেক প্রশিক্ষকের কাছে টেনিস খেলা শিখেছিলেন সেরেনা উইলিয়ামস। নয় বছর বয়সে কম্পটন থেকে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে চলে আসে তাঁর পরিবার। সেখানে রিক ম্যাকির টেনিস অ্যাকাডেমিতে যোগ দেন সেরেনা উইলিয়ামস। সেরেনার দশ বছর বয়সে রিচার্ড তাঁর অ্যাকাডেমির মেয়েদের জাতীয় টেনিস টুর্নামেন্টে পাঠানোর বদলে স্কুলের কাজে মনোনিবেশ করতে উৎসাহ দেন। ইউনাইটেড স্টেটস জুনিয়র টেনিস অ্যাসোসিয়েশনে তাঁর রেকর্ড ছিল ৪৬-৩ এবং ফ্লোরিডায় অনুর্ধ্ব ১০ খেলোয়াড়দের মধ্যে ১ নং স্থানে ছিলেন তিনি। ১৯৯৫ সালে নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন রিচার্ড ম্যাকির অ্যাকাডেমি থেকে সেরেনার বাবা সেরেনা ও তাঁর বোনকে ছাড়িয়ে দেন এবং বাড়িতেই প্রশিক্ষণ দিতে থাকেন।


এই ধরণের তথ্য লিখে আয় করতে চাইলে…

আপনার নিজের একটি তথ্যমূলক লেখা আপনার নাম ও যোগাযোগ নম্বরসহ আমাদের ইমেল করুন contact@sobbanglay.com


 

সেরেনার বাবা-মা চেয়েছিলেন যে তাঁদের মেয়ে পেশাদার টেনিস টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার জন্য ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করুক। ১৯৯৫ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সেরেনা ক্যালিফোর্ণিয়ার অকল্যাণ্ডের ব্যাঙ্ক অফ দ্য ওয়েস্ট ক্লাসিক-এ ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি হিসেবে পেশাদারি জগতে খেলা শুরু করেন। ১৯৯৫ সালে অক্টোবর মাসে কুইবেকের বেল চ্যালেঞ্জে  প্রথম পেশাদ্রি টেনিস খেলায় অবতীর্ণ হন তিনি। ১৮ বছর বয়সী আমেরিকান টেনিস খেলোয়াড় অ্যানি মিলারের কাছে হেরে গিয়েছিলেন সেরেনা উইলিয়ামস। ১৯৯৬ সালে কোনো টুর্নামেন্ট খেলেননি তিনি। ঐ বছরই তিনটি টুর্নামেন্টের নির্বাচনী রাউণ্ডে হেরে গিয়েছিলেন সেরেনা। এরপরে আর্মিটেক কাপ শিকাগোতে প্রথমবার একটি খেলায় ড্র ম্যাচ হয়। সেরা দশ খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলে জেতার শিরোপা পান সেরেনা। ১৯৯৭ সালে ৯৯ র‍্যাঙ্কে খেলা শেষ করেন তিনি। ১৯৯৮ সালে তিনি মেডিব্যাঙ্ক ইন্টারন্যাশনাল সিডনিতে খেলা শুরু করেন। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে গ্র্যাণ্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্টে প্রথম খেলেন সেরেনা। ঐ বছর আরো ছয়টি ম্যাচের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছালেও সেই ম্যাচগুলিতে জিততে পারেননি তিনি। ১৯৯৮ সালে উইম্বলডন ও ইউএস ওপেনে মিক্সড ডাবলস জিতে নেন সেরেনা উইলিয়ামস। ওকলাহামা সিটিতে ডাবলসে ভেনাসের সঙ্গে ম্যাচে প্রথম পেশাদার শিরোপা জেতেন তিনি। ১৯৯৯ সালে বোনের সঙ্গে যৌথভাবে ফ্রেঞ্চ ও ইউএস ওপেনে জয়লাভ করেন সেরেনা উইলিয়ামস। মার্টিনা হিঙ্গিসকে পরাজিত করে ইউএস ওপেন গ্র্যাণ্ড স্ল্যাম একক টুর্নামেন্টের ফাইনালে জয়ী হন তিনি। দ্বিতীয় আফ্রো-আমেরিকান মহিলা হিসেবে এই জয়ের রেকর্ড করেন তিনি। ২০০০ সালে সেরেনা ও তাঁর বোনেরা প্রথম উইম্বলডন শিরোপা জেতেন এবং সিডনি অলিম্পিকে ডাবলসে প্রথম স্বর্ণপদক জয় করেন। এর পরের বছরেই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ডাবলসে শিরোপা জেতেন সেরেনা। কিন্তু ইউএস ওপেনে তাঁর বোন ভেনাসের কাছে পরাজিত হন তিনি। ২০০২ সালে ফ্রেঞ্চ, উইম্বলডন এবং ইউএস ওপেন জিতেছিলেন তিনি। এর পরের বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেও জেতেন সেরেনা এবং এর মধ্য দিয়ে সমস্ত গ্র্যাণ্ড স্ল্যাম জিতে নেনে তিনি। এরই মধ্যে প্রবল আঘাত পাওয়ায় বেশ কিছু বছর তাঁর খেলা বন্ধ থাকে। বিশ্বের সেরা দশ খেলোয়াড়ের স্থান থেকে সরে আসেন তিনি। এই সব প্রতিবন্ধকতাকে দূরে ঠেলে ২০০৭ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে মারিয়া শারাপোভার বিরুদ্ধে খেলে অষ্টম গ্র্যাণ্ড স্ল্যাম জেতেন সেরেনা উইলিয়ামস। ২০০৮ সালের ইউএস ওপেনে জেলেনা জানকোভিচকে পরাজিত করে নতুন রেকর্ড করেন সেরেনা। বোনের বিরুদ্ধে উইম্বলডন টুর্নামেন্টে রানার আপ হন তিনি এবং ঐ বছরই উইম্বলডন ডাবলস জয় করে শিরোপা অর্জন করেন। বছরের শেষের দিকে ২য় স্থান অর্জন করেন সেরেনা এবং চারটি সিঙ্গেলস জয়ের খেতাব অর্জন করেন সেরেনা। ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে দিনারা সাফিনাকে পরাজিত করেন এবং মোট পাঁচটি গ্র্যাণ্ড স্ল্যাম খেতাব জেতেন তিনি। ২০১১ সালে তাঁর ফুসফুসে রক্ত জমাট বাধার কারণে খেলা থেকে এক বছর বিরতি নিতে হয় তাঁকে। ২০১২ সালের অলিম্পিকে একক স্বর্ণপদক জেতেন সেরেনা উইলিয়ামস। বোনের সঙ্গে জুটি বেঁধে সেরেনা উইম্বলডন ডাবলসেও জেতেন। ২০১৩ সালে ফ্রেঞ্চ ওপেন ও ইউএস ওপেনে জয়লাভ করে মারিয়া শারাপোভা ও ভিক্টোরিয়া আজারাঙ্কাকে হারিয়ে একক টুর্নামেন্ট জিতে নেন তিনি। সবচেয়ে বেশি বয়সী ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়নশিপ জেতেন তিনি। ২০১৫ সালে মারিয়া শারাপোভাকে হারিয়ে ষষ্ঠ অস্ট্রেলিয়ান ওপেন সিঙ্গেলস জেতেন সেরেনা। দ্বিতীয়বার সেরেনা স্ল্যাম জেতেন তিনি। ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে অ্যাঞ্জেলিক কারবারের কাছে হেরে যান তিনি। ইউএস ওপেনে সেমি ফাইনালে ক্যারোলিনা প্লিস্কোভারের কাছে পরাজিত হয়ে তাঁর বিশ্বের মধ্যে ১ নং স্থানটি হারিয়ে যায়। স্টেফি গ্রাফের মতো ২২টি গ্র্যাণ্ড স্ল্যাম জয়ের রেকর্ড অর্জন করেন সেরেনা উইলিয়ামস। ২৩তম গ্র্যাণ্ড স্ল্যাম অর্জনের সময় সেরেনা আট সপ্তাহের গর্ভবতী ছিলেন। গর্ভাবস্থার কারণে তিনি টেনিস খেলা থেকে বিরতি নিয়েছিলেন। ২০১৮ সালে ফ্রেঞ্চ ওপেনের মাধ্যমে পুনরায় টেনিসের জগতে ফিরে আসেন তিনি। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে উইম্বলডন চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেন তিনি। ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে সেরেনা তৃতীয় রাউণ্ডে ওঠেন এবং ঐ বছরই ইউ এস ওপেনে সেমিফাইনালে উঠলেও ফাইনালে তিনটি সেটে ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কারের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। ২০২১ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে সিমোনা হালেপ ও অ্যারিনা সাবালেঙ্কাকে পরাজিত করেন সেরেনা।

টেনিস খেলা ছাড়াও চলচ্চিত্র, টেলিভিশন এবং ফ্যাশন ব্র্যাণ্ড হিসেবে কাজ করেছেন সেরেনা উইলিয়ামস। কয়েকটি টেলিভিশন শোতেও অংশগ্রহণ করেছেন তিনি। ২০০৪ সালে তিনি নিজস্ব পোশাকের ব্র্যাণ্ড ‘অ্যানিরেস’ চালু করেন তিনি। ২০০৫ সালে হিলারি বিয়ার্ডের সঙ্গে সেরেনা লেখেন তাঁর প্রথম বই ‘ভেনাস অ্যাণ্ড সেরেনা : সার্ভিং ফ্রম দ্য হিপ – টেন রুলস অফ লিভিং, লাভিং অ্যাণ্ড উইনিং’। ২০০৯ সালে ‘অন দ্য লাইন’ শিরোনামে তাঁর একক আত্মজীবনী প্রকাশ পায়।   

ওমেন্স টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের চ্যাম্পিয়নশিপে মোট পাঁচবারের বিজয়ী টেনিস খেলোয়াড় ছিলেন সেরেনা উইলিয়ামস । বোন ভেনাসের সঙ্গে তিনি ডাবলসে ১৪টি গ্র্যাণ্ড স্ল্যাম শিরোপা জিতেছেন। অলিম্পিকে চারটি স্বর্ণপদকজয়ী টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে মহিলাদের মধ্যে বিখ্যাত হয়েছেন তিনি। সিঙ্গেলস ও ডাবলস দুই ক্ষেত্রেই স্বর্ণপদক জয় করেছেন তিনি। একজন পেশাদার টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে মোট ২৯ কোটি ডলার পুরস্কারমূল্য অর্জন করেছেন সেরেনা। ২০১৬ সালে তিনিই ছিলেন সর্বোচ্চ বেতনভুক টেনিস খেলোয়াড়। মোট চারবার তিনি ‘লরিয়াস স্পোর্টস-ওম্যান অফ দ্য ইয়ার’ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি এবং ২০১৫ সালে ‘স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড’ পত্রিকার বিচারে তিনিই বছরের সেরা ক্রীড়াবিদের সম্মান পান। ২০২১ সালে ‘ফোর্বস’-এর বিচারে সেরেনা উইলিয়ামস বিশ্বের সর্বাধিক অর্থ প্রাপক খেলোয়াড়ের তালিকায় ২৮তম স্থানে আছেন।  

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

-
এই পোস্টটি ভাল লেগে থাকলে আমাদের
ফেসবুক পেজ লাইক করে সঙ্গে থাকুন

বিধান রায় ছিলেন আদ্যোপান্ত এক রসিক মানুষ। তাঁর রসিকতার অদ্ভুত কাহিনী



বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন