বিজ্ঞান

সাপে কামড়ালে কী করা উচিত

বর্ষাকালে ভারতীয় উপমহাদেশের গ্রামাঞ্চলে সাপের প্রকোপ বাড়ে। তবে শহরেও তার উপস্থিতি বিরল নয়। অনেক সময়েই তারা ভয় পেয়ে গিয়ে মানুষকে ছোবল দেয়। আমরা এখানে জানবো সাপে কামড়ালে কী করা উচিত আর কী নয়। সাপের কামড় এড়িয়ে চলার উপায় আমরা এখানে লিখেছি কিন্তু তারপরেও কখনও কাওকে সাপে কামড়ালে করণীয় কী তা জেনে রাখা উচিত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপদেশ অনুযায়ী সাপে কামড়ানোর পর সবচেয়ে প্রথমেই সেই জায়গা থেকে সরে আসা দরকার। কখনোই সাপটাকে ধরার চেষ্টা করা উচিত নয়, এতে সাপ দ্বিতীয় বার ছোবল মারতে পারে, অর্থাৎ তখন আরো বেশি বিষ শরীরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

কোন প্রজাতির সাপ কামড়েছে সেটা দেখার চেষ্টা করে সময় নষ্ট করাও উচিত নয়, কারণ ভারতীয় উপমহাদেশে সাপের বিষের যে ওষুধ বা অ্যান্টিভেনম (antivenom) পাওয়া যায় সেটি একসাথে অনেকগুলি সাপের বিষে কার্যকরী (polyvalent)।

সাপের কামড়ের জায়গা চিরে রক্ত বের করে বা চুষে কখনোই বিষ বের করা যায় না, তাই চেষ্টা করবেন না।

অনেকে সাপে কামড়ানোর পর খুব শক্ত করে সেই জায়গায় বাঁধন দিয়ে দেয়, তারা মনে করে যে এতে সারা শরীরে সাপের বিষ খুব একটা ছড়িয়ে পড়বে না। কিন্তু এর ফলে সেই জায়গায় সাপের বিষ অত্যাধিক ক্রিয়া করে গ্যাংগ্রিন তৈরি করতে পারে এবং সেই জায়গাকে অস্ত্রোপচার করে কেটে বাদ দেওয়া ছাড়া ডাক্তারদের আর কোন উপায় থাকে না। এছাড়া এভাবে শক্ত করে বেঁধে রাখলেও বিষকে পুরোপুরি সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়া থেকে আটকানো যায় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে রোগীর সাপে কামড়ানোর জায়গার একটু ওপরে মোটা করে কাপড় ব্যান্ডেজের মত বেঁধে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে। সেই কাপড়ের বাঁধন যেন খুব শক্ত বা খুব ঢিলা না হয় সেটাও লক্ষ্য রাখতে হবে। গ্রামাঞ্চলের মাঠেঘাটে যেখানে সাপের কামড়ের সম্ভাবনা বেশি, সেখানে হাতের কাছে ব্যান্ডেজ না পেলে গামছা জাতীয় কাপড়ও একইভাবে বেঁধে নেওয়া যেতে পারে।

আমরা হাঁটাচলা করলে বা কোন কাজ করলে আমাদের শরীরে রক্ত চলাচল বেড়ে যায়। সেই কারণে যাকে সাপে কামড়েছে তাকে যতটা সম্ভব কম নড়াচড়া করতে দেওয়া উচিত, এতে তার শরীরে রক্তের মাধ্যমে বিষ ছড়িয়ে পড়তে অনেকক্ষণ লাগবে এবং চিকিৎসার সুযোগ ও সময় বেশি পাওয়া যাবে।

রোগীকে সবসময় অভয় দিতে হবে যে তার কিছু হবেনা, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গেলেই সে সুস্থ হয়ে উঠবে। নয়তো ভয়ে অনেক সময় রোগীর হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে মৃত্যু ঘটতে পারে। 

মনে রাখা দরকার যে সাপের বিষের বিরুদ্ধে গাছ-গাছড়ার চিকিৎসা, ওঝা, ফকির, গুনীন এদের কার্যকারিতার তেমন কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। যদি নির্বিষ সাপ কামড়ায়, অথবা বিষাক্ত সাপ কামড়ের সময় খুব কম বিষ ঢালে, তবেই ওঝা ফকিররা তাদের বুজরুকি দিয়ে দেখায় যে তারা সাপের বিষ বের করে দিয়েছে। তাই রোগী যদি বিষাক্ত/বিষধর সাপ না চেনে অথবা সাপটাকে দেখতে না পায় তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়াই বাঁচার একমাত্র উপায়। যত দ্রুত রোগীর শরীরে ওষুধ (antivenom) দেওয়া যাবে, তত রোগীর বাঁচার সম্ভাবনা বাড়বে এবং বিষের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও অনেক কম হবে।

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট যে সাপে কামড়ানো রোগীকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু ভারতীয় উপমহাদেশে এমন অনেক প্রত্যন্ত গ্রাম আছে যেখান থেকে সবচেয়ে কাছের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতেও অনেকটা সময় লেগে যায়। তবুও ওঝা গুনীনের ভরসায় না থেকে যে কোন ভাবে হোক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার চেষ্টা করতেই হবে। নেপালে কিছু জায়গায় এরকম প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে কয়েকটি গ্রাম মিলে বাইক-এম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেছে যারা আশেপাশে সাপে কামড়ানোর খবর পেলেই বাইকে করে রোগীকে তাড়াতাড়ি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়।

একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় সাপের বিষের জন্য যত না মানুষ মারা যান তার থেকে বেশি মৃত্যু হয় সাপ সম্পর্কে অজ্ঞনতাজনিত ভীতি থেকে। তাই সাপ সঙ্ক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য জেনে রাখা খুব প্রয়োজন, সাপে কামড়ালে কী করা উচিত যেমনই জেনে রাখা উচিত সেরকমই জেনে রাখা উচিত সাপ সঙ্ক্রান্ত অন্যান্য তথ্য। সেই সকল তথ্য এই লিঙ্কে ক্লিক করে জেনে নিন।

সববাংলায় পড়ে ভালো লাগছে? এখানে ক্লিক করে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ভিডিও চ্যানেলটিওবাঙালি পাঠকের কাছে আপনার বিজ্ঞাপন পৌঁছে দিতে যোগাযোগ করুন – contact@sobbanglay.com এ।


Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

বাংলাভাষায় তথ্যের চর্চা ও তার প্রসারের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন