বিজ্ঞান

হাঁচি হয় কেন

জীবনে কখনও হাঁচি হয়নি এমন মানুষ বোধ হয় নেই। ঠান্ডা লেগে হোক, ধুলো-পরাগ ইত্যাদিতে এলার্জির কারণে হোক আমাদের হাঁচি হয় বিভিন্ন সময়। কিন্তু হাঁচি হয় কেন সে বিষয়ে কি কখনও ভেবে দেখেছেন? এখানে জেনে নেব হাঁচি হয় কেন এবং এর প্রয়োজনীয়তা কি। হাঁচি ক্ষতিকারক সে তো আমরা জানিই, কিন্তু শারীরিক দিক থেকে এর প্রয়োজনীয়তাও আছে।

আমরা সকলেই জানি যে নাক দিয়েই আমরা প্রধানত শ্বাস নিই ও ছাড়ি। প্রশ্বাসের সময় যে বাতাস ভিতরে নিই তাতে ধূলিকণা, পরাগ, ভাসমান কণিকা ইত্যাদি থাকে। এই দূষিত বাতাস যাতে ফুসফুসে পৌঁছাতে না পারে তাই শরীরে গঠনগতভাবে মূলত দুধরনের ব্যবস্থা আছে। প্রথমত, নাকের ভিতরে ছোট ছোট চুল থাকে যা প্রশ্বাস নেওয়ার সময় প্রাথমিক ভাবে বাইরের ধুলিকণা, ভাসমান কণিকা ইত্যাদিকে ছেঁকে নিতে সাহায্য করে। দ্বিতীয়ত, নাকের গঠন ও ভিতরে অবস্থিত শ্লেষ্মা বা মিউকাস। নাকের গঠন অনুযায়ী বাইরের দিকটা চওড়া ও ভিতরের দিক সরু এর ফলে প্রশ্বাসের সময় বায়ু যখন প্রবেশ করে তার মধ্যে আলোড়ন বৃদ্ধি পায়। এই আলোড়নের ফলে নাকের ভিতরের পাতলা আস্তরণ বা মিউকোসার (মিউকাস মেমব্রেন) সঙ্গে বাতাসের সংযোগ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে এই অঞ্চলে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার বিনিময় হয় এবং বাতাসে উপস্থিত ভাসমান কণিকাগুলি চ্যাটচ্যাটে মিউকাসে (শ্লেষ্মা) দ্রবীভূত হয় বা আটকে যায়।

মিউকাসের মধ্যে সাধারণত ইউসিনোফিল (eosinophils), মাস্ট সেল (mast cells) ইত্যাদি থাকে। এই কোষগুলি বাতাসের ক্ষতিকর কণাগুলির সংস্পর্শে এলে হিস্টামিন (histamine) বা লিউকোট্রিয়েন (leukotrienes) জাতীয় রাসায়নিকের ক্ষরণ ঘটায়। সাধারণত ভাইরাল ইনফেকশন, ধোঁয়া, এলার্জি সৃষ্টিকারী কণা যেমন ফুলের পরাগ, ধূলিকণা ইত্যাদি এই রাসায়নিকগুলির ক্ষরণ বৃদ্ধি করে। এই রাসায়নিকগুলি নাকের পাতলা এপিথেলিয়াম আস্তরণে এক ধরণের জ্বালা করা অনুভূতি সৃষ্টি করে যা মস্তিষ্কে ‘ক্ষতিকর কণিকা’ আক্রমণের সিগ্ন্যাল পাঠায়। মস্তিষ্ক তৎক্ষণাৎ প্রতিবর্ত ক্রিয়ায় হাঁচির সৃষ্টি করে ও দ্রুত গতিতে (ঘন্টায় প্রায় ১০০ মাইল বেগে) অনেকটা বাতাস ও মিউকাস বের করে দেয়। এই প্রক্রিয়ায় মিউকাসে আটকে পড়া উপরোক্ত ‘ক্ষতিকর কণিকা’ বের হয়ে যায়।

এছাড়া লক্ষ্য করে দেখা গেছে হাঁচির সময় চোখ বন্ধ হয়ে যায়, এর কারণ হিসেবে বলা হয় যে মিউকাসের মধ্যে থাকা ক্ষতিকর পদার্থ যাতে চোখে না ঢুকতে পারে সেই জন্য চোখ নিজের থেকেই বন্ধ হয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন যে হাঁচি নাকের ভিতরের সিলিয়া কোষগুলির ‘রিবুট’ করার প্রাকৃতিক উপায় অর্থাৎ নাকের আভ্যন্তরীণ পরিবেশের রিবুট করে পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য হাঁচি প্রয়োজনীয়।

তাই হাঁচি হয় কেন জানার পাশাপাশি এটুকু বলে দেওয়ার অপেক্ষা রাখে না যে হাঁচি শারীরিক দিক থেকে খুবই প্রয়োজনীয়।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top
error: Content is protected !!

বাংলাভাষায় তথ্যের চর্চা ও তার প্রসারের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন