বিজ্ঞান

আগুনের রঙ বিভিন্ন হয় কেন

আগুনের শিখার বিভিন্ন রঙ আমরা সকলেই দেখেছি। বাড়িতে রান্নার গ্যাস ওভেনে নীল, প্রদীপের বেলায় হলুদ আবার জ্বলন্ত লাভায় তা লাল। কিন্তু আগুনের রঙ বিভিন্ন হয় কেন? এখানে আমরা জেনে নেবো আগুনের রঙ হলুদ, লাল, কিংবা নীল হওয়ার পিছনে বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা কী আছে।

আগুনের এই বিভিন্ন রঙের মূল কারণ আগুনের তাপমাত্রা অর্থাৎ যে বস্তুটি জ্বলছে তার দহনের সময় উষ্ণতা কত। এছাড়া কি ধরণের বস্তু (আনবিক বৈশিষ্ট্য) এবং কিভাবে দহন করা হচ্ছে (আংশিক না সম্পূর্ণ) – এগুলো আগুনের শিখার রঙ নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। অর্থাৎ জ্বলন্ত বস্তুর রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যও আগুনের রঙকে প্রভাবিত করে।

জ্বলন বা দহন (burning) মূলত রাসায়নিক বিক্রিয়া যেখানে দাহ্য বস্তুটি বায়ুর অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে। সাধারণত পরমাণুর ভিতরে ইলেকট্রনগুলি তাদের সব থেকে কম শক্তি স্তরে (energy state) অবস্থান করে – এবং সব সময় তার সর্বনিম্ন শক্তি মাত্রায় থাকার চেষ্টা করে। দহনের তাপে উত্তপ্ত পরমাণুর ইলেক্ট্রনগুলি শক্তি সংগ্রহ করে উত্তেজিত হয়ে উচ্চ শক্তিস্তরে পৌঁছায়। ইলেক্ট্রনগুলি উচ্চ শক্তিস্তর থেকে নিম্ন শক্তিস্তরে ফিরে আসার সময় শক্তি (quantum of energy) নিঃসরণ করে যা ফোটন হিসেবে বের হয়। তাই দহনের ফলে উৎপন্ন হয় দৃশ্যমান আলো যা আসলে তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ। এই তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের ৪.৪×১০^-৭  থেকে ৭×১০^-৭ মিটার অবধি স্পেকট্রামকে দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ বলা হয় যা আবার বেগুনী, নীল,লাল ইত্যাদি বিভিন্ন বর্ণের সমাহার। সহজে বলতে গেলে তরঙ্গদৈর্ঘ্য ও কম্পাঙ্ক আলাদা হলেই আলোর রঙ বদলায়।

কোন কিছুকে দহন করলে ওই বস্তুর অনু (যদি দহনযোগ্য হয়) অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে তাপ উৎপন্ন করে। যেমন মোমবাতি জ্বালালে বায়ুর অক্সিজেনের সাথে মোম (হাইড্রো-কার্বন যৌগ) বিক্রিয়া করে জলীয় বাষ্প, কার্বন ডাই অক্সাইড, কার্বন মনো অক্সাইড ইত্যাদি তৈরি করে। মোমবাতির শিখার চারপাশের তাপমাত্রা থাকে প্রায় ৭৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস কিন্তু ঠিক শিখার মধ্যে (core) ওই উষ্ণতা প্রায় ১৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভাল করে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে মোমবাতির শিখায় নীলচে আভা ও শিখার বাইরে আগুনের রঙ অনেকটা লালাভ-কমলা অর্থাৎ শিখার ভেতর থেকে বাইরের রঙ বেশ আলাদা। সুতরাং তাপমাত্রা আলাদা হলে আগুনের রঙ পাল্টে যাবে।

মোটামুটি লালাভ আগুনের তাপমাত্রা ৫০০-১০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, কমলা আগুনের তাপমাত্রা ১০০০-১২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, হলুদের বেলায় তা ১২০০-১৪০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস আর ১৪০০-১৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় আগুনের রঙ হয় সাদা। এর থেকেও বেশি তাপমাত্রায় (প্রায় ১৫০০-১৮০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) আবার নীল থেকে ক্রমশ বেগুনি রঙের আগুনের শিখা দেখা যায় । এই কারণেই আমরা বিভিন্ন বস্তু দহনে উৎপন্ন আগুনের বিভিন্ন রঙ দেখতে পাই।

এর পাশাপাশি আগুনের শিখা সবসময় উপরের দিকে ওঠে কেন জানতে এখানে দেখুন

কম খরচে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন – contact@sobbanglay.com এ।


Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

নেতাজি জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে সববাংলায় এর শ্রদ্ধার্ঘ্য



এখানে ক্লিক করে দেখুন ইউটিউব ভিডিও

বাংলাভাষায় তথ্যের চর্চা ও তার প্রসারের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন