সুইমিং পুল বা পুকুরে এক সঙ্গে স্নান করার সময় জলের নিচে কথা বলে দেখেছেন কোনদিন? দেখবেন, জলের তলায় কথা বললে ভাল বোঝা যায় না। যদিও আমরা জানি জলে শব্দের গতিবেগ অনেক বেশি, তাহলে, জলের তলায় কথা বললে ভাল বোঝা যায় না কেন? এখানে আমরা সেই কারণগুলি নিয়ে আলোচনা করব।
প্রথমেই জেনে রাখা ভাল, ঘন মাধ্যমে শব্দের গতি অনেক বেশি। পরিষ্কার জলে শব্দের গতিবেগ বায়ু মাধ্যমে শব্দের গতির থেকে চার গুণেরও বেশি। এমনকি বায়ু মাধ্যমে শব্দের উৎস থেকে দূরে গেলে তার প্রাবল্য দ্রুত কমে যায় কারণ শব্দ তরঙ্গ তার শক্তি বায়ু মাধ্যমে দ্রুত হারিয়ে ফেলে। তাই দূরে গেলে শব্দ কম জোরে শোনা যায়। জল বা ঘণ মাধ্যমে এই শক্তি অপেক্ষাকৃত বেশি সময় সঞ্চিত থাকে ফলে অনেক দূর পর্যন্ত শব্দের প্রাবল্য অক্ষুণ্ণ থাকে। যেমন হাম্পব্যাক তিমির (Humpback Whale) শব্দ সমুদ্রের তলায় কয়েক হাজার কিলোমিটার যেতে পারে। শব্দ তরঙ্গের এই ধর্ম অনুযায়ী জলের তলায় আমদের শব্দ আরও ভাল শোনার কথা তাহলে, জলের তলায় কথা বললে ভাল বোঝা যায় না কেন?
১. মানুষের কানের অভিযোজন ও শ্রবণ ক্ষমতা
আমাদের কান মূলত বাতাসে শব্দ শুনতে অভ্যস্ত। বহু বছরের অভিযোজনের ফলে মানুষের কান স্থলে অর্থাৎ বায়ুমাধ্যমে শব্দ শোনার উপযুক্ত হয়ে উঠেছে। ফলে জলের তলায় শব্দ শুনলে তা আমাদের কানের পর্দায় আমাদের বোঝার মত উপযুক্ত কম্পন সৃষ্টি করে না।
২. মানুষের কণ্ঠের প্রভাব
মানুষের কানের মতো কণ্ঠস্বরও বাতাসে কাজ করার জন্য উপযুক্ত। জলের তলায় কথা বললে কণ্ঠনালী এবং স্বরযন্ত্র থেকে বের হওয়া শব্দ তরঙ্গ সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে না, কারণ এক্ষেত্রে আমাদের স্বরযন্ত্রে যে কম্পন সৃষ্টি হয় তা বায়ু মাধ্যমে হয় এবং সেখান থেকে অন্য মাধ্যমে (জল) শব্দ গেলে তার অধিকাংশ প্রতিফলিত ও বিকৃত হয়ে যায়। যদি আমাদের স্বরযন্ত্র ও ফুসফুস সম্পূর্ণ জলে পূর্ণ হয়ে যায় সেক্ষেত্রে আমরা কথা বলতেই পারব না। এছাড়া কথা বলার সময় যে বাতাস বের হয় তা জলে যে বুদবুদের সৃষ্টি করে সেই বুদবুদ শব্দের বিকৃতি ঘটায়। এই কারণে জলের তলায় কথা বললে ভাল বোঝা যায় না।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, কেউ যদি জলের উপরে শব্দ করেন তা জলের তলায় একটুকুও শোনা যায় না কারণ এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে যাওয়ার সময় শব্দ বেশির ভাগ প্রতিফলিত হয়ে যায়। একই ভাবে জলের তলার শব্দও বাইরে থেকে শোনা যায় না।
৩. জলে শব্দের গতি ও তরঙ্গদৈর্ঘ্য
জলে শব্দের গতি বাতাসের চেয়ে প্রায় চারগুণ বেশি। এই বাড়তি গতি শব্দের তরঙ্গদৈর্ঘ্য ও পরিবহন প্রক্রিয়াকে পরিবর্তন করে। ফলে শব্দের উচ্চারণ এবং স্বর অন্যরকম হয়ে যায় ও জলের তলায় কথা বললে ভাল বোঝা যায় না।
৪. জলের মধ্যে শব্দের প্রতিফলন
জলে শব্দ তরঙ্গ বিভিন্ন দিক থেকে প্রতিফলিত হতে পারে। এটি একটি শব্দকে একাধিক প্রতিধ্বনির মতো শোনায়, যা বোঝা কঠিন করে তোলে। এমনকি শব্দের উৎস ঠিক কোথায় সেটিও ভাল করে বোঝা সম্ভব হয় না।
এই সব কারণেই জলের তলায় কথা বললে ভাল বোঝা যায় না। জলের নিচে ডাইভাররা সাধারণত ইশারা করেন অথবা অন্য কোন যন্ত্র ব্যবহার করেন নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করার জন্য।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান