সববাংলায়

গঙ্গা তার পুত্রদের জলে বিসর্জন দেওয়ার কাহিনী

শান্তনু রাজা আর গঙ্গার যে সন্তান হত, গঙ্গা তাদের জলে বিসর্জন করে দিতেন। গঙ্গা তার পুত্রদের জলে বিসর্জন দেওয়ার কাহিনী জেনে নেওয়া যাক।

একসময় স্বর্গের আটজন বসুদেবতা ঋষি বশিষ্ঠের তপোবনে বিহার করছিলেন। তাঁর মধ্যে দ্যু-বসু স্ত্রীর অনুরোধে বশিষ্ঠের গাভী অপহরণ করেন।বশিষ্ঠ আশ্রমে ফিরে দেখলেন তাঁর গাভী নেই।  তিনি রেগে অভিশাপ দিলেন, তাঁর গাভীচোরেরা সকলে মানুষ হয়ে জন্ম গ্রহণ করবে। তারা সকলে এসে বশিষ্ঠের কাছে  অনেক প্রার্থনা করলেন। তাঁদের প্রার্থনায় বশিষ্ঠের মন গলল। তিনি বললেন, “তোমাদের সাতজনকে তো ছেড়ে দিতে পারি। একবছর মনুষ্যজন্ম ভোগ করে তোমরা ফিরে যেতে পারো। কিন্তু দ্যু-বসু, তাকে বহুকাল অবধি মানুষজন্ম ভোগ করতেই হবে।”

গঙ্গা যখন স্বর্গ থেকে অভিশপ্ত হয়ে মর্ত্যে আসছিলেন, তখন এই বসুদেবতারা গঙ্গাকে অনুরোধ করেন যে গঙ্গা যেন তাদের নিজের গর্ভে ধারন করেন এবং জন্মানোর সাথে সাথেই যেন গঙ্গা তাদের মনুষ্যজন্ম থেকে মুক্তি দেয়। গঙ্গা রাজি হয়। শান্তনুর সাথে বিয়ের পর গঙ্গার গর্ভে বসেদেবতারা জন্মানোর পর তাদের ভাসিয়ে দিয়ে গঙ্গা তাদের মুক্তি দিতেন।  কিন্তু অষ্টম বসু, দ্যু-বসু বশিষ্ঠের থেকে দীর্ঘকাল মনুষ্যলোকে থাকার অভিশাপ পেয়েছিলেন। এই দ্যু-বসুর মনুষ্যজন্মের রূপই হল ভীষ্ম। গঙ্গা তাকে মানুষ করে রাজা শান্তনুর হাতে তুলে দিয়েছিলেন। মহাভারতের রাজনীতিতে ভীষ্ম একজন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

তথ্যসূত্র


  1. “মহাভারত সারানুবাদ”, দেবালয় লাইব্রেরী (প্রকাশক সৌরভ দে, তৃতীয় প্রকাশ) – রাজশেখর বসু, আদিপর্ব (১৫। মহাভিষ-অষ্টবসু-প্রতীপ-শান্তনু-গঙ্গা) পৃষ্ঠাঃ ৩৭
  2. “মহাভারতের একশোটি দুর্লভ মুহূর্ত”, আনন্দ পাবলিশার্স, পঞ্চম মুদ্রণ – ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য, অধ্যায় ১০- ভীষ্মের প্রতিজ্ঞা (আজ হতে এ বিশ্বের সমস্ত রমণী আমার জননী), পৃষ্ঠাঃ ৫৮-৫৯

 
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading