আজকের দিনে

১৬ অক্টোবর ।। বিশ্ব খাদ্য দিবস

প্রতি বছর প্রতি মাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিভিন্ন দেশে কিছু দিবস পালিত হয়। ওই নির্দিষ্ট দিনে অতীতের  কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়। পালনীয় সেই সমস্ত দিবস গুলির মধ্যে একটি হল বিশ্ব খাদ্য দিবস (World Food Day)।

প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে ১৬ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবস উদযাপন করা হয়ে থাকে। জীবনধারণের জন্য যা কিছু অবশ্য প্রয়োজন, যা কিছু মানুষের স্বাভাবিক চাহিদা তার মধ্যে অন্যতম হল খাদ্য। কিন্তু বিশ্বের বহু দেশ খাদ্যসংকটের সঙ্গে লড়াই করছে প্রতিনিয়ত, অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। সমীক্ষায় জানা গেছে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮২০ মিলিয়ন মানুষ অনাহারে দিন কাটায়। এই অনাহার অপুষ্টিরও কারণ। এছাড়াও সভ্যতার ইতিহাসে দুর্ভিক্ষের মতো বিপর্যয় নেমে এসেছে বারবার। এই অনাহার, খাদ্যসংকট, দুর্ভিক্ষের  পিছনে কী কী কারণ থাকতে পারে এবং এই সমস্যাগুলির সমাধানের জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত সেই সব বিষয়ে জনসাধারণকে সচেতন করে তোলবার উদ্দেশ্যেই মূলত এই দিনটি উদযাপন করা হয়ে থাকে। এছাড়াও এই বিশেষ দিনটিকে সামনে রেখেই মানুষকে স্বাস্থ্যকর ডায়েট এবং কী ধরনের খাদ্যগ্রহণ সুস্থ জীবনযাপনে সহায়তা করে সেসব বিষয় সম্পর্কেও অবগত করে তোলা হয়। রাষ্ট্রপুঞ্জের খাদ্য এবং কৃষি সংস্থার (Food and Agriculture Organisation বা FAO) প্রতিষ্ঠা দিবসটিকে (১৬ই অক্টোবর) সম্মান প্রদর্শনের জন্যও এই বিশেষ দিনটি উদযাপন করা হয়ে থাকে।

১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ফুড অ্যান্ড এগরিকালচার অরগানাইজেশানের ২০তম সাধারণ সম্মেলনে এই সংস্থার সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা ১৯৭৯ সালের নভেম্বর মাসে বিশ্ব খাদ্য দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ১৯৮১ সালের ১৬ অক্টোবর প্রথম এই দিনটি উদযাপিত হয়েছিল। হাঙ্গেরির প্রতিনিধি এবং সেখানকার কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী ড. পল রোমানিই সর্বপ্রথম প্রতিবছর এই বিশ্ব খাদ্য দিবস পালনের প্রস্তাব রেখেছিলেন। বর্তমানে ১৫০টিরও বেশি দেশ এই বিশেষ দিনটি উদযাপন করে থাকে।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নানা দেশে বিশ্ব খাদ্য দিবস পালনের জন্য বিবিধ আয়োজন করা হয়। ইতালির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা সংস্থা সম্মেলনের পাশাপাশি প্রদর্শনীরও আয়োজন করে। জার্মানির খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে এবং স্পেনের টেলিভিশন নানারকম ইভেন্টের সম্প্রচারও করে থাকে। কিউবায় এই বিশেষ দিনে খাদ্যসংকট কেন্দ্রিক জনসচেতনতামূলক প্রচারকে জোরদার সমর্থন জানায় সেখানকার গণমাধ্যম। ২০০৭ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আইওয়া হাঙ্গার সামিটের (Iowa Hunger Summit) আয়োজন করা হয়। জাতিসংঘের কিছু সংস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয় সভা, সম্মেলন, প্রদর্শনী, কর্মশালার আয়োজন করে এই দিনে। মঙ্গোলিয়ায় প্রতিবছর বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে খাদ্য সুরক্ষা কেন্দ্রিক গবেষণা সম্মেলনের আয়োজন করে সেখানকার খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রক। বাংলাদেশে খাদ্য উৎসবের আয়োজন করা হয়। এইভাবেই আরও নানা দেশে বিবিধ প্রকার আয়োজন করা হয় মানুষকে খাদ্যসংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সচেতন করে তোলবার জন্য।

১৯৮১ সাল থেকেই প্রত্যেক বছর খাদ্য দিবস উদযাপনের জন্য একটি বিষয় বা থিম নির্বাচন করা হয়ে থাকে। ২০১৭ সালের বিষয় ছিল, স্থানান্তরের ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করুন। খাদ্য সুরক্ষা এবং গ্রামীন উন্নয়নে বিনিয়োগ করুন (Change the future of migration. Invest in food security and rural development)। ২০১৮ সালের বিষয় হিসেবে ঠিক করা হয়েছিল, আমাদের ক্রিয়াকলাপ আমদের ভবিষ্যৎ, ২০৩০ এর মধ্যে বিশ্ব ক্ষুধার সমাপ্তি সম্ভব (Our Actions Are Our Future, Ending World Hunger by 2030 is Possible)। ২০১৯ সালের থিম ছিল, আমাদের ক্রিয়াকলাপ আমাদের ভবিষ্যৎ, ক্ষুধাহীন বিশ্বের জন্য স্বাস্থ্যকর ডায়েট (Our Actions Are Our Future. Healthy Diets for A #ZeroHunger World)। ২০২০ সালের থিম- বৃদ্ধি, পুষ্টি, বজায় রাখা একসাথে। আমাদের কর্ম আমাদের ভবিষ্যত। (Grow, nourish, sustain. Together. Our actions are our future)

সববাংলায় পড়ে ভালো লাগছে? এখানে ক্লিক করে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ভিডিও চ্যানেলটিওবাঙালি পাঠকের কাছে আপনার বিজ্ঞাপন পৌঁছে দিতে যোগাযোগ করুন – contact@sobbanglay.com এ।


Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।