সববাংলায়

১১ অক্টোবর | আন্তর্জাতিক বালিকা দিবস

প্রতি বছর প্রতি মাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিভিন্ন দেশেই কিছু দিবস পালিত হয়। ঐ নির্দিষ্ট কিছু দিনে অতীতের কোন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণকরা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরী করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়। তেমনই বিশ্বব্যাপী পালনীয় সমস্ত দিবস গুলির মধ্যে একটি হল “আন্তর্জাতিক বালিকা দিবস” (International Day of the Girl Child)।

সমগ্র বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর ১১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক বালিকা দিবস পালন করা হয় বিশ্বে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করা ও বালিকাদের সার্বিক বিকাশ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরী করার উদ্দেশ্যে।

১৯৯৫ সালে বেইজিং -এ অনুষ্ঠিত মহিলাদের নিয়ে বিশ্ব সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে বেইজিং ঘোষণা এবং প্ল্যাটফর্ম ফর অ্যাকশন(Beijing Declaration and Platform for Action) গ্রহণ করা হয়েছিল – এটি কেবলমাত্র নারী নয়, কন্যা সন্তানের অধিকারের ক্ষেত্রে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ চিল। এই সম্মেলনেই সর্বপ্রথম কন্যা সন্তানের অধিকারকে সরকারীভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কানাডাই সর্বপ্রথম রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদে আন্তর্জাতিক বালিকা দিবস পালনের প্রস্তাব দেয়। এরপরে ২০১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর তারিখে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় এই প্রস্তাব গৃহীত হয়। ফলে ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর তারিখে প্রথম আন্তর্জাতিক বালিকা দিবস পালন করা হয়। এই দিবসে বালিকাদের সমস্যাগুলি নিয়েই কেবল পর্যালোচনা করা হয় না তার সমাধানের ব্যাপারেও আলোচনা করা হয়৷ ২০১৪ সালে হওয়া একটু সমীক্ষায় দেখা গেছে সমগ্র পৃথিবীতে ১২ মিলিয়ন বালিকা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়ে আছে৷ আবার অন্য একটি সমীক্ষায় দেখা যায় ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সী বালিকারা তাদের সমবয়সী ছেলেদের তুলনায় ঘরোয়া কাজে বেশী সময় অতিবাহিত করে থাকে৷ এমনকি অনেক ১৮ বছর বয়স হতে না হতেই বিয়ে হয়ে যাওয়া বালিকার সংখ্যা ছেলের তুলনায় অনেক বেশি৷ ফলত তারা শারীরিক মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ সাবালিকা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেয়েরা যৌন হেনস্থার শিকার হয়, কন্যা সন্তান হিসেবে এই সমস্যা কিছুতেই এড়িয়ে যাওয়া যায় না। ভয়ানক সামাজিক ব্যাধি হিসেবে সমস্যাটি আজ বিশ্বজুড়ে আলোচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বালিকা দিবসে সমস্যাগুলির পাশাপাশি সমাধানের বিষয়টিও আলোচিত হয়৷ যেমন মেয়েদের মধ্যে সঠিক শিক্ষার বন্টনের মধ্য দিয়ে তাদের অর্থনৈতিক ভিত্তিভূমিকে শক্তিশালী করে তোলা যেতে পারে৷ বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করে তাদের সুস্থ ভাবে বাঁচার সুযোগ করে দেওয়াটাও সামাজিক কর্তব্য৷

প্রতিবছর এক একটি থিমের মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করা হয়ে থাকে৷ প্রথম বছর বালিকা দিবসের থিম ছিল, ‘বাল্যবিবাহ বন্ধ করা’। ২০১৫ সালে এই দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘কিশোরীর ক্ষমতা : ২০৩০ এর পথ-প্রদর্শক’। ২০১৯ সালের এই দিবসের থিম ছিল ‘বালিকার অগ্রগতি, দেশের জন্য নতুন মাত্রা ‘। ২০২০ সালের থিম হল- “আমার কণ্ঠস্বর- আমাদের সমান ভবিষ্যৎ”। ২০২৪ সালের থিম হল- ভবিষ্যতের জন্য মেয়েদের দৃষ্টিভঙ্গি(Girls’ vision for the future)।

আন্তর্জাতিক বালিকা দিবসের প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন কার্মসূচী পালন করা হয়। তার বেশকিছু রাষ্ট্রপুঞ্জ প্রযোজনা করে। যেমন, ভারতের মুম্বাইতে অনুষ্ঠিত সংগীত অনুষ্ঠানের মধ্য,দিয়ে জনসচেতনতা তৈরী করা হয়৷ কিছু বেসরকারী সংস্থা যেমন অষ্ট্রেলিয়ার গার্ল গাইড অস্ট্রেলিয়ায় উন্নত মানের কার্যসূচী পালন করে। আবার যেমন দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে টি-শার্ট মেয়েদের মাঝে বিতরণ করা হয়। এই ধরনের কার্যসূচীর মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপিত হয়ে থাকে৷


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading