সববাংলায়

৯ অক্টোবর | বিশ্ব ডাক দিবস

প্রতি বছর প্রতি মাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিভিন্ন দেশে কিছু দিবস পালিত হয়। ওই নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়। পালনীয় সেই সমস্ত দিবস গুলির মধ্যে একটি হল ‘বিশ্ব ডাক দিবস’ (World Post Day)।

প্রতি বছর ৯ অক্টোবর  সারা বিশ্ব জুড়ে বিশ্ব ডাক দিবস পালন করা হয় ডাক বিভাগের  প্রয়োজনীয়তা এবং গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে।

১৮৭৪ সালে ৯ অক্টোবর  সুইজারল্যান্ডে ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন (Universal Postal Union, UPU) গঠিত হয়েছিল। এই সংস্থার সদস্য প্রথমে কিছু ইউরোপীয় এবং আমেরিকান দেশ ছিল কিন্তু খুব দ্রুতই পৃথিবীর অন্যান্য দেশও এই সংস্থায় যোগদান করে। এই সংস্থাটির সাহায্যেই সারা বিশ্বজুড়ে মানুষ চিঠি চালাচালি করতে সক্ষম হয়েছিল। তাই এই সংস্থাটির নির্মাণ একটি যুগান্তকারী ঘটনা বলে ধরে নেওয়া হয়।

১৯৬৯ সালে ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের টোকিওর শাখা বিশ্ব ডাক দিবস এর ঘোষণা করে। ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডাক দিবস ঘোষণা করার আবেদন জানিয়েছিলেন এই সংস্থার ভারতীয় প্রতিনিধি শ্রী আনন্দ মোহন নারুলা। এরপর থেকে এই দিনে বিশ্ব ডাক দিবস পালিত হয়ে আসছে। বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটের সুবিধার জন্য মানুষ ডাকের মাধ্যমে চিঠি পাঠানো প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে তাই এই দিনটি পালনের মাধ্যমে মানুষকে আরো বেশি করে চিঠি লেখা এবং চিঠি আদান প্রদানের উৎসাহ দেওয়া হয়। শুধু চিঠি আদান প্রদান নয় ডাক মারফত উপহার এবং আরো গুরুত্বপূর্ণ জিনিস অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। তাই চিঠি লেখার প্রচলন কমে গেলেও ডাক বিভাগের গুরুত্ব এখনো সমান আছে।

চিঠি লেখার রীতি বহু প্রাচীনকাল থেকেই রয়েছে। ইতিহাসে আমরা দেখতে পাই রাজারা তাদের মধ্যে চিঠি আদান প্রদান করতেন। এ ছাড়াও সাধারণ মানুষও ডাকের ব্যবহার করত। প্রাচীনকালে সাধারণত এই চিঠি দূত মারফত প্রেরণ করা হত। ষোড়শ শতাব্দী থেকে পশ্চিম দেশগুলিতে ডাক ব্যবস্থার সূচনা ঘটে। এই ব্যবস্থা অনেকটাই উন্নত হয়েছিল সেই সময় এবং তা সাধারণ মানুষের আয়ত্বের মধ্যে এসেছিলে। আস্তে আস্তে এই ব্যবস্থা সারা পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ১৮০০ শতাব্দীর শেষ দিকে ডাক ব্যবস্থা বিশ্বজনীন হয়ে ওঠে কিন্তু ডাকের গতি তখন ছিল খুবই মন্থর। এক দেশ থেকে অন্য দেশে চিঠি পৌঁছাতে অনেক সময় লেগে যেত। তাছাড়াও ডাকে চিঠি পাঠানোর প্রক্রিয়া ছিল খুবই জটিল। ১৮৭৪ সালে ডাক ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার জন্য এবং আন্তর্জাতিক করে তোলার জন্য পনেরোটি ইউরোপীয় এবং আমেরিকান দেশ মিলে একটি আলোচনায় বসে এবং এরই ফল হিসেবে ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন তৈরি হয়। ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন তৈরি হওয়ার পরে এই সমস্যাগুলি দ্রুত সমাধান হতে থাকে। ১৯৪৮ সালে এই আন্তর্জাতিক সংস্থা রাষ্ট্রপুঞ্জের অন্তর্ভুক্ত হয়।

সারা বিশ্ব জুড়ে নানান কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে এই দিনটি পালিত হয়। কোনো কোনো দেশের ডাক বিভাগে এই দিন বিশেষ ডাকটিকিট প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সেইসব প্রদর্শনীতে অনেক দুর্মূল্য, ঐতিহাসিক এবং আকর্ষণীয় ডাকটিকিট সাধারণ মানুষের জন্য প্রদর্শিত হয়। এছাড়াও  ডাক সংগ্রহালয়গুলিও  এই দিন সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়। অনেক জায়গায়  ডাকটিকিটের বিবর্তনকে ঘিরে নানান অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, বিতর্ক সভা,  বক্তৃতা, তথ্যচিত্র প্রদর্শনী, চিত্রপ্রদর্শনী, ওয়ার্কশপ, সেমিনার  আয়োজন করা হয়। এই দিনটিকে উদযাপন করার জন্য অনেক দেশেই নতুন ডাকটিকিট প্রকাশ করা হয়। তরুণ প্রজন্মের জন্য ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন ইউনেস্কোর সাথে যুগ্মভাবে চিঠি লেখার প্রতিযোগিতাও আয়োজন করে। প্রতি দেশ থেকে একজন করে বিজয়ীকে বেছে নেওয়া হয় এবং তারপর তাদের মধ্যে থেকে একজনকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। এই প্রতিযোগিতার দ্বারা শুধু যে শিক্ষার প্রসার ঘটে তা নয় এতে মানুষের মধ্যে চিঠি লেখার উৎসাহ এবং প্রবণতাও বাড়ে। প্রতিবছর ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের ১৯২টি সদস্য দেশ একযোগে এই দিনটি মহাসমারোহে পালন করে। ভারতবর্ষে এই দিনটি উপলক্ষে এক সপ্তাহব্যাপী নানা কর্মকাণ্ডের আয়োজন করা হয়।

বিভিন্ন বছর বিভিন্ন প্রতিপাদ্য বা থিমকে কেন্দ্র করে এই দিনটি পালিত হয়ে থাকে। ২০১৯ সালের প্রতিপাদ্য ছিল “উদ্ভাবন, একতা এবং অন্তর্ভুক্তি” (Innovation, Integration, and Inclusion)। ২০২০ তে কোভিড-১৯ এর জন্য সারা বিশ্ব জুড়ে নানান সমস্যা দেখা দেয়। ২০২০ সালের প্রতিপাদ্য হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছিল “আমরা সবসময় ডেলিভারি করেছি” (We Have Always Delivered)। ২০২১ সালের প্রতিপাদ্য ছিল “পুনরুদ্ধার করতে উদ্ভাবন” (innovate to recover)। ২০২২ সালের প্রতিপাদ্য ছিল “এই গ্রহের জন্য ডাক” (Post for Planet)। ২০২৩ সালের প্রতিপাদ্য ছিল “বিশ্বাসের জন্য একসাথে” (Together for Trust)। ২০২৪ সালের প্রতিপাদ্য হল – ১৫০ বছর ধরে যোগাযোগ সক্ষম করা এবং দেশের জনগণকে ক্ষমতায়িত করা (150 years of enabling communication and empowering peoples across nation)।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading