সববাংলায়

২৭ মার্চ | বিশ্ব থিয়েটার দিবস

প্রতিবছর প্রতিমাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিভিন্ন দেশেই কিছু দিবস পালিত হয়। ওই নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা হয় বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়। বিশ্বে পালনীয় সেই সব দিবসগুলোর মধ্যে একটি হলো বিশ্ব থিয়েটার দিবস ।

প্রতিবছর ২৭ মার্চ আন্তর্জাতিক থিয়েটার ইন্সটিটিউট (আইটিই) কেন্দ্রসমূহ এবং আন্তর্জাতিক থিয়েটার কমিটি বিশ্ব থিয়েটার দিবস পালন করে।

আন্তর্জাতিক থিয়েটার ইনস্টিটিউট ১৯৬১ সালের ২৭ মার্চ বিশ্ব থিয়েটার দিবসের শুরু করে। ১৯৬১ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত আইআইটির নবম আলোচনা সভায় আন্তর্জাতিক থিয়েটার ইনস্টিটিউটের ফিনিশ কেন্দ্রের পক্ষে অধ্যক্ষ আর্ভি কিভিমায় বিশ্ব থিয়েটার দিবস উদযাপনের প্রস্তাব দেন। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান কেন্দ্রসমূহে এটাকে সমর্থন দেয়ার পরই দিবসটির বিশ্বব্যাপী প্রচলন শুরু হয়। বিশ্বের সব দেশের নাট্যকর্মীদের মধ্যে ঐক্য স্থাপন, সম্প্রীতি, উদ্দীপনা সৃষ্টি ও নাটকের উন্নয়ন সাধনের লক্ষ্যে এই দিবসটি পালন করা হয়।

নাট্যকলা বা থিয়েটার বলতে বোঝায় দর্শকদের সামনে স্থাপিত মঞ্চে অভিনীত নাটক। বর্তমানে নাট্যকলা থিয়েটার শিল্প মাধ্যমের একটি অন্যতম শাখা। তাছাড়া নাটক বা থিয়েটার শুধুমাত্র শিল্প মাধ্যম হিসেবেই নয়, শক্তিশালী গণমাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত হয়। বিশ্বনাট্য সাহিত্যের- ইসকাইলাসের ‘প্রমিথিউস বাউন্ড’, সফোক্লিসের ‘ইডিপাস’, ভবভূতির ‘স্বপ্নবাসবদত্তা’, কালিদাসের ‘অভিজ্ঞান শকুন্তলম’, শেক্সপিয়ারের ‘হ্যামলেট’, গেটের ‘ফাউস্ত’, ইবসেনের ‘ডলস হাউস’, স্ট্রিন্ডবার্গের ‘রিপ্লে’, জর্জ বার্নার্ড শ এর ‘ম্যান অ্যান্ড সুপারম্যান’, চেখভের ‘দি চেরি অরচাড’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রক্তকরবী’, ম্যাক্সিম গোর্কির ‘দি লোয়ার ডেপথ’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

দিবসটি উদযাপন করতে বিভিন্ন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চনাটক প্রদর্শিত হয়। সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশ্ব থিয়েটার দিবসে বিভিন্ন নাটক মঞ্চস্থ করা হয়, বিভিন্ন আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সবথেকে উল্লেখযোগ্য একটি বিষয় হচ্ছে এই দিবস পালন করার জন্য আন্তর্জাতিক থিয়েটার ইনস্টিটিউটে একজন তারকা মঞ্চনাটকের মাধ্যমে সংস্কৃতিবিষয়ক এক বিশেষ বার্তা প্রেরণ করেন। ১৯৬২ সালে প্রথম বিশ্ব থিয়েটার দিবসের আন্তর্জাতিক বার্তা লিখেছিলেন ফ্রান্সের জিনকো কাটিয়া। ২০০২ সালে ভারতের প্রখ্যাত অভিনেতা গিরিশ কারনাড আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিত্ব কর্মীদের জন্য এই দিনটি যেরকম গুরুত্বপূর্ণ তেমনি থিয়েটার প্রেমী দর্শকের কাছে এই দিনটির গুরুত্ব অনেক। শুরুর দিন থেকে আজ অবধি একটি বিশেষ থিম বা প্রতিপাদ্যকে কেন্দ্র করে এই দিনটি উদযাপন করা হয়। প্রতিপাদ্যটি হল – ‘থিয়েটার এবং শান্তির সংস্কৃতি’ (Theatre and a Culture of Peace)।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading