প্রতি বছর প্রতি মাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিভিন্ন দেশেই কিছু দিবস পালিত হয়। ঐ নির্দিষ্ট কিছু দিনে অতীতের কোন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণকরা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরী করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়। তেমনই বিশ্বব্যাপী পালনীয় সমস্ত দিবস গুলির মধ্যে একটি হল বিশ্ব পর্যটন দিবস (World Tourism Day)। এই দিবস এবং বিশ্ব পর্যটন দিবসের থিম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।
প্রতি বছর ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী বিশ্ব পর্যটন দিবস হিসেবে পালন করা হয় মানব জীবনে পর্যটনের ভূমিকা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সেই সাথে পর্যটনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক উপযোগিতাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে।
১৯৮০ সালের বার্ষিক সম্মেলনে রাষ্ট্রপুঞ্জের আন্তর্জাতিক ভ্রমণবিষয়ক সংস্থা বা ইউ এনডাবলুটিও'( United Nations World Tourism Organization UNWTO) ২৭ সেপ্টেম্বর তারিখটিকে “বিশ্ব পর্যটন দিবস” হিসেবে নির্ধারিত করে৷ পর্যটনের ভূমিকা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উপযোগিতাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া এ দিবসের অন্যতম লক্ষ্য।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণের ফলে বিশ্বব্যাপী পর্যটন ব্যবসার প্রসার ঘটে। এই অবস্থায় পর্যটনের সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও উপভোক্তা শ্রেণীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠে রাষ্ট্রপুঞ্জের আন্তর্জাতিক ভ্রমণবিষয়ক সংস্থা বা ইউ এনডাবলুটিও৷ ১৯৯৭ সালের অক্টোবর মাসে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হওয়া দ্বাদশ অধিবেশনে ইউএনডব্লিউটিওর জেনারেল অ্যাসেমব্লী সিদ্ধান্ত নেয় প্রতি বছর বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপনের জন্য সংস্থার অংশীদার হিসেবে একটি দেশকে বা দেশের সমষ্টিকে আয়োজক হিসেবে মনোনীত করা হবে৷ যেমন ২০০৬ সালে আয়োজক হিসেবে মনোনয়ন করা হয়েছিল ইউরোপকে। ২০০৭ সালের আয়োজক ছিল সাউথ এশিয়া৷
প্রতিবছর আন্তর্জাতিক ভ্রমণবিষয়ক সংস্থার অন্তর্ভুক্ত দেশগুলি বিভিন্ন প্রতিপাদ্য বা থিমের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করে থাকে৷ ২০১৬ সালে বিশ্ব পর্যটন দিবসের থিম ছিল – সকলের জন্য পর্যটনঃ সার্বজনীন পর্যটনের প্রচার (TOURISM FOR ALL: PROMOTING UNIVERSAL ACCESSIBILITY)। এই কর্মসূচীতে বিশ্বের প্রতিটি মানুষের পর্যটন উপভোগের অধিকার নিশ্চিতকরণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ৷ ২০১৭ সালে এই দিনটির প্রতিপাদ্য ছিল – পরিবেশবান্ধব পর্যটন (Sustainable tourism)। ২০১৮ সালের প্রতিপাদ্য ছিল – পর্যটন এবং ডিজিটাল রূপান্তর (Tourism and the Digital Transformation) । ২০১৯ সালের প্রতিপাদ্য ছিল – পর্যটন এবং কর্ম সংস্থান : সকলের জন্য উন্নততর ভবিষ্যৎ (Tourism and Jobs: a better future for all)। ২০২০ সালের প্রতিপাদ্য ছিল – পর্যটন এবং গ্রামীণ উন্নয়ন (Tourism and Rural Development)। ২০২১ সালের প্রতিপাদ্য ছিল – অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধির জন্য পর্যটন (Tourism for Inclusive Growth)। ২০২২ সালের প্রতিপাদ্য ছিল – পর্যটন নিয়ে পুনর্বিবেচনা (Rethinking Tourism)। ২০২৩ সালের প্রতিপাদ্য ছিল – পর্যটন এবং সবুজ বিনিয়োগ (Tourism and Green Investments)। ২০২৪ সালের প্রতিপাদ্য হল – পর্যটন এবং শান্তি (Tourism and Peace)।
পর্যটন একটি বহুমুখী শিল্প। বর্তমান সময়ে পর্যটকেরা ভ্রমণ পরিকল্পনায়, হোটেল ও টিকেট বুকিংয়ে, ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অর্থ তোলা ও বুকিং এবং ইলেকট্রনিক ভিসা পেতে প্রভৃতি কাজে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করেন। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ভ্রমণ সুবিধাদি পাওয়া, ভ্রমণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, উন্নত মানসম্পন্ন পরিষেবা পাওয়া, গতিময়তার প্রতিকূলতা দূর করা এবং নিশ্চিন্তে ভ্রমণ করা সম্ভব হয়। তবে মনে রাখতে হবে যে, প্রতি বছর পর্যটন দিবস পালন করা মানেই পর্যটন শিল্পের উন্নতি সাধন হবে এমনটা নয়। এর জন্য প্রয়োজন দিবসটি পালনের মধ্য দিয়ে জনগনের মধ্যে পর্যটন শিল্পের চেতনা ও নতুন উদ্দীপনা সঞ্চারিত করা।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


Leave a Reply to আজকের দিনে ।। ২৭ সেপ্টেম্বর | সববাংলায়Cancel reply