আজকের দিনে

৩ মার্চ ।। বিশ্ব বন্যপ্রাণ দিবস

প্রতিবছর প্রতিমাসের নির্দিষ্ট কিছুদিনে বিভিন্ন দেশেই কিছু দিবস পালিত হয়ে থাকে। এই নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়ে থাকে। বিশ্বে পালনীয় সেই সমস্ত দিবসগুলির মধ্যে একটি হলো বিশ্ব বন্যপ্রাণ দিবস।


৩ মার্চ সারাবিশ্বে বিশ্ব বন্যপ্রাণ দিবস পালন করা হয়।


২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৮ তম অধিবেশনে বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে ৩ মার্চ দিনটিকে বিশ্ব বন্যপ্রাণ দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হয়। মানুষের স্বার্থ আর লোভ যেন কোনো ভাবেই বন্যপ্রাণীদের বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে বাধা না হয় সেই দিকে নজর রেখে এই দিনটির কথা বলা হয়। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদ থেকে সিআইটিইএস এর সচিবালয়ে অনুরোধ জানানো হয় সিআইটিইএস এর সাথে যুক্ত বিশ্বের অন্য সংস্থা গুলিও যাতে রাষ্ট্রসংঘের এই উদ্দেশ্যকে বাস্তবে কার্যকর করতে পারে সেই দিকে নজর রাখা। রাষ্ট্রপুঞ্জের রেজোলিউশনে এই বিবৃতি দেওয়া হয় যে, ‘মানবকল্যাণে বন্য উদ্ভিদ ও প্রাণীদের অপরিহার্য মূল্যের কথা মাথায় রেখে উভয়ের যুগ্ম উন্নোয়নের দিকগুলি উন্মোচিত করাই হবে এই বিশেষ দিবস পালনের লক্ষ্য’। বন্যপ্রাণ (উদ্ভিদ এবং প্রাণী) সংরক্ষণের সাথে আমাদের জীবনও ওতোপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে বন্য প্রাণ যত বিপন্ন হবে তার সাথে মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষা করাও ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তাই বাস্তুতন্ত্রের সাধারণ নিয়ম মেনে বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য। একসময়ে ভারতীয় রাজাদের শখ ছিল শিকার করা, যার কারণে যথেষ্ট পরিমাণে হরিণ, বাঘ ও পাখি বিপন্ন হয়েছে। বনদফতরের সমীক্ষা অনুযায়ী ৭৩৬ টি প্রজাতির পাখির মধ্যে ৪৭ টি প্রজাতির পাখি বিলুপ্ত হয়ে গেছে।


আমরা যে পৃথিবীতে বাস করি বন্যপ্রাণী এবং উদ্ভিদও তার বিশেষ অঙ্গ। বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদদের কারনেই পৃথিবীর ভারসাম্য বজায় রয়েছে। কিণ্তু প্রাণী হত্যা ও চোরাশিকারিদের কারণে আজ তারা বিলুপ্তির পথে। তাই মানবজাতির স্বার্থেই  বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা বিশ্ব বন্যপ্রাণ দিবস পালনের প্রধান উদ্দেশ্য।  বিশ্বের ১৮০ টি দেশ রাষ্ট্রসংঘের এই ঘোষণাকে সমর্থন করেছে।


প্রতিবছর একটি বিষয়কে পরিকল্পনা করে সারা বিশ্বজুড়ে এই দিবস পালন করা হয়। ২০১৫ সাল থেকে প্রতি বছর একটি সুনির্দিষ্ট প্রসঙ্গ বা বিষয় নির্ধারণ করে সে বিষয়ে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রায় সব ক’টি সদস্য দেশে। প্রচলিত বিবর্তনবাদ অনুসারে, সমুদ্র থেকেই প্রাণের বিকাশের শুরু, এমনকি, পৃথিবীর বেশিরভাগ প্রাণের বিচরণ অতল জলের তলে। তাই ২০১৯ সালে বন্যপ্রাণ দিবসের বিষয় ছিল জলের নীচের জীবনকে রক্ষার মাধ্যমে মানুষ এবং পৃথিবীকে রক্ষা করা। ২০২০ সালের ৩ মার্চ ‘বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস’ এর মূল ‘থিম’— ‘পৃথিবীতে সমস্ত জীবন বজায় রাখা’।

স্বরচিত রচনা পাঠ প্রতিযোগিতা, আপনার রচনা পড়ুন আপনার মতো করে।

vdo contest

বিশদে জানতে ছবিতে ক্লিক করুন। আমাদের সাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুন। ইমেল – contact@sobbanglay.com

 


তথ্যসূত্র


  1. আন্তর্জাতিক ও রাষ্ট্রীয় দিবসের ইতিকথা, বিমান বসু,পাতা নং-২০
  2. https://en.m.wikipedia.org/wiki/World_Wildlife_Day
  3. https://www.anandabazar.com/
  4. https://www.odhikar.news/

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।