আজকের দিনে

১ মার্চ ।। শূন্য বৈষম্য দিবস

প্রতিবছর প্রতিমাসের নির্দিষ্ট কিছুদিনে বিভিন্ন দেশেই কিছু দিবস পালিত হয়ে থাকে। এই নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়ে থাকে। বিশ্বে পালনীয় সেই সমস্ত দিবসগুলির মধ্যে একটি শূন্য বৈষম্য দিবস (Zero Discrimination Day)।

১ মার্চ সারা বিশ্বে শূন্য বৈষম্য দিবস ( Zero Discrimination Day ) পালন করা হয়ে থাকে। ২০১৪ সালের ১ মার্চ UNAIDS-এর পক্ষ থেকে সংস্থার তৎকালীন পরিচালক মিশেল সিডিবি সর্বপ্রথম এই দিবস পালন করা শুরু করেন। UNAIDS হল- ইউনাইটেড নেশনস্ সাস্টেনেবল ডেভেলপমেন্ট গ্রুপ (UNSDG)-এর অন্তর্গত একটি সদস্য সংস্থা যারা বিশ্বজুড়ে এইচ.আই.ভি (HIV) ও এইডস (AIDS) নিয়ে সচেতনতা মূলক কাজকর্ম করে।
শূন্য বৈষম্য দিবস পালনের মূল লক্ষ্যই হল বিশ্ব জুড়ে সকল মানুষের বৈষম্যহীনভাবে, সুস্থভাবে এবং সম্মানের সাথে বাঁচার যে অধিকার তাকে সম্মান জানানো। বিশ্বজুড়ে চলে আসা মানুষে মানুষে যে অনন্ত বৈষম্য তা দূর করা মূল লক্ষ্য হলেও UNAIDS মূলত বিশ্বজুড়ে এইচ.আই.ভি (HIV) ও এইডস (AIDS) আক্রান্ত মানুষদের যে চূড়ান্ত বৈষম্য ও লাঞ্ছনার শিকার হতে হয় তার বিরুদ্ধে সচেতনতা মূলক কাজ করে।

এই সংস্থার অনুসন্ধান অনুযায়ী বিশ্বের প্রায় ৫০-৭০ টি দেশে বৈষম্যমূলক অনেক আইন বিধিবদ্ধ রয়েছে। যেমন সমকামীদের সম্পর্ক নিয়ে এখনও অনেক দেশে নিষিদ্ধ ও বৈষম্যমূলক আইন রয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ টি দেশে HIV আক্রান্তদের উপর নানান বৈষম্যমূলক নীতি ও নিষেধাজ্ঞা জারি আছে যার মধ্যে অন্যতম HIV আক্রান্তদের আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের সাথে ভ্রমণের উপরে নিষেধাজ্ঞা। কয়েকটি দেশে আবার বিয়ের আগে, কোনো চাকরিতে যোগ দেবার আগে এবং কোন আবাসনে বাস করার আগে HIV পরীক্ষা বাধ্যতামূলক ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বর্তমানে অনেক দেশেই এখন বৈষম্যমূলক এই সমস্ত বিলগুলি পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেমন ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট ভারতীয় পেনাল কোডের যে অংশটিতে সমকামীদের অপরাধী বলা হয়েছিল সেটি সম্প্রতি বাতিল করেছে।

UNAIDS এর সমীক্ষা অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে চলে আসা বিভিন্ন বৈষম্যমূলক রীতি বা আইনের সবথেকে বড় শিকার হল নারীরা। তাদের ২০১৫ সালে করা একটি সমীক্ষা অনুযায়ী বিশ্বের অন্তত ১১৭টি দেশ মেয়েদের ১৮ বছরের আগে বিয়ে করাকে সমর্থন করে। তাদের সমীক্ষায় নারীদের প্রতি বৈষম্যের যে খতিয়ান উঠে এসেছে তার মধ্যে যেগুলি উল্লেখযোগ্য – আফ্রিকা এবং এশিয়া মহাদেশের অনেক দেশে আজও নারীর জমি সহ অন্যান্য সম্পত্তির ওপর অধিকার সীমিত। সারা বিশ্বে আজও প্রতি পাঁচ জন নারীর একজন বালিকা বধূ। সারা বিশ্বেই পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের আয় অন্তত কুড়ি শতাংশ কম।

আইন ও পর্যাপ্ত শিক্ষা থাকা সত্বেও বৈষম্য সারা দেশে দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়ছে। প্রত্যেকটি মানুষ যাতে বয়স উচ্চতা গায়ের রং জাতীয়তা লিঙ্গ যৌনতা ইত্যাদির নিরিখে বৈষম্যহীন মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারে সেটিই এই দিবসের উদ্দেশ্য।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top
error: Content is protected !!

বাংলাভাষায় তথ্যের চর্চা ও তার প্রসারের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন