সববাংলায়

মুথুলক্ষ্মী রেড্ডি

ভারতীয় চিকিৎসক এবং সমাজসংস্কারক মুথুলক্ষ্মী রেড্ডি (Muthulakshmi Reddy) পুরুষদের কলেজে ভর্তি হওয়া প্রথম ভারতীয় মহিলা ছাত্রী ছিলেন। গোঁড়া সমাজের প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে চিকিৎসক হয়েছিলেন তিনি নিজের দক্ষতায়। এছাড়াও ব্রিটিশ ভারতের প্রথম মহিলা আইন-প্রণেতা হিসেবেও তাঁর নাম স্মরণ করা হয়ে থাকে। বিশ্বের প্রথম মহিলা ছিলেন তিনি যিনি আইনসভার ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। দেবদাসী প্রথার অপসারণের নেপথ্যে তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। ভারতের প্রথম মহিলা ডাক্তারদের মধ্যে অবশ্যই তাঁর নাম গণ্য করতে হয়। নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষ হাসপাতাল নির্মাণ করেছিলেন তিনি। যেখানে পুরুষদের কাছে নারীদের অধস্তনতা দেখেছেন, তাঁর প্রতিবাদী কন্ঠস্বর গর্জে উঠেছিল সেখানেই। অ্যানি বেসান্ত এবং মহাত্মা গান্ধীর দ্বারাও প্রভাবিত হয়েছিলেন তিনি৷ সর্বভারতীয় মহিলা সম্মেলনের সভাপতি ছিলেন মুথুলক্ষ্মী রেড্ডি। শুরু করেছিলেন ক্যান্সার ত্রাণ তহবিলের মতো কর্মসূচি। ‘রোশিনি’ নামক জার্নালের সম্পাদনার দায়িত্বও পালন করেছিলেন তিনি দক্ষ হাতে। তামিল সঙ্গীত ও সংস্কৃতির উন্নয়নেও নজর দেন তিনি। জীবনব্যাপী এই মহান কর্মকাণ্ডের জন্য তাঁকে ‘পদ্মভূষণ’ খেতাবে সম্মানিত করা হয়েছিল।

১৮৮৬ সালের ৩০ জুলাই ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতবর্ষের অন্তর্গত তামিলনাড়ু রাজ্যের পুদুক্কোট্টাই শহরে এক তামিল পরিবারে মুথুলক্ষ্মী রেড্ডির জন্ম হয়। তাঁর বাবা এস. নারায়ণস্বামী  আইয়ার ছিলেন একজন ব্রাহ্মণ ও মহারাজা কলেজের অধ্যক্ষ। মুথুলক্ষ্মীর মা চন্দ্রমল ইসাই ভেলালা জাতির মানুষ ছিলেন। এই জাতির মেয়েরা সাধারণত মন্দিরে নাচতেন এবং গান গাইতেন। তাঁদের দেবদাসীও বলা হয়ে থাকে। একজন দেবদাসীকে বিবাহ করার কারণে নারায়ণস্বামীকে পরিবার থেকে বিতাড়িত হতে হয়েছিল৷ মায়ের পরিবারের সঙ্গে খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন মুথুলক্ষ্মী, ফলে দেবদাসী সম্প্রদায় সম্বন্ধে, তাঁদের সমস্যা সম্বন্ধে বিস্তারিতভাবে জানতে পারেন তিনি৷ সেই থেকেই নারীদের যন্ত্রণা, পরাধীনতা তাঁকে অস্থির করে তোলে।

তৎকালীন গোঁড়া হিন্দু রক্ষণশীল সমাজে মেয়েদের লেখাপড়া করা সর্বতোভাবে নিষিদ্ধ ছিল। কেবল লেখাপড়াই নয়, এমন অনেক কিছুতেই নারীদের কোনও অধিকার ছিল না। কিন্তু মুথুলক্ষ্মীর বাবা যেমন পরিবার বা সমাজের তোয়াক্কা না করে একজন দেবদাসীকে বিবাহ করেছিলেন, তেমনি নিজের মেয়ের পড়াশোনার ব্যাপারেও সমস্তরকম সামাজিক অন্তরায়ের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে লড়াই করতেও পিছপা হননি তিনি। সামাজিক বিধিনিষেধের গণ্ডি ভেঙে নারায়ণস্বামী মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিয়েছিলেন। পাশাপাশি বাড়িতেও গৃহশিক্ষকের কাছে মেয়ের পড়াশোনার ব্যবস্থা করে দেন। বাবার নির্দেশেই মুথুলক্ষ্মীর শিক্ষকরা অনুমোদিত বিষয়ের বাইরেও নানা বিষয়ে শিক্ষাদান করতেন তাঁকে। এইভাবে কোনও সংকীর্ণতায় আবদ্ধ না থেকে মুক্তচিন্তা এবং বিস্তৃত জ্ঞানলাভের মাধ্যমে মুথুলক্ষ্মীর শিক্ষা চলতে থাকে। কিন্তু বয়ঃসন্ধিকালে তাঁকে স্কুল ছেড়ে দিতে বাধ্য করা হয়েছিল৷ তবে গৃহেই শিক্ষকদের কাছে তাঁর পড়াশোনা চলতে থাকে আগের মতো। এই বয়ঃসন্ধিকালে মুথুলক্ষ্মীকে তাঁর মা বিবাহের জন্য জোর করায় তিনি তীব্রভাবে তার বিরোধিতা করে মাকে বুঝিয়েছিলেন যে মেয়েদের জন্য শিক্ষা কতখানি গুরুত্বপূর্ণ। ১৯০২ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি মহারাজা কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেই কলেজের অধ্যক্ষ তাঁর আবেদন মঞ্জুর করতে রাজি হননি, কারণ তিনি ভেবেছিলেন এই পুরুষদের কলেজে একটি মেয়ে এসে ভর্তি হলে ছেলেদের চারিত্রিক অধঃপতনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এমনকি যদি মুথুলক্ষ্মীকে ভর্তি করা হয়, তবে ছেলেদের অভিভাবকরাও নিজেদের সন্তানদের সেই স্কুল থেকে বের করে নেবেন বলেও জানিয়েছিলেন। ফলে অধ্যক্ষের পক্ষে ভর্তির এই আবেদনকে সমর্থন করা আরও অসম্ভব ছিল৷ অবশেষে পুদুক্কোট্টাইয়ের মহারাজা মার্তণ্ড ভৈরব থণ্ডামান নিজে মুথুলক্ষ্মীর ভর্তির ব্যবস্থা করে দেন সেই কলেজেই। পুরুষদের কলেজে প্রথম মহিলা হিসেবে ভর্তি হন তিনি। আরও উচ্চতর শিক্ষার আকর্ষণ অনুভব করতে থাকেন তিনি। এরপর ১৯০৭ সালে মাদ্রাজ মেডিকেল কলেজে যোগদান করেন মুথুলক্ষ্মী। কলেজের সার্জারি বিভাগে তিনিই ছিলেন প্রথম মহিলা ছাত্রী। সেখানেও তাঁর অ্যাকাডেমিক রেকর্ড ছিল দুর্দান্ত। বেশ কিছু পুরস্কার এবং উজ্জ্বল কৃতিত্বের জন্য স্বর্ণপদক সহ ১৯১২ সালে প্রথম মহিলা চিকিৎসকদের মধ্যে একজন হয়ে চিকিৎসাবিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন তিনি।

১৯১২ সালে মাদ্রাজের সরকারি মাতৃত্ব ও চক্ষু হাসপাতালের প্রথম মহিলা হাউস সার্জন হন মুথুলক্ষ্মী। একজন ডাক্তার হিসেবে খারাপ নার্সিং ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন তিনি। উচ্চবিত্ত ও অভিজাত মহিলারা তাদের বাচ্চাদের দলিত রমণীদের থেকে স্তন্যপান করাতেন। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন তিনি। এরপর উচ্চতর পড়াশোনার জন্য ইংল্যান্ডেও গিয়েছিলেন তিনি। ১৯১৪ সালে ২৮ বছর বয়সে নেটিভ ম্যারেজ অ্যাক্ট, ১৮৭২ অনুসারে সুন্দরা রেড্ডি (Sundara Reddy) নামের এক ডাক্তারকে বিবাহ করেন মুথুলক্ষ্মী রেড্ডি, তবে এই বিবাহে দুটি শর্ত ছিল তাঁর। প্রথমত স্বামী তাঁর সঙ্গে সমান আচরণ করবেন অর্থাৎ নারী বলে পুরুষের তুলনায় খাটো চোখে দেখবেন না এবং মুথুলক্ষ্মীর স্বপ্নের পথে বাধা সৃষ্টি করা চলবে না। এই দুটি শর্ত থেকেই বুঝতে পারা যায় কতখানি আত্মমর্যাদাসম্পন্ন একজন মানুষ ছিলেন তিনি। নারীদের কাছে তিনি ছিলেন এক অনুপ্রেরণাস্বরূপ।

কলেজে থাকাকালীন মুথুলক্ষ্মী রেড্ডি সরোজিনী নাইডুর সঙ্গে দেখা করেন এবং নিয়মিত মহিলাদের সভায় যোগ দিতেন। অ্যানি বেসান্ত এবং মহাত্মা গান্ধীর দ্বারা ভীষণভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন তিনি। তাঁদের কাছ থেকেই নারী ও শিশুদের উন্নয়নের জন্য আত্মোৎসর্গের অনুপ্রেরণা তিনি পেয়েছিলেন। অন্তঃপুরবাসিনী নারীদের জন্য নারীমুক্তি আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন মুথুলক্ষ্মী রেড্ডি। ‘ওমেনস ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন’-এর অনুরোধ গ্রহণ করেন এবং ১৯২৬ সালে মাদ্রাজ আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে চিকিৎসার চর্চা একপ্রকার ছেড়েই দিয়েছিলেন মুথুলক্ষ্মী রেড্ডি। পরবর্তীকালে সর্বসম্মতিক্রমে তিনি আইনসভার ডেপুটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনিই বিশ্বের প্রথম মহিলা যিনি আইনসভার ডেপুটি প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন। পৌরসভা এবং আইনসভায় মহিলাদের ভোটাধিকারের জন্য আন্দোলনেরও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মুথুলক্ষ্মী। এমএলসি থাকাকালীন মেয়েদের জন্য অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার একটি প্রকল্প চালু করেছিলেন।

সর্বভারতীয় মহিলা সম্মেলনের প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি ছিলেন তিনি। অনাথ মহিলাদের বিষয়ে তিনি খুবই চিন্তা করতেন, তাদের থাকার জন্য বিনামূল্যে বোর্ডিং এবং থাকার ব্যবস্থাও করে দেন। পতিতালয় দমন এবং নারী ও শিশুদের অনৈতিক পাচার বন্ধের জন্য তিনি বিল পাস করেন। পতিতালয় থেকে উদ্ধারকৃত মেয়েদের আশ্রয়ের জন্য ‘আভাই হোম’ নামে একটি বাড়ি নির্মাণ করেন মুথুলক্ষ্মী রেড্ডি। নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব পাস করেন মুথুলক্ষ্মী। সরকার তাঁর প্রস্তাব গ্রহণ করে প্রসূতি হাসপাতালে একটি শিশু বিভাগ চালু করেছিল। পৌরসভার পাশাপাশি অন্যান্য স্থানীয় সংস্থাগুলি দ্বারা পরিচালিত সমস্ত স্কুল ও কলেজের ছাত্রদের নিয়মিত চিকিৎসামূলক পরিদর্শনের জন্য সুপারিশ করেছিলেন তিনি। দেবদাসী প্রথা বন্ধ করার জন্য এর বিরোধিতা করে অনেক আগে থেকেই নানারকম উদ্যোগ নেওয়া শুরু হয়েছিল। ১৯১৩ সালে ১৬ বছরের কম বয়সী মেয়েদের দেবদাসীরূপে উৎসর্গ করা বন্ধ করতে একটি বিল পাস হলেও তা বাতিল হয়ে যায় পরে। ১৯২৭ সালে রাজ্যের কাউন্সিলে মেয়েদের দেবদাসী হিসেবে উৎসর্গের জঘন্য প্রথা রদ করবার জন্য একটি বিল চালু করার কথা ভাবা হয়। গোটা মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি জুড়ে বেশ কয়েকটি সেমিনার ও সভার আয়োজন করেছিলেন তিনি এবং কয়েকশো দেবদাসীর সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন মুথুলক্ষ্মী রেড্ডি। এই বিল পাস করবার বিষয়ে জোরালো প্রস্তাবও রেখেছিলেন। কোচিনের দেবদাসীরা এই বিলের সমর্থনে মিছিল বের করেছিল। কিন্তু ডাণ্ডি অভিযানের পরে গান্ধীজির গ্রেফতারের প্রতিবাদে ১৯৩০ সালে কাউন্সিল থেকে মুথুলক্ষ্মী পদত্যাগ করলে এই বিল নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। অবশেষে ১৯৪৭ সালে ডিসেম্বরে মাদ্রাজ বিধানসভায় এই বিল পাস হয়েছিল। মাদ্রাজ আইনসভার অভিজ্ঞতা, সেখানে থাকাকালীন যে সমস্ত সামাজিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন সেসবের বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায় মুথুলক্ষ্মীর লেখা ঐতিহাসিক দিক থেকে মূল্যবান ‘মাই এক্সপেরিয়েন্স অ্যাজ আ লেজিসলেটর’ বইতে।

আজীবন নারীদের জন্য ভেবেছেন এবং প্রয়োজনমত ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করে গিয়েছেন মুথুলক্ষ্মী। তাঁরই প্রচেষ্টায় মুসলিম মেয়েদের জন্য একটি ছাত্রাবাস খোলা হয় এবং হরিজন মেয়েদের বৃত্তির বন্দোবস্ত করা হয়। সরকারের কাছে মুথুলক্ষ্মী সুপারিশ করেছিলেন যে পুরুষদের বিবাহের ন্যূনতম বয়স ২১ এবং মেয়েদের বিবাহের ন্যূনতম বয়স করা হোক ১৬। মহিলাদের জন্য বেশ কয়েকটি শৌচালয় নির্মাণের কাজ করেছিলেন তিনি। বস্তিবাসীদের চিকিৎসার উন্নতির জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন তিনি। ১৯৩০ সালে প্রতিষ্ঠা করেন অবভাই ইলম। হার্টগ শিক্ষা কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য ছিলেন তিনি। সারা দেশের নারীশিক্ষার অগ্রগতি বিষয়ে নিবিড় অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছিলেন সেই কমিটির সদস্য হিসেবে। মেয়েদের শিক্ষার উন্নয়নকল্পে যথোপযুক্ত ব্যবস্থাও নিয়েছিলেন। সর্বভারতীয় মহিলা সম্মেলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ জার্নাল ‘রোশিনি’র সম্পাদনার দায়িত্বও সামলেছিলেন তিনি দক্ষ হাতে। এছাড়াও মহিলা সমিতির মাসিক আরেকটি পত্রিকা ‘স্ত্রী ধরুমম’-এরও সম্পাদক ছিলেন তিনি। মুথুলক্ষ্মী রেড্ডি রাজ্য সমাজকল্যাণ বোর্ডের প্রথম চেয়ারপার্সন হয়েছিলেন। এছাড়াও মাদ্রাজ কর্পোরেশনের ‘আভাই হোম’-এর প্রথম অ্যাল্ডারওম্যান (Alderwoman) ছিলেন মুথুলক্ষ্মী রেড্ডি। মুথুলক্ষ্মীর এই সুবিশাল কর্মকাণ্ডের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল ক্যান্সার ত্রাণ তহবিল শুরু করা। এটি এখন একটি সর্বভারতীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে যেখানে ক্যান্সারের চিকিৎসা, গবেষণা পাশাপাশি চলে। ১৯৩৫ সালে মাদ্রাজ মেডিকেল কলেজের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে তাঁর ভাষণে তিনি ক্যান্সার রোগীদের জন্য একটি হাসপাতাল চালু করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। সমমনস্ক মানুষদের সমর্থনে অবশেষে ১৯৫২ সালে জওহরলাল নেহেরু কর্তৃক আদিয়ার ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। ১৯৫৪ সালের ১৮ জুন থেকে হাসপাতালটির কাজ শুরু হয়। সারা ভারত থেকে রোগীরা এখানে আসেন এই মারণরোগের চিকিৎসা করাতে। প্রতি বছর প্রায় ৮০ হাজার ক্যান্সার রোগীকে চিকিৎসা প্রদান করে এই প্রতিষ্ঠান। তামিল সঙ্গীত আন্দোলন, তামিল ভাষার উন্নয়নের জন্য কাজ করেছিলেন তিনি এবং তামিল শিক্ষক ও লেখকদের বেতন বৃদ্ধির প্রতিবাদ করেছিলেন মুথুলক্ষ্মী রেড্ডি।

তাঁর জীবনব্যাপী লড়াই, নারীমুক্তি অভিযান, মানবিকতা এবং সেবাপরায়ণতাকে সম্মান জানিয়ে ভারত সরকার তাঁকে ১৯৫৬ সালে ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কারে ভূষিত করে। মুথুলক্ষ্মী রেড্ডি একটি পুরস্কারের অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন যেটি ক্যান্সার প্রতিরোধে সেবা প্রদানকারী কোনো মহিলাকে প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মুথুলক্ষ্মীর প্রতি সম্মান জানিয়ে ২০১৯ সালের ৩০ জুলাই তাঁর ১৩৩তম জন্মদিন উপলক্ষে গুগল একটি ডুডল নির্মাণ করেছিল তাঁকে নিয়ে।

১৯৬৮ সালের ২২ জুলাই চেন্নাইতে ৮১ বছর বয়সে মুথুলক্ষ্মী রেড্ডির মৃত্যু হয়।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading