সববাংলায়

বেঙ্গল ল্যাম্পস : ভারতের প্রথম স্বদেশি ইলেকট্রিক বাল্ব কোম্পানি

বাঙালি ব্যবসায় অপটু — এইরকম কথা আজ প্রায় প্রবাদের মতো প্রচলিত এবং বাঙালিকে ছোট করে দেখানোর কাজে বহুল ব্যবহৃত। অথচ পরাধীন দেশে স্বদেশি আন্দোলনের ঢেউ এবং বিদেশি পণ্যবর্জনের জোয়ার যখন উঠেছিল তখন এই বাঙালিই ইংরেজের মুখাপেক্ষি না থেকে স্বাধীনভাবে স্বদেশি ব্যবসার মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বনের পথ দেখিয়েছিল গোটা ভারতকে। বাংলায় তৈরি প্রচুর দেশীয় পণ্য আজও সারা ভারতে সমানভাবে জনপ্রিয়। এই স্বদেশি আন্দোলনের উন্মাদনা যখন তুঙ্গে তখন তিনজন বাঙালি সন্তান কলকাতার বুকে ভারতবর্ষের প্রথম স্বদেশি ইলেকট্রিক বাল্ব তৈরি শুরু করে তা পৌঁছে দিয়েছিলেন সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে। তাঁদের তৈরি সেই বেঙ্গল ল্যাম্প ফিলিপসের মতো বিদেশি বাল্ব কোম্পানির ব্যবসাকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ করেছিল এবং অনেকটাই ধরাশায়ী করে ফেলেছিল। যে ফিলিপস কোম্পানির আজ রমরমা কয়েকজন বাঙালি তরুণের বাল্ব কোম্পানির সামনে তারা নিজের তৈরি বাজার হারিয়ে ফেলেছিল। বাঙালির এমন ব্যবসায়িক সাফল্যের ইতিহাস আজকের দিনে বিস্মৃত হয়ে গেছেন অনেকেই।

বেঙ্গল ল্যাম্পের প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে তার পশ্চাৎপট জেনে নেওয়া আবশ্যক। কলকাতার রাস্তা আলোকিত করতে যেসব ধরনের লাইটের ব্যবহার হয়েছে তার বিবর্তনের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত আকারে উল্লেখ করা যাক প্রথমে। উনিশ শতকের কলকাতার যে চিত্র আমরা সাহিত্যের পাতা থেকে কিংবা পুরনো পেইন্টিং থেকে পাই তাতে দেখতে পাওয়া যায় সন্ধ্যার পর কলকাতার রাস্তায় রাস্তায় জ্বলে উঠেছে গ্যাসের বাতি। লাইটপোস্টগুলির মাথায় ছোট ছোট সেইসব আলো জ্বালিয়ে দেওয়ার জন্যও বিশেষ লোক থাকত। এই গ্যাসের আলোর ব্যবহার মূলত কলকাতার বড়রাস্তাগুলির ওপরে, ইউরোপিয়ান পাড়াগুলিতেই দেখা যেত।

১৮৭৯ সালের ২৪ জুলাই পি.ডব্লিউ ফ্লুরি অ্যান্ড কোম্পানি কলকাতা শহরে বৈদ্যুতিক আলোর প্রথম প্রদর্শনী করেছিল। অবশ্য তখনও কলকাতায় পুরোদমে বৈদ্যুতিক আলো ঢোকেনি। এরপরে মূলত শহরে কার্বন আর্ক ল্যাম্প চালু হয়েছিল। এই ল্যাম্পগুলি আলো উৎপাদনের জন্য বৈদ্যুতিক আর্ক বা ভোল্টাইক আর্ক ব্যবহার করত। অন্যান্য ল্যাম্পের তুলনায় এই কার্বন আর্ক ল্যাম্প শহরের রাস্তাঘাট আলোকিতকরণের কাজে বাণিজ্যিকভাবেও অনেক বেশি ফলপ্রসূ প্রমাণিত হয়েছিল। ১৮৮৯ সালে কলকাতার হ্যারিসন রোড রাস্তায় প্রথম বৈদ্যুতিক বাতি স্থাপন করা হয়। সেই সময়ে ভারতবর্ষের ব্রিটিশ সরকার ১৮৯৫ সালে ক্যালকাটা ইলেকট্রিক লাইটিং অ্যাক্ট পাশ করে। প্রথম লাইসেন্সটির মেয়াদ ধার্য করা হয়েছিল ২১ বছর। এরপরেই কলকাতার ৫.৬৪ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে রাস্তায় কার্বন ল্যাম্প বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। ক্যালকাটা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কর্পোরেশন (CESC)-এর একটি ব্রোশিয়র বা প্রচারপত্র থেকে জানা যায় উপরিউক্ত এলাকার পরিমাণ এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬৭ বর্গকিলোমিটার।

কার্বন ল্যাম্প যখন চলছে কলকাতায়, ঠিক সেই সময়তেই টাংস্রাম নামের একটি হাঙ্গেরিয়ান কোম্পানি টাঙ্গস্টেন ফিলামেন্ট ল্যাম্প আবিষ্কার করেছিল। প্রথম ১৯০৪ সালে এই ল্যাম্পটি ইউরোপের বাজারে আনা হয়েছিল। তারপর স্বাভাবিকভাবেই ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা শহরেও এই হাঙ্গেরিয়ান ল্যাম্প এসে পৌঁছয়। ব্রিটিশ উপনিবেশগুলির মধ্যে প্রথম কলকাতাতেই এই হাঙ্গেরিয়ান লাইট এসে পৌঁছেছিল৷ শহর আলোকিত করবার জন্য ইউরোপ থেকে আমদানি করা এই হাঙ্গেরিয়ান আলো কিন্তু শহরবাসীর মধ্যে খুব একটা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি। এই আলোর বদলে শহরবাসী সেই পুরনো গ্যাসের বাতি এবং কার্বন আর্ক ল্যাম্পই বেশি পছন্দ করত।

১৯৩০ সাল পর্যন্ত কলকাতা শহরের রাস্তায় ওই গ্যাসের আলো এবং কার্বন আর্ক ল্যাম্পের রমরমা ছিল। তারপরেই বাজারে এসেছিল অধুনা খুবই জনপ্রিয় কোম্পানি ফিলিপস। ১৯৩০ সাল নাগাদই এই ফিলিপস ইলেকট্রিক কোম্পানি ভারতের বাজারে একেবারে জাঁকিয়ে বসেছিল। কলকাতা শহরের বুকে ৩২ চৌরঙ্গী রোডে মাত্র ৭৫জন কর্মচারী নিয়ে ফিলিপস তাদের কর্মকাণ্ড শুরু করেছিল পুরোদমে এবং অচিরেই তারা প্রভূত জনসমাদর লাভে সক্ষম হয়েছিল। ১৯৩০ থেকে ১৯৪১, এই এগারো বছরের মধ্যে তারা বাজার অনেকটাই দখল করে নিয়েছিল। এটা এমন একটা সময় যখন ভারতবর্ষে রাজনৈতিক অস্থিরতা তুঙ্গে। মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে আইন অমান্য আন্দোলনের ঢেউ তখন ছড়িয়ে গেছে সারা দেশে। বিদেশি পণ্যের বদলে স্বদেশি জিনিস ব্যবহারের কথা ঘোষণা করা হচ্ছে চতুর্দিকে। গান্ধীজী নিজে চরকা চালিয়ে স্বদেশি বস্ত্র উৎপাদনের বার্তা দিচ্ছেন। এমনই এক জাতীয়তাবাদী অনুভূতি সমগ্র দেশের মানুষের মনে তখন দানা বাঁধছে এবং স্বদেশি পণ্য ব্যবহার ও উৎপাদনের প্রবণতাও ক্রমবর্ধমান। এমনই এক পরিবেশ-পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বাংলার বাজারে বিদেশি ফিলিপস কোম্পানির একেবারে স্বদেশি প্রতিদ্বন্দ্বী এসে হাজির হয়েছিল। বিদেশি লাইটের বদলে স্বদেশি বাল্বের চাহিদা উপলব্ধি করে তিন ভাই সুরেন রায়, কিরণ রায় এবং হেমেন রায় ১৯৩২ সালে কসবায় বেঙ্গল ইলেকট্রিক ল্যাম্প ওয়ার্কস-এর (Bengal Electric Lamp Works) সূচনা করেন। এই তিনভাই ঢাকার নরসিন্দা জমিদার পরিবারের সন্তান। এঁদের মধ্যে সুরেন এবং কিরণ রায় জার্মানি থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ডিগ্রি লাভ করেন এবং দুজনেই যাদবপুরের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের বিশিষ্ট অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে হেমেন রায় ছিলেন একজন দক্ষ প্রশাসক। এই তিনজনে মিলে অবিভক্ত ভারতে স্বদেশি ল্যাম্পের ব্যবসার সূত্রপাত ঘটান।

গ্যাসের বাতি, কার্বন আর্ক ল্যাম্প বা ফিলিপসের আলো রাস্তাঘাটে, ইউরোপীয়দের বসতিতে, মূলত শহরাঞ্চল আলোকিতকরণের কাজেই ব্যবহৃত হত। বেঙ্গল ল্যাম্পের প্রথম লক্ষ্যই ছিল কেবল শহরের রাস্তাঘাট নয় স্থানীয় পরিবারগুলির কাছেও বাল্বের আলো পৌঁছে দেওয়া। বেঙ্গল ল্যাম্প অতি অল্প মূল্যে উন্নতমানের বাল্ব সরবরাহ করত। মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের ঘরে ঘরে অতি সহজেই প্রবেশাধিকার পেয়ে গিয়েছিল বেঙ্গল ল্যাম্প। সেইসঙ্গে আবার স্বদেশি আন্দোলনের প্ররোচনা বিশেষত মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে একটা জাতীয়তাবাদী ভাবধারার ঢেউ বেঙ্গল ল্যাম্পের বিক্রির পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। সেসময়ে বাজারে থাকা বিদেশি ফিলিপস কোম্পানির একচেটিয়া শাসনের পথে মূর্তিমান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বেঙ্গল ল্যাম্প। ফিলিপসের তুলনায় তারা তখন অনেক বেশি লাভের মুখ দেখেছিল।

চাহিদা যত বাড়তে থাকে বেঙ্গল ল্যাম্প বুঝতে পারে কসবার ওই কারখানাটুকু যথেষ্ট নয়। তখন যাদবপুরে বেঙ্গল ল্যাম্পের দ্বিতীয় কারখানা শুরু করা হয়। বাজারের একটি বড় অংশ চলে যায় বেঙ্গল ল্যাম্পের দখলে যেখানে একসময় ফিলিপসের আধিপত্য ছিল। উৎপাদনের ইউনিট সম্পরসারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেঙ্গল ল্যাম্পে কাজের সুযোগও খুলে যায়। বাঙালি যুবকদের সামনে কর্মসংস্থানের সুযোগের দ্বার উন্মুক্ত করে দেয় বেঙ্গল ল্যাম্প। এখানে উল্লেখ্য যে কিরণ রায় পরবর্তীকালে স্বতন্ত্র একটি ব্র্যান্ড কিরণ ল্যাম্পস চালু করেছিলেন।১৯৭০-এর দশকে বেঙ্গালুরুতে একটি কারখানা স্থাপন করে বেঙ্গল ল্যাম্প জাতীয় স্তরে উন্নীত হয়ে গিয়েছিল।

স্বাধীনতার পরেও দীর্ঘদিন মানুষকে উন্নতমানের বৈদ্যুতিক আলো সরবরাহ করেছিল বেঙ্গল ল্যাম্প কিন্তু ক্রমে বাজারে আরও অনেক নতুন ইলেকট্রিক কোম্পানির আগমন ঘটলে তারা পিছিয়ে পড়তে শুরু করে। এছাড়াও বেঙ্গল ল্যাম্পের অভ্যন্তরে বেশ কিছু গোলযোগ মাথাচাড়া দেয়। শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে ঘন ঘন অচলাবস্থা উৎপাদনকে প্রভাবিত করে এবং আধুনিকীকরণকে ব্যাহত করতে থাকে। বেঙ্গল ল্যাম্পের এই মন্দা ও শ্লথতার সুযোগ নিয়ে অন্যান্য কোম্পানি বাজারে জাঁকিয়ে বসতে শুরু করে এবং বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী নতুনতর ফ্লুরোসেন্ট টিউব, বাল্ব বাজারে নিয়ে আসতে থাকে। এমন প্রতিযোগিতাতে টিকে থাকতে না পেরে একসময় বেঙ্গল ল্যাম্প পরাজয় স্বীকার করে নেয় এবং অবশেষে ১৯৮৯ সালে বেঙ্গল ল্যাম্প কোম্পানি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়।

কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানকার বহু কর্মচারী চাকরিহারা হয়ে পড়েন এবং তাঁদের অবস্থা দিনের পদ দিন শোচনীয় হয়ে ওঠে। কেউ কেউ অন্য চাকরি জুটিয়ে নিতে পারলেও অনেকেই তা পারেননি। লকআউটের পর বেঙ্গল ল্যাম্পের প্রায় ৪৮০জন কর্মী বেকার হয়ে পড়েছিল। অন্যদিকে বেঙ্গালুরুর কারখানাটিও ১৯৮৯ সালেই বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে তা গোদরেজ কোম্পানির করায়ত্ত এবং তা গোদরেজ বেঙ্গল ল্যাম্পস নামক একটি রেসিডেন্সিয়াল প্রজেক্টে পরিণত হয়েছে। ইতিহাসের ছোঁয়াটুকু রাখবার জন্যই বেঙ্গল ল্যাম্পস নামটুকুকে মুছে দেওয়া হয়নি।

মনে রাখতে হবে যখন বেঙ্গল ল্যাম্প কোম্পানি বন্ধ হয়ে যায় তখন পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকারের শাসন চলছিল। সেসময় শাসক এবং বিরোধী দলগুলি কোম্পানির এমন অচলাবস্থার জন্য ক্রমাগত একে অপরকে দায়ী করে গেছে। এখানকার শ্রমিকেরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে নির্বাচনের আগে সমস্ত রাজনৈতিক দল এসে কারখানাটি পুনরায় চালু করবার এবং অনেক পরিবারকে বাঁচানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে কিন্তু একটা সময় পর তারা আর কেউ আসেনি। বেঙ্গল ল্যাম্পের কারখানা ছত্রাক এবং লতা-গুল্মে ঢেকে গেছে।

৮০-এর দশকের শেষদিকেই বামফ্রন্ট সরকারের অভ্যন্তরে বেঙ্গল ল্যাম্পকে কেন্দ্র করে এক বিতর্ক দানা বেঁধে উঠেছিল। তৎকালীন বাম সরকারের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর পুত্র চন্দন বসু বেঙ্গল ল্যাম্পের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সেসময়কার বাম সরকারের পিডব্লিউডি মন্ত্রী এবং আরএসপি-এর দীর্ঘদিনের সদস্য যতীন চক্রবর্তী অভিযোগ করেন যে মুখ্যমন্ত্রী নিজের পুত্র জড়িত থাকায় অন্যান্যদের তুলনায় বেঙ্গল ল্যাম্পকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন, বিশেষত পিডব্লিউডিকে সমস্ত বাল্ব এবং টিউব বেঙ্গল ল্যাম্পের কাছ থেকে কেনাবার জন্য চন্দনের যে জোরাজুরি তাকে উৎসাহ দিচ্ছেন। এইভাবে যতীন চক্রবর্তী এবং জ্যোতি বসুর মধ্যে একটি সাময়িক মনোমালিন্য দেখা দেয়। জ্যোতি বসু আরএসপি নেতার এই অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেন কিন্তু যতীনবাবু নিজের অভিযোগে স্থির থাকলে তাঁকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছিল। আরএসপি দল সেসময় প্রথমে মন্ত্রীসভা ত্যাগ করবার হুমকি দিলেও পরবর্তীতে জ্যোতি বসুর পক্ষেই দাঁড়ায় এবং যতীন চক্রবর্তীকে বহিষ্কার করে, যিনি মন্ত্রীসভা থেকেও পদত্যাগ করেছিলেন।

এইসব জটিলতা একরকম মিটে গেলেও কিন্তু বেঙ্গল ল্যাম্পের ভবিষ্যত অন্ধকারেই রয়ে গিয়েছিল এবং আজও সেখানে কোনও আলোর দিশা দেখা যায় না৷ কালের গর্ভে তলিয়ে গেলেও এই বেঙ্গল ল্যাম্প কোম্পানির সঙ্গে বাঙালির সফল ব্যবসার যে গৌরবময় ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে তাকে ভুলে গেলে চলবে না।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading