আমাদের প্রিয় বাংলা ভাষা একটি অন্যতম উৎকৃষ্ট ভাষা, এর শব্দ ও সাহিত্য ভান্ডার অপরিসীম। যেকোনো উৎকৃষ্ট ভাষার একটি প্রধান সম্পদ হল প্রবাদ, ইংরেজিতে যাকে বলে proverb। বাংলা ভাষায় প্রাচীনকাল থেকেই অনেক প্রবাদ লোকমুখে বা সাহিত্যে প্রচলিত আছে। এই রকমই একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ হল “ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার”। এই প্রবাদটি ব্যবহার করা হয় ব্যাঙ্গার্থে — যেসব মানুষ বড় বড় কথা বলে কিন্তু কাজের কাজ করতে পারে না তাদের সীমাবদ্ধতা বোঝাতে। এই প্রবাদটির উৎপত্তির পিছনে একটি লোককাহিনি জড়িত আছে।
সাম্প্রতিক পোস্ট
কাহিনি অনুসারে, এক গ্রামে বাস করত নিধিরাম বা আন্দিরাম নামের একজন লোক। লোকটি নিজের সাহস এবং শক্তির কথা জাহির করতে খুবই ভালবাসতো – নিজের পরিচয় দিত পালোয়ান দলের সর্দার হিসেবে। গ্রামের লোকও মনে করত, এত-ই যখন বলে সে হয়ত সত্যিই অনেক বলশালী ও সাহসী। সবাই তার কথা বিশ্বাস করত এবং এই ভরসায় থাকত যে কখনও যদি গ্রামে ডাকাত পরে তাহলে আর চিন্তা নেই।
একদিন গ্রামে সত্যিই ডাকাত পরলো এবং গ্রাম শুদ্ধ লুটপাট করে নিয়ে গেলো। গ্রামের লোকেরা নিধিরামের ভরসায় থাওলেও নিধিরামের ছায়াও কেউ দেখতে পেল না। ডাকাতির এই ঘটনা গ্রামের মানুষের চোখ খুলে দিল– এই যে নিধিরাম এত বড় বড় কথা বলতো কিন্তু ডাকাতির সময় সে কোথায় ছিল? নিধিরামকে তারা প্রশ্ন করল, তোমার মতো একজন সর্দার থাকতে এই ঘটনা কীভাবে ঘটলো? নিধিরাম তখন বলতে লাগল, আমার কাছে কি কোনও ঢাল-তরোয়াল আছে নাকি যে আমি ডাকাত বধ করব? যদি ঢাল-তরোয়াল থাকত তাহলে দেখিয়ে দিতাম ডাকাতদের কত বড় ক্ষমতা!
সেদিন থেকে লোকে নিধিরামকে নিয়ে এক প্রবাদ বেঁধে ফেলল, “ঢাল নেই তরোয়াল নেই নিধিরাম সর্দার”। ঢাল তরোয়াল ছাড়া সে এমনিতেই কিছু পারবে না শুধু মুখে বড় বড় কথা বলা ছাড়া।
আজকাল এই নিধিরামদের মতো মানুষের সংখ্যা বেশি – যারা নিজে কিছু করতে পারছে না বলে অজুহাত দেখায়, নিজেদের অযোগ্যতা ঢাকে কথার মারপ্যাঁচে
‘ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার’ প্রবাদটি দিয়ে বাক্যগঠন:
১। পড়াশোনা না করেই পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার কথা বলা ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দারের মতো।
২। কোনও ক্ষমতা বা যোগ্যতা ছাড়াই নেতৃত্ব দাবি করাটা ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার হওয়ার নামান্তর।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।
তথ্যসূত্র
- প্রবাদের উৎস সন্ধান – সমর পাল, শোভা প্রকাশ / ঢাকা ; ৭৮ পৃঃ


আপনার মতামত জানান