দেখতে দেখতে ডিসেম্বর চলে এসেছে, শীত পড়েছে কলকাতায়। শীতকালে, বিশেষ করে এই ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাস পিকনিকের জন্য আদর্শ সময়। ভাবছেন তো কোথায় যাওয়া যায়? আপনার জন্য রইল কলকাতার সেরা ৫টি পিকনিকের জায়গার সন্ধান।
১) ইকো পার্ক
কলকাতার নিউটাউনে অবস্থিত ইকো পার্ক বর্তমানে কলকাতার সেরা ৫টি পিকনিকের জায়গার মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয়। ভেতরে বড় একটি লেক রয়েছে, এই লেকে বোটিং করা যায়। পার্কে একাধিক প্রবেশদ্বার বা গেট রয়েছে। পিকনিকের জন্য ২ নং গেট দিয়ে প্রবেশ করলে ভাল হয়। কারণ এখান দিয়ে ঢুকলে লেক কাছে পড়বে এবং লেকের পাশে চাদর বিছিয়ে বসে পিকনিক করা যায়।

প্রতি সোমবার ইকো পার্ক বন্ধ থাকে। সপ্তাহের বাকি দিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা অবধি পার্ক খোলা থাকে। মঙ্গল থেকে শনিবার সকাল ১১টায় পার্ক খোলে এবং রবিবার ও অন্যান্য ছুটির দিনে সকাল সাড়ে দশটায় পার্ক খোলে। এখানে ৩০ টাকা মূল্যের টিকিট কেটে প্রবেশ করতে হয়। পিকনিক বলতে এখানে রান্না করতে পারবেন না, শুধুমাত্র খাবার নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। জোরে গান চালাতে না পারলেও নিজেদের মধ্যে ছোটখাটো খেলার আয়োজন করতে পারবেন। লেক ছাড়াও এখানে প্রচুর দেখবার জায়গা আছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বিশ্বের ৭ আশ্চর্যের ছোট সংস্করণ, ফুলের বাগান, ফলের বাগান, মুখোশের বাগান, বাঁশ বাগান, প্রজাপতি বাগান, হরিণের বাগান, ট্রপিকাল রেইনফরেস্ট, বাংলার গ্রাম ইত্যাদি। ইকো পার্কের দর্শনীয় স্থান নিয়ে দেখুন এখানে।
২) আলিপুর চিড়িয়াখানা
কলকাতার আলিপুর অঞ্চলে অবস্থিত আলিপুর চিড়িয়াখানা কলকাতার সেরা ৫টি পিকনিকের জায়গার মধ্যে অন্যতম। বিশেষ করে ছোটদের মধ্যে জায়গাটি অধিক জনপ্রিয়। দেখবার মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, আফ্রিকান সিংহ, একশৃঙ্গ গন্ডার, হাতি, জাগুয়ার, জিরাফ, জেব্রা, বনমানুষ, জলহস্তী, বিভিন্ন ধরনের সরীসৃপ প্রাণীদের জন্য আছে সরীসৃপ ভবন, বিভিন্ন ধরনের পাখিদের জন্য পক্ষীভবন ইত্যাদি।

বড়দের জন্য টিকিটমূল্য ৫০ টাকা এবং ছোটদের জন্য ২০ টাকা। প্রতি বৃহস্পতিবার চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকলেও ছুটির দিন পড়লে বৃহস্পতিবারও খোলা থাকে, বিশেষ করে শীতকালে সপ্তাহে সাত দিনই খোলা থাকে। সকাল নটা থেকে বিকাল সাড়ে পাঁচটা অবধি চিড়িয়াখানা খোলা থাকে। পিকনিক বলতে এখানে রান্না করতে পারবেন না। তবে বাড়ি থেকে রান্না করে আনা খাবার নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। সঙ্গে শালপাতা প্লেট বা বাটি নিতে ভুলবেন না। এখানে প্লাস্টিকের বোতল, খাবার-দাবারের প্যাকেট ইত্যাদি ফেলে আসবেন না, অন্যথায় জরিমানা হতে পারে। জোরে গান চালানো যাবে না, ব্যাটমিন্টন বা অন্যান্য খেলাধুলা করা যাবেনা।
৩) সায়েন্স সিটি
কলকাতার তপসিয়া অঞ্চলে অবস্থিত সায়েন্স সিটি ভারতীয় উপমহাদেশের মধ্যে বৃহত্তম বিজ্ঞান সংক্রান্ত বিনোদন পার্ক এবং কলকাতার সেরা ৫টি পিকনিকের জায়গার মধ্যে অন্যতম। দোলযাত্রা বাদে বছরের ৩৬৪ দিন এই পার্ক খোলা থাকে।

সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যে ৭টা অবধি পার্কে থাকতে পারবেন। এখানে ৭০ টাকা মূল্যের টিকিট কেটে প্রবেশ করতে হয়। এই টিকিটে আপনি বিজ্ঞানের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরতে পারবেন। তবে পিকনিকের জন্য আলাদা একটি জায়গা আছে, যেখানে প্রবেশ করতে হলে আপনাকে আরও ৩০ থেকে ৩৫ টাকা মূল্যের টিকিট কেটে প্রবেশ করতে হবে। আপনি বাইরের খাবার নিয়েও যেতে পারেন আবার এখানে খাবার রান্নাও করতে পারেন। রান্নাঘরের ভাড়া ১৫০০ টাকা। পিকনিকের জন্য যে জায়গা আছে তা সকাল ১০টা থেকে বিকাল সাড়ে চারটে অবধি খোলা থাকে।
আরও পড়ুন: কলকাতার কাছে পিকনিক স্পট
৪) কলকাতা ময়দান
প্রায় চারশো একর জায়গা নিয়ে অবস্থিত কলকাতা ময়দান কলকাতার দ্বিতীয় বৃহত্তম উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ এবং একে কলকাতার ফুসফুস বলা হয়ে থাকে। এটি কলকাতার সেরা ৫টি পিকনিকের জায়গার মধ্যে অন্যতম। এখানে প্রবেশের জন্য কোন মূল্য লাগে না। ভারতীয় সেনাবাহিনীর আওতাধীন এই মাঠে কিন্তু আগুন জ্বেলে রান্না করা বা জোরে গান বাজনা চালানো নিষিদ্ধ, তবে নিজেদের মধ্যে খেলার আয়োজন করা যায়। পিকনিক করলেও জায়গা একদম নোংরা করে আসবেন না, তাহলে জরিমানা হতে পারে। পিকনিকের আনন্দের সাথেই আপনি কাছাকাছি অবস্থিত ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ঘুরে নিতে পারেন।
৫) প্রিন্সেপ ঘাট
বিদ্যাসাগর সেতুর ঠিক তলায় হুগলী নদীর তীরে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গের ওয়াটার গেট ও সেন্ট জর্জেস গেটের মাঝে অবস্থিত প্রিন্সেপ ঘাট কলকাতার সেরা ৫টি পিকনিকের জায়গার মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয়। ১৮৪১ সালে বিখ্যাত ইংরেজ ঐতিহাসিক জেমস প্রিন্সেপের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়।

স্মৃতিসৌধ লাগোয়া মাঠটি শীতকালে পিকনিক করার জন্য আদর্শ জায়গা। এখানে প্রবেশের জন্য কোন প্রবেশ মূল্য লাগে না। রান্না করে খাওয়ার অনুমতি নেই। কেনা খাবার কিংবা বাড়ি থেকে রান্না করে আনা খাবার দলবল মিলে একযোগে হৈ হৈ করে খাওয়াই যেতে পারে। গানবাজনা করা বা নিজেদের মধ্যে খেলার আয়োজন করার মধ্যে সেইভাবে নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও যেহেতু এটা প্রাইভেট পিকনিক স্পট নয়, তাই আপনার আনন্দ যেন অন্যের কষ্টের কারণ না হয়ে দাঁড়ায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। কাছেই হুগলী নদী তাই বাচ্চারা খেলতে খেলতে যাতে নদীর পাড়ে না চলে যায় সেদিকে নজর রাখা খুব জরুরি। পিকনিকের পাশাপাশি এখানে নৌকা করে নদীতে ভ্রমণের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।
সর্বশেষ সম্পাদনার সময়কাল – ২০২৪
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।
তথ্যসূত্র
- নিজস্ব সংকলন


আপনার মতামত জানান