শীতকাল মানেই পিকনিকের সময়। তবে শীতকালই শুধু নয়, সারা বছর ধরেই পিকনিক করা যায়। কলকাতার আশেপাশে পিকনিক স্পট ছড়িয়ে রয়েছে অজস্র। সারা বছর ধরে কলকাতার কাছাকাছি পিকনিক স্পটতে মানুষ ভিড় জমালেও শীত পড়লে তো কথাই নেই। সেই সময় কলকাতার আশেপাশে পিকনিক স্পটগুলো একেবারে কানায় কানায় ভরে ওঠে, বিশেষ করে ডিসেম্বর এবং জানুয়ারি মাসে। আসুন এক নজরে কলকাতার কাছাকাছি পিকনিক স্পটগুলো নিয়ে বিস্তারিত দেখে নিই।
১) জওহরকুঞ্জ পার্ক
কলকাতা থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরত্বে উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার ব্যারাকপুরে অবস্থিত জওহরকুঞ্জ পার্ক সপরিবারে পিকনিক করতে যাবার আদর্শ স্থান। কলকাতার কাছাকাছি পিকনিক স্পটগুলোর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় এই পার্ক।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আরবান রিক্রিয়েশন ফরেস্ট্রি ডিভিশন দ্বারা পরিচালিত এই পার্কের ভিতরের সবুজ মনোরম পরিবেশ এবং পাশে বয়ে চলা গঙ্গার হাওয়া এই দুইয়ে মিলে পিকনিক জমে উঠবে। শিশুদের জন্য আলাদা পার্ক রয়েছে। পার্কের ভেতরে প্লাস্টিক বা অন্য কোন দ্রব্য ফেলে পার্কটি নোংরা করবেন না। পার্কে প্রবেশ মাথাপিছু কিছু টাকা ধার্য করা আছে, তা ছাড়াও পিকনিক আয়োজন করতে হলে আলাদা টাকা দিয়ে পিকনিকের অনুমতি নিতে হবে। মাইক বাজানো, মদ খাওয়া, ক্রিকেট জুয়া বা ভলিবল খেলা নিষিদ্ধ। তাছাড়া এখানে থার্মোকল বা প্লাস্টিকের প্লেট বা গ্লাস একেবারে নিষিদ্ধ। এখানে পিকনিকের আরও বিস্তারিত নিয়ম তথা জওহরকুঞ্জ পার্ক ভ্রমণ নিয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন এখানে।
২) পূজালি নেতাজি পার্ক
কলকাতা থেকে মাত্র ৩২ কিমি দূরত্বে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার বজবজের পূজালিতে অবস্থিত নেতাজি পার্ক কলকাতার কাছাকাছি পিকনিক স্পটগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। পিকনিকের জন্য সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যে ৬টা অবধি পার্ক খোলা থাকে। গ্রীষ্মকালে সন্ধ্যে ৭টা অবধি এই পার্ক খোলা থাকে। পার্কটিতে প্রবেশ মূল্য ১০টাকা। হুগলী নদীর তীরে অবস্থিত এই পার্ক থেকে আপনি হুগলী নদী পারাপারকারী জাহাজ দেখতে পাবেন।

এখানে মোট ৩৫ টি পিকনিক স্পট সম্বলিত এই পার্কে পিকনিক স্পটের ভাড়া ন্যূনতম ২৫০০ টাকা এবং সর্বাধিক ১২০০০ টাকা। রান্নার ব্যবস্থা নিজেদের করতে হবে। ছোট খাটো মজাদার প্রতিযোগিতা মূলক খেলার আয়োজন করা যেতেই পারে তবে ক্রিকেট এবং ফুটবল খেলায় নিষেধাজ্ঞা আছে। পিকনিক স্পট বুকিং না করে বাইরে থেকে খাবার কিনেও প্রবেশ করতে পারেন তবে বাইরের খাবার নিয়ে পার্কে খেতে হলে ১০০টাকা মাথা পিছু প্রবেশমূল্য দিয়ে পার্কে প্রবেশ করতে হবে। পার্কে প্লাস্টিক এবং থার্মোকলের প্লেট, বাটি বা জলের গ্লাস এবং ডিজে বক্স ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে। যত্র তত্র আবর্জনা বা পান ও গুটখার পিক ফেললে ২০০ টাকা অবধি জরিমানা হতে পারে। কাছেই নদীর পাড় থাকায় বাচ্চারা যাতে খেলতে খেলতে সেদিকে না চলে যায় সেদিকে অভিভাবকদের নজর রাখতে হবে।
আরও পড়ুন: কলকাতার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট
৩) বনবীথি পার্ক
কলকাতা থেকে মাত্র ৩৬ কিমি দূরে হুগলী জেলার বৈদ্যবাটিতে অবস্থিত বনবীথি পার্ক কলকাতার কাছাকাছি পিকনিক স্পট গুলোর মধ্যে অন্যতম।

পার্কটি সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এই পার্কে ৩০০ বর্গফুটের দুই ধরনের পিকনিক স্পট আছে – একটি অ্যাসবেস্টসের ছাউনি দেওয়া, অন্যটি ছাউনি বিহীন খোলা আকাশের তলায়। পার্কে প্রবেশ মূল্য ৩০টাকা। পিকনিক না করে কেবল ভ্রমণের জন্য আপনি এই পার্কে নির্দিষ্ট প্রবেশ মূল্য সহ প্রবেশ করতে পারেন। রান্নার ব্যবস্থা নিজেদের করতে হবে। পিকনিকের পাশাপাশি আপনি পার্ক অধীনস্থ জলাশয়ে নির্দিষ্ট প্রবেশ মূল্যের বিনিময়ে বোটিং করতে পারেন। এখানে কিন্তু বক্স দ্বারা গান বাজানো এবং প্লাস্টিক বা থার্মোকল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আছে। জলাশয় থাকার কারণে বাচ্চারা যাতে খেলতে খেলতে সেদিকে চলে না যায় সেটা যেমন খেয়াল রাখতে হবে।
৪) নিউ দীঘা বিনোদন পার্ক
কলকাতা থেকে মাত্র ৪১ কিমি দূরে হুগলী জেলার চন্দননগরে অবস্থিত নিউ দীঘা বিনোদন পার্কটি কলকাতার কাছাকাছি পিকনিক স্পট গুলোর মধ্যে একটি স্পট হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।

এই কলকাতার কাছাকাছি পিকনিক স্পটটিতে সকাল ৮ টা থেকে সন্ধ্যে ৬ টা অবধি খোলা থাকে। নির্দিষ্ট প্রবেশমূল্যের বিনিময়ে এই এখানে আপনি প্রবেশ করতে পারবেন। এখানে পিকনিক স্পটেরও রকমফের আছে যেমন – কটেজ ছাড়া ও কটেজ সহ। রান্নার ব্যবস্থা নিজেদের করতে হবে। এই পার্কের ভেতর টয়ট্রেন, জলাশয়ে বোটিং সহ আরও নানান বিনোদনের উপকরণ আছে । পৃথক পৃথক প্রবেশ মূল্যের বিনিময়ে এই সমস্ত রাইডগুলিতে চাপতে পারবেন। নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা মূলক ছোট খাটো খেলা এবং গান বাজনার অনুমতি থাকলেও প্রবল শব্দে ডিজে বক্স বাজানো এবং থার্মোকল বা প্লাস্টিকের খাবার সামগ্রী ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।
৫) ফলতা
কলকাতা থেকে প্রায় ৫০ কিমি দূরত্বে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলায় নদীর পাড়ে অবস্থিত ফলতা কলকাতার কাছাকাছি পিকনিক স্পট গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি স্পট। পাবলিক পিকনিক স্পটে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পিকনিক করতে পারেন। পানীয় জলের চাহিদা মেটাতে স্থানীয় প্রশাসনের তরফে তৈরি নলকূপ ব্যবহার করতে পারেন। তবে শৌচালয়ের অভাব রয়েছে।

এই কলকাতার কাছাকাছি পিকনিক স্পটটিতে রান্নার ব্যবস্থা নিজেদের করতে হবে। পিকনিকের দল নিজেদের পছন্দ মত গান-বাজনাও যেমন করতে পারবে, তেমন খেলাধূলার আয়োজনও করতে পারবে এখানে। কাছেই নদী থাকায় বাচ্চারা খেলতে খেলতে যাতে নদীর পাড়ে না চলে যায় সেদিকে নজর রাখা খুব জরুরি। নদীর পাড়ে বিনামূল্যের পিকনিক স্পটটি ছাড়াও ধারে কাছে বেশ কিছু পিকনিক স্পট রয়েছে যেখানে নির্দিষ্ট মূল্যের বিনিময়ে পিকনিক করার স্পট ও রান্নার সরঞ্জাম ও অন্যান্য সামগ্রীর ব্যবস্থা করা হয়। পিকনিক করার আনন্দের সাথে সাথে খেয়াল রাখবেন যত্রতত্র প্লাস্টিক, আবর্জনা এবং খাবার প্লেট ফেলবেন না। পিকনিকের পাশাপাশি এখানে নৌকা করে নদীতে ভ্রমণের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।
আরও পড়ুন: ইকো পার্কের পিকনিক স্পট
৬) উল্লাস পিকনিক স্পট
কলকাতা থেকে মাত্র ৫০ কিমি দূরত্বে হুগলী জেলায় অবস্থিত উল্লাস পিকনিক স্পট কলকাতার কাছাকাছি পিকনিক স্পটগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। পিকনিকের সময় সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫ টা। এটি সম্পূর্ণ প্লাস্টিক মুক্ত একটি এলাকা। এখানে আলাদা আলাদা বেশ কয়েকটি স্পট রয়েছে, যেগুলো আলাদাভাবে বুক করতে হবে। প্রতিটি স্পটেই শৌচাগার, জলের ব্যবস্থা, ইলেকট্রিকের ব্যবস্থা, ছাউনি দেওয়া রান্না করার জায়গা এবং বিশ্রাম নেওয়ার জন্য কটেজের ব্যবস্থা আছে।

মাথায় রাখবেন এই কলকাতার কাছাকাছি পিকনিক স্পটটি কেবলই পরিবার, স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রী বা অফিস পিকনিকের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়। শুধুমাত্র পুরুষদের দলের জন্য এই স্পটগুলি ভাড়া দেওয়া হয়না। রান্নার ব্যবস্থা নিজেদের করতে হবে। স্পটের ভেতর বাস বাদে বাইক এবং চার চাকা গাড়ির জন্য কোন পার্কিং মূল্য নেই। বাসের জন্য ১০০ টাকা পার্কিং মূল্য লাগবে। পিকনিক স্পটের ভেতর মদ্যপান কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। সিগারেট গুটখা ইত্যাদির প্যাকেট, খাবারের প্যাকেট, খাবারের থালা, গ্লাস, বাটি এবং খাবারের প্যাকেট এবং বেঁচে যাওয়া খাবার যেখানে সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলবেন, অন্যথায় জরিমানা দিতে হবে। বাচ্চারা যাতে গাছের ফুল না ছেঁড়ে সেদিকে অভিভাবকদের নজর দিতে হবে।
৭) ডায়মন্ড হারবার
কলকাতা থেকে প্রায় ৫২ কিমি দূরত্বে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলায় নদীর পাড়ে অবস্থিত ডায়মন্ড হারবার কলকাতার আশেপাশে পিকনিক স্পট গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। ডায়মন্ড হারবার পুরসভার উদ্যোগে কেল্লার মাঠে পরিবেশ বান্ধব পিকনিক স্পট গড়ে উঠেছে। ১০ টাকা প্রবেশ মূল্যের বিনিময়ে আপনি মাঠে প্রবেশ করতে পারবেন । পিকনিক করতে চাইলে আপনাকে ১০০ টাকার বিনিময়ে স্পট সংরক্ষণ করতে হবে।

রান্নার ব্যবস্থা নিজেদের করতে হবে। নিজেদের ইচ্ছে মত আপনি এখানে গান-বাজনাও যেমন করতে পারবেন, তেমনি খেলাধূলার আয়োজনও করতে পারবেন এখানে। কাছেই নদী থাকায় বাচ্চারা খেলতে খেলতে যাতে নদীর পাড়ে না চলে যায় সেদিকে নজর রাখা খুব জরুরি। রোদের হাত থেকে বাঁচতে এখানে ডিলাক্স রুম ও ডিলাক্স তাঁবুরও ব্যবস্থা আছে, নির্দিষ্ট মূল্যের বিনিময়ে। তবে মাথায় রাখবেন এই তাঁবু কিংবা ঘরগুলিতে রাত কাটাতে পারবেন না। পিকনিকের ফাঁকে স্থানীয় বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলি ঘুরে আসতে পারেন। পিকনিক করা ছাড়াও ডায়মন্ড হারবার একটি উল্লেখযোগ্য ভ্রমণস্থান। সেই ভ্রমণের বিস্তারিত জানতে পড়ুন এখানে ।
৮) গড়চুমুক
কলকাতা থেকে প্রায় ৬০ কিমি দূরে হাওড়া জেলায় অবস্থিত গড়চুমুক কলকাতার আশেপাশে পিকনিক স্পট গুলোর মধ্যে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। নদীর ধারে খোলা আকাশের তলায় সাধারণত পিকনিক হয়। পিকনিক স্পটে প্রবেশ মূল্য ১৫ টাকা। এছাড়া দু চাকা, চারচাকা, টোটো, ভ্যান এবং বাস পারকিংয়ের জন্য পৃথক পৃথক মূল্য দিতে হবে।

রান্নার ব্যবস্থা নিজেদের করতে হবে। সরকারী তরফে এখানে শৌচাগার এবং পানীয় জলের ব্যবস্থাও আছে। নিজেদের মধ্যে খেলার আয়োজন করার ক্ষেত্রে সেইভাবে নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও বক্স বা ডিজে বাজানো, মদ্যপান করা, থার্মোকল এবং প্লাস্টিকের খাবার এবং যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা নিষিদ্ধ। পিকনিকের পাশাপাশি কাছেই অবস্থিত ৫৮টি স্লুইস গেট সম্বলিত বিশ্বের একমাত্র নদী বাঁধ ৫৮ গেট দেখতে যেতে পারেন । কাছেই দুই নদীর সঙ্গমস্থল, তাই বাচ্চারা খেলতে খেলতে যাতে নদীর পাড়ে না চলে যায় সেদিকে নজর রাখা খুব জরুরি। পিকনিকের পাশাপাশি এখানে নৌকা করে নদীতে ভ্রমণের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন। পিকনিক ছাড়াও এখানে আলাদা যারা ঘুরতে যেতে চান, তাঁরা সেই গড়চুমুক ভ্রমণের খুঁটিনাটি জানতে পড়ুন এখানে।
আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় পিকনিক স্পট
৯) কল্যাণী পিকনিক গার্ডেন
কলকাতা থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে নদীয়া জেলায় অবস্থিত কল্যাণী পিকনিক গার্ডেন কলকাতার কাছাকাছি পিকনিক স্পট গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। নির্দিষ্ট প্রবেশমূল্য দিয়ে পার্কে প্রবেশ করতে হয়। পিকনিক আয়োজন করতে হলে আলাদা টাকা দিয়ে পিকনিকের অনুমতি নিতে হবে।

পার্কটি সকাল ৭ টায় খুলে বিকেল ৫ টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। পিকনিকের জন্য খোলা মাঠে বেশ কিছু শেড বানানো আছে। প্রতিটি শেডের মূল্য আলাদা। রান্নার ব্যবস্থা নিজেদের করতে হবে। পিকনিকে মিউজিক চালানো যায় না বা অ্যালকোহল নিয়ে যাওয়া যায় না।এখানে থার্মোকল বা প্লাস্টিকের প্লেট বা গ্লাস একেবারে নিষিদ্ধ। কাগজ বা শালপাতার প্লেট ব্যবহার করতে পারেন। পিকনিকের জন্য পার্কে পর্যাপ্ত জল ও নির্দিষ্ট শৌচাগারের ব্যবস্থা রয়েছে। মাথায় রাখবেন ডি এসল আর ক্যামেরা নিয়ে পার্কে প্রবেশ করায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
১০) দেউলটি
কলকাতা থেকে প্রায় ৬২ কিমি দূরে হাওড়া জেলার বাগনানে রূপনারায়ণ নদের পাড়ে অবস্থিত দেউলটি কলকাতার কাছাকাছি পিকনিক স্পট গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। পিকনিকের পাশাপাশি এখানকার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হল কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বসতবাড়ি।

এখানে পিকনিক করার জন্য আলাদা করে কোন প্রবেশ মূল্য নেই। মূলত নদীর চরে নিজেরা রান্না করে খাওয়ার মাধ্যমে পিকনিক করাই এখানে রীতি। গান বাজনা নিয়ে এখানে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে নদীর কাছাকাছি পাড়ে নামায় প্রশাসনের তরফে নিষেধাজ্ঞা আছে। পিকনিকের আনন্দের মধ্যে এই বিষয়টি অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। ছোট বাচ্চারা যাতে নদীর তীরে না চলে যায় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। পিকনিক করা ছাড়াও দেউলটি একটি উল্লেখযোগ্য ভ্রমণস্থান। দেউলটি ভ্রমণের খুঁটিনাটি জানতে পড়ুন এখানে।
১১) গাদিয়ারা
কলকাতা থেকে প্রায় ৬৫ কিমি দূরত্বে হাওড়া জেলায় হুগলী নদী, দামোদর নদ এবং রূপনারায়ণ নদের সঙ্গমস্থলে অবস্থিত গাদিয়ারা কলকাতার কাছাকাছি পিকনিক স্পট গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এখানে নদীর পাড়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পিকনিক করতে পারেন। পানীয় জলের চাহিদা মেটাতে স্থানীয় প্রশাসনের তরফে তৈরি নলকূপ ব্যবহার করতে পারেন।

রান্নার ব্যবস্থা নিজেদের করতে হবে। পিকনিকের দল নিজেদের পছন্দ মত গান-বাজনাও যেমন করতে পারবে, তেমন খেলাধূলার আয়োজনও করতে পারবে এখানে। কাছেই তিন নদীর সঙ্গমস্থল তাই বাচ্চারা খেলতে খেলতে যাতে নদীর পাড়ে না চলে যায় সেদিকে নজর রাখা খুব জরুরি। পিকনিকের পাশাপাশি এখানে নৌকা করে নদীতে ভ্রমণের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন। শুধু পিকনিকের জন্যই নয়, গাদিয়ারা অনেকেই সপ্তাহের শেষে ঘুরতে যান। গাদিয়ারা ভ্রমণের সেইসব খুঁটিনাটি জানতে পড়ুন এখানে।
১২) টাকি
কলকাতা থেকে প্রায় ৬৫ কিমি দূরত্বে ইছামতী নদীর পাড়ে অবস্থিত টাকি কলকাতার কাছাকাছি পিকনিক স্পট গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। শীতকালে কলকাতা, হাওড়া, উত্তর চব্বিশ পরগণা এবং সংলগ্ন অঞ্চলের মানুষের প্রিয় পিকনিকের জায়গাগুলোর মধ্যে একটি হল টাকি।

কলকাতা থেকে মাত্র ২ ঘণ্টার দূরত্বে ইছামতী নদীর পাড়ে পিকনিক করতে আসতে পারেন। এখানে খুব কাছ থেকে বাংলাদেশকে দেখা যায় কারণ ইছামতীর অন্য পাড়েই বাংলাদেশ। টাকি শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান, তবে টাকির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বা দর্শনীয় স্থান হল গোলপাতার জঙ্গল বা মিনি সুন্দরবন। গোলপাতার জঙ্গল বা মিনি সুন্দরবনের দায়িত্বে স্থানীয় পঞ্চায়েত এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স। জঙ্গলে ঢোকার সময় তাদের কাছে সরকারী পরিচয়পত্র জমা দিয়ে ঢুকতে হয়। আবার বেরনোর সময় সেটি ফেরত পাওয়া যায়। তাই টাকি ভ্রমণকালে সঙ্গে সরকারী পরিচয়পত্র রাখা আবশ্যিক। টাকি ভ্রমণ নিয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন এখানে।
এখানে উল্লিখিত কলকাতার আশেপাশে পিকনিক স্পটগুলি ছাড়াও কলকাতার কাছাকাছি পিকনিক স্পট রয়েছে যেগুলো মূলত প্রাইভেট পিকনিক স্পট। তবে সেই সমস্ত জায়গাকে এখানে উল্লেখ করা হয়নি কারণ আগে সমস্ত পিকনিক মানেই বড় খোলা জায়গায় বা মাঠে পরিবার বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে একসঙ্গে রান্না বান্না করে খাওয়া দাওয়া করা বোঝাত। বর্তমানে অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায় পিকনিক বলতে দল বেঁধে রিসোর্ট ভাড়া করে সেখানে খাওয়া দাওয়া করাকে বোঝায়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে পিকনিকের সংজ্ঞা বিভিন্ন হওয়ার ফলে কোন জায়গাকে পিকনিক স্পট বলা হবে আর কোন জায়গাকে বলা হবে না তাই নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।
তাই সববাংলায় এর থেকে “পিকনিক স্পট” আখ্যা দেওয়ার জন্য কিছু শর্ত বানানো হয়েছে এবং যে জায়গাগুলো সেই শর্তাবলী মানছে তাদের পিকনিক স্পটের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেই সমস্ত শর্তাবলীসমেত পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় পিকনিক স্পটগুলো নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন এখানে।
সর্বশেষ সম্পাদনার সময়কাল – ২০২৪
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান