ভূগোল

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা

আমাদের পশ্চিমবঙ্গ মূলত ২৩টি জেলাতে বিভক্ত। বেশীরভাগ জেলাই স্বাধীনতার আগে থেকে ছিল, কিছু জেলা স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে গঠিত, আবার কিছু জেলা একটি মূল জেলাকে দুভাগে ভাগ করে তৈরি হয়েছে মূলত প্রশাসনিক সুবিধের কারণে। প্রতিটি জেলাই একে অন্যের থেকে যেমন ভূমিরূপে আলাদা, তেমনি ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক দিক থেকেও স্বতন্ত্র। প্রতিটি জেলার এই নিজস্বতাই আজ আমাদের বাংলাকে সমৃদ্ধ করেছে। সেরকমই একটি জেলা হল দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা (South 24 Parganas)।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রেসিডেন্সি বিভাগের একটি জেলা দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা৷ দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা বলতে প্রথমেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সুন্দরবনের কর্দমাক্ত বাদাবন যা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের বাসভূমি। চোখের সামনে ভেসে ওঠে গঙ্গাসাগরে মকর সংক্রান্তির পুণ্যার্থীর ঢল, বকখালির মনোরম সূর্যাস্ত।

ভৌগলিক দিক থেকে দেখলে এই জেলার উত্তরে কলকাতা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পশ্চিমে পূর্ব মেদিনীপুর, এবং পূর্বে বাংলাদেশ অবস্থিত। এই জেলার নদীগুলির মধ্যে হুগলি, বিদ্যাধরী, পিয়ালী, মাতলা, ইছামতী ও যমুনা প্রধান নদী। জেলার পশ্চিম সীমানা ঘেঁষে প্রবাহিত হয়েছে হুগলি সহ বাকি নদীগুলি।

৯৯৬০ বর্গকিমি স্থান জুড়ে বিস্তৃত দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা জেলা আয়তনের বিচারে সর্বপ্রথম স্থান অধিকার করেছে৷ ২০১১ সালের জনগননা অনুসারে দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে।

দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা জেলার ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, নবাব মীরজাফর ১৭৫৭ সালে কলকাতার দক্ষিণে কুলপি পর্যন্ত ২৪টি জংলীমহল বা পরগনা ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে জমিদারি সত্ত্ব ভোগ করার অধিকার দিলে এরপর থেকে এই অঞ্চলকে একত্রে চব্বিশ পরগণা নামে ডাকা শুরু হয়। এই জেলার নামকরণের ইতিহাস জানতে পড়ুন এখানে

এই জেলা পাঁচটি মহকুমা নিয়ে গঠিত তথা আলিপুর সদর, বারুইপুর, ডায়মন্ডহারবার, ক্যানিং, এবং কাকদ্বীপ।

বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে অবস্থিত এই জেলায় বেশ কিছু ভ্রমণের স্থান আছে৷ যার মধ্যে গঙ্গাসাগর একটি অন্যতম তীর্থক্ষেত্র। এখানে প্রতি বছর মকর সংক্রান্তি বা পৌষসংক্রান্তিতে কপিলমুনির মেলা ও পুন্যস্নান উপলক্ষে লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ হয়৷

পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ব-দ্বীপ সুন্দরবন দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা জেলার সর্বাধিক জনপ্রিয় পর্যটন ক্ষেত্র। ম্যানগ্রোভ অরণ্যের সাথে সাথে বাঘ দেখার বিশেষ আকর্ষণে শীতের শুরুতে এখানে পর্যটকের ভীড় বাড়তে শুরু করে৷ 

এছাড়া বকখালি, ফ্রেজারগঞ্জ, পাঁকুড়তলা, মৌসুনী আইল্যান্ড, হেনরী আইল্যান্ড ইত্যাদি পর্যটনক্ষেত্রগুলিও যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

 ক্যানিং এখানকার একটি গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য কেন্দ্র, ফলে মৎস্য লেনদেন ব্যবসা দক্ষিণ ২৪ পরগনার অর্থনীতির মেরুদন্ড হয়ে উঠেছে।

এই জেলায় জন্মানো কৃতী সন্তানদের মধ্যে নাট্যকার রামনারায়ণ তর্করত্ন , সমাজ সংস্কারক এবং শিক্ষাবিদ উমেশচন্দ্র দত্ত, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক এবং সমাজসেবকপণ্ডিত দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মানবেন্দ্রনাথ রায় প্রমুখ উল্লেখযোগ্য৷

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়


বঙ্কিমচন্দ্র
বঙ্কিমচন্দ্র

বঙ্কিমচন্দ্র সম্বন্ধে জানতে এখানে ক্লিক করুন