সববাংলায়

আনন্দবাজার পত্রিকা গোষ্ঠী

উনিশ শতকে সূচনার পর থেকে নানা বিবর্তনের পথ পেরিয়ে এসেছে ভারতবর্ষের সংবাদপত্র। সংবাদপত্রের সেই সমৃদ্ধ ইতিহাসের ধারায় আনন্দবাজার পত্রিকা শতাধিক বছর ধরে উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কের মতো অবস্থান করছে। এখন এই ইন্টারনেটের যুগেও গণমাধ্যম হিসেবে আনন্দবাজার পত্রিকা গোষ্ঠীর (Anandabazar Patrika Group) সামাজিক প্রভাবকে অস্বীকার করা যায় না। সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হলেও ক্রমে টেলিভিশনে পা রেখেছে এই গোষ্ঠী এবং একইসঙ্গে সাহিত্য ও বিনোদনের জগতেও তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য চলেছে অনেকগুলি দশক এবং যা আজও সগর্বে বিদ্যমান। আনন্দবাজার পত্রিকা গোষ্ঠীর একেকটি শাখা স্বমহিমায় তাদের জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। তাদের কোন কোন প্রকল্প যেমন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেছে, তেমনই দেশ পত্রিকার মতো কয়েকটি জনপ্রিয় উদ্যোগ আজও সমান জনসমাদর লাভ করে চলেছে। সৃষ্টিশীল মানুষ জানেন এই গোষ্ঠী দ্বারা প্রকাশিত বা সমাদৃত হওয়া মানে তা বৃহত্তর সাংস্কৃতিক পরিসরে নিজের পরিচিতি তৈরি করার এক সুবর্ণ সুযোগ। সুদীর্ঘকাল আনন্দবাজার পত্রিকা গোষ্ঠী হয়ে রয়েছে বাংলার সমাজ-সংস্কৃতির এক প্রধান ধারক ও বাহক।

একশো বছর পেরিয়ে আসা বাংলা ভাষার সবচেয়ে বেশি প্রচারিত সংবাদপত্র আনন্দবাজার পত্রিকার জন্ম হয়েছিল ১৯২২ সালের ১৩ মার্চ, দোলযাত্রার দিনে। প্রাথমিকভাবে মাত্র চার পৃষ্ঠার একটি সান্ধ্য পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল আনন্দবাজার পত্রিকা। দাম ছিল মাত্র দু পয়সা। স্বাধীনতা সংগ্রামী সুরেশচন্দ্র মজুমদারের উদ্যোগে আনন্দবাজার পত্রিকা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তার সম্পাদনার দায়িত্ব নেন প্রফুল্লকুমার সরকার। সুরেশচন্দ্র স্বত্বাধিকারী হওয়ার পাশাপাশি সহ-সম্পাদকের কাজও করতেন। আনন্দবাজার পত্রিকার প্রথম সংখ্যাটি সম্পূর্ণ লাল কালিতে ছাপা হয়েছিল। ফলত ব্রিটিশ সরকারের মুখপত্র ‘ইংলিশম্যান’ তাকে ‘বিপদ সংকেত’ বলে মনে করেছিল। ১৯২৩ সাল থেকে পত্রিকাটি প্রতিদিন সকালে প্রকাশিত হতে শুরু করে ও মফস্বলের পাঠকদের জন্য একটি পাক্ষিক পত্রিকা প্রকাশিত হতে থাকে। ১৯২৬ সাল থেকে আনন্দবাজার দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে একটি বিশেষ শারদীয় সংখ্যা প্রকাশ করা শুরু করে।

স্বাধীনতার আগে আনন্দবাজার পত্রিকা ধারাবাহিকভাবে ব্রিটিশ শাসনের স্বৈরাচারী মনোভাব ও আচরণের বিরোধিতা করে গিয়েছে। সাধারণ জনগণের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিল এই পত্রিকা। স্বাধীনতা লাভের পরেও সেই ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়েনি আজও। নির্ভীক সাংবাদিকতার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে আনন্দবাজার।

দেশের গুরুত্বপূর্ণ খবরাখবর তো বটেই, আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অর্থনীতির হালহদিশও নিয়মিত আনন্দবাজার পত্রিকার পাতায় প্রকাশিত হয়ে চলেছে। প্রতি রবিবার ‘রবিবাসরীয়’ নামে একটি সাহিত্যিক রচনাসমৃদ্ধ অংশও থাকে, যেটি পাঠকমহলে দারুণভাবে সমাদৃত। এছাড়াও আনন্দবাজারের সঙ্গে ‘পত্রিকা’ নামে একটি বিনোদনের অংশও দেওয়া হয়। পুজোর আগে যেমন ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’ এবং ‘পত্রিকা’ নামে দুটি শারদীয়া সংখ্যাও প্রকাশিত হয়, যা গল্পে-উপন্যাসে-বিনোদনে ভরপুর থাকে। আনন্দবাজারের সঙ্গে একসময় নিয়মিত ‘এবেলা’ নামের ২৪ পৃষ্ঠার একটি স্বতন্ত্র ট্যাবলয়েড প্রকাশিত হত। ২০১৩ সালে প্রকাশিত এই ট্যাবলয়েডটি ২০১৭ সালে বন্ধ হয়ে যায়।

১৯৫৪ সালে প্রেস কমিশন আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেশের একক সংস্করণের সর্বাধিক প্রচারিত সংবাদপত্র হিসেবে ঘোষণা করেছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী প্রায় ৭০ লক্ষ শিক্ষিত প্রাপ্তবয়স্ক বাঙালি প্রতিদিন আনন্দবাজার পাঠ করে থাকেন। বিজ্ঞাপন প্রকাশের জন্য তাই বাণিজ্য-সংস্থাগুলির পছন্দের তালিকায় প্রথমেই থাকে আনন্দবাজার পত্রিকার পাতা। সেখানে একটু জায়গা পাওয়ার জন্য সকলেই যথাসাধ্য চেষ্টা করেন। আজকের এই ইন্টারনেটের যুগে আনন্দবাজার পত্রিকার ডিজিটাল সংস্করণও প্রকাশিত হয়, যা আনন্দবাজার ডট কম ওয়েবসাইটে গিয়ে পড়া যায়। সেখানেও মাসিক গড় পাঠক প্রায় এক কোটি।

প্রফুল্লকুমার সরকারের মৃত্যুর পর কিছু সময়ের জন্য চপলাকান্ত ভট্টাচার্য পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং ১৯৫৯ সাল থেকে প্রফুল্লকুমারের ছেলে অশোককুমার সরকার সেই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অশোককুমারের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র অভীককুমার সরকার ১৯৮৩ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি আনন্দবাজারের সম্পাদক হয়েছিলেন এবং ২০১৬ সাল পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অভীকবাবুর পরে সম্পাদক হন অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায় এবং বর্তমানে আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদক হলেন ঈশানী দত্তরায়, যিনি ২০২০ সালের ১ জুন থেকে এই পদের দায়িত্ব নিয়েছেন।

১৯৮২ সাল থেকে আনন্দবাজার পত্রিকাগোষ্ঠী একটি ইংরাজি ভাষার দৈনিক পত্রিকা টেলিগ্রাফ (The Telegraph) প্রকাশ করা শুরু করে। প্রকাশের খুব অল্প সময়ের মধ্যেই কলকাতা ও পূর্ব ভারতে খুবই জনপ্রিয় ইংরাজি দৈনিক পত্রিকায় পরিণত হয় টেলিগ্রাফ।

আনন্দবাজার পত্রিকা সংবাদপত্র হিসেবে নিজেদের যাত্রা শুরু করলেও ক্রমে সাহিত্য ও বিনোদনের জগতেও প্রবেশ করেছিল। সমৃদ্ধ এক সাহিত্যিক ঐতিহ্য বাঙালিকে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি দিয়েছে। ফলত বাংলা ভাষায় প্রকাশিত বাঙালির প্রাণের আনন্দবাজার পত্রিকা কেবল সংবাদপত্র হয়েই থেকে যেতে রাজি হয়নি, সারস্বতক্ষেত্রেও নিজেদের কিঞ্চিৎ অবদান রাখার সঙ্কল্প করেছিল। এই চিন্তা থেকেই আনন্দবাজার পত্রিকা একক একটি খবরের কাগজ থেকে হয়ে উঠেছিল আনন্দবাজার গোষ্ঠী এবং সাহিত্য-সংস্কৃতি, বিনোদন ইত্যাদি চর্চার জন্য ক্রমে একেকটি ম্যাগাজিন প্রকাশিত হতে থাকল। আনন্দবাজার গোষ্ঠী থেকে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাগাজিনগুলি হল, ‘দেশ’ পত্রিকা, ‘আনন্দমেলা’ পত্রিকা, ‘সানন্দা’ পত্রিকা, ‘উনিশ-কুড়ি’ পত্রিকা। শুধু পত্রিকা নয়, একটি বিখ্যাত প্রকাশনা সংস্থাও রয়েছে এই গোষ্ঠীর যা আনন্দ পাবলিশার্স নামে পরিচিত। এছাড়াও আনন্দ পাবলিশার্সের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলা যেতে পারে সিগনেট প্রেস প্রকাশনাটিকে। কেবলমাত্র প্রিন্ট মিডিয়াতেই নয়, টেলিভিশনেও আনন্দবাজার গোষ্ঠীর নিউজ চ্যানেল গড়ে উঠল, যেটি বর্তমানে এবিপি আনন্দ নামে পরিচিত। সম্প্রতি আরও আনন্দ নামে একটি ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করা হয়েছে যেখানে গল্প-উপন্যাস-কবিতা ইত্যাদি পাঠ করা যায়। এমনকি আনন্দ গোষ্ঠীর নিজস্ব বেশ কিছু ওয়েব সিরিজ, বিখ্যাত নাটকের ভিডিও, অডিও স্টোরি ইত্যাদি নানারকম বিনোদনের একটি প্ল্যাটফর্ম হল আরও আনন্দ অ্যাপটি।

প্রথমত দেশ পত্রিকা নিয়ে কথা বলা প্রয়োজন। মূল আনন্দবাজার পত্রিকা প্রকাশিত হওয়ার এগারো বছরের মাথায় অর্থাৎ ১৯৩৩ সালের ২৪ নভেম্বর দেশ পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছিল। প্রথম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার। প্রথমে এটি ছিল সাপ্তাহিক পত্রিকা, পরে পাক্ষিক পত্রিকায় পরিণত হয়েছিল। বাংলা সাহিত্যের প্রতিভাবান প্রায় সমস্ত লেখকের লেখাই এই পত্রিকার পাতায় প্রকাশিত হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এছাড়াও জীবনানন্দ দাশ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়-সহ অনেক দিকপাল লেখকই দেশ পত্রিকাকে সমৃদ্ধ করেছিলেন। অনেক নামজাদা সাহিত্যিকের প্রথম রচনা প্রকাশিত হয়েছে দেশ-এর পাতায়। সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদারের পর বঙ্কিমচন্দ্র সেন, সাগরময় ঘোষের মতো মানুষেরা পত্রিকার সম্পাদক পদ অলঙ্কৃত করেছিলেন। সাগরময় ঘোষ কেবল প্রতিভাবান লেখকদেরই তুলে আনেননি, অনেক সময় রাজনৈতিক চাপের মুখেও দাঁড়িয়েছেন নির্ভয়ে। সাগরময় ঘোষের পরে অমিতাভ চৌধুরী এক বছরের জন্য সম্পাদনার ভার নেন। সেই সময় দেশ-এ কেবল সাহিত্য নয়, বর্তমান বিষয়, ইতিহাস প্রভৃতি নিয়ে প্রবন্ধও প্রকাশিত হতে থাকে। তারপর ১৯৯৮ সালে হর্ষ দত্তের হাতে যায় সম্পাদনার দায়িত্ব এবং বর্তমানে দেশ-এর সম্পাদক সুমন সেনগুপ্ত। দেশ পত্রিকারই সহোদর ‘বইয়ের দেশ’ নামে আরেকটি পত্রিকা ২০০৩ সাল থেকে প্রকাশ পেতে শুরু করে। দেশ প্রতি মাসের ২ তারিখ এবং ১৭ তারিখ প্রকাশিত হয়। ২০০৮ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে দেশ পত্রিকা মহিলা পাঠকদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়। দেশ-এর শারদীয়া সংখ্যার জন্য আজও বাঙালি পাঠক অপেক্ষা করে বসে থাকেন। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ডিজিটাল মাধ্যমেও এসে গেছে দেশ পত্রিকা।

আনন্দবাজার গোষ্ঠীর আরেকটি জনপ্রিয় এবং বহুল প্রচারিত পত্রিকা হল আনন্দমেলা। মূলত শিশু-কিশোর পাঠকদের কথা মাথায় রেখেই রঙিন ছবিতে, গল্পে, মজার আরও নানা উপাদানে ভরপুর আনন্দমেলা পত্রিকার আত্মপ্রকাশ ১৯৭৫ সালে। তবে অনেক আগে থেকেই এই আনন্দমেলার অস্তিত্ব ছিল। পূর্বে যে রবিবাসরীয়-এর কথা বলা হল, ১৯৪০ সাল থেকে সেখানে একটা ছোটদের বিভাগ শুরু হয়েছিল যার নাম ছিল আনন্দমেলা। পরবর্তীতে এটি একটি ভিন্ন পত্রিকা হয়ে ওঠে। পত্রিকাটির মাস্টহেডটি ডিজাইন করেছিলেন সত্যজিৎ রায়। ১৯৪০ সালে আনন্দমেলার প্রথম প্রকাশ উপলক্ষে রবীন্দ্রনাথ আশীর্বাদস্বরূপ একটি কবিতা লিখে দিয়েছিলেন। প্রখ্যাত কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী থেকে শুরু করে অশোককুমার সরকার, দেবাশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ এই পত্রিকাটির সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন। কখনও মাসিক, কখনও সাপ্তাহিক, কখনও পাক্ষিক হিসেবে এই পত্রিকা প্রকাশ পেয়েছে। পত্রিকার আকারেও নানা অদলবদল ঘটেছে। ২০০৩ সালের জুলাই মাসে সম্পূর্ণ নতুন চেহারায় মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল আনন্দমেলা। এখানেই প্রথম বাংলায় অনূদিত হয়ে কমিকস হিসেবে টিনটিন সিরিজ প্রকাশিত হয়েছিল। বহু নামজাদা লেখক-শিল্পী আনন্দমেলার জন্য লিখেছেন, ছবি এঁকেছেন। এর শারদীয়া সংখ্যাটির চাহিদাও বিপুল। বর্তমানে আনন্দমেলার সম্পাদক হলেন সিজার বাগচী।

শিশু-কিশোরদের এই আনন্দমেলা পত্রিকাটিকে আরেকটি ভাগে বিভক্ত করে প্রধানত কৈশোর পেরোনো বালক-বালিকাদের জন্য ‘উনিশ-কুড়ি’ নামে আরেকটি পত্রিকার আবির্ভাব হয়েছিল ২০০৩ সালেই। মূলত ফ্যাশন, সিনেমা ইত্যাদি নানা রকম বিনোদনের উপকরণ থাকে তাতে। তবে গল্প, কবিতাও প্রকাশিত হয়। যুবক-যুবতীদের মধ্যে এর চাহিদা প্রবল। বর্তমানে উনিশ কুড়ির সম্পাদনার দায়িত্বে রয়েছেন পৌলমী সেনগুপ্ত সরকার।

তুলনামূলক পরিণতমনস্ক মানুষদের বিনোদনের জন্য রয়েছে আনন্দবাজার গোষ্ঠী কর্তৃক প্রকাশিত ‘সানন্দা’ পত্রিকা। এই পাক্ষিক পত্রিকাটি ১৯৮৬ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। ২০০৫ সাল থেকে এর ওড়িয়া সংস্করণ প্রকাশ পেতে শুরু করে। মূলত নারীদের বিভিন্ন আগ্রহের বিষয় সানন্দা পত্রিকার পাতায় ছাপা হয়। অবশ্য সাহিত্যের একটা অংশও সেখানে রয়েছে। একসময় প্রখ্যাত অভিনেত্রী অপর্ণা সেন সানন্দা পত্রিকা সম্পাদনা করেছিলেন এবং এর বর্তমান সম্পাদক পারমিতা সাহা।

আনন্দবাজার গোষ্ঠীর নিজস্ব প্রকাশনা সংস্থা আনন্দ পাবলিশার্স থেকেই উক্ত পত্রিকার পাতায় প্রকাশিত গল্প-উপন্যাস গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এছাড়াও আরও উৎকৃষ্ট নানা গ্রন্থ সুন্দর ছাপা ও বাঁধাই-সহ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেন তাঁরা। আনন্দ পাবলিশার্সের পরিকল্পনাটি অশোককুমার সরকারের মস্তিষ্কপ্রসূত। ১৯৫৭ সালে আনন্দ পাবলিশার্সের সূচনা হয়েছিল। এখান থেকে প্রকাশিত প্রথম বইটি ছিল সুবোধ ঘোষ-এর ‘শতকিয়া’। বাংলা প্রকাশনা জগতের একটি উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কের মতো স্বমহিমায় জাজ্বল্যমান আনন্দ পাবলিশার্স।

আনন্দ পাবলিশার্সের সঙ্গে সিগনেট প্রেস নামক আরেকটি নামজাদা প্রকাশনা সংস্থাও যুক্ত। যদিও এই সিগনেট প্রেস ১৯৪৩ সালে দিলীপকুমার গুপ্তের হাত ধরে যাত্রা শুরু করেছিল। বাংলায় চমকপ্রদ গ্রন্থনির্মাণের কাজ শুরু করেছিল তারাই। নির্ভুল বানান, চোখ ধাঁধানো প্রচ্ছদ, দুর্দান্ত বাঁধাইয়ের কাজ সিগনেট প্রেসকে প্রকাশনা জগতে অচিরেই বিখ্যাত করে তুলেছিল। তবে দিলীপকুমার গুপ্তের মৃত্যুর পর ১৯৭৭ সালে সিগনেট বন্ধ হয়ে যায়। তবে এত সমৃদ্ধ ও গৌরবোজ্জ্বল প্রকাশনা সংস্থাটির পুনরুজ্জীবনের জন্যই আনন্দ পাবলিশার্স সিগনেট প্রেস কিনে নেয় এবং ২০১১ সাল থেকে পুনরায় তা চালু হয়ে গিয়েছিল।

প্রিন্ট মিডিয়া ছাড়াও টেলিভিশনে আনন্দবাজার গোষ্ঠীর নিজস্ব নিউজ চ্যানেলও দীর্ঘদিন ধরে জনসমাদর লাভ করে আসছে। মূলত স্টার টিভি এবং আনন্দবাজার পত্রিকার যৌথ প্রযোজনায় ২০০৫ সালের ১ জুন নিউজ চ্যানেলটির সূত্রপাত হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে চ্যানেলের নাম ছিল স্টার আনন্দ। পরবর্তীকালে ২০১২ সালে এবিপি গ্রুপ চ্যানেলের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অর্জনের পর নাম বদলে হয়েছে এবিপি আনন্দ। দেশ-বিদেশের খবরের পাশাপাশি বিনোদন জগতের খবরও তারা পরিবেশন করে।

আনন্দবাজার গোষ্ঠী প্রতি বছর নির্বাচিত কোন একটি গ্রন্থকে আনন্দ পুরস্কার প্রদান করে। এছাড়া প্রতি বছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতী বাঙালিদের ‘সেরা বাঙালি’ নামক পুরস্কারে পুরস্কৃত করে এই গোষ্ঠী এবং ‘সেরা বাঙালি’ নামের অনুষ্ঠানটি এবিপি আনন্দের পর্দায় সম্প্রচারিত হয়।

আনন্দবাজার পত্রিকা গোষ্ঠীর এই বিশাল কর্মযজ্ঞ দীর্ঘকাল ধরে অত্যন্ত সফলভাবে সংঘটিত হয়ে চলেছে এবং তারা বাঙালির সাংস্কৃতিক চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়নি কখনও।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading