ধর্ম

আহিল্যাবতী

আহিল্যাবতী

মহাভারতের আদিপর্বে উল্লেখিত একটি নারীচরিত্র হলেন আহিল্যাবতী (Ahilyabati)। তিনি ছিলেন নাগরাজ বাসুকীর কন্যা। অত্যন্ত রূপবতী ও বুদ্ধিমতী এই নারী অস্ত্রবিদ্যাতেও পারদর্শীনি ছিলেন। তাঁর জন্যেই একবার প্রাণে বেঁচেছিলেন কিশোর ভীম।

মহারাজ পাণ্ডুর মৃত্যু ও মাদ্রী দেবীর সহমরণের পর পাঁচটি ভাইকে নিয়ে কুন্তী দেবী ফিরে আসেন হস্তিনাপুরে। কৌরবদের একশো ভাইয়ের সঙ্গে পাণ্ডবরাও বেড়ে উঠতে থাকেন। কিন্তু গায়ের জোরে ভীমের সঙ্গে কেউ পেরে ওঠে না। অল্প বয়সেই ভীমের এতো শক্তি দেখে কৌরবরা হিংসায় জ্বলতে থাকে। তাদের বড় ভাই দুর্যোধন ভাবতে থাকেন, “এই ভীমকে বড় হতে দিলেই আমাদের সর্বনাশ হবে! ভীম মারা গেলে বাকি চার ভাইকে বেঁধে রেখে আমি সিংহাসনে বসব।”


এই ধরণের তথ্য লিখে আয় করতে চাইলে…

আপনার নিজের একটি তথ্যমূলক লেখা আপনার নাম ও যোগাযোগ নম্বরসহ আমাদের ইমেল করুন contact@sobbanglay.com


 

লোভী ও কুটিল দুর্যোধন একদিন ভীমকে মেরে ফেলবার পরিকল্পনা করে গঙ্গার ধারে প্রমাণকোটিতে গঙ্গাস্নানের আয়োজন করলেন। পাণ্ডবরা তাঁর আসল ভাবনা বুঝতে না পেরে খুব খুশি হয়ে সেখানে গেলেন। স্নানের পর সবাই মিলে একসাথে খেতে বসলে দুর্যোধন ভীমকে বিষ মাখানো সন্দেশ খাইয়ে দিলেন। বিষের তেজে অজ্ঞান হয়ে গেলেন ভীম। দুর্যোধন তখন লতাপাতা দিয়ে ভীমের হাত-পা বেঁধে সবার আড়ালে ভীমকে গঙ্গার জলে ফেলে দিলেন।

ভীম জলে ডুবে গেলেন। কিন্তু ভগবান যাঁকে রক্ষা করেন, হাজার খারাপ লোকও তাঁর ক্ষতি করতে পারে না। ভীম গঙ্গার জলে ডুবতে ডুবতে এসে পৌঁছালেন পাতালে। সেখানেই থাকেন নাগরাজ বাসুকী ও অন্য সব নাগেরা।

বিষের প্রভাবে ততক্ষণে মৃত্যু হয়েছে ভীমের। এই সময় তাঁকে দেখতে পেলেন নাগদের রাজকন্যা আহিল্যাবতী। ভীমকে চিনতে পেরে তিনি নাগরাজ বাসুকীকে অনুরোধ করলেন ভীমের প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। কন্যার অনুরোধ ফেলতে না পেরে মহাদেবের দেওয়া বর ব্যবহার করে ফিরিয়ে দিলেন ভীমের প্রাণ। তারপর ভীমকে অনেক আদর-যত্ন করলেন নাগরাজ। উপহার দিলেন অমৃত। কয়েকদিন সেখানে বাস করার পর আবার হস্তিনাপুরে নিজের মা ও ভাইদের কাছে ফিরে এলেন ভীম।

এইভাবে নাগকন্যা আহিল্যাবতী বাঁচিয়েছিলেন মধ্যম পাণ্ডবের জীবন। কিন্তু এই পরোপকারী নারীকেই পেতে হয়েছিল অভিশাপ। মহাদেবের বাগান থেকে ফুল চুরি করার জন্য রুষ্ট হয়ে দেবী পার্বতী আহিল্যাবতীকে মানবজন্ম গ্রহণের অভিশাপ দিয়েছিলেন।

মানবী রূপে জন্ম নেওয়ার পর ভীম ও রাক্ষসী হিড়িম্বার পুত্র ঘটোৎকচের সঙ্গে বিবাহ হয় আহিল্যাবতীর। এই দম্পতির পুত্রের নাম বারবারিক। অস্ত্রবিদ্যায় সুনিপুণা আহিল্যাবতী নিজেই পুত্রকে অস্ত্রচালনা সংক্রান্ত সমস্ত শিক্ষা দেন। তপস্যায় মহাদেব ও অগ্নিদেবকে সন্তুষ্ট করে তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন অস্ত্র লাভ করেন বারবারিক। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে পাণ্ডবপক্ষে থেকে তিনি অসামান্য বীরত্ব দেখিয়েছিলেন।

মহাভারতের বিভিন্ন নারীচরিত্রের মধ্যে নাগকন্যা আহিল্যাবতী একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। ছোট হলেও নিজের গুণে পাঠকের মন জয় করে নেয় এই নারীচরিত্রটি।

তথ্যসূত্র


  1. উপেন্দ্রকিশোর রচনাসমগ্র, বসাক বুক স্টোর প্রাইভেট লিমিটেড, তৃতীয় মুদ্রণ, ছেলেদের মহাভারত, পৃষ্ঠা ১৭০-১৭১
  2. https://m.dailyhunt.in/
  3. https://eisamay.indiatimes.com/
  4. https://sanatanpandit.com/

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

-
এই পোস্টটি ভাল লেগে থাকলে আমাদের
ফেসবুক পেজ লাইক করে সঙ্গে থাকুন

মনোরথ দ্বিতীয়া ব্রতকথা নিয়ে জানতে


মনোরথ দ্বিতীয়া

ছবিতে ক্লিক করুন

বিধান রায় ছিলেন আদ্যোপান্ত এক রসিক মানুষ। তাঁর রসিকতার অদ্ভুত কাহিনী



বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন