ইতিহাস

অযোধ্যা মামলা

অযোধ্যা মামলা

ভারতের ইতিহাসে অন্যতম বিতর্কিত রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ঘটনা অযোধ্যা মামলা (Ayodhya Case)। উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যা শহরের বাবরি মসজিদকে কেন্দ্র করে হিন্দু ও মুসলমান দুই বিবদমান পক্ষের মধ্যে যে চরম ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিবাদ তৈরী হয়েছিল তার নিষ্পত্তি ঘটাতেই এই মামলার সূত্রপাত হয়। দীর্ঘ দিন ধরে মামলা চলাকালীন বহু অসহিষ্ণুতা এবং নৃশংসতার সাক্ষী থেকেছে ভারতবাসী, ধর্মীয় হানাহানি এবং আগ্রাসনের এক কদর্য রূপ তুলে ধরেছিল এই ঘটনা। দেশীয় রাজনীতির এক বিরাট অংশ আবর্তিত হয়েছিল এই মামলাকে ঘিরে। রাম জন্মভূমি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাবরি মসজিদ ভাঙার বিতর্কিত অসহিষ্ণু ঘটনাকে ঘিরেই গড়ে উঠেছিল অযোধ্যা মামলা।  

বস্তুতপক্ষে অযোধ্যা মামলার সূত্রপাত হয়েছিল ১৯৫০ সালে। দীর্ঘ ২৯ বছর পরে ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর এই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট। মামলার মুখ্য অভিযুক্তদের মধ্যে ছিলেন লালকৃষ্ণ আডবাণী, মুরলী মনোহর জোশী, উমা ভারতীর মতো বহু নেতৃবৃন্দ। তাঁরা সকলেই ভারতীয় জনতা পার্টি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সদস্য ছিলেন। প্রথমে এলাহাবাদ উচ্চ আদালতে মামলা শুরু হলেও পরবর্তীকালে ২০১০ সালে এলাহাবাদ উচ্চ আদালতের রায় শুনানির বিরোধিতা করে অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভা এবং উত্তরপ্রদেশ সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড উভয় সংগঠনই সুবিচার চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলে অযোধ্যা মামলা আরও বৃহত্তর চেহারা নেয়।


এই ধরণের তথ্য লিখে আয় করতে চাইলে…

আপনার নিজের একটি তথ্যমূলক লেখা আপনার নাম ও যোগাযোগ নম্বরসহ আমাদের ইমেল করুন contact@sobbanglay.com


 

বাবরি মসজিদের প্রাচীন ইতিহাসের মধ্যেই এই মামলার ঘটনাক্রমের বীজ নিহিত ছিল। মূলত হিন্দুদের বিশ্বাস অনুযায়ী আজ যেখানে বাবরি মসজিদের অবস্থান সেখানেই একসময় রামচন্দ্র জন্মেছিলেন। ভারতের ধর্মীয় সংস্কৃতিতে ‘রামায়ণ’ মহাকাব্যের নায়ক রাম ব্যাপকভাবে পূজিত দেবতাদের মধ্যে অন্যতম। ধর্মীয় বা পৌরাণিক মত অনুসারে বিষ্ণুর সপ্তম অবতার রাম ত্রেতা যুগে অযোধ্যাতেই জন্মেছিলেন। গরুড় পুরাণে এই অযোধ্যাকে পবিত্র জন্মভূমি এবং তীর্থক্ষেত্র হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ইতিহাস অনুযায়ী ১৫২৮ সালে মুঘল সম্রাট বাবরের নির্দেশে সেনাপতি মীর বাঁকি এই অঞ্চলেই বাবরি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। তবে স্থানীয় ঐতিহ্য ও বিশ্বাস অনুসারে সম্রাট ঔরঙ্গজেব এই অঞ্চলে স্থাপিত রাম মন্দিরকে ভেঙে এই মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু বাবরনামা গ্রন্থের কোথাও এই মসজিদ নির্মাণের কোন তথ্যের উল্লেখ খুঁজে পাননি ঐতিহাসিক ও গবেষকরা। আবার ক্যাথলিক ধর্মযাজক জোসেফ টিফেন্থহ্যালারের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে এই মসজিদে এককালে হিন্দু এবং মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই উপাসনা করতে আসতেন। ১৮৫৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের সময় এই মসজিদ প্রাঙ্গণ একটি রেলিং দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছিল যাতে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিবাদ না হয়।  ইতিহাস বলছে গৌতম বুদ্ধের সময়ে এই অযোধ্যা নগরীর নাম ছিল সাকেত। পরে গুপ্তযুগের গুপ্তরাজা স্কন্দগুপ্ত এই অঞ্চলকে রাজধানী নির্বাচিত করেছিলেন। গুপ্তদের পরে বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী গহ্‌দাবলদের আমলে এখানে পাঁচ-ছয়টি বিষ্ণু মন্দির স্থাপিত হয়েছিল যা কিনা মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের আমলেও অক্ষত ছিল বলে দাবি করেছেন ঐতিহাসিকরা। আধুনিককালে অযোধ্যার একেবারে কেন্দ্রে রামকোট বা রামদূর্গ নামক স্থানেই দেখতে পাওয়া যেত বাবরি মসজিদকে যার গায়ের উৎকীর্ণ লিপি থেকে জানা যায় ১৫২৮ সালে মীর বাঁকিই এই মসজিদ নির্মাণ করেন। বিখ্যাত হিন্দু কবি তুলসীদাসও এই অযোধ্যাতেই ‘রামচরিত মানস’ লিখেছিলেন, কিন্তু সেখানেও রাম জন্মভূমি নামে পরিচিত অযোধ্যায় কোনো মসজিদের স্থাপনের ঘটনা উল্লিখিত হয়নি। ১৭১৭ সালে সওয়াই জয় সিং এই অঞ্চল অধিগ্রহণ করেছিলেন বলে জানা যায়। কিন্তু মন্দির ভাঙার কথা কোথাও সেভাবে পাওয়া যায়নি, একমাত্র যাজক টিফেন্থহ্যালারের লেখাতেই প্রথম জানা যায় যে ঔরঙ্গজেব রামকোটের মন্দির ভেঙে এই মসজিদ নির্মাণ করেন। ফলে এই অযোধ্যাকে ঘিরে ধর্মীয় সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক স্তরে বিতর্কের সূত্রপাত হয়।

১৮৮৫ সালে অযোধ্যার কয়েকজন সুন্নি মুসলমান প্রথম জানায় যে হনুমানগড়ের কয়েকজন বৈরাগী তাঁদের মসজিদ ভেঙে মন্দির গড়ে তুলেছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরা সেই বৈরাগীদের উপর প্রথম আঘাত হানে এবং তার প্রতিক্রিয়ায় বৈরাগীরাও দল বেঁধে তাঁদের উপর হামলা চালায়। নিকটবর্তী বাবরি মসজিদে সুন্নি মুসলমানেরা এসে আত্মগোপন করে আর তার ফলেই হনুমানগড়ের সেই বৈরাগীরা প্রথম মসজিদের উপর হামলা চালায়। ব্রিটিশ সরকারের কাছে তারা আবেদন জানায় যেন তাঁদেরকে ঐ অঞ্চলে একটি মন্দির গড়ার অনুমতি দেওয়া হয়, কিন্তু সে আবেদন খারিজ হয়ে যায়। ১৯৪৬ সালে অখিল ভারতীয় রামায়ণ মহাসভা এই অঞ্চলের অধিকার চেয়ে আন্দোলন করতে শুরু করে এবং ১৯৪৯ সালে গোরক্ষনাথ মঠের সন্ত দিগ্বিজয় নাথ তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। তাঁরা দলবদ্ধভাবে দীর্ঘ ৯ দিন ধরে ‘রামচরিত মানস’ পাঠ করেন ঐ স্থানে এবং শেষে ১৯৪৯ সালের ২২ ডিসেম্বর বলপূর্বক মসজিদের ভিতর প্রবেশ করে তাঁরা রাম ও সীতার মূর্তি স্থাপন করেন। জওহরলাল নেহরু সেই সময় মূর্তিগুলি সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে জোর দিয়েছিলেন, কিন্তু স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী নেতা কে কে নায়ার এই নির্দেশ অমান্য করেন। পুলিশ মসজিদের ফটকে তালা দিয়ে দেয় এবং শুধুমাত্র পুরোহিতদের ভিতরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় নিত্যপূজার জন্য। ফলে সাময়িকভাবে মসজিদটিকে মন্দির বানানো হয়েছিল। ১৯৫০ সালে রাম জন্মভূমি আর বাবরি মসজিদের বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমিকে ঘিরে আইনি লড়াই শুরু হয়। হিন্দু মহাসভার রামলালার ভক্ত গোপাল সিংহ বিশারদ বাবরি মসজিদকে রাম জন্মভূমি দাবি করে সেখানে রামলালার পূজার অধিকার চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। ইতিমধ্যে মসজিদের ভিতরে রামলালার মূর্তি স্থাপিত হয়েছে। পরমহংস রামচন্দ্র দাস সেখানেই পূজার দাবিতে মামলা দায়ের করেন। ১৯৬১ সালে উত্তরপ্রদেশের অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভা এবং উত্তরপ্রদেশ সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড উভয় সংগঠনই মসজিদের জমির দখল চেয়ে দেওয়ানি আদালতে মামলা করে। ১৯৬৪ সালে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ গঠিত হলে বাবরি মসজিদের জমি সংক্রান্ত আন্দোলন ও উত্তেজনা চরমে ওঠে। ১৯৮০-এর দশকে ভারতীয় জনতা পার্টি এই রাম জন্মভূমি অধিকারের আন্দোলনের অন্যতম রাজনৈতিক মঞ্চ হয়ে ওঠে। ১৯৮৬ সালে জেলা আদালতের অনুমতিক্রমে মসজিদের দরজা পুনরায় খোলা হয় এবং কেবলমাত্র হিন্দুদের প্রবেশাধিকার ও পূজার অধিকার দেওয়া হয়। এর বিরোধিতা করে মুসলমিদের মধ্যে গড়ে ওঠে ‘বাবরি মসজিদ অ্যাকশন কমিটি’। ১৯৯০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণী আন্দোলনকে সমর্থন জোগাতে অযোধ্যার উদ্দেশে একটি রথযাত্রার পরিকল্পনা করেন। এই রথযাত্রার ফলে বহু শহরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধে যার ফলে বিহার সরকার ২৩ অক্টোবর লালকৃষ্ণ আডবাণীকে গ্রেপ্তার করতে বাধ্য হয়। ঐ বছরই ৩০ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মুলায়ম সিং যাদবের নির্দেশে অযোধ্যায় রথযাত্রায় আগত বহু ‘করসেবক’কে নির্বিচারে গুলি করে মারা হয় এবং তাঁদের শবদেহ সরযূ নদীর জলে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) এবং ভারতীয় জনতা পার্টির সহযোগী সহ মসজিদের প্রাঙ্গণে প্রায় ১৫ হাজার করসেবকের জমায়েত অনুষ্ঠান হয়। সেই জমায়েতে লালকৃষ্ণ আডবাণী, মুরলী মনোহর জোশী, উমা ভারতী প্রমুখদের বক্তৃতা দেওয়ার কথা ছিল। দুপুরের দিকে ঐ জনসভায় উত্তেজিত জনতা বলপূর্বক বাবরি মসজিদের উপর হামলা চালায় এবং কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তাকে ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়। মসজিদ ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় মুম্বাই, ভোপাল, দিল্লি, হায়দ্রাবাদ প্রভৃতি শহরে প্রায় হাজার দুয়েক মানুষ নিহত হন। ১৯৯২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনার তদন্তের জন্য ভারত সরকার ‘লিবারহান কমিশন’ গঠন করে। এই কমিশনের প্রতিবেদনে অটলবিহারী বাজপেয়ী, লালকৃষ্ণ আডবাণী, মুরলী মনোহর জোশী, উমা ভারতী, উত্তরপ্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং, প্রমোদ মহাজন, বিজয়রাজ সিন্ধিয়া, গিরিরাজ কিশোর, অশোক সিঙ্গাল প্রমুখ নেতাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অন্যান্য অভিযুক্তদের মধ্যে ছিলেন প্রয়াত শিবসেনা প্রধান বাল ঠাকরে এবং প্রাক্তন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের নেতা কে এন গোবিন্দচার্য। ১৯৯৩ সালে অযোধ্যার জমি অধিগ্রহণের জন্য বিতর্কিত এলাকার অধিগ্রহণ আইন পাস হয় এলাহাবাদ উচ্চ আদালতে, পরে এর বিরুদ্ধেই লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে যা সুপ্রিম কোর্ট প্রত্যাহার করে দেয়।  

২০০২ সালে এলাহাবাদ উচ্চ আদালত অযোধ্যা মামলার শুনানি শুরু করেছিল। ২০০৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করে যে বিতর্কিত স্থানে কোন রকম ধর্মীয় কার্যকলাপ করা যাবে না এবং এলাহাবাদ আদালতে দেওয়ানি মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ঐ অঞ্চলে অন্তর্বর্তী আদেশ কার্যকর থাকবে। ২০০৫ সালে ধ্বংসপ্রাপ্ত মসজিদের জায়গায় গড়ে ওঠা অস্থায়ী মন্দিরে হামলা চালায় সন্ত্রাসবাদীরা। ২০০৭ সালে রাম মন্দিরের তৎকালীন প্রধান এম এন গোপাল দাস জানান যে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ফোনও করা হয়েছিল। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনাকে ভারতে সন্ত্রাসবাদী হামলার একটি প্রধান কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করতে চেয়েছে ভারতীয় মুজাহিদিন গোষ্ঠীর মতো নিষিদ্ধ জেহাদি সংগঠন। ২০১০ সালে এলাহাবাদ উচ্চ আদালত এই মামলার রায় ঘোষণার মাধ্যমে জানায় যে ঐ বিতর্কিত জমি সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, নির্মোহী আখড়া এবং রামলালার মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। এতে হিন্দুরা জমির তিন ভাগ পায় এবং এই ঘটনার বিরুদ্ধে সকল পক্ষই পুনরায় সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে। ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যা জমি বিতর্কে এলাহাবাদ উচ্চ আদালতের রায়ে স্থগিতাদেশ জারি করে। ২০১৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সুব্রহ্মণ্যম স্বামী বিতর্কিত স্থানে রাম মন্দির তৈরির আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। ২০১৯ সালের ৬ আগস্ট থেকে ১৬ অক্টোবরের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যা মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে। এই রায় ঘোষণা উপলক্ষ্যে উত্তরপ্রদেশের সর্বত্র ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল। তবে প্রাথমিকভাবে আদালত রায় শুনানি অতিরিক্ত তিন দিন পিছিয়ে দেয় যাতে বিবদমান দুই পক্ষই আদালতের কাছে লিখিতভাবে বিষয়টির মীমাংসা করে নিতে পারে। ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয় এই মামলার। সুপ্রিম কোর্ট এই রায়ে হিন্দু মন্দির তৈরির নিমিত্ত জমিটি একটি ট্রাস্টের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেয় এবং মসজিদ নির্মাণের উদ্দেশ্যে উত্তরপ্রদেশ সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডকে একটি বিকল্প পাঁচ একর জমি দেওয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেয়। তাছাড়া নির্মোহী আখড়াকে কোনভাবেই রাম লালার সেবাইত হিসেবে গণ্য করেনি সুপ্রিম কোর্ট এবং সেই নিরিখে তাঁদের দায়ের করা মামলা নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। ঐ বছরই আগের মামলার রায়ের পুনর্বিবেচনার জন্য যে আঠারোটি অভিযোগপত্র দায়ের করা হয়েছিল, ১২ ডিসেম্বর তারিখে তা সমস্তই খারিজ করা হয়। ২০২০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ভারত সরকার অযোধ্যায় রাম মন্দির গড়ে তোলার জন্য একটি ট্রাস্ট গঠন করে এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত বাবরি মসজিদের বদলে অযোধ্যার ধন্যিপুরে আরেকটি মসজিদ নির্মাণের অনুমতি দেয়। এভাবে ১৯৫০ সাল থেকে শুরু করে ২০২০ সালে এসে সমাপ্ত হয় অযোধ্যা মামলা।

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

-
এই পোস্টটি ভাল লেগে থাকলে আমাদের
ফেসবুক পেজ লাইক করে সঙ্গে থাকুন

বিধান রায় ছিলেন আদ্যোপান্ত এক রসিক মানুষ। তাঁর রসিকতার অদ্ভুত কাহিনী



বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন